ইলম ও মহব্বত ভিডিও

 ইলম ও মহব্বত

-------------------------
যারা উর্দু বুঝেন-না তাদের জন্য আমি যতটুকু সম্ভব অনুবাদ করে লিখার চেষ্টা করলাম। আপনাদের প্রতি পড়ার অনুরোধ রইল। যারা উর্দু বুঝেন তাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ অনুবাদে ভুল-ত্রুটি হলে কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ
ইল্ম ও আমল দিয়ে ঈমানের চাহিদা পূরণ হয়না। ইহাতো ঈমানের পরে ঈমানের আবরনের জন্য, নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন। কিন্তু ঈমানের ভিত্তি না আমলের উপর প্রতিষ্টিত, না ইলমের উপর। মনে রাখবেন ইমানের ভিত্তি মহব্বত ও আদবের উপর স্থাপিত।
যদি ইমানের ভিত্তি ইলমের উপর প্রতিষ্টিত হত ! তাহলে আকা (আলাইহিস্সালাম) উনাকে আরবের নিরক্ষর আরবদের কাছে পাঠাইতেননা, সৃষ্টিকুলের শিরমণি উনাকে রোম দেশে পাঠাতেন কিংবা ইউনান দেশে । ইউনানে ইলম ছিল, রসায়ন ছিল, বিঁজ্ঞান ও ছিল জ্ঞান ও
বিজ্ঞানে রোম ও ইউনান অনেক এগিয়েছিল । আরবের বেদুইনরা না লিখতে জানত, না পড়তে জানত। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন,-"বা'ছা ফিল উম্মীইনা রাসুলা"। অশিক্ষিতদের মাঝে পাঠাইয়াছেন। যদি ঈমানের জন্য ইলমের প্রয়োজন হত তাহলে হুজুর সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম উনাকে ইউনান অথবা রোমে পাঠাইতেন ওখানে পূর্ব থেকেই ইল্ম ছিল। জমিতে কোথায় ইলম আছে তা নির্বাচন করেননি, ওখানেই নির্বাচন করেছেন যেখানে সবাই অশিক্ষিত ছিল। মক্কাতে তখন দশ লক্ষ অধিবাসী ছিল তার মধ্যে শুধু পনের জন লোক এমন ছিল যারা নিজের নাম লিখতে বা সাক্ষর দিতে জানত। কোরান সাক্ষ্য দেয় নিরক্ষরদের মাঝে পাঠিয়েছেন। বলা হয়েছে "হুয়াল্লাজী বা'ছা উম্মীয়িনা রাসুলা"। কেন পাঠিয়েছেন এজন্যযে ঈমানের গোড়াপত্তনের জন্য। ইলম তার জন্য জরুরী নয়, জরুরী হচ্ছে মহব্বত ও আদব। যদি ইলম কাছে এসে যায় তা আদব ও মহব্বতকে কাছে আসতে দেয় না। যদি মহব্বত উপস্থিতি থাকে তবে জিহ্বাতে তালা লেদে যায়। মহব্বত বলতে থাকে,-হুশিয়ার কোন কিছুই বলতে নেই । কিন্তু ইলমের উপস্থিতি থাকলে জিহ্বাকে বলতে থাকে চুপ থাকিসনা বলতে থাক। ইল্ম বাড়াবাড়ি করতে থাকে, প্রতিযোগিতা করে। কিন্তু আদব বলে প্রতিযোগিতা হারাম , বাড়াবাড়ি করা নিষেধ আছে। ইবলিশ শয়তান ইলমের পথ অবলম্বন করেছিল। যখন বলা হল আদম (আঃ)-কে সেজদা কর । তখন শয়তানের ইলম তা মানতে রাজি হয়নি। বরং বলেছিল,- আমি এই বশরকে কি করে সেজদা করব !! এই সাহস তার কি করে হল ? তা ইলমের কারণেই । ইহা শয়তানের ইলমের কারণেই বলেছিল। এটাতো বশর! তাকে মাটি দিয়ে তৈয়ার করা হয়েছিল আর আমাকে আগুন দিয়ে তৈয়ার করা হয়েছে । আগুন উপরের দিকে উঠে আর মাটিতো নিচের দিকে ধাবিত হয়। আমার ইলম বলতেছে আমি ওর থেকে উত্তম। উত্তম হয়ে আমি অধমকে কেন সেজদা করব? ইলম ইবলিশকে নিয়ে অধঃপতন হল তার ইমানও বাহির হয়ে গেল । আর যে সব গিয়ান ইবলিশের ছিল তা ফেরেশতাদের কাছেও ছিল। তারাও দেখতেছিল এবং আল্লাহ্ তা'আলার কথা শুনতেছেন। আল্লাহ্ তা'আলা যাকিছু বলেছেন ইবলিশ যেমন শুনছে ফেরেশতাগণও তা শুনছিলেন। কিন্তু ইবলিসের ইলম বলে উঠল সেজদা না করতে। ফেরেশতাগণ জিগগাসা করেছিলেন বারিতা'আলা এই সত্বাকে কেমনে খলিফা বানিয়েছেন? তাহলে বুঝা গেল ইল্ম তাদেরও ছিল ইবলিশেরও ছিল । কিন্তু ইবলিশ ইলমকে কাজে লাগিয়ে মিমাংশা করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল ফলে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে শয়তান করে বাহির করে দিলেন। যখন ফেরেশতাদের পালা আসল তখন তাদের প্রশ্নের জবাবে রব তা'আলা ইরশাদ করেন,- "ইন্নি মা'লামু তা'লামুন" অর্থাত - "আমি যা জানি তোমরা তা জাননা"।
আদম আলাইহিস্সালাম-কে খেলাপত দেয়ার পিছনে আরো কিছু রহস্য আছে, যা আমি জানি তোমরা জাননা।
এখন উদা্রণ স্বরুপ বলি দুজন লোক বসান যাদের মধ্যে একজন আলেম ও একজন আশেক (প্রেমিক) দুজনকে যদি বলাহয় আমি জানি তোমরা জাননা ! তাহলে কে বিনা শর্তে মানবে? ইলম যার কাছে আছে সে কিছুতেই মানবেনা । সে বলে উঠবে আমি কেন জানবনা ? কিন্তু যার অন্তরে মহব্বত আছে সে চুপ করে থাকবে, সহজভাবে মেনে নিবে।
ফেরেশতা সিজদাবনত হল, ইবলিশ মানলনা পরিনতিতে ফেরেশতাগণ সেজদা করে পূন্যবান হয়েগেল আর ইবলিশ অমান্য করে গুনাহগার হয়ে গেল।
শিক্ষনীয় হচ্ছে ইলম সন্দেহ সৃষ্টি করে আর মহব্বত সন্দেহকে বাহির করে দেয়। মহব্বত বিশ্বাস শৃষ্টি করে আর ইলম বক্রতা সৃষ্টি করে। ইলম চিন্তা করে এটা করব নাকি না করব মহব্বতের দরুন (যেমন) মজনু-র কুকুরের পা পর্যন্ত চুমাতে পারে এবং মজনুর দিকের দেওয়াল পর্যন্ত চুমায়। তা মহব্বতের কারণেই। এই জন্য আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেন প্রথমে "যা-লিকাল কিতাবু লা-রাইবা ফি" কথা শুরু করার পূর্বেই বলে দিলেন, "ইহা সেই কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নেই" অথচ এখনো দলিল পেশ করেননি, তার আগেই বলে দিচ্ছেন এই সেই কিতাব, যাতে কোন সন্দেহ নেই। ইলম কি করে মানতে পারে ? যা এখনো বলা হয়নি। তা কি করে মানব ? আল্লাহ তা'আলা বলেন হে ইলম আমি তোমাকে ঈমানের ভিত্তিই বানাইনি। তুমি মান বা নামানো কিছুই আসেযায়না। তাহলে ঈমানের ভিত্তি কি? বলা হল "ইউ'মিনুনা বিল-গায়ব্" যে বিনা দেখে মানতে পারে । তাহলে বুঝা যায়, না দেখে বিশ্বাস করা ইলমওয়ালার কাজ নয়, মহব্বতকারীদের কাজ। তাহলে বুঝা যায় কোরআনুল করিমের শুরুতেই দুই আয়াতে এটাই শিক্ষা দেয়া হয়েছে ঈমানের অবতরন ইলম-ওয়ালাদের মাঝে নয় মহব্বতকারীদের মাঝে। কোরআন পাকের শুরুতেই আমরা এই শিক্ষা পাই।



ইলম ও মহব্বত পর্ব - ২ : এখন সামনে দেখুন , বলা হয় ইষ্ক কি ? মহব্বত কি? এই সকল কথা আবু লাহাব ও আবু যেহেলের ভাষা। জিগগাসা করতে হলে যাও, সর্ব-হযরত আবু-বকর,ওমর,ওছমান ও আলী রদিয়াল্লাহু আনহুমা উনাদেরকে জিগগাস করেন। আজ আমি তাদের উদাহরণ দেব। সম্পূর্ণ কোরআন মযিদ পর্যালোচনা করুন, কিছু আয়াত করীম এমন আছে যাহা কিতাবিদের কে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, "ইয়া আহলেল কিতাব" উহা তো ওদের জন্য যারা পূর্বেকার কিতাবের সাথে সংষ্পৃক্ত ছিল। বাকি সমস্ত কোরআন পাকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। আলাম থেকে নাস পর্যন্ত। সকল মানব জাতীকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে - "ইয়া আয়্যুহান্নাস্" অর্থাত "হে লোক সকল" অথবা বলা হয়েছে শুধুমাত্র মু'মিনদের উদ্দেশ্য করে,-"ইয়া আইয়্যুহাল্লাজীনা আমানু" অর্থাত "হে ঈমানদারগণ" এই দুই ভাবে বলা হয়েছে পবিত্র কোরআনে । এখানে একটি বিষয় দেখার বিষয়, 'ইয়া আইয়্যুহান্না-‌স' শব্দটি দশ বার মক্কী ও দশ বার মাদানী সুরাতে এসেছে। মক্কাতে হয় মুসলমান ছিল, নাহয় কাফের ছিল। কিন্তু মদিনাতে হয মুসলমান নতুবা ইহুদী কিংবা খ্রীষ্টান ছিল ল সেই জন্য দশবার ইয়া আয়্যুহান্না-স বলে সম্বোধন করা হয়েছে।ইয়া আয়্যুহান্না-স সকল মানব জাতীকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে। যখন শ্রোতা সন্মিলিত জাতী তখন সম্বোধন করা হল 'ইয়া আয়্যুহান্না-স' যখন তাদের উদ্দেশ্য বলা হয় তখন বক্তব্য এক রকম ছিল, যান সকলেই সহজে মানতে পারে। বিশ বার আল্লাহ্ তা'আলা 'ইয়া আয়্যুহান্না-স' বলে আয়ত নাজিল করেছেন। উনন্নব্বই বার "ইয়া আইয়্যুহাল্লাজীনা আমানু" বলে সম্বোধন করে আয়াত নাজিল করেন। "ইয়া আইয়্যুহাল্লাজীনা আমানু" শব্দটি একবারো মক্কাতে বলেননি। মক্কাজীবনে তেইশ বৎসর ছিলেন, মাদিনাতে দশ বৎসর। কিন্তু মক্কাতে তেইশ বছরের এক বারও "ইয়া আইয়্যুহাল্লাজীনা আমানু" বলে সম্বোধন করেননি। এদিকে মদিনাতে দশ বছরে উনন্নব্বই বার "ইয়া আইয়্যুহাল্লাজীনা আমানু" বলে সম্বোধন করেছেন।
এবার আরো আগে চলুন, যখন আল্লাহ্ তা'আলা কোরআন পাকে 'ইয়া আয়্যুহান্নাস' হে লোক সকল বলে সম্বোধন করলেন, তখন মুসলিম অমুসলিম সকলকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন। তখন যে হুকুমের উপর জোর দেয়া হয়েছে তা তাওহীদের উপর। শিরকের ব্যপারে বলা হয়েছে। যখন বলছেন হে লোক-সকল তখন পরকালের উপর বিশ্বাস করার জন্য বলেছেন, বা আল্লাহর রসুলের উপর ঈমান আনার কথা বলেছেন কিংবা শাস্তি ও পুরষ্কারের কথা বলেছেন কিংবা আল্লাহর কিতাবের সত্যতার কথা বলেছেন কিংবা মানুষের রহস্যের কথা বলেছেন। কিয়ামতের দিন হিসাব নিকাষের কথা বলেছেন ইত্যাদি । যখন 'আমানু' বলে সম্বোধন করেছেন মদিনাতে এই সকল আয়াতে যেখানেই রসুল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) উনার রিসালাতের কথা বলা হয়েছে উনার মহব্বতের কথা বলা হয়েছে, কিংবা আদবে মুহম্মদের কথা বলা হয়েছে এই জাতীয় সকল আয়াত মদিনাতেই নাযিল করেছেন। তার মানে কাফেরদের উদ্দেশ্য করে আল্লাহ তা'আলা রসুলের (সঃ) মহব্বত ও ইজ্জত করার কথা বলেননি। যখন মদিনাতে মুসলমানদের উদ্দেশ্য করে বলাছেন তখন বলেন ইয়া আইয়্যুহাল্লাজীনা আমানু, হে ইমানদারগণ যখন তোমরা রসুলের উপদেশ শুনতে বস এবং যদি কোন কথা তামাদের ভোধগম্য না হয় তখন বলিওনা 'আবার বলুন আমি বুঝিনি' অথবা আমার দিকে একটু দৃষ্টিপাত করুন এটা রসুলের শানে বেয়াদবি। যখন হে মুমিন বলেছেন মুস্তফা (সঃ) এর প্রতি আদব শিখিয়েছেন। হুজুর (সঃ) উনার আসরে কি রকম কথা-বার্তা বলতে হবে। জখন হে মুমিনগণ বলেছেন তখন শিখিয়েছেন বলেন শতর্ক করে দিচ্ছি 'যে রসুলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে, সে আল্লাহ্ তা'আলার থেকেই মুখ ফিরিয়ে নিল। যখন বললেন, হে মুমিনগন তখন বলেছেন যখন তোমরা রসুলের কাছে যেতে চাও মুস্তফা (সঃ) উনার হুকুম ছারা অর্থাত উনি না ডাকলে ঘরে ডুকবেনা। উনার ব্যক্তিগত কোন ব্যপার নিয়ে চর্চা করিওনা। যখন ডাকবে তখন যাবে। ুনার ঘরে খাবারের ব্যবস্থা হলে তখন খাবার খেয়ে উনার ঘরে বিলম্ব করিওনা। উনার সাথে আলাপ-আলোচনায় জরিয়ে পরিওনা। ওখানে বেশিক্ষন অপেক্ষা করলে আমার রসুলের কষ্ট হবে। তিনিতো অনেক সর্মিন্দা তোমাদেরকে কিছু বলবেনা তিনি কষ্ট সহ্য করলেও তোমাদেরকে বলবেননা এখন যাও এই কথা, উনার কষ্ট হবে, কিন্তু উনার কষ্ট আমাকে পীড়া দিবে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন আমার মাহবুব কষ্ট হলেও সর্মিন্দা হয়ে কিছু বলবেননা কিন্তু আমার শরম কিসের ? তাি আমি বলতেছি চলে যাও, যাতে আমার মুস্তফা-র আরামের ব্যঘাত না ঘঠে। যখন মদিনাতে মুমিনদেরকে বলেছেন এই রকম আয়াতই নাযিল করেছেন। বলেন হে মুমিনগণ আমার মোস্তফার কথার উপর তোমরা কথা বলিও না। উনার কুরবানী করার পূর্বে তোমরা কুরবানী করিওনা, উনার রোজা রাখার পূর্বে রোজা রাখিওনা। যখন মদিনাতে মুমিনদের উদ্দেশ্যে বলেন তখন বলেন, যখন মোস্তফার আসরে বসবে তখন তোমাদের কন্ঠ যেন উনার কন্ঠের থেকে উচু না হয়। বলা হল মুস্তাফা-কে এভাবে ডাকিওনা যেমনটি তোমরা একে অপরকে ডাক, নচেৎ তোমাদের আওয়াজ যদি সামান্য টুকুও বেশী হয় তাহলে তোমাদের সকল আমলই নষ্ট হয়ে যাবে। নামাজ রোজা হজ যাকাত সব কিছুই নষ্ট হয়ে যাবে, আর তোমাদের খবরই থাকবে না।
-----------------
এখানে শিক্ষণীয় যে যখন মানুষ আল্লাহ্ তা'আলার উপর ঈমান আনে, তাকে রসুলের আদব ও মহব্বতের দিকেই জোর দিতে হবে,তাতেই আল্লাহ্ তা'আলার হুকুম মান্য হবে। যারা মুমিনদেরকে তওহীদ শিখাইতে ব্যস্থ তারা গোমরাহীতে নিমর্জিত। তওহীদের আলো-তো তাদের অন্তরে মওজুদ আছে, সুতরাং তাদেরকে আদব ও মহব্বতে মুস্তফা শিখানো জরুরী। এটাই ঈমানদারের লক্ষন








Comments

Popular posts from this blog

শুধু মুখে কলেমা পড়লে জান্নাত যাওয়া যাবেনা

মসনবী শরীফ বই - মউলানা রুমী (রহঃ)