Posts

Showing posts from 2023

খুশু-খুজু বা নামাজে একাগ্রতা

Image
খুশু-খুজু  বা নামাজে একাগ্রতা 📚মুকাশাফাতুল কুলুব ✍🏻 হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) নামাযের পূর্ণাঙ্গতা বিনম্ন আত্মসমর্পণ ও একাগ্রতার মাধ্যমে নামাযকে পূর্ণাঙ্গ সুন্দর ও প্রাণবন্ত করার নাম খুশু-খুজু।  আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেছেন  :  >“মু'মিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে, যারা নিজেদের নামাযে বিনয়ী-নম্র”। (মুমিনূন  : ১,২ )  আয়াতে উল্লেখিত ‘খুশু’র ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে কেউ কেউ বলেছেন, — ‘এটা আত্মার সাথে সম্পর্কিত আমল। যেমন ভয় ও শঙ্কা’র সম্পর্ক আত্মার সাথে, তেমনি খুশুও একটি আত্মিক আমল।  আবার কেউ কেউ খুশুকে বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে যুক্ত করে এটাকে বাহ্যিক আমল বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন, -শারীরিক স্থিরতা-ধীরতা, এদিক-সেদিক দৃষ্টি না করা, অহেতুক অঙ্গ সঞ্চালন থেকে বিরত থাকা; নামাযের ভিতর এগুলো বাহ্যিক আমলের সাথে সম্পর্কিত বিষয়। অনুরূপ, আরও কেউ কেউ বলেছেন, নামাযের জন্য খুশু’র প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য, অর্থাৎ এটা একান্ত ফরয পর্যায়ের বিষয়। অপরদিকে কেউ কেউ খুশুকে নামাযের জন্য ফযীলত ও মুস্তাহাব বলে অভিহিত করেছেন। ফরয আখ্যাদানকারীগণ দলীল হিসাবে যে হাদীসখানি পেশ ক...

ইবনে ওমরের মাছ খাওয়া হলনা

Image
  হযরত নাফে' (রঃ) বর্ণনা করেন, ইবনে ওমর (রাঃ) একবার অসুস্থ হয়ে টাটকা মাছ খাওয়ার বাসনা প্রকাশ করেন। মদীনায় অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তা পাওয়া গেল না। কয়েকদিন পর যখন পাওয়া গেল, তখন দেড় দেরহাম দিয়ে কিনে এনে রান্না করা হয়। অতঃপর একটি রুটির উপর মাছটি রেখে হযরত ইবনে ওমরের সামনে পেশ করা হয়। ইতিমধ্যে জনৈক ভিক্ষুক দরজায় এসে হাঁক দিল। হযরত ইবনে ওমর খাদেমকে বললেন : মাছটি রুটিতে জড়িয়ে ভিক্ষুককে দিয়ে দাও। খাদেম আরজ করল : জনাব, অনেক দিন থেকে যখন মাছ খেতে আপনার মন চাইছিল, তখন পাওয়া যায়নি। এখন পাওয়ার পর দেড় দেরহাম দিয়ে কিনে আপনার জন্যে রান্না করেছি। আপনি বললে ভিক্ষুককে এর মূল্য দিয়ে দেই। তিনি বললেন : না, এ মাছটি রুটিতে জড়িয়ে তাকে দিয়ে দাও। অতঃপর খাদেম গিয়ে ভিক্ষুককে বলল : তুমি এটি এক দেরহামের বিনিময়ে বিক্রয় করবে? ভিক্ষুক সম্মতি দিলে খাদেম এক দেরহাম তাকে দিয়ে মাছটি আবার তাঁর সামনে হাযির করল এবং বলল : এ মাছটি এক দেরহাম দিয়ে কিনে এনেছি। তিনি বললেন : ভিক্ষুকের কাছ থেকে দেরহাম ফেরত না নিয়ে মাছটি রুটিসহ তাকে দিয়ে এস। আমি রসূলে আকরাম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম)-কে ব...

শুধু মুখে কলেমা পড়লে জান্নাত যাওয়া যাবেনা

  শুধু মুখে কলেমা পড়লে জান্নাত যাওয়া যাবেনা। —————— ‎اَحَسِبَ النَّاسُ اَنۡ یُّتۡرَکُوۡۤا اَنۡ یَّقُوۡلُوۡۤا اٰمَنَّا وَ هُمۡ لَا یُفۡتَنُوۡنَ (2) অনুবাদ— মানুষ কি মনে করেছে যে, আমরা ঈমান এনেছি এ কথা বললেই তাদেরকে পরীক্ষা না করে অব্যাহতি দেয়া হবে? ——————- তফসীর— ‎ ‫يُفْتَنُون ‬শব্দটি ‫فتنة ‬থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ পরীক্ষা। [ফাতহুল কাদীর] ঈমানদার বিশেষত: নবীগণকে এ জগতে বিভিন্ন প্রকার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়েছে। পরিশেষে বিজয় ও সাফল্য তাঁদেরই হাতে এসেছে। এসব পরীক্ষা জান ও মালের উপর ছিল। [ফাতহুল কাদীর] এর মাধ্যমে তাঁদের ঈমানের দৃঢ়তার পরীক্ষা হয়ে যেত। কোন সময় কাফের ও পাপাচারীদের শক্ৰতা এবং তাদের নির্যাতনের মাধ্যমে হয়েছে, যেমন অধিকাংশ নবীগণ, শেষনবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া-সাল্লাম) ও তার সাহাবীগণ প্রায়ই এ ধরনের পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন। সীরাত ও ইতিহাসের গ্রন্থাবলী এ ধরনের ঘটনাবলী দ্বারা পরিপূর্ণ। কোন সময় এই পরীক্ষা রোগ-ব্যাধি ও অন্যান্য কষ্টের মাধ্যমে হয়েছে। যেমন আইয়ুব আলাইহিস সালাম-এর হয়েছিল। কারও কারও বেলায় সর্বপ্রকার পরীক্ষার সমাবেশও করে দেয়া হয়েছে। ...

ইতিকাফ বিষয়ে হাদিস

  ইতিকাপ বর্জনীয় বিষয়

বৃহস্পতিবারের নফল নামাজ

Image
বৃহস্পতিবারের নফল নামাজ ———————- বৃহস্পতিবার রাত্রির নামাজ-  (বুধবার দিনগত রাত) হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ)-এর রেওয়ায়েতে রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেন : যে বৃহস্পতিবার রাতে মাগরিব ও এশার মাঝখানে দু'রাকআত নামায পড়ে- প্রত্যেক রাকআতে  > আলহামদু পাঁচ বার,  > আয়াতুল কুরসী পাঁচ বার,  > সুরা এখলাস পাঁচ বার, > সুরা ফালাক পাঁচ বার, > সুরা নাস পাঁচ বার, > এবং নামাযান্তে পনর বার এস্তেগফার পাঠ করে,  > সওয়াব পিতামাতাকে বখশে দেয়, পিতামাতার হক তার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যায়, যদিও সে পিতামাতার অবাধ্যতা করে। আল্লাহ তাআলা তাকে এমন বস্তু দেবেন, যা সিদ্দীক ও শহীদগণকে দেবেন'। বৃহস্পতিবার দিনের নামাজ:- হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর রেওয়ায়েতে রসূলে করীম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেন : যেব্যক্তি বৃহস্পতিবার দিন যোহর ও আসরের মধ্যে দু'রাকআত নামায পড়ে, প্রথম রাকআতে আলহামদু একবার, আয়াতুল কুরসী একশ' বার এবং দ্বিতীয় রাকআতে আলহামদু একবার, সূরা এখলাস একশ' বার এবং দরূদ একশ’ বার পাঠ করে, তাকে আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির সওয়াব দান করবেন, যে রজব, শাবা...

ঈদের তাকবীর

 

ঈদ মোবারক

 

রিয়াদুল জান্নাত

Image
রিয়াদুল জান্নাত  —————— সহীহ্ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, “মা বাইনা কাবরী ওয়া মিম্বারী মির রিয়াদিল জান্নাতি” অর্থাত; “আমার কবর ও মিম্বরের মধ্যবর্তীস্থানে বেহেশতের বাগিচাসমূহের কোনো একটি বাগিচা আছে”।  এক বর্ণনায় আছে, “আমার হুজরা ও মিম্বরের মধ্যবর্তীস্থানে বেহেশতের বাগান আছে”।  অপর এক বর্ণনায় আছে, “আমার ঘর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে বেহেশতের বাগান”। বোখারী শরীফে বর্ণিত হয়েছে এই কথাটুকু – “আমার মিম্বরটি রয়েছে আমার হাউযে কাউছারের উপর”। কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, “আমার মিম্বর আছে জান্নাতের কোনো একটি দরজার উপর”। ‘নাযআতুন’ এর অর্থ কেউ কেউ বলেছেন, দরজা। আবার কেউ কেউ বলেছেন, উচ্চ ভূমিতে অবস্থিত উদ্যান। উলামা কেরাম বিভিন্নভাবে হাদিসখানির ব্যাখ্যা করেছেন। কেউ বলেছেন, উক্ত ভূমিখণ্ডকে বেহেশতের বাগানের সাথে উপমা দেওয়া হয়েছে। কেননা ওই স্থানে বিরামহীনভাবে আল্লাহ্’র রহমত অবতীর্ণ  ———————- #মাদারেজুন্নবুঅত  - ৭ম খন্ড #রিয়াদুল_জান্নাত  #ইসলাম_ই_মুক্তির_দিশা @everyone  

ইশরাক নামাজ

Image
ছবির উপর ক্লিক করে নিয়ম দেখে নিন পেজবুকে গিয়ে ইশরাক’ অর্থ হলো উদয় হওয়া বা আলোকিত হওয়া। শরিয়তের পরিভাষায় ইশরাক হলো সূর্যোদয়ের পর যখন পূর্ণ কিরণ বিচ্ছুরিত হয়, সে সময়। এই সময়ের নামাজকে ইশরাক নামাজ বলা হয়। এ নামাজের ওয়াক্ত ফজরের কমপক্ষে ১৫ মিনিট পর শুরু হয়ে ২ ঘণ্টা অবধি থাকে। এ নামাজ পড়া মুস্তাহাব। নিয়ম হলো ফজরের নামাজের পর জায়নামাজ থেকে না ওঠে তাসবিহ-তাহলিল, দোয়া-দরুদ, জিকির-আযকার ইত্যাদিতে রত থাকা এবং ওয়াক্ত হলেই এ নামাজ পড়ে নেয়া। অবশ্য জায়নামাজ ছেড়ে ওঠে গেলেও এ নামাজ পড়া যায়, তবে সওয়াব আগের মতো হবে না। হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করে স্বীয় স্থানে বসে থাকে, তার জন্য ফেরেশতারা ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন। তারা এভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করুন; হে আল্লাহ, তার প্রতি দয়া করুন। আর যে নামাজের অপেক্ষায় থাকে তার জন্যও ফেরেশতারা ক্ষমা প্রার্থনায় রত থাকেন। তারা এভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করুন; হে আল্লাহ, তার প্রতি দয়া করুন। (মুসনাদে আহমদ)। হাদিসে আছে, যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জ...
Image
  বিশ (২০) রমজান থেকে শেষ রমজান পর্যন্ত যে কোন এক রাত্রি ‘লাইলাতুল কদর’ অর্থাত কদরের রাত্রি। রসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দিষ্ট করে কদরের রাতের তারিখ বলেননি। শুধু একটুকু বলেছেন রমজানের শেষ দশকে যেন আমরা শবেকদর তালাশ করি। তাই যার যতটুকু সম্ভব কদরের নিয়তে বেশি বেশি নফল ইবাদত করা উচিত। শবেকদরের বিশেষ দোয়া। --------------- ‎ﺍَﻟﻠﻬﻢ ﺇﻧَّﻚَ ﻋَﻔُﻮٌ ﺗُﺤِﺐُّ ﺍﻟﻌَﻔْﻮَ ﻓَﺎﻋْﻒُ ﻋَﻨّﻲ “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নী"। অর্থাৎ “হে আল্লাহ! নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা ভালবাসেন। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন”। [তিরমিযি ৩৫১৩, ইবনে মাজাহ ৩৮৫০] . আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি নিবেদন করলাম, হে আল্লাহর রসূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) আপনি বলুন, যদি আমি (ভাগ্যক্রমে) শবে কদর জেনে নিই, তাহলে তাতে কোন (দোয়া) পড়ব? তিনি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন, এই দোয়া, “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নী।” অর্থাৎ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা ভালবাসেন। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দেন। [তিরমিযি ৩৫১৩, ...

কদরের রাতের পরের দিন যা হবে

Image
  কদরের রাতের পরের দিন যা হবে —————- কদরের রজনীতে জিব্রাইল (আঃ) সকল ইমানদারদের সাথে করমর্দন করেন। তার করমর্দনের সময় মুমিন ব্যক্তির শরীরের লোমকুপ খাড়া হয়ে যায়। মন কোমল হয় এবং চোখে অশ্রুধারা নেমে আসে। এসব নিদর্শন দেখা দিলে বুঝতে হবে , তার হাত হজরত জিব্রাইল (আঃ)-এর হাতের মধ্যে রয়েছে। ফজরের পর জিব্রাইল (আঃ) সমস্ত ফেরেস্তাদের নিয়ে উপরে দিকে উঠে যান এবং অনেক উপরে উঠে স্বীয় পালক ছড়িয়ে দেন অতপর তিনি সেই দুটি সবুজ পালক প্রসারিত করেন, যা অন্য কোন সময় প্রসারিত করেননা। এর ফলে সূর্যের কিরণ মলিন ও স্থিমিত হয়ে যায়। তারপর তিনি সমস্ত ফেরেস্তাদেরকে ডাকিয়ে নিয়ে যান। সব ফেরেস্তা উপরে উঠে গেলে তাদের নুর এবং জিব্রাইল (আঃ) এর পালকের নুর মিলিত হয়ে সুর্যের কিরণকে নিস্প্রভ করে দেয়। ঐ দিন সূর্য অবাক হয়ে যায়। সকল ফেরেশ্তা সেদিন আকাশ ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানের ইমানদার নারী-পুরুষের জন্য রহমত কামনা করে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন। তারা ঐ সব লোকের জন্যও দোয়া করেন, যারা সৎ নিয়তে রোযা রাখে এবং সুযোগ পেলে পরবর্তী রমযান মাসেও আল্লাহর ইবাদত করার মনোভাব পোষন করে। সন্ধ্যায় সবাই প্রথম আসমানে পৌঁছে যান । সেখানে...

দুনিয়ার পরিবেশে মানুষের রুহ্ অপরিচিত কেন ?

Image
  দুনিয়ার পরিবেশে মানুষের রুহ্ অপরিচিত কেন ? প্রশ্ন করা হইয়াছে , — মানুষের আত্মা এই দুনিয়াতে এক অপরিচিত আগন্তুক সর্বাবস্থায় সে উদ্ধ‘জগতে উড়িয়া যাওয়ার জন্য উন্মুখ থাকে, —এই কথার অর্থ কি ? এই ধরণের বিশ্বাস তো নাছারা এবং ভ্রান্ত দার্শনিকেরা প্রকাশ করিয়া থাকে ! এই প্রশ্নের জবাবে তোমাদের জানিয়া রাখা দরকার যে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, ঈসা রাছুলুল্লাহ — এই কথাটি নাছারাদের, তাই বলিয়াকি কথাটি সত্য নয় ? হযরত ঈসা কি আল্লাহর প্রেরীত রাছুল নহেন ? স্মরণ রাখিও, কোন বাতিলপন্থী লোক যদি হক কথা বলে, তবে বক্তার বাতিলপন্থী হওয়ার কারণেই তা বাতিল প্রতিপন্ন হইয়া যাইবে না । এইরূপ মনে করা নিতান্ত মূখ'ত । যে কোন ব্যক্তি কতৃক যে কোন একটি অন্যায় কথা একবার উচ্চারণ করার পর আর তার মুখ হইতে কখনও কোন হক কথা বাহির হইবে না, তার মুখ হইতে অতঃপর যা কিছু বাহির হইবে সবই বাতিল বলিয়া বিবেচিত হইবে । প্রকৃত বুদ্ধিমানগণের রীতি হইল 'কথাটি যথার্থ কিনা, তা যাচাই করিয়া দেখা । যেমন হযরত আলী (রঃ) বলিয়াছেন , “তোমরা আল্লাহ তা'লাকে মানুষের মাধ্যমে চিনবার চেষ্টা করিও না, বরং প্রথমে পরম সত্যকে জানবার চেষ্টা কর, তাহা...

নুৱে-হাকিকী বলিতে কি বুঝায় ?

Image
  নুৱে-হাকিকী বলিতে কি বুঝায় ? ইমাম গাজ্জা্লী রহঃ বলেন,- আমাকে প্রশ্ন করা হইয়াছে : — আল্লাহ, তিনিই নূর,— এই কথা দ্বারা আপনি কি বুঝাইতে চাহিয়াছেন ? নূর বলিতে আমরা যা বুঝি তা হইল, যে বস্তুর মধ্যে আলো রহিয়াছে এবং যার মধ্যে শিখাও দেখা যায়, কিন্তু আল্লাহ সম্পর্কে কি এই কথা খাটে ? জবাব আমি আমার কিতাবের মধ্যে নূর শব্দের তাৎপর্য ও নুরের স্বরূপ এমনভাবে ব্যাখ্যা করিয়া দিয়াছি, যে বিষয়ে একটু চিন্তা করিলেই সবকিছু সুস্পষ্ট হইয়া যাইবে । নূর বলিতে শুধুমাত্র শিখাযুক্ত আলোকেই বুঝায় না । যদি তাহাই হইত, তবে স্বয়ং আল্লাহ, তাহার রসূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) এবং কোরআন মজীদ নূর শব্দ দ্বারা আখ্যায়িত হইত না । কেননা, কুরআন বা রসূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) তো শিখাযুক্ত কোন আলো নন । সুতরাং বুঝা যাইতেছে যে, নূরে হাকিকী বা আল্লাহর নূর আমাদের সাধারণ দৃষ্টিগ্রাহ্য আলোর সমপর্যায়ের কোন কিছু নয় । ইহা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র জিনিষ । দৃষ্টিশক্তির জন্য আলোর প্রয়োজন, কিন্তু সেই আলো দৃষ্টিগ্রাহ্য কোন বস্তু নয় । তেমনি অন্তরের জন্যও আলোর প্রয়োজন, যে আলোর মাধ্যমে সবকিছু অনুধাবন করা হয় । অস্তরের কোন...

ওয়াহাবীদের প্রতি নসীহত পর্ব- ২

Image
  ওয়াহাবীদের প্রতি নসীহত পর্ব- ২ —————— এবাদত মূল ঈমানের অন্তর্ভুক্ত নয়: (কাসিদা-এ-আমালী ও হাদিকা) ওয়াহাবী পুস্তকটির *1 ৪৮ এবং ৩৪৮ নং পৃষ্ঠায় লেখা রয়েছে, এবাদত তথা আমল (সৎকর্ম) মূল ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। এবাদত করে না এমন ব্যক্তির ঈমান বিদূরিত হয়। ঈমান বৃদ্ধি অথবা হ্রাস পেতে পারে। আশ্ শাফেয়ী, আহমদ ইবনে হাম্বল এবং অন্যান্যরা সর্বসম্মতভাবে তাই বলেছেন। *1 [ফাতহুল মাজীদ : বাবু দু'য়ায়ি ইলা শাহাদাতিল লা ইলাহা ১/৯৩। *1 ফাতহুল মাজীদ : বাবু ফদ্বলিত তাওহীদ ১/৪৮।] জবাব হল এবাদত যে একটি কর্তব্য তা বিশ্বাস করা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু বিশ্বাস ও কর্তব্য পালন দুইটি ভিন্ন বিষয়, যেগুলোকে তালগোল পাকিয়ে ফেলা মোটেই উচিৎ নয়। কোনো ব্যক্তি বিশ্বাস স্থাপন করে যদি আলস্যবশতঃ তার বিশ্বাসকে আমল না করে, তবে সে কাফেরে পরিণত হবে না। ওয়াহহাবীরা এ ব্যাপারটি বুঝতে না পেরে লক্ষ- কোটি মুসলমানকে কাফের ফতোয়া দিয়ে ফেলছে। অথচ কেউ যদি কোনো মুসলমানকে কাফের আখ্যা দেয়, তা হলে সে নিজেই কাফেরে পরিণত হয়। 'কাসিদা-এ আমলী' পুস্তকের তেতাল্লিশতম পংক্তিটি বলে, ”ফরয এবাদত (মূল) ঈমানের অন্তর্ভুক্ত নয়”। হযরত ইম...