Posts

Showing posts from June, 2024

কারবালা – ১৮

Image
শামে কারবালা - (পর্ব- ১৮) **************** কারবালার ইতিহাস হযরত মুসলিম এবং ইবনে যিয়াদের কথোপকথন— ইবনে যিয়াদ হযরত মুসলিমকে বলল, “এ পর্যন্ত মানুষ একমত ও পরস্পর ঐক্যবদ্ধই ছিল। তুমি এসে বিচ্ছিন্নতা এবং মতানৈক্য সৃষ্টি করেছ এবং আমাদের বিরুদ্ধে তাদের উত্তেজিত করে তুলেছ। তিনি বললেন, "কখনও না, আমি এজন্য আসিনি। বরং এ এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য হল, তোমার বাবাই তাদের বুযুর্গ ও নেককার লোকদের হত্যা করেছে এবং রক্তপাত করেছে। তাছাড়া তাদের উপর কায়সার ও কিসরা (রোম পারস্যের অধিকর্তা) এর মত শাসন চালিয়েছে। এ কারণেই লোকেরা আমাকে আহবান জানিয়েছে। আমি মানুষের প্রতি ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, কুরআন-সুন্নাহর উপর আমল করার প্রতি আহবান জানাতে এখানে এসেছি।”  ইবনে যিয়াদ একথা শুনেই রেগে উঠল। বলল, “রে দূরাচার, (মা আযাল্লাহ্) পাপিষ্ট হয়ে এই দাবী করছ ! যে সময় মদীনায় বসে শরাব পান করতে ঐ সময় খেয়ালে আসেনি যে, মানুষের মধ্যে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে?” তিনি বললেন, “কী, আমি শরাব পান করতাম? খোদার কসম, আল্লাহ্ উত্তম জানেন, আর তোমার নিজেরও নিশ্চিত জানা আছে যে, তুমি মিথ্যা বলছো, আমাকে নাপাক অপবাদে কলুষিত করছ! আমি কখনোই এম...

কারবালা – ১৭ (হানীর গ্রেফতারী (পর্ব- ৬)

Image
শামে কারবালা - (পর্ব- ১৭) **************** কারবালার ইতিহাস— হানীর গ্রেফতারী (পর্ব- ৬) ইবনে আশআস হযরত মুসলিমকে নিয়ে গভর্ণর হাউসে পৌঁছল। তাঁকে দরজার নিকট রেখে সে ভিতরে ঢুকল। ইবনে যিয়াদের কাছে পূর্বাপর সকল ঘটনা বর্ণনা করল। আর বলল, “আমি তাকে নিরাপত্তা দিয়েছি।”  ইবনে যিয়াদ বলল, “তুমি নিরাপত্তা দেয়ার কে? আমি তোমাদের শুধুমাত্র গ্রেফতার করার জন্যই পাঠিয়েছিলাম। নিরাপত্তা ঘোষণার জন্য তো নয়।”  ইবনে আশআস নিরুত্তর হয়ে রইল।  হযরত মুসলিম (র.) এর ভয়ানক তেষ্টা পেয়েছিল। গর্ভনর হাউসের দরজার সামনে ঠান্ডা পানিভর্তি একটি কলসী দেখতে পেয়ে বললেন, "আমাকে এ কলসী থেকে একটু পানি পান করাও।”  মুসলিম ইবনে আমর বাহেলী বলল, দেখছ, কেমন ঠান্ডা পানি? কিন্তু খোদার কসম, তোমাকে এর থেকে একটি ফোঁটা ও দেব না। এখন তো তোমার ভাগ্যে জাহান্নামের ফুটন্ত পানিই রয়েছে।”  তিনি শুধালেন, “তুমি কে? সে উত্তর দিল, আমি " সেই ব্যক্তি, যে সত্য চিনেছে, যখন তুমি তা ত্যাগ করেছ, আমি সেই ব্যক্তি, যে, মুসলিম উম্মাহ্ এবং ইমামের শুভাকাংখী, যখন তুমি হয়েছিলে অবাধ্য এবং বিদ্রোহী। (মাআযাল্লাহ্) আমি মুসলিম ইবনে আমর বাহেলী ...

কারবালা - ১৬ (হানীর গ্রেফতারী (পর্ব- ৫)

Image
শামে কারবালা - (পর্ব- ১৬) **************** কারবালার ইতিহাস হানীর গ্রেফতারী (পর্ব- ৫) মুহাম্মদ ইবনে আশআস যখন তাঁর বীরত্ব এবং নিজ সাথীদের ভীরুতা আর দুর্বলতার আন্দাজ করল তখন সে আবারও প্রতারণার জাল বিস্তার করল।  আগ বাড়িয়ে সে বলতে লাগল, “আপনি একাকী কতক্ষণ লড়বেন? অহেতুক নিজকে ধংসের মুখে ঠেলবেন না । আপনার জন্য নিরাপত্তা নিয়েই আমরা এসেছি। আমরা আপনার সাথে যুদ্ধ করতে আসিনি। আমাদের মধ্যে পরস্পর তরবারী চালনা হোক– সেটা আমাদের কারো কাম নয়। তবে উদ্দেশ্য শুধু এতটুকু যে, আপনি ইবনে যিয়াদের কাছে চলুন, পরস্পর আলোচনার মাধ্যমে সবকিছুর মিটমাট হয়ে যাক।”  কিন্তু তিনি নিম্নবর্ণিত শেয়ের আবৃত্তি করতে করতে বরাবর সামনে অগ্রসর হতে লাগলেন, “মুক্ত, স্বাধীন যোদ্ধা ছাড়া কাটবোনা- মোর এই শপথ,  মৃত্যু আসে অনেক জ্বালায়' যদিই বা রয় সেই নিয়ত।  সব লোকেরই সামনে আসে দুঃখ, জ্বালা একটি দিন,  ঠান্ডা, মিঠে, উষ্ণ, তেঁতো চাখতে হবে সেই সে দিন ।  সূর্যের আলোর সত্যটাও দেয় ফিরিয়ে লোক যখন  মিথ্যা এবং ধোঁকার ভয়ে থাকবো না তো-নই সে জন ।” ইবনে আশআস নিশ্চয়তা দিয়ে বলল, “কেউ আপনার সাথে মিথ্যা ও ব...

কারবালা – ১৫ (হানীর গ্রেফতারী (পর্ব- ৪)

Image
হানীর গ্রেফতারী (পর্ব- ৪) 📚শামে কারবালা  (কারবালার ইতিহাস - ১৫)  ওদিকে ইবনে যিয়াদ যখন জানতে পারল যে, সকল কুফাবাসী ইমাম মুসলিমের সঙ্গ ছেড়ে দিয়েছে, এখন আর কেউ তাঁর সঙ্গে নেই, তখন সে ঘোষণা দিল, “মুসলিমকে যে-ই আশ্রয় দেবে, তার নিস্তার নেই। আর যে তাঁকে গ্রেফতার করে আনবে অথবা গ্রেফতার করিয়ে দেবে তাকে পুরষ্কার দেয়া হবে।”  এই ঘোষণার পর পুলিশ প্রধান (আই,জি) হুসাইন বিন নুমাইরকে নির্দেশ দিল, শহরের বহিঃ যোগাযোগ বন্ধ করে অলি গলিতে লোক নিয়োগ করে দাও, আর ঘরে ঘরে তল্লাশি চালাও, খবরদার ! এই ব্যক্তি (মুসলিম) যেন কোন রাস্তা দিয়ে কোন উপায়েই বেরিয়ে যেতে না পারে। যদি এ লোক কোনভাবে বেরিয়ে যায় আর তুমি তাকে গ্রেফতার করে না আনতে পার, তবে মনে রেখ, তোমারও ভাল হবে না।” আর এদিকে ত্বাওআ' তার যে সন্তানের জন্য অপেক্ষা করছিল সে ফিরে আসল। সে তাঁর মাকে বিশেষ একটি কামরায় বারবার আসা যাওয়া করতে লক্ষ্য করলে তাঁর কারণ জানতে চাইল। মহিলা প্রথমদিকে ব্যাপারটি চুপিয়েছিল, যখন ছেলেটি খুব বেশী পীড়াপীড়ি করতে লাগল, তখন গোপন রাখার অঙ্গীকার নিয়ে ব্যাপারটি তাকে খুলে জানাল।  ছেলেটি ছিল নেশাসক্ত ও বখাটে ...

কারবালা – ১৪

Image
হানীর গ্রেফতারী (পর্ব- ৩) শামে কারবালা - (পর্ব- ১৪) (কারবালার ইতিহাস) আফসোস্! এই কুফাবাসীরা তো আহলে বাইতের সেই প্রেমিক, আলী (র.) এর সেই অনুরাগী, যারা অসংখ্য চিঠি ও প্রতিনিধি পাঠিয়ে এবং সীমাহীন ভক্তি প্রেমের প্রকাশ ঘটিয়ে তাঁকে এখানে ডেকে এনেছিলে, এরাতো সেই জনগোষ্টি, যারা বড় বড় শপথ করে বাইআত নিয়েছিল এই বলে যে, 'আমরা জান মাল সর্বস্ব উৎসর্গ করে দেব। কিন্তু আপনার সঙ্গ কখনো ছাড়ব না।' আর আজ কী অবস্থা! সাধারণ ধমক শুনে আর পার্থিব সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের লালসায় তাঁকে ত্যাগ করে গেল! ঘরে ঢুকে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল! রসূল- খান্দানের এক প্রিয় প্রদীপ, ইমামে আলী মকাম হোসাইন (র.) এর প্রতিনিধি, অনুজ বিজনদেশে বান্ধবহীন পথিক হয়ে বড়ই পেরেশান ! কোথায় যাবেন? এই বিমর্ষতার সাথে আরো একটি উদ্বেগ যোগ হয়ে তাঁকে আরো বিচলিত করে তুলল। তিনি ভাবছেন- আমি তো ইমাম হোসাইন (র.) কে চিঠি লিখে দিয়েছি। এতে তাঁকে এখানে আসতে ও জোর সুপারিশ করেছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ইমাম আমার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করবেন না। আর নিশ্চিত সপরিবারেই তিনি তশরীফ নিয়ে আসবেন। তখন? এই কুফাবাসীদের বিশ্বাসঘাতকতা তাঁকে কোন্ বিপদের সম্মুখীন করে দে...

কারবালা – ১৩

Image
হানীর গ্রেফতারী (পর্ব- ২) শামে কারবালা - (পর্ব- ১৩) কারবালার ইতিহাস এদিকে হযরত মুসলিম (র.) আব্দুল্লাহ্ ইবনে হাযেমকে রাজ প্রাসাদের দিকে পাঠালেন এ বলে যে, “যাও, দেখে আস হানীর কী দশা হল।” তিনি গিয়ে অবস্থা পর্যবেক্ষন করলেন এবং হযরত মুসলিমকে এসে বললেন, ইবনে যিয়াদ হানীকে প্রহারে প্রহারে জখম করে ছেড়েছে। এখন তিনি বন্দী অবস্থায় আছেন। হানীর গোত্রীয় মহিলারা সে সময় আর্তনাদ আহাজারী করতে থাকে।  হযরত মুসলিম আব্দুল্লাহ্ ইবনে হাযেমকে বললেন, 'জাতি আজ বিপন্ন'-বলে আহবান কর এবং নিজের সাহায্যকারীদের ঐক্যবদ্ধ কর।"  যেইমাত্র তিনি আহবান জানালেন, তখন এই মুহুর্তের জন্য অপেক্ষমান চারহাজার লোক, খারা আহলে বাইতের একান্ত প্রেমিক আশে পাশের জায়গাগুলোতে লুকিয়ে থেকেছিল তারা সকলেই তৎক্ষণাৎ বেরিয়ে আসল।  মূহুর্তের মধ্যেই এ আওয়াজ সমগ্র কুফায় ছড়িয়ে পড়ল এবং যারা ইমাম মুসলিমের হাতে বাইআত গ্রহন করেছিল সকলেই জমায়েত হয়ে গেল। আঠার হাজার লোক সাথে নিয়ে হযরত মুসলিম এগিয়ে গেলেন এবং রাজপ্রাসাদ ঘেরাও করলেন। আর লোকজনও অবরোধকারীদের সাথে যোগ দিতে লাগলে এ সংখ্যা চল্লিশ হাজারে উপনীত হল। এরা সবাই ইবনে যিয়াদ এবং...

কারবালা – ১২

Image
শামে কারবালা - (পর্ব- ১২) হানীর গ্রেফতারী (পর্ব – ১)  — হানী ইবনে উরওয়াহ্ কুফার একজন সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। ইবনে যিয়াদের সাথে তাঁর পূর্বেকার কিছু সম্পর্কও ছিল। হযরত মুসলিম (র.) এর আগমনের আগে তিনি ইবনে যিয়াদের নিকট যেতেন এবং মেলামেশা রাখতেন। যখন থেকে হযরত মুসলিম (র.) তাঁর কাছে আসলেন, সেদিন থেকে তিনি অসুস্থতার অজুহাতে আসা যাওয়া এবং মেলামেশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। ওদিকে ইবনে যিয়াদ সার্বিক পরিস্থিতি ও অবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়ে গিয়েছিল। একদিন তার নিকট মুহাম্মদ বিন আশআস (জুদার ভাই, যে ইমাম হাসান (র.)-কে বিষ প্রয়োগ করেছিল) এবং আসমা বিন খারেজা আসল। ইবনে যিয়াদ তাঁদের জিজ্ঞেস করল, “হানীর কী অবস্থা ?” তাঁরা বললেন, “অসুস্থ।” ইবনে যিয়াদ বললো, “আমি জেনেছি যে, সে দিব্যি সুস্থ, আর সারাদিন নিজবাড়ীর সামনে বসে থাকে। তোমরা যাও এবং তাকে বলো, আনুগত্য এবং সাক্ষাত-দুটোই জরুরী ; যেন পরিহার না করা হয়।”  তাঁরা গেলেন এবং গিয়ে বললেন, “ইবনে যিয়াদ খবর পেয়েছে যে, আপনি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং দিনমান দরজার সামনে বসে থাকেন। তার সাথে দেখা করতে যান না। তার কিছু বিরূপ ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। কাজেই আপনি এখনই আমা...

কারবালা – ১১

Image
শামে কারবালা - (পর্ব- ১১) **************** ইমাম মুসলিমের অনুসন্ধানে গুপ্তচর — হযরত মুসলিম হানীর গৃহে আত্মগোপন করেছিলেন। তাঁর ভক্ত-অনুরক্তবৃন্দ সেখানেও মোলাকাতের উদ্দেশ্যে গোপনে আসা-যাওয়া করতেন। 'বাইআত' এর ধারাবাহিকতা বরাবর বজায় ছিল। কোন বর্ণনায় এসেছে যে, চল্লিশ হাজার লোক বাইআত গ্রহণ করেছিল।  এদিকে ইবনে যিয়াদ বরাবরই অনুসন্ধানে তৎপর ছিল, যাতে কে তাঁকে (ইমাম মুসলিম) আশ্রয় দিয়ে রেখেছে তার সন্ধান পাওয়া যায়। অথচ হানীর প্রতি তার বিন্দুমাত্র সন্দেহ জাগেনি। পরিশেষে সে তার গোলাম মুআক্কালকে এ কাজে নিয়োগ করে। তিন হাজার দিরহাম তার হাতে দিয়ে অনুসন্ধানের কূটকৌশল বাতলে দিল। এ জাতীয় রহস্যভেদের জন্য মোক্ষম জায়গা সচরাচর মসজিদই হয়ে থাকে। কেননা মসজিদে সর্বস্তরের লোকের আনাগোনা থাকে। পরিকল্পনা মোতাবেক ঐ গোলাম ও সোজা জামে মসজিদে গিয়ে পৌঁছল এবং অপেক্ষা করতে থাকল। সে লক্ষ্য করল এক ভদ্রলোক দীর্ঘক্ষণ নামায পড়তে আছেন। ইনি ছিলেন মুসলিম ইবনে আওসাজাহ্ আল আসাদী। যখন তিনি নামায সেরে উঠলেন, ঐ গোলাম তাঁর কাছেই উপস্থিত হল। আর বলতে লাগল, “আমি শামদেশী একজন গোলাম, আহলে বাইআতের প্রতি আসক্ত। আমার কাছে এই...

কারবালা – ১০

Image
শামে কারবালা - (পর্ব- ১০) **************** শুরাইক ইবনে আ’ওয়ার — শুরাইক ইবনে আ'ওয়ার সালমী যিনি আহলে বাইতের অনুরক্তদের মধ্যে একজন অনুরাগী ছিলেন, আর বসরার সর্দারবৃন্দের অন্যতম ছিলেন, যিনি ইবনে যিয়াদের সাথেই বসরা থেকে এসেছিলেন। ঘটনাক্রমে তিনিও হানী ইবনে উরওয়ার মেহমান হয়েছিলেন। ইবনে যিয়াদ এবং অন্যান্য ওমারাদের কাছে তিনি অত্যন্ত সম্মানের পাত্র ছিলেন। এরই মধ্যে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ইবনে যিয়াদ সংবাদ দিলেন যে, 'আমি সন্ধ্যা নাগাদ আপনাকে দেখতে আসব।” শুরাইক হযরত মুসলিম (রাঃ)কে জিজ্ঞেস করলেন, ইবনে যিয়াদকে হত্যা করতে আমি যদি আপনাকে সুযোগ সৃষ্টি করে দেই, তবে আপনি তা করতে সম্মত ? তিনি বললেন “হ্যাঁ”। শুরাইক বললেন, “ঐ নরাধম আজ সন্ধ্যায় আমাকে দেখতে আসছে। আপনি উম্মুক্ত তলোয়ার হাতে নিয়ে লুকিয়ে অপেক্ষা করবেন। যখন আমি বলব “আমাকে পানি খাওয়াও” ঠিক সেই মূহুর্তেই অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে আপনি তাকে শেষ করে দেবেন। এরপর অনায়াসেই রাজপ্রাসাদ এবং কুফা করায়ত্ত হয়ে যাবে। আর অসুখ যদি সেরে উঠে, তবে বসরায় গিয়ে আপনার জন্য সেখানে সর্বাত্মক ব্যবস্থা আমিই করব।” সন্ধ্যার দিকে ইবনে যিয়াদ নিজ দেহরক্ষী ...

কারবালা– ৯

Image
শামে কারবালা - (পর্ব- ৯) **************** ইবনে যিয়াদের কুফায় আগমন — ইবনে যিয়াদ আপন পরিবার-পরিজন ছাড়াও পাঁচশ জন লোক নিজের সাথে নিয়ে বসরা ত্যাগ করে। তাদের মধ্য থেকে কতেক পথেই থেমে যায়। কিন্তু সে তাদের কোন পরোয়াই করল না। যথারীতি যাত্রা অব্যাহত রাখল । কাদেসিয়া পৌঁছে সে তার সৈন্য-সামন্ত সেখানেই রেখে দিল। অতঃপর প্রতারণার উদ্দেশ্যে হেজাযী (আরবী) পোষাক পরে উটে আরোহণ করল। বিশজন লোক সাথে নিয়ে হেজায থেকে যে পথ কুফায় গিয়েছে সে পথে মাগরিব ও এশা'র মধ্যবর্তী সময়ে রাতের অন্ধকারে কুফায় এসে পৌঁছল ।  তার এ ছদ্মবেশ ধারণের উদ্দেশ্য ছিল যে, তখন কুফাবাসীর মধ্যে তীব্র উত্তেজনা, ইয়াযীদের বিরুদ্ধে তুমুল আন্দোলন। কাজেই এমনভাবে সেথায় প্রবেশ করতে হবে যাতে লোকেরা চিনতে না পারে। বরং তারা যেন মনে করে ইমাম হোসাইন (র.)-ই শুভাগমন করেছেন। আর সে নিরাপদে, নির্বিঘ্নে কুফার অভ্যন্তরে পৌঁছে যাবে। এছাড়া জনতার আবেগ-উচ্ছাসেরও কিছু আন্দাজ করা যাবে। সাথে সাথে এটাও জেনে নেওয়া যাবে, কারা কারা অগ্রণী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। কুফাবাসী যারা অধীর প্রতীক্ষায় ইমামে পাকের পথ চেয়ে ছিলেন, তারা রাতের আঁধারে হেজাযের পথে ...

কারবালা – ৮

Image
কারবালার ইতিহাস (পর্ব- ৮) —————— মুসলিম বিন্ আকিল কুফায় অতঃপর ইয়াযীদকে সংবাদ জ্ঞাপন— হযরত মুসলিম তার ছোট্ট দু'জন ছাহেবজাদা মুহাম্মদ ও ইবরাহীমকে সাথে নিয়ে কুফায় পৌঁছলেন। কুফাবাসীরা পথ চেয়ে অপেক্ষমান ছিল। তারা তাঁর শুভাগমনে যারপর নাই ভক্তি প্রেমের প্রকাশ ঘটাল।  তিনি মুখতার বিন আবু উবাইদা, কারো মতে ইবনে আওসাজার ঘরে অবস্থান করেন। আহলে বাইতের ভক্ত প্রেমিকেরা ভক্তি ও আবেগের উচ্ছাস নিয়ে বাইআত গ্রহণ করতে লাগল এবং বাইআতকালে বড় বড় শপথবাণী উচ্চারণ করতে লাগল যে, 'আমরা জান-মাল উৎসর্গ করব, কখনও আপনার সঙ্গ ত্যাগ করব না।'  ইমাম মুসলিম যখন তাদের মধ্যে ভক্তি প্রেমের আবেগ-জযবা দেখলেন তখন ইমাম আলী মকাম হোসাইন (আঃ) এর নিকট চিঠি লিখলেন, তাতে অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করলেন। জানালেন যে, এ যাবৎ আঠার হাজার লোক বাইআত গ্রহণ করে ফেলেছে, আপনি অবশ্যই চলে আসুন, যাতে এই ইসলামী মিল্লাত ইয়াযীদের কালো হাত থেকে মুক্তি পায় এবং মানুষ যাতে প্রকৃত একজন ইমাম ও ন্যায়নিষ্ট যথার্থ খলিফার বাইআতের সৌভাগ্যে সৌভাগ্যবান হতে পারে এবং দ্বীনে হক' এর যেন সহায়তা হয়। ভক্তেরা করে চলে খুশীর প্রকাশ,  মুসলিমে যা বলেন ত...

কারবালা – ৭

Image
শামে কারবালা - (পর্ব- ৭) ———————— মুসলিম ইবনে আকীলকে কুফা প্রেরণ— ইমাম আলী মকাম যখন আহলে কুফার (কুফাবাসীর) চিঠি ও দূতপ্রেরণ থেকে তাদের দ্বীনি জযবা ও মুহাব্বত, জানমাল উৎসর্গ করার ইচ্ছা এবং কুফায় তাঁর আগমনকে স্বাগত জানাবার প্রবল বাসনা অনুভব করলেন, তখন সিদ্ধান্ত নিলেন যে, প্রথমতঃ তাঁর চাচাত ভাই হযরত মুসলিম ইবনে আকীলকে অবস্থা পর্যবেক্ষনের জন্য পাঠানো উচিৎ। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি তাঁকে (মুসলিম ইবনে আকীলকে) একটি চিঠি দিলেন, যা তিনি কুফাবাসীর বরাবরে লিখেছিলেন। আর বললেন “আপনি কুফায় গিয়ে সঠিক উপায়ে নিজেই সরেজমিনে অবস্থা ও পরিস্থিতির যথাযথ পর্যবেক্ষন করবেন এবং আমাকে অবহিত করবেন। পরিস্থিতি অনুকূলে হলে আমিও চলে আসব আর যদি পরিস্থিতি বিরূপ হয় তবে আপনি ফিরে আসবেন।” সরুল আফাযেল হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ নঈমউদ্দীন ছাহেব মুরাদাবাদী (রাঃ) বর্ণনা করেন, “যদিও ইমাম (রঃ) এর শাহাদাতের ভবিষ্যৎবাণী সুপ্রসিদ্ধ ছিল এবং কুফাবাসীর বিশ্বাসঘাতকতার কথা ছিল পূর্ব অভিজ্ঞতালব্ধ; কিন্তু ইয়াযীদ যখন বাদশাহ্ হয়ে বসল এবং তার হুকুমত ও রাজত্ব দ্বীন-ধর্মের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দেখা দিল, এ কারণেই তার বাইআত নাজায়েয (অবৈধ) ...

কারবালা – ৬

Image
শামে কারবালা - (পর্ব- ৬) ———————— কুফাবাসীর চিঠি ও প্রতিনিধি— কুফা হযরত আলী (রাঃ) এর অনুরক্ত ও ভক্তদের প্রাণকেন্দ্র ছিল। কারণ তিনি নিজ খেলাফতকালে মদিনা মুনাওয়ারা থেকে রাজধানী স্থানান্তরিত করে কুফায় প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। কাজেই তার সকল ভক্ত প্রেমিক সেখানেই বসতি গেড়েছিলেন। মুয়াবিয়ার শাসনামলেও ইমাম আলী মাকাম হোসাইন (রাঃ) কে কুফায় আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছিল। এখন যেমাত্র কুফাবাসী মুয়াবিয়া (রাঃ) এর ইন্তে কাল এবং হোসাইন, আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর ও আব্দুল্লাহ্ ইবনে ওমর (রাঃ) ব্যক্তিত্রয়ের ইয়াযীদের হাতে বাইআত গ্রহণের অস্বীকৃতির সংবাদ জানতে পারল, তখন কুফার সকল অনুরক্ত সুলাইমান ইবনে ছারদ আল খোযায়ীর ঘরে একত্রিত হয়ে যায়। মুহাম্মদ ইবনে বিশর হামদানী বর্ণনা করেন, "সকল শিয়া সুলাইমান বিন ছারদ এর ঘরে সমবেত হয়ে গেল এবং আমীর মুয়াবিয়ার মৃত্যুর কথা আলোচনা করে সবাই আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জানাল। অতঃপর সুলাইমান সবার উদ্দেশ্যে বলল, “ মুয়াবিয়ার অবসান হয়েছে, আর ইমাম হোসাইন ইয়াযীদের বাইআত প্রত্যাখ্যান করে মক্কায় চলে গিয়েছেন। আর তোমরাতো তাঁরও তাঁর আব্বাজানের শিয়া (ভক্ত)। তোমরা ভালভ...

কারবালা – ৫

Image
শামে কারবালা - (পর্ব- ৫) ———————— আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুত্বী'র সাক্ষাৎ— যাত্রাপথে হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুত্বী'র সাথে সাক্ষাৎ হলো। ইমামকে সপরিবারে মদীনা মুনাওওয়ারা থেকে চলে যেতে দেখে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “আমি আপনার চরণে উৎসর্গ হবো, আপনি কোথায় চলেছেন?” তিনি বললেন, আপাততঃ তো মক্কা মুকাররামার দিকে যাচ্ছি, সেখানে পৌঁছে আল্লাহর সাহায্য চেয়ে 'ইস্তেখারা' (সিদ্ধান্ত গ্রহণে আল্লাহর ইঙ্গিত খুঁজে দেখা) করে দেখব কোথায় যাওয়া যায়।” আব্দুল্লাহ ইবনে মুত্বী বললেন, “আল্লাহ্ আপনাকে স্বস্থি ও নিরাপদে রাখুন, এবং আমাকে আপনার উদ্দেশ্যে নিবেদিত করুন। যখন আপনি মক্কায় পৌঁছবেন, তখন দয়া করে কখনো কুফা যাওয়ার খেয়াল করবেন না। কেননা সে এক অলক্ষুনে জায়গা, আপনার বুযুর্গ পিতা সেখানে শহীদ হয়েছেন। আর সেখানেই আপনার সহোদর হযরত হাসান (রাঃ) কে বান্ধবহীন, অসহায় অবস্থায় রেখে আসা হয়। তাঁর উপর বর্শার আঘাত হানা হয়েছিল। ফলে মরণদশায় উপনীত হয়েছিলেন। আপনি মক্কাতেই অবস্থান করুন। মক্কা ত্যাগ করে যাবেন না। আপনি আরবকুল সর্দার, হেজাযবাসী কাউকেই আপনার সমকক্ষ মনে করে না। চতুর্দিক থেকে মানুষ আপনার কাছেই ছুটে আসবে...