Posts

Showing posts from January, 2023

নুৱে-হাকিকী বলিতে কি বুঝায় ?

Image
  নুৱে-হাকিকী বলিতে কি বুঝায় ? ইমাম গাজ্জা্লী রহঃ বলেন,- আমাকে প্রশ্ন করা হইয়াছে : — আল্লাহ, তিনিই নূর,— এই কথা দ্বারা আপনি কি বুঝাইতে চাহিয়াছেন ? নূর বলিতে আমরা যা বুঝি তা হইল, যে বস্তুর মধ্যে আলো রহিয়াছে এবং যার মধ্যে শিখাও দেখা যায়, কিন্তু আল্লাহ সম্পর্কে কি এই কথা খাটে ? জবাব আমি আমার কিতাবের মধ্যে নূর শব্দের তাৎপর্য ও নুরের স্বরূপ এমনভাবে ব্যাখ্যা করিয়া দিয়াছি, যে বিষয়ে একটু চিন্তা করিলেই সবকিছু সুস্পষ্ট হইয়া যাইবে । নূর বলিতে শুধুমাত্র শিখাযুক্ত আলোকেই বুঝায় না । যদি তাহাই হইত, তবে স্বয়ং আল্লাহ, তাহার রসূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) এবং কোরআন মজীদ নূর শব্দ দ্বারা আখ্যায়িত হইত না । কেননা, কুরআন বা রসূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) তো শিখাযুক্ত কোন আলো নন । সুতরাং বুঝা যাইতেছে যে, নূরে হাকিকী বা আল্লাহর নূর আমাদের সাধারণ দৃষ্টিগ্রাহ্য আলোর সমপর্যায়ের কোন কিছু নয় । ইহা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র জিনিষ । দৃষ্টিশক্তির জন্য আলোর প্রয়োজন, কিন্তু সেই আলো দৃষ্টিগ্রাহ্য কোন বস্তু নয় । তেমনি অন্তরের জন্যও আলোর প্রয়োজন, যে আলোর মাধ্যমে সবকিছু অনুধাবন করা হয় । অস্তরের কোন...

ওয়াহাবীদের প্রতি নসীহত পর্ব- ২

Image
  ওয়াহাবীদের প্রতি নসীহত পর্ব- ২ —————— এবাদত মূল ঈমানের অন্তর্ভুক্ত নয়: (কাসিদা-এ-আমালী ও হাদিকা) ওয়াহাবী পুস্তকটির *1 ৪৮ এবং ৩৪৮ নং পৃষ্ঠায় লেখা রয়েছে, এবাদত তথা আমল (সৎকর্ম) মূল ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। এবাদত করে না এমন ব্যক্তির ঈমান বিদূরিত হয়। ঈমান বৃদ্ধি অথবা হ্রাস পেতে পারে। আশ্ শাফেয়ী, আহমদ ইবনে হাম্বল এবং অন্যান্যরা সর্বসম্মতভাবে তাই বলেছেন। *1 [ফাতহুল মাজীদ : বাবু দু'য়ায়ি ইলা শাহাদাতিল লা ইলাহা ১/৯৩। *1 ফাতহুল মাজীদ : বাবু ফদ্বলিত তাওহীদ ১/৪৮।] জবাব হল এবাদত যে একটি কর্তব্য তা বিশ্বাস করা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু বিশ্বাস ও কর্তব্য পালন দুইটি ভিন্ন বিষয়, যেগুলোকে তালগোল পাকিয়ে ফেলা মোটেই উচিৎ নয়। কোনো ব্যক্তি বিশ্বাস স্থাপন করে যদি আলস্যবশতঃ তার বিশ্বাসকে আমল না করে, তবে সে কাফেরে পরিণত হবে না। ওয়াহহাবীরা এ ব্যাপারটি বুঝতে না পেরে লক্ষ- কোটি মুসলমানকে কাফের ফতোয়া দিয়ে ফেলছে। অথচ কেউ যদি কোনো মুসলমানকে কাফের আখ্যা দেয়, তা হলে সে নিজেই কাফেরে পরিণত হয়। 'কাসিদা-এ আমলী' পুস্তকের তেতাল্লিশতম পংক্তিটি বলে, ”ফরয এবাদত (মূল) ঈমানের অন্তর্ভুক্ত নয়”। হযরত ইম...

দরুদ পাঠের ফজিলত (খাজা নিজামুদ্দীন আউলিয়া)

Image
  দরুদ পাঠের ফজিলত (খাজা নিজামুদ্দীন আউলিয়া) ————————- কদমবুসির ঐশ্বর্য লাভ করলাম । হযরত শায়খুল ইসলাম (খাজা গন্জেশেখর) রহমতুল্লাহি আলাইহি চাসত নামাজের পর দরবারে উপস্থিত হলেন । দরবারে অনেক বুজুর্গ ও মোসাফির উপস্থিত ছিলেন । এ অধম (নিজামুদ্দীন আউলিয়া) নূরের জামাল (সৌন্দর্য) দর্শন করে মাথা জমিনে রাখলো; নির্দেশ হলো মস্তক উত্তোলন কর । নির্দেশানুযায়ী মাথা তুললাম । তিনি (খাজা গন্জেশেখর রহঃ) বললেন, তুমি এসেছো খুব ভাল হয়েছে । হযরত শায়খুল ইসলাম দরবারের সকলকে উদ্দেশ্য করে বললেন, আমি খোদার নিকট প্রার্থনা করছি নিজামুদ্দিনের সকল আশা যেন পূর্ণ হয় । এরপর দরূদ-শরীফ পাঠ সম্বন্ধে আলোচনা শুরু হলো । তিনি বললেন ‘আছারে আউলিয়া’ কিতাবে লিখা আছে, যে ব্যক্তি রাসূলে মাকবুল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)- এর উপর মুহাব্বতের সাথে একবার দরূদ শরীফ পাঠ করে সে গুনাহ হতে এমনভাবে পাক হয় যেন সদ্য মায়ের উদর হতে ভূমিষ্ট হলো । এ ছাড়াও তার কর্মফলে অসংখ্য নেকী লিখা হয় এবং আউলিয়াদের খাতায় তার নাম সন্নিবেশিত হয় । এরপর অজিফা সম্বন্ধে বললেন যে সাহাবা, তাবেঈন ও পীরগণ যে সব অজিফা নিজেরা পাঠ করার জন্য নির্বাচন করেন ত...