Posts

Showing posts from May, 2024
 সিদ্দিকে আকবর (রঃ)  প্রথম কথা  ইসলামী বিশ্বের ইতিহাস প্রকৃতপক্ষে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মক্কা হতে মদীনায় হিযরত ও সেখানে বসবাস আরম্ভ করার পর থেকেই শুরু হয়েছে। এ বিখ্যাত ঘটনাকেই ইসলামী ইতিহাসের প্রারম্ভ ধরা হয়। কারণ, এ সময় থেকেই প্রকৃতপক্ষে ইসলামের সঠিক উন্নতি ও অগ্রগতি শুরু হয়েছে। আর এ সময় থেকেই মূলতঃ আল্লাহর সাহায্য-সহযোগিতা বিশেষভাবে শুরু হয়েছে। একাধারে তের বছর পর্যন্ত ইসলামের ঘোর বিরোধিতা করেও যখন উদ্দেশ্য সিদ্ধ হলো না, তখন মক্কার কাফেররা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যা করার সিদ্ধান্তে একমত হলো। কিন্তু এবারও তাদেরকে পরিপূর্ণ ব্যর্থতা বরণ করে নিতে হলো। এ ঘোর কঠিন সময়ে একমাত্র হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুই রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘনিষ্ট সহচর হিসেবে পরিগণিত হবার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন। এ ঘটনার দশ বছর পর রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মৃত্যু শয্যায় শায়িত — নামাযের ইমামতি করতে মসজিদে তশরীফ আনতে পারছেন না ; তখন তাঁর পরিবর্তে তিনি যাঁকে ইমামতির জন্য নির্বাচিত করেছিলেন, তিনি হলেন হযরত আবু বক...

মদিনা সনদ (বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান)

আর্টিকেল ৩: সাংবিধানিক জাতীয়তা উপরোল্লেখিত পক্ষসমূহ একটি সাংবিধানিক ঐক্যের ভিত্তিতে পরিচিত হবে যা অন্যান্য রাষ্ট্রসমূহ থেকে তাদের আলাদাভাবে পরিচিত করবে। আর্টিকেল ৪: রক্তমূল্য পরিশোধের পূর্ববর্তী গোত্রীয় আইন মুহাজির কুরাইশদের জন্যও বৈধ এবং বলবতকরণ মুহাজির কুরাইশগণ আগেকার বিধিবিধান মোতাবেক তাদের গোত্রের জন্য দায়বদ্ধ এবং পারস্পরিক সহযোগীতার মাধ্যমে যৌথভাবে রক্তঋণ পরিশোধ করবে এবং প্রতিটি পক্ষই মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের বন্দীদের মুক্ত করে নিবে।এবং বিশ্বাসীদের মাঝে যাবতীয় লেনদেন হবে বিদ্যমান আইনমোতাবেক এবং ইনসাফের ভিত্তিতে। আর্টিকেল ৫: বনী আউফ গোত্রের জন্যও রক্তমূল্যের পূর্বের আইন বলবতকরণ বনী আউফগোত্রের মুহাজিরগণ আগেকার বিধিবিধান মোতাবেক তাদের গোত্রের জন্য দায়বদ্ধ এবং পারস্পরিক সহযোগীতার মাধ্যমে যৌথভাবে রক্তঋণ পরিশোধ করবে এবং প্রতিটি পক্ষই মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের বন্দীদের মুক্ত করে নিবে।এবং বিশ্বাসীদের মাঝে যাবতীয় লেনদেন হবে বিদ্যমান আইনমোতাবেক এবং ইনসাফের ভিত্তিতে। আর্টিকেল ৬: বনী হারিস গোত্রের জন্যও রক্তমূল্যের পূর্বের আইন বলবতকরণ বনী হারিসগোত্রের মুহাজিরগণও আগেকার বিধিবিধান মোতাবে...
হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম আবু হামিদ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ তুসী আল-গাজ্জালি   রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর 'কিমিয়ায়ে সাআদাত' (সৌভাগ্যের পরশমনি) কিতাবে কামিল ব্যাক্তির গুনাগুন উল্লেখ করে লিখেন– কামিল ব্যক্তিগণ নিম্নলিখিত গুনরাজিকে সৎস্বভাবের অন্তর্ভুক্ত করিয়াছেন— ১৷ লজ্জাশীলতা, ২৷ অল্প কথা বলা, ৩৷ দুঃখকে লঘু মনে করা, ৪৷ সত্য কথা বলা, ৫৷ সৌজন্য ও ঘনিষ্ঠতার সহিত সকলের সঙ্গে অবস্থান, ৬৷ কর্তব্যকার্যে যত্নশীল ও পরিশ্রমী হওয়া, ৭৷ অত্যাধিক ইবাদত করা, ৮৷ অধিক ভুল-ত্রুটি না করা, ৯৷ অনাবশ্যক বিষয়ের প্রতি অনুরক্ত না হওয়া, ১০৷ সারা বিশ্বের মুসলিমদেরকে ভালোবাসা, ১১৷ সকলের মঙ্গল কামনা করা, ১২৷ মাহাত্ম্য, ১৩৷ করুণা, ১৪৷ ধীরতা, ১৫৷ ধৈর্য, ১৬৷ অল্পে তুষ্টি, ১৭৷ কৃতজ্ঞতা, ১৮৷ গম্ভীরতা, ১৯৷ কোমল হৃদয়ের অধিকারী হওয়া, ২০৷ অপরকে সহায়তা করিবার বাসনা, ২১৷ প্রলোভন হইতে বাঁচিবার শক্তি, ২২৷ অল্প আশা করা, ২৩৷ অপরকে গালি না দেওয়া এবং অভিশাপও না করা, ২৪৷ একের কথা অপরের নিকট না বলা, ২৫৷ পরনিন্দা ও অশ্লীল কথা হইতে বিরত থাকা, ২৬৷ হটকারিতা না করা ও দুঃসাহস বর্জন করা, ২৭৷ হিংসা-বিদ্বেষ বর্জন করা, ২৮৷ প্রফুল্ল বদনে থ...

ইসলামে ক্রীতদাশী ও যুদ্ধবন্দী নারীদের বিবাহের নিয়ম

Image
  বিবাহ ছাড়া নারী সংস্পর্শ হারাম?? ভূমিকা: আজকাল অনেক মুসলিম পণ্ডিতরা সাধারণ মুসলমানদেরকে এটা বলে থাকে যে, ইসলামে যুদ্ধবন্দীদের এবং ক্রীতদাসীদের বিছানায় নেওয়া যায়, অর্থাৎ তাদের সাথে স্ত্রীর মত আচরণ করা যায়। এটি একটি মারাত্মক মিথ্যাচার। আলোচনা: সুরা নিসা আয়াত ২২, ২৩, ২৪, ২৫ একসাথে পড়ুন।  সহজে বুঝতে পারবেন মোহরানা ধার্য করে বিবাহ ছাড়া কোন নারী সঙ্গ  হারাম এবং ব্যভিচার। যেভাবে পর্যায়ক্রমে ধীরে ধীরে মদ নিষিদ্ধ হয়েছে, তেমনি অবাধ যৌনাচার বন্ধের পর্যায়ক্রমিক অনুশাসন সম্মিলিত কিছু আয়াতকে অনেকে অনুমতি হিসেবে ব্যবহার করার হীন মানসিকতা পোষণ করতে দেখা যায়। এটা একটি শরীয়া বিরোধি অত্যন্ত গর্হিত কাজ। আল্লাহ প্রদত্ত সীমালঙ্ঘনের অপরাধে তিনি অবশ্যই তাদেরকে কঠিন শাস্তি দিবেন। সুরা নিসা আয়াত ২২, ২৩, ২৪ এ  উল্লেখ করা হয়েছে - যেসকল নারীদেরকে বিবাহ করা যাবে না।  তবে, ২৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে "মা মালাকাত আয়মানুকুম"--এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত। অর্থাৎ তাদের কে বিয়ে করা যাবে। "মা মালাকাত আয়মানুকুম"--এর ইংরেজি অনুবাদ করা হয়েছেঃ "right-hand possessed" or "rig...

ইসলামের আলোকে শ্রম ও শ্রমিকের মর্যাদা

Image
দের হাজার বছর পূর্বে ইসলাম আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছে স্রমিকের হক কিভাবে আদায় করতে হবে। কোন দিবশ পালনের মাধ্যমে নয়। শ্রমিকের ন্যার্য পাওনা আদায়ের মাধ্যমে। এ বিষয়ে অনেক হাদিস আছে। মহান আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন বিচার দিবসে শ্রমিকের পক্ষে দাড়াবেন। আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা’আলা বলেন, কিয়ামত দিবসে আমি তিন লোকের বিরুদ্ধে বাদী হবো- [১] যে লোক আমার নামে অঙ্গীকার করে পরে তা ভঙ্গ করেছে, [২] যে লোক স্বাধীন মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য খেয়েছে এবং [৩] যে লোক শ্রমিক নিয়োগ করে পূর্ণ কাজ আদায় করে নিয়েছে, কিন্তু তার প্রাপ্য মজুরী প্রদান করেনি। ( বুখারী ২২২৭, ইবনু মাজাহ ২৪৪২, আহমাদ ৮৬৯২, সহীহ ইবনু হিব্বান ৭৩৩৯) তাহলে লক্ষ্য করুন  কিয়ামত দিবসে তিন লোকের মধ্যে দুজনই শ্রমিক। যাদের পক্ষে মহান রব্বুল আলামিন সয়ং দাবি উপস্থাপন করবেন। আব্দুল্লাহ ইবনে ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন- "তোমরা শ্রমিককে তার ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দিবে"। ( মি...