ঈমান নষ্ট করিতে শয়তানের শেষ চেষ্টা

মানুষের ঈমান নষ্ট করিতে শয়তানের চেষ্টা
-------------------
#ঈমান_নষ্ট করিতে #শয়তানের_চেষ্টা
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে যে, জান কবজের সময় শয়তান মৃত্যুর পথযাত্রীকে সম্বোধন করিয়া বলে, "হে বান্দা ! তুমি যদি এই অসহ্য যন্ত্রণা হইতে নিস্তার লাভ করিতে ইচ্ছা কর, তবে ইসলাম ধর্ম পরিত্যাগ করিয়া দুইজন খোদার অস্তিত্ব স্বীকার কর।" এই সঙ্কট মুহূর্ত ঈমান রক্ষা করা বড়ই বিপজ্জনক হইয়া পড়ে । এ জন্য বলিতেছি হে বন্দুগণ ! সেই বিপদ ও সঙ্কট হইতে উদ্ধার পাইতে হইলে অধিক পরিমানে অশ্রু বর্ষণ সহকারে রাত্রি জাগরণ করিয়া রুকু-সিজদায় মশগুল হউন এবং আল্লাহ্ পাকের দরবারে কান্নাকাটি করুন ।
হজরত ইমাম আবু হানিফা (রহঃ)-কে জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করিলেন, "হুজুর কোন কাজে ঈমান নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশী?" প্রত্যুত্তরে তিনি বললেন, (১) ঈমানের শুকরিয়া আদায় না করিলে, (২) জীবনের শেষ মুহূর্তের ভয় না করিলে, (৩) আল্লাহ্ তা'আলার বান্দাদের উপর জুলুম ও অত্যচার করিলে ঈমান নাশের সম্ভাবনা থাকে ।" তিনি আরো বলিয়াছেন , "যাহাদের মধ্যে এই তিনটি দোষ বিদ্যমান, আমার মনে হয় তাহারা সকলেই বেঈমান হইয়া মৃত্যুমুখে পতিত হইবে; কিন্তু আল্লাহ্ পাক যদি কাহারো ভাগ্যবলে ঈমান বিনষ্ট না করেন, তবে সে ঠিক থাকিবে।" এজন্য আমরা সর্বান্তঃকরণে আল্লাহ্ পাকের নিকট এই সকল অপকর্ম হইতে ক্ষমা প্রার্থনা করিতেছি ।
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে জান কবজের সময় মুমূর্ষ ব্যক্তি পিপাসায় ও হৃত্পিণ্ডের যন্ত্রনায় অত্যন্ত কাতর ও অস্তির হইয়া যায় । এমন সময় শয়তান বান্দার ঈমান নষ্ট করিবার জন্য সচেষ্ট হয় । সেই সময় বান্দা যখন পিপাসায় কাতর হইয়া যায়, তখন শয়তান এক পেয়ালা বরফ-পানি লইয়া বান্দার সম্মুখে উপস্থিত হয় এবং পেয়ালাটি আন্দোলিত করিতে থাকে । তখন কাতর বান্দা ভুলবশতঃশয়তানের নিকট পানি চায়। উত্তরে শয়তান বলে, "হে বান্দা তুমি যদি এই কথা বল যে, এই বিশ্ব-জগতের কোন প্রতিপালক নাই, তবে তোমাকে আমি এই পানি পান করাইতে পারি ।" ইহাতে বান্দা যদি কোন উত্তর প্রদান না করে, তখন শয়তান পুনরায় তাহার পদযুগলের সন্নিকটে বসিয়া পানির পেয়ালা নাড়াচাড়া করিতে থাকে । তখন উক্ত বান্দা বলে, "আমাকে কিছু পানি দাও।" উত্তরে শয়তান বলে, "হে বান্দা তুমি যদি বলিতে পার যে, রাসুলগণ মিথ্যাকথা প্রচার করিয়া গিয়াছে, তবে তোমাকে পানি পান করাইতে পারি ।" এমতাবস্থায় যাহার ভাগ্যে বদবখতি লেখা আছে, সে পিপাসার যাতনা সহ্য করিতে না পারিয়া শয়তানের ইচ্ছানুশারে কাজ করিয়া বেঈমান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে । এবং ধর্মভিরু ও আল্লাহ্ভক্ত ব্যক্তি ঈমানের শক্তির প্রভাবে শয়তানের প্ররোচনা হইতে নিজেকে মুক্ত রাখিতে সক্ষম হয় । ও পবিত্র ঈমানের সহিত তাহার রূহ্ অনন্ত রাজ্যে বিলীন হইয়া যায় ।
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে যে, বিখ্যাত সুফী আবু জাকারিয়া (রহঃ) জান কবজের সময় তাহার এক প্রিয়তম বন্ধু তাহাকে কলেমায়ে শাহাদাত তালকীন দিতে (পড়াইতে) শুরু করেন ; কিন্তু প্রত্যুত্তরে সুফী আবু জাকারিয়া (রহঃ) কিছুই বললেন না । এবং মুখমন্ডল অন্যদিকে ফিরাইয়া লইলেন । দ্বিতীয় বারও তিনি এমনই করিলেন এবং তৃতীয় বার তালকীনের সময় বলিলেন, "আমি ইহা বলিব না ।" ফলে বন্দুবর অত্যন্ত চিন্তিত ও বিচলিত হইয়া পড়িলেন । এভাবে কিছুক্ষন অতিবাহিত হইয়া যাওয়ার পর আবু জাকারিযা (রহঃ) যাতনার অল্পতা অনুভব করতঃ চক্ষুদ্বয় উন্মিলিত করিয়া বলিলেন, হে বন্ধু ! তুমি কি আমাকে কোন কথা জিজ্ঞাসা করিয়াছিলে ?" বন্ধুবর বলিলেন, "হ্যা আমরা আপনাকে তিনবার কলেমায়ে শাহাদাত তালকীন করিয়াছি' কিন্তু দুইবার আপনি মুখমন্ডল অন্যদিকে ফিরাইয়া লইয়াছিলেন এবং তৃতিয়বার বলিয়াছিলেন যে,- আমি ইহা বলিবনা ।" তখন সুফী আবু জাকারীয়া (রহঃ) বলিলেন, "বিতাড়িত ইবলিশ শযতান এক পেয়ালা পানি সহ আমার ডান দিকে দাড়াইয়া এবং পানির পাত্রটি নাড়াচাড়া করিয়া আমাকে জিজ্ঞাসা করিল, "হে বান্দা ! তুমি কি পানি পান করিবে ?" আমি উত্তর করিলাম - "হ্যা পান করিব"। তখন শয়তান বলিল, "যদি তুমি বল যে, হযরত ঈসা (আঃ) আল্লাহ'র পুত্র ছিলেন, তবে তোমাকে আমি পানি পান করাইব ।" এই কথা শ্রবন করিয়া আমি মুখ ফিরাইয়া লইয়াছি। তারপর শয়তান পায়ের কাছে আসিয়াও সেই কথা বলিল, তখনো আমি মুখ ফিরাইয়া লইয়াছি । তৃতীয়বার শয়তান আমাকে বলিল - তুমি অন্তত বল, 'লা ইলাহা' অর্থাত কোন উপাস্য নেই ।" ইহার প্রত্যুত্তরে আমি বলিলাম, আমি কখনো এই কথা বলিবনা । ইহা শ্রবন করিয়া শয়তান পানির পাত্রটিকে মাটিতে নিক্ষেপ করিয়া চলিয়া গেল। আমি মরদুদ্ শয়তানের কথার উত্তর দিয়াছি মাত্র । আমি তোমাদের কথার উত্তর দেইনাই । এখন আমি সাক্ষ্য দিতেছি যে, "আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতিত আর কোন উপাস্য নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিতেছি যে, হজরত মুহম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) আল্লাহ'র বান্দা ও রাসুল ছিলেন ।"
(দাখায়েকুল আকবার)
------------
আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকে 'খাতেমা বিল্-খায়ের' দান করুন আমিন।
------------


Comments

Popular posts from this blog

শুধু মুখে কলেমা পড়লে জান্নাত যাওয়া যাবেনা

মসনবী শরীফ বই - মউলানা রুমী (রহঃ)