মদীনার যিয়ারত ও তার আদব
মদীনার যিয়ারত ও তার আদব
-------------------------
#মদীনার_যিয়ারত ও তার #আদব
রসুলে আকরাম (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেন, - যে ব্যক্তি আমার ওফাতের পরে আমার যেয়ারত করে, সে যেন আমার দুনিয়ার জীবনে আমার সাথে সাক্ষাত করে।
তিনি আরও বলেন – যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্বেও আমার কাছে না আসে, সে আমার প্রতি যুলুম করে।
আরো বলেন, যে ব্যক্তি যিয়ারতের উদ্দেশ্যে আগমন করে এবং আমার যেয়ারত ছাড়া অন্য কোন চিন্তা না থাকে, আল্লাহ্ তা’আলার জিম্মায় তার হক হয়ে যায় যে, আমি তার সুপারিশ কারী হই ।
সুতরাং যে ব্যক্তি মদিনায় যেয়ারত করার ইচ্ছা করে, তার পথিমধ্যে বেশী করে দরূদ পাঠ করা উচিত । মদীনা শরীফের প্রাচীর ও বৃক্ক সমূহের উপর দৃস্টি পতিত হলে সে বলবে, - হে আল্লাহ্ এটা আপনার রসুল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) উনার হরম । অতএব আপনি একে আমার জন্য দোযক থেকে নাজাতের উপায় ও মন্দ হিসাব নিকাশ থেকে মুক্তির কারণ করে দেন ।
অত:পর প্রস্তরময় ভূমিতে গোসল করবে; সুগন্ধি লাগাবে এবং নিজের উত্কৃষ্ট পোশাক পরিধান করে বিনয় তাযিম সহকারে মদিনায় প্রবেশ করবে এবং এই দোয়া পড়বে, - আল্লাহ্ তা’আলার নামে এবং রসুল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর ধর্মের নিয়মে শুরু । হে পরোয়ারদেগার আমাকে সত্যের উপর দাখিল করুন, সত্যের উপর বের করুন এবং আমার জন্য আপনার পক্ক থেকে সা্হায্য বরাদ্দ করুন ।
অত:পর মসজিদের দিকে রওয়ানা হবে । মসজিদের অভ্যন্তরে গিয়ে মিম্বরের কাছে এভাবে দু’রাকাত নামাজ আদায় করবে , যেন মিম্বরের স্তম্ভ ডান কাধের বরাবর থাকে, মুখ সেই স্তম্ভের দিকে থাকবে যার বরাবরে সিন্দুক রাখা আছে এবং মসজিদের কেবলার অবস্থিত বৃত্তটি চোখের সামনে থাকবে । এ স্থানটি রসুলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর দাড়ানোর যায়গা ছিল । ইদানিং যদিও মসজিদের পরিবর্তন হয়েছে, তথাপি চেস্ঠা করবে , পরিবর্তনের পূর্বেকার আসল মসজিদে নামাজ পড়া যায় । এর পর রসুলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর রওযা মুবারকে যাবে এবং উনার মুখমন্দলের বামে এমনভাবে দাড়াবে যে, পিট কাবার দিকে ও মুখমন্ডল রওযা মুবারকের প্রাচীরের দিকে থাকবে । সেই প্রাচীরের স্তম্ভ থেকে চার হাত দুরে দাড়াবে । অত:পর বলবে, -
সালাম আপনার প্রতি, হে আল্লাহ'র রসুল !
সালাম আপনার প্রতি, হে আল্লাহ'র নবী !
সালাম আপনার প্রতি, হে আল্লাহ'র বিশ্বস্ত !
সালাম আপনার প্রতি, হে আল্লাহ'র হাবীব !
সালাম আপনার প্রতি, হে আল্লাহ'র মনোনীত !
সালাম আপনার প্রতি, হে আল্লাহ'র পছন্দনীয় !
সালাম আপনার প্রতি, হে আহমদ !
সালাম আপনার প্রতি, হে মুহম্মদ !
সালাম আপনার প্রতি, হে আবুল কাশেম !
সালাম আপনার প্রতি, হে কুফর বিলুপ্তকারী !
সালাম আপনার প্রতি, হে শেষে আগমনকারী !
সালাম আপনার প্রতি, হে শতর্ককারী !
সালাম আপনার প্রতি, হে পবিত্রতম !
সালাম আপনার প্রতি, হে পবিত্র !
সালাম আপনার প্রতি, হে সন্মানীত !
সালাম আপনার প্রতি, হে রসুলগণের সর্দার !
সালাম আপনার প্রতি, হে সর্বশেষ নবী !
সালাম আপনার প্রতি, হে বিশ্ব প্রতিপালকের রসুল !
সালাম আপনার প্রতি, হে কল্যণের নেতা !
সালাম আপনার প্রতি, হে পূণ্য উদঘাটনকারী !
সালাম আপনার প্রতি, হে রহমতের নবী !
সালাম আপনার প্রতি, হে উম্মতের পথ প্রদর্শক !
সালাম আপনার প্রতি, হে উজ্জল হাত পা বিশিষ্ট মু'মিনের নেতা !
সালাম আপনার প্রতি এবং আপনার পরিবার বর্গের প্রতি !
সালাম আপনার প্রতি এবং আপনার পূত-পবিত্র সাহাবী গণের প্রতি !
সালাম আপনার প্রতি এবং আপনার পবিত্রাত্মা সহধর্মিণীগণের প্রতি !
আল্লাহ্ তা’আলা আপনার প্রতি রহমত নাযিল করুন, যখনি স্মরণকারীরা আপনাকে স্মরণ করে, যখনি উদাসীনরা আপনার প্রতি উদাসীন হয় । অগ্রগামী ও পশ্চাদগামীদের প্রতি। আল্লাহ্ তা’আলা আপনার মাধ্যমে আমাদেরকে গোমরাহী থেকে বাচিযেছেন । আপনার মাধ্যমে আমাদেরকে অন্ধত্ব থেকে মুক্তি দিয়েছেন এবং মূর্খতা থেকে গিয়ানের পথে এনেছেন । আমি সাক্ষী দিচ্ছি আল্লাহ্ ছারা কোন মাবুদ নেই, তিনি এক তার কোন শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষী দেই যে, আপনি আল্লাহর অনুগত বান্দা, রসুল, বিশ্বস্থ, মনোনীত, সৃষ্টির মধ্যে পছন্দনীয়। আমি সাক্ষী দিইযে আপনি আল্লাহর পয়গাম পৌছিয়েছেন, আমানত যতার্থরূপে আদায় করেছেন, উম্মতকে উপদেশ দিয়েছেন, শত্রুর সাথে জেহাদ করেছেন, উম্মতকে সৎ পথে পরিচালিত করেছেন, এবং দুনিয়ার জীবনে যতদিন ছিলেন আপন প্রভূর এবাদত করেছেন । অতএব রহমত নাজিল করুন আপনার প্রতি, আপনার পূত পবিত্র পরিবার পরিজনের প্রতি ও সাহাবী গণের প্রতি এবং উনাদের সকলের প্রতি শান্তি বর্ষন করুন, গৌরব সন্মান ও মাহাত্ম্য দান করুন ।
অতঃপর এক হাত পরিমাণ সরে এসে হযরত আবুবকর সিদ্দীক (র:)-এর প্রতি সালাম পড়বে কেননা তার মাথা মুবারক রসুলুল্লাহ্ সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের কাধ মুবারকের কাছে রয়েছে । হযরত ওমর (র:)-এর মাথা মুবারক হযরত আবুবকর (র:)-এর কাধ মুবারকের কাছে রয়েছে । তাই অরো এক হাত সরে এসে তাকেও সালাম বলবে এবং নিন্মের দোয়া পাঠ করবে, -
আপনাদের উপর সালাম বর্ষিত হোক, হে আল্লাহ'র রসুলের উযীরদ্বয়, তার ইহকালীন জীবনের ধর্মের কাজের সাহায্যকারীদ্বয় এবং তার পরের উম্মতের মধ্যে ধর্মীয় কাজের ব্যবস্থাপকদ্বয় । আপনারা একত্রে তার সুন্নতের অনুশরণ করেছেন এবং তার হুকুমের তাবেদারী করেছেন । অতএব আল্লাহ আপনাদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন ।
এর পর রসুল সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের মাথার কাছে, কবর মুবারক ও ইদানিং নির্মিত স্তম্ভের মাঝখানে কেবলামুখী হয়ে দাড়াবে এবং আল্লাহ্ তা’আলার প্রশংসা ও পবিত্রতা বর্ণনা করবে, রসুল সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের প্রতি দরূদ প্রেরণ করবে এবং বলবে - ইলাহী, তুমি বলেছ এবং তোমার কথা সত্য – “যদি তারা (আমরা) নিজেদের উপর জুলুম করার পর আপনার (রসুল সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের) কাছে আসে, অতপর আল্লাহ্ তা’আলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং রসুলও (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) তাদের জন্য ক্ষমা চায়, তবে তারা আল্লাহকে তওবা কবুলকারী দয়ালু পাবেন ।“
ইলাহী, আমরা আপনার ঘোষনা শুনেছি , আপনার আদেশ পালন করে আপনার রসুল সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের কাছে এসেছি এবং উনাকে আপনার দরবারে আমাদের অগনিত গুনাহের ব্যপারে সুপারিশকারী করেছি । আমরা গুনাহ্ থেকে তওবা করছি এবং নিজেদের ভুলত্রুটি স্বীকার করছি । ইলাহী আপনি আমাদের তওবা কবুল করুন , নবী সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের সুপারিশ আমাদের ব্যপারে মন্জুর করুন এবং আপনার কাছে তার মর্যাদার দৌলতে আমাদেরকে উচ্চ মর্যাদা দান করুন ।
অত:পর বলবে, হে আল্লাহ্ মুহাজের ও আনসারগণকে ক্ষমা করুন এবং ক্ষমা করুন আমাদেরকে এবং আমাদের সেই ভাইদেরকে যারা আমাদের পূর্বে ইমানের সাথে দুনিয়া থেকে চলে গেছে । হে আল্লাহ্ ! একে আপনার নবীর রওযাতে এবং আপনার হরমে শেষ উপস্থিতি করবেন-না হে পরম দয়ালু ।
এর পর কবর মুবারক ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানে গিয়ে দু’রাকাত নামাজ আদায় করবে এবং অনেক দোয়া করবে । রসুলে আকরাম সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, - “আমার কবর ও মিম্বরের মধ্যস্থলে বেহেস্তের একটি বাগান রয়েছে, আর আমার মিম্বর হাউজে কাউসারের উপর অবস্থিত ।” সুতরাং মিম্বরের কাছে দোয়া করবে।
(এহইয়া উলুমিদ্দিন)
-----------------
মদিনা সফরে আমাদের উদ্দেশ্য যেন হয় একমাত্র রওজা-এ রসুল যেয়ারত আমিন।
---------------

Comments
Post a Comment