কিয়ামতের আলামত তাহেররুল কাদেরী উর্ধু লেকচার

কিয়ামতের আলামত তাহেররুল কাদেরী

কিয়ামতের আলামত উর্দু থেকে কিছুটা বাংলা ভাসান্তরের চেষ্টা করলাম।
-------------------
আজ-কাল কিয়ামতের আলামত কি কি আমাদের মধ্যে শুরু হয়ে গেছে এটাও জেনে নাও কি কি ফিৎনা আছে । নিজের উপর পরিলক্ষন করুন ।
মোস্থফা (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) এর নির্দেশনা মতে কে কে এই ফিতনাতে জড়িয়ে আছেন । কার কার ঘরে এই ফিতনা ডুকে গেছে , কার কার ঈমান এই ফিতনাতে বরবাদ হয়ে যাচ্ছে, কার কার পরিবার এই ফিতনার সাথে জড়িত হয়ে জ্বলে যাচ্ছে ।
আঁকা (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেন, (কিয়ামতের আলামতের মধ্যে যা দেখা যাবে) এমন হবে বৃষ্টি অনেক হবে কিন্তু ফসল অনেক কম উৎপন্ন হবে। কুরআন ও দীন শিক্ষা দেবার লোক অনেক বেড়ে যাবে কিন্তু দীন বুঝার লোক কমে যাবে । আধ্যাত্বিক কথা মানুষ আনুষ্ঠানিকতার জন্য করবে। তার পর আঁকা (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন আবু হুরায়রা (রঃ) থেকে উদৃত হিলিয়াতুল আউলিয়াতে আছে । নবী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেন – কিয়ামতের আলামতের মধ্যে বড় ফিতনা এই যে, দেখ লোক-সকল কে কে এই ফিতনার আগুনে ঝলসে যাচ্ছে জলে যাচ্ছে । হে যুবক পুরুষ এবং মহিলা তোমরা এক পক্ষের সাথে তাবেদারী কর , হয় মুহম্মদ মোস্তফা (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) এর সাথে কর না হয় ইবলিশ শয়তানের সাথে কর । এদিক হয়ে যাও, না হয় ওদিক হয়ে যাও । দুটিই ঘর আল্লাহ্ তা’আলার ঘর এবং শয়তানের ঘর । এক সাথে দুটি হতে পারেনা । আল্লাহ’র জন্য নিজের ঘর শয়তানের হাত থেকে রক্ষা কর । মা-বাপ নিজের ছেলে মেয়েদেরকে ফ্যাশনের জন্য নিয়োগ করে দেয়। আর দেখে দেখে খুশী হয়ে বলে আমারা ছেলে কিংবা মেয়ে এই রকম ফ্যাশন কাপড় পড়ে বেড়াচ্ছে, দেখে গর্বিত হয় । আল্লাহর জন্য- আল্লাহ্ ও রসুল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) উনাদের লানত থেকে নিজেকে রক্ষা কর , জাহান্নাম থেকে নিজেকে রক্ষা কর, নিজের ইমান ও আখেরাত বাচাও ।
দ্বীমুখী পন্থা পরিত্যাগ করে একমুখী হয়ে যাও । এখন সেই হাদিসের সময় এসেছে, পুরুষ মানুষ নারীদের পোষাক পরিধান করবে , আয় উন্নতির বরকত কমে যাবে, মানুষের ইজ্জত তার ধন-সম্পদ দেখে করা হবে, সন্মান জ্ঞানের দিকে দেখে করা হবেনা জীবন বৃত্তান্ত দেখে করা হবেনা , মাল ও দৌলতের দিকে দেখে করা হবে। অশ্লীলতা বেড়ে যাবে, পোষাকের মধ্যে নির্লজ্জতা বেড়ে যাবে। আজকাল এমন ভাবে পোষাক তৈরি করা হয় পার্শে কেটে যাতে কাপরের নিচেও দেখা যায়।উপর দিকে আধা পেটও দেখা যায়। কাকে দেখাচ্ছ এসব ? যদি স্বামীকে দেখাতে চাও তার জন্যতো ঘরেই যতেষ্ট। বলা হল সবকিছুতে বেহায়াপনা বেড়ে যাবে। নারীর সংখ্যা বেড়ে যাবে , বড়দেরকে ইজ্জত করা হবেনা , ছোঠদেরকে স্নেহ করা হবেনা , মানুষের খবরও থাকবেনা অহরহ যিনা সংঘঠিত হবে , মানুষ মনে করবে আমার ছেলে মেয়ে কিন্তু তা পরের সন্তান । সন্তানাদি সীমাহীন খারাপ কাজে লিপ্ত থাকবে। এমন পর্যায়ে চলে যাবে, রসুল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেন নারীরা ঘর থেকে বাহির হবে রাস্তায় তাদেরকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া হবে। রাস্তায বলৎকার করা হবে, মানুষ তাদের বলবে এখানে কেন এক পার্শে নিয়ে যাও। তারপর আঁকা (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন – আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে, ভাই বোন কেহ কাহাকেও তোয়াক্কা করবেনা , অন্যের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে আত্মসাত করা হবে, রক্তারক্তি বেড়ে যাবে, মানুষ দুঃখ করে বলতে থাকবে – এইটা আমার আত্মীয় আমাকে অবজ্ঞা করে, পাওনাদার ঘুরতে থাকবে, তাকে পাওনা দেয়া হবেনা, আল্লাহর কোরআন পড়া কিংবা বুঝা অপ্রয়োজনীয় মনে করবে । আঁকা (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) আরো বলেন - ইসলাম গরীব হয়ে যাবে অর্থাৎ ইসলামের নাম থাকবে কিন্তু মুমিন থাকবেনা । মুসলিম দাবি যারা করবে তারাও ইসলামের গন্ডির ভিতর থাকবেনা । মানুষে মানুষে বিবাদ বেড়ে যাবে, ইল্ম তুলে নেয়া হবে , বয়স কম হয়ে যাবে, সবচাইতে বড় আলামত হবে আত্মসাতকারীদের আমানতদার মনে করা হবে । যারা অন্যায়কারী তাদেরকে বাদশা নিযুক্ত করা হবে, তাদেরকে উপযুক্ত মনে করা হবে, তাদের মাথায় মুকুট পড়ানো হবে । যে আমানতদার তার উপর অভিযোগ আনা হবে । সত্যকে মিথ্যা প্রমান করা হবে , আর মিথ্যকে সত্য প্রমান করা হবে । খুন-খারাবি সাধারণ (মামুলি) হয়ে যাবে । ঘরবাড়ী উঁচু উঁচু দালান কোটা হয়ে যাবে। সন্তান সন্ততি গুরুজনের অবাধ্য হয়ে যাবে, আন্দোলন বেড়ে যাবে, সত্য কথা কমে যাবে, মিথ্যা বেড়ে যাবে। মানুষের মাঝে সমজোতা কমে যাবে। বিরোধিতা বেড়ে যাবে। অহংকার বেড়ে যাবে । সবার অন্তর একে অন্যের ব্যপারে মিথ্যা আরোপ করবে। অহংকার ও জোর-জুলুম সাধারণ ব্যাপার হয়ে যাবে। খুতবা দাতা মিথ্যা বলবে বক্তিতা দেয়ার লোক বেড়ে যাবে কিন্তু বক্তারা ধনীদের অহেতুক সুনাম করবে , তাদের সুনাম করবে যাতে তাদের থেকে অর্থ পাওয়া যায়।
আঁকা (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) আরো বলেন, তিনটি জিনিস দুর্লভ হয়ে যাবে -
> হালাল বা বৈধ টাকা কমে যাবে,
> ঈলম যাহা থেকে মানুষ (ফয়েজ) উপকার পাবে এবং
> শুধু আল্লা্হ্ তা’আলার জন্য বন্ধুত্ব ও ভালবাসা ।
আকা (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) আরো বলেন – সমকামীতা বেড়ে যাবে, পুরুষ পুরুষের সাথে বিবাহ করতে থাকবে । যা বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্বে পাচঁটি দেশে সরকারীভাবে সনদপ্রাপ্ত হয়েছে। আমার আঁকা (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) যা্হা বলেছেন তার মধ্যে অনেক কিছু বর্তমানে প্রমানিত হয়ে গেছে, অনেক কিছু চলমান । সকল কিছুই প্রকাশ পাবে । এখন দেখার বাকি রহমতুল্লিল আলামীন (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) এই সবকিছু কি সান্তভাবে বলেছিলেন নাকি রাগান্বিত হয়ে ? এই সব কিছু প্রকাশ পাওযার পর কিয়ামত সন্নিকট হবে ।
-----------------

Comments

Popular posts from this blog

শুধু মুখে কলেমা পড়লে জান্নাত যাওয়া যাবেনা

মসনবী শরীফ বই - মউলানা রুমী (রহঃ)