মদিনা সনদ (বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান)



আর্টিকেল ৩: সাংবিধানিক জাতীয়তা
উপরোল্লেখিত পক্ষসমূহ একটি সাংবিধানিক ঐক্যের ভিত্তিতে পরিচিত হবে যা অন্যান্য রাষ্ট্রসমূহ থেকে তাদের আলাদাভাবে পরিচিত করবে।
আর্টিকেল ৪: রক্তমূল্য পরিশোধের পূর্ববর্তী গোত্রীয় আইন মুহাজির কুরাইশদের জন্যও বৈধ এবং বলবতকরণ
মুহাজির কুরাইশগণ আগেকার বিধিবিধান মোতাবেক তাদের গোত্রের জন্য দায়বদ্ধ এবং পারস্পরিক সহযোগীতার মাধ্যমে যৌথভাবে রক্তঋণ পরিশোধ করবে এবং প্রতিটি পক্ষই মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের বন্দীদের মুক্ত করে নিবে।এবং বিশ্বাসীদের মাঝে যাবতীয় লেনদেন হবে বিদ্যমান আইনমোতাবেক এবং ইনসাফের ভিত্তিতে।
আর্টিকেল ৫: বনী আউফ গোত্রের জন্যও রক্তমূল্যের পূর্বের আইন বলবতকরণ
বনী আউফগোত্রের মুহাজিরগণ আগেকার বিধিবিধান মোতাবেক তাদের গোত্রের জন্য দায়বদ্ধ এবং পারস্পরিক সহযোগীতার মাধ্যমে যৌথভাবে রক্তঋণ পরিশোধ করবে এবং প্রতিটি পক্ষই মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের বন্দীদের মুক্ত করে নিবে।এবং বিশ্বাসীদের মাঝে যাবতীয় লেনদেন হবে বিদ্যমান আইনমোতাবেক এবং ইনসাফের ভিত্তিতে।
আর্টিকেল ৬: বনী হারিস গোত্রের জন্যও রক্তমূল্যের পূর্বের আইন বলবতকরণ
বনী হারিসগোত্রের মুহাজিরগণও আগেকার বিধিবিধান মোতাবেক তাদের গোত্রের জন্য দায়বদ্ধ এবং পারস্পরিক সহযোগীতার মাধ্যমে যৌথভাবে রক্তঋণ পরিশোধ করবে এবং প্রতিটি পক্ষই মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের বন্দীদের মুক্ত করে নিবে।এবং বিশ্বাসীদের মাঝে যাবতীয় লেনদেন হবে বিদ্যমান আইনমোতাবেক এবং ইনসাফের ভিত্তিতে।
আর্টিকেল ৭: বনী সাঈদা গোত্রের জন্যও রক্তমূল্যের পূর্বের আইন বলবতকরণ
বনী সাঈদাগোত্রের মুহাজিরগণ আগেকার বিধিবিধান মোতাবেক তাদের গোত্রের জন্য দায়বদ্ধ এবং পারস্পরিক সহযোগীতার মাধ্যমে যৌথভাবে রক্তঋণ পরিশোধ করবে এবং প্রতিটি পক্ষই মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের বন্দীদের মুক্ত করে নিবে।এবং বিশ্বাসীদের মাঝে যাবতীয় লেনদেন হবে বিদ্যমান আইনমোতাবেক এবং ইনসাফের ভিত্তিতে।
আর্টিকেল ৮: বনী জুশাম গোত্রের জন্যও রক্তমূল্যের পূর্বের আইন বলবতকরণ
বনী জুশামগোত্রের মুহাজিরগণ আগেকার বিধিবিধান মোতাবেক তাদের গোত্রের জন্য দায়বদ্ধ এবং পারস্পরিক সহযোগীতার মাধ্যমে যৌথভাবে রক্তঋণ পরিশোধ করবে এবং প্রতিটি পক্ষই মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের বন্দীদের মুক্ত করে নিবে।এবং বিশ্বাসীদের মাঝে যাবতীয় লেনদেন হবে বিদ্যমান আইনমোতাবেক এবং ইনসাফের ভিত্তিতে।
আর্টিকেল ৯: বনী নজর গোত্রের জন্যও রক্তমূল্যের পূর্বের আইন বলবতকরণ
বনী নজরগোত্রের মুহাজিরগণ আগেকার বিধিবিধান মোতাবেক তাদের গোত্রের জন্য দায়বদ্ধ এবং পারস্পরিক সহযোগীতার মাধ্যমে যৌথভাবে রক্তঋণ পরিশোধ করবে এবং প্রতিটি পক্ষই মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের বন্দীদের মুক্ত করে নিবে।এবং বিশ্বাসীদের মাঝে যাবতীয় লেনদেন হবে বিদ্যমান আইনমোতাবেক এবং ইনসাফের ভিত্তিতে।
আর্টিকেল ১০:বনী আমর গোত্রের জন্যও রক্তমূল্যের পূর্বের আইন বলবতকরণ
বনী আমরগোত্রের মুহাজিরগণ আগেকার বিধিবিধান মোতাবেক তাদের গোত্রের জন্য দায়বদ্ধ এবং পারস্পরিক সহযোগীতার মাধ্যমে যৌথভাবে রক্তঋণ পরিশোধ করবে এবং প্রতিটি পক্ষই মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের বন্দীদের মুক্ত করে নিবে।এবং বিশ্বাসীদের মাঝে যাবতীয় লেনদেন হবে বিদ্যমান আইনমোতাবেক এবং ইনসাফের ভিত্তিতে।
আর্টিকেল ১১: বনী নাবীত গোত্রের জন্যও রক্তমূল্যের পূর্বের আইন বলবতকরণ
বনী নাবীতগোত্রের মুহাজিরগণ আগেকার বিধিবিধান মোতাবেক তাদের গোত্রের জন্য দায়বদ্ধ এবং পারস্পরিক সহযোগীতার মাধ্যমে যৌথভাবে রক্তঋণ পরিশোধ করবে এবং প্রতিটি পক্ষই মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের বন্দীদের মুক্ত করে নিবে।এবং বিশ্বাসীদের মাঝে যাবতীয় লেনদেন হবে বিদ্যমান আইনমোতাবেক এবং ইনসাফের ভিত্তিতে।
আর্টিকেল ১২: বনী আউস গোত্রের জন্যও রক্তমূল্যের পূর্বের আইন বলবতকরণ
বনী আউসগোত্রের মুহাজিরগণ আগেকার বিধিবিধান মোতাবেক তাদের গোত্রের জন্য দায়বদ্ধ এবং পারস্পরিক সহযোগীতার মাধ্যমে যৌথভাবে রক্তঋণ পরিশোধ করবে এবং প্রতিটি পক্ষই মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের বন্দীদের মুক্ত করে নিবে।এবং বিশ্বাসীদের মাঝে যাবতীয় লেনদেন হবে বিদ্যমান আইনমোতাবেক এবং ইনসাফের ভিত্তিতে।
আর্টিকেল ১৩: আইন ও সুবিচারের সমতা সকল গোত্রের জন্য প্রযোজ্য
সকল গোত্রকে বন্দীমুক্তি দেবার অধিকার দেয়ার মাধ্যমে বিশ্বাসীদের প্রতি আইনের সমতা এবং সুবিচার নিশ্চিত করা হলো।
আর্টিকেল ১৪: আইনে শিথিলতা নিষিদ্ধ
বিশ্বাসীরা নিজেদের মাঝে কোন ঋণগ্রস্ত রাখবে না, সাধ্যমত তাকে মুক্তিপণ পরিশোধ করতে সহায়তা করবে।
আর্টিকেল ১৫: অন্যায় পক্ষপাত নিষিদ্ধ
কোন বিশ্বাসী অন্য কোন বিশ্বাসীর সাথে তার মতামত না নিয়ে কোন এলায়েন্স করবে না।
আর্টিকেল ১৬: অবিচার, নিষ্ঠুরতা এবং আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ
মদিনা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিরোধিতাকারী বা জোরপূর্বক কোন কিছু জবরদখল করার চেষ্টারত বা বিশ্বাসীদের মাঝে বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী — এদের বিরুদ্ধে সকল বিশ্বাসী একসাথে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, যদি সেই বিপ্লবী বা বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী তাদের কারো সন্তানও হয়ে থাকে।
আর্টিকেল ১৭: একজন মুসলিম কর্তৃক আরেকজন মুসলিম হত্যা করা নিষিদ্ধ
একজন অবিশ্বাসীর জন্য কোন মুসলিম অপর কোন মুসলিমকে হত্যা করবে না, এমনকি কোন বিশ্বাসীর বিরুদ্ধে কোন অবিশ্বাসীকে সাহায্যও করবে না।
আর্টিকেল ১৮: সকল মুসলিমের জন্য জানের নিরাপত্তার সমঅধিকারের নিশ্চয়তা
আল্লাহ কর্তৃক সবার নিরাপত্তা সমানভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।এই সংবিধান সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, এর জন্যে সকল বিশ্বাসীকে সর্বোচ্চপরিমাণে বিনয়ী হতে হবে (সকল বিশ্বাসীর জন্যই এটা বাধ্যতামূলক)।
আর্টিকেল ১৯: অন্যান্য সাংবিধানিক কমিউনিটির চেয়ে মুসলিমদের আলাদা সাংবিধানিক পরিচয়
বিশ্বাসীরা একে অপরকে সাহায্য করবে বহির্বিশ্বের বিপরীতে।
আর্টিকেল ২০: অমুসলিম ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী (ইহুদী)র জন্যও জীবনের নিরাপত্তার সমান অধিকার
নিশ্চিতকরণ (মুসলিমদের মতো)
রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যশীল একজন ইহুদীর জীবনের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হলো যে পর্যন্ত না তিনি বিশ্বাসীদের জন্য ক্ষতিকর কিছু না করেন বা বিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে বাইরের কাউকে সাহায্য না করেন।
আর্টিকেল ২১: সমতা এবং ইনসাফের ভিত্তিতে সকল মুসলিমের জন্য শান্তি এবং নিরাপত্তার বিধান
বিশ্বাসী কর্তৃক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা সবার জন্য সমান।যখন আল্লাহর রাস্তায় কোন জিহাদের প্রয়োজন হবে কোন বিশ্বাসী শত্রুপক্ষের সাথে আলাদাভাবে কোন চুক্তিতে যাবে না, যদি না সেটা সকল বিশ্বাসীদের জন্য সমতা এবং নায্যতা প্রতিষ্ঠা করে।
আর্টিকেল ২২: যুদ্ধের সহযোগী পক্ষগুলোর জন্য ছাড়
যুদ্ধের প্রতিটি পক্ষের জন্যই যুদ্ধের যাবতীয় দায়িত্বপালনের ক্ষেত্রে সমপরিমাণ ছাড়।
আর্টিকেল ২৩: আল্লাহর রাস্তায় হতাহতের বিরুদ্ধে মুসলিমদের প্রতিশোধ
আল্লাহর রাস্তায় নিহতদের প্রতিশোধ নিতে বিশ্বাসীরা একে অপরকে সাহায্য করবে।
আর্টিকেল ২৪: ইসলাম জীবনের পূর্ণাঙ্গ বিধান
ত্বাকওয়াসম্পন্ন সকল বিশ্বাসীদের জন্য উতকৃষ্ট এবং সবচেয়ে সঠিক জীবনপদ্ধতি ইসলামকে মনোনীত করা হয়েছে।
আর্টিকেল ২৫: শত্রুপক্ষকে জীবনের এবং সম্পদের নিরাপত্তা দেয়া নিষেধ
কোন পৌত্তলিকের জানের এবং সম্পদের নিরাপত্তা কুরাইশদের কাছে নেই, যেহেতু তারা মদিনা রাষ্ট্রের শত্রু।এমনকি কোন বিশ্বাসীর বিরুদ্ধে তাদেরকে সহায়তাও প্রদান করা হবে না।
আর্টিকেল ২৬: মুসলিম হত্যার প্রতিশোধ
যখন কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মুসলিমকে হত্যা করে এটা প্রমাণিত সত্য যে সেই হত্যাকারী খুন করা হবে।যদি না নিহতের আত্মীয় স্বজন জানের বদলা হিসেবে রক্তমূল্য নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেন।সকল বিশ্বাসীরা একযোগে সেই হত্যাকারীর বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, হত্যাকারীর বিরোধিতা করা ছাড়া বিশ্বাসীদের আর কোন অবস্থান হতে পারবে না।
আর্টিকেল ২৭: সংবিধানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী বা ধ্বংসকারীদের ক্ষেত্রে কোন সুরক্ষা বা ছাড় নেই
যারা বিশ্বাসী, এক আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং পরকালে বিশ্বাস করে, এবং এই দলিলের সব ধারার সাথে সম্মতি জানিয়েছে তারা এই সংবিধানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী বা এই সংবিধান অকার্যকর করা সাথে যুক্ত এমন কাউকে কোনরূপ সুরক্ষা বা ছাড় দেবে না।যারা এমনটি করবে, কেয়ামতের দিন তাদের জন্য রইলো আল্লাহর অভিশাপ এবং প্রচন্ড ক্রোধ।এমনকি কেয়ামতে দিন ছাড় বা ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাদের কোনকিছুই গ্রহণযোগ্য হবে না।
আর্টিকেল ২৮: যেকোন বিষয়ে দ্বিমত বা বিতর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর
যখন তোমাদের মাঝে কোন বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিবে, তখন সেটি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে সেটি পেশ করবে।যেহেতু সকল বিষয়ে চূড়ান্ত ফায়সালা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)ই দিবেন।
আর্টিকেল ২৯: অমুসলিম মানে ইহুদীগণ যুদ্ধের ব্য্যয়ভার সমানুপাতিকহারে বহন করবে
ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ইহুদীগণ যতক্ষণ তাদের সাথে একসাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে, সমানুপাতিকহারে যুদ্ধের ব্যয়ভার এবং দায়দায়িত্ব  বহন করবে।
আর্টিকেল ৩০: সকল মুসলিম এবং অমুসলিমদের জন্য ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা
বনী আউফ গোত্রের ইহুদীগণ বিশ্বাসীদের সাথে মিলে একটি কমিউনিটি হিসেবে বিবেচিত হবে।মুসলিমদের সাথে সাথে তাদেরও পূর্ণাংগ ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে।তাদের এবং তাদের সহযোগী সবার জন্যই এই অধিকার সুনিশ্চিত করা হলো, তাদের ছাড়া যারা অন্যের উপর বলপ্রয়োগকারী অপরাধী এবং যারা এই চুক্তি ভঙ্গকারী।এভাবে তারা শুধুমাত্র নিজেদের এবং তাদের পরিবারের প্রতি দুর্ভোগ বয়ে আনবে।
আর্টিকেল ৩১: বনী নজর গোত্রের ইহুদীগণেরও বনী আউফ গোত্রের মত সমান অধিকার
বনী আউফের মতো বনী নজর গোত্রও একইরকম অধিকার ভোগ করবে।
আর্টিকেল ৩২: বনী হারিস গোত্রের ইহুদীগণেরও বনী আউফ গোত্রের মত সমান অধিকার
বনী আউফের মতো বনী হারিস গোত্রও একইরকম অধিকার ভোগ করবে।
আর্টিকেল ৩৩: বনী সাঈদা গোত্রের ইহুদীগণেরও বনী আউফ গোত্রের মত সমান অধিকার
বনী আউফের মতো বনী সাঈদা গোত্রও একইরকম অধিকার ভোগ করবে।
আর্টিকেল ৩৪: বনী জুশাম গোত্রের ইহুদীগণেরও বনী আউফ গোত্রের মত সমান অধিকার
বনী আউফের মতো বনী জুশাম গোত্রও একইরকম অধিকার ভোগ করবে।
আর্টিকেল ৩৫: বনী আউস গোত্রের ইহুদীগণেরও বনী আউফ গোত্রের মত সমান অধিকার
বনী আউফের মতো বনী আউস গোত্রও একইরকম অধিকার ভোগ করবে।
আর্টিকেল ৩৬: বনী থা’লাবা গোত্রের ইহুদীগণেরও বনী আউফ গোত্রের মত সমান অধিকার
বনী আউফের মতো বনী থা’লাবা গোত্রও একইরকম অধিকার ভোগ করবে, তারা ছাড়া যারা অন্যের উপর বলপ্রয়োগকারী অপরাধী এবং যারা এই চুক্তি ভঙ্গকারী।এভাবে তারা শুধুমাত্র নিজেদের এবং তাদের পরিবারের প্রতি দুর্ভোগ বয়ে আনবে।
আর্টিকেল ৩৭: বনী থা’লাবার উপগোত্র জাফনার ইহুদীগণেরও বনী আউফ গোত্রের মত সমান অধিকার
জাফনা, থা’লাবা গোত্রের একটি শাখা তারাও থা’লাবা গোত্রের মতো একইরকম অধিকার ভোগ করবে
আর্টিকেল ৩৮: বনী শুতাইবা গোত্রের ইহুদীগণেরও বনী আউফ গোত্রের মত সমান অধিকার
বনী আউফের মতো বনী শুতাইবা গোত্রের ইহুদীগণও একইরকম অধিকার ভোগ করবে।তারা এই সংবিধানের প্রতি পূর্নাংগ আনুগত্য প্রদর্শন করবে এবং এর কোন একটি ধারাও ভংগ করবে না।
আর্টিকেল ৩৯: থা’লাবা গোত্রের সকল সহযোগীদের অধিকারের সমতা
বনী থা’লাবার জন্য যে অধিকার, তার সহযোগী সব গোত্রের জন্যও সমঅধিকার নিশ্চিত করা হলো।
আর্টিকেল ৪০: ইহুদি সকল শাখার জন্য অধিকারের সমতা
ইহুদীদের প্রতি যে অঙ্গীকার  করা হয়েছে, তাদের সকল শাখার জন্যও একই প্রতিশ্রুতি দেয়া হলো।
আর্টিকেল ৪১: সশস্ত্র যুদ্ধে যাবার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার এবং আদেশ দেবার ক্ষমতা আল্লাহর রাসূল (সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর
আল্লাহর রাসূলের(সাঃ) পূর্বানুমতি ছাড়া কেউ সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু করতে পারবে না।যেহেতু যুদ্ধের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার অথরিটি কেবলমাত্র রাসূল (সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।
আর্টিকেল ৪২: প্রতিশোধের ক্ষেত্রে কোন ব্যতিক্রম নেই
কেউ কোন যৌক্তিক প্রতিশোধ বা খুনের বদলা নিতে চাইলে সেখানে কোনরূপ বাধা প্রদান করা হবে না।
আর্টিকেল ৪৩: বেআইনী হত্যার দায় দায়িত্ব
কেউ যদি বেআইনীভাবে কাউকে খুন করে তবে সে এবং তার পরিবার এর জন্য দায়ী হবে, তবে সে যদি কোন নিষ্ঠুর বা অত্যাচারী কাউকে খুন করে সেক্ষেত্রে ছাড় পেতে পারে।অবশ্যই আল্লাহতাআলা এই সনদের আনুগত্যকারীদের সাথে আছেন।
আর্টিকেল ৪৪: পৃথকভাবে যুদ্ধের ব্যয়ভার বহন করা
মুসলিম এবং ইহুদীগণ পৃথকভাবে নিজ নিজ যুদ্ধের ব্যয়ভার বহন করবে।
আর্টিকেল ৪৫: যুদ্ধের সময় একে অপরকে সহায়তা করা অবশ্যকর্তব্য
এই সনদে সাক্ষরকারীদের সাথে যারা যুদ্ধরত তাদের বিরুদ্ধে সকলের পারস্পরিক সহায়তা অবশ্যকর্তব্য।
আর্টিকেল ৪৬: পারস্পরিক আলোচনা এবং সম্মানজনক লেনদেন
এই চুক্তিনামায় সাক্ষরদানকারী প্রতিটি পক্ষ নিজেদের মাঝে পারস্পরিক বোঝাপড়া বজায় রাখবে, এবং সম্মানজনকভাবে লেনদেন করবে এবং নিজেদের মাঝে করা সকল প্রতিজ্ঞা রক্ষা করতে সচেষ্ট থাকবে।
আর্টিকেল ৪৭: বিশ্বাসঘাতকতা নিষিদ্ধ এবং নিপীড়িতদের সহযোগিতা প্রদান
কেউ মিত্রপক্ষের জন্য কোন চুক্তি ভঙ্গ করবে না, এবং নিপীড়িতদের সাহায্য করা হবে।
আর্টিকেল ৪৮: ইহুদীগণ(অমুসলিম ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী) যুদ্ধের সময়ে রাষ্ট্রের প্রতি আর্থিক সাহায্যের পরিমাণ
বাড়াবে
মুসলিমদের পাশাপাশি ইহুদীরাও যুদ্ধের সময়ে রাষ্ট্রকে দেয়া আর্থিক সাহায্যের পরিমাণ বাড়াবে।
আর্টিকেল ৪৯: রাষ্ট্রে বিদ্যমান বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ এবং রক্তপাত নিষিদ্ধ
ইয়াসরিব উপত্যকা পবিত্র ভূমি, সেখানে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গোত্রের মাঝে যুদ্ধ এবং রক্তপাত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আর্টিকেল ৫০: সনদের অধীনে আশ্রয় নেয়া জনগণের সমভাবে জীবনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা।
কোন ব্যক্তিকে মদিনায় আশ্রয় দেয়া হলে যতক্ষণ পর্যন্ত না সে ক্ষতিকর  কিছু করছে বা বিশ্বাসঘাতকতা করছে ততক্ষণ পর্যন্ত জীবনের নিরাপত্তার ব্যাপারে তারও সমান অধিকার।
আর্টিকেল ৫১: নারীদের আশ্রয় দেবার ব্যাপারে আইন
একজন নারীকে তার পরিবারের সম্মতি ছাড়া আশ্রয় দেয়া হবে না।
আর্টিকেল ৫২: কোন মতবিরোধ সংঘাতের দিকে পৌঁছালে আল্লাহতাআলা এবং তাঁর রাসূল (সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)ই হবেন
এর চূড়ান্ত ফায়সালাকারী
যখনই এই সনদে সাক্ষরকারী দলসমূহের মধ্যে কোন মতপার্থক্য চরমে পৌঁছালে, সংঘাতের দিকে যাবার আশংকা তৈরী হলে সেটার বিচারের ভার আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের(সাঃ) উপর ন্যস্ত করা হবে।রাসূল(সাঃ)ই চূড়ান্ত এবং সর্বোচ্চ মানদন্ডের সঠিক সমাধান দিবেন।এই সংবিধানের উপর আস্থাশীল বিশ্বাসীদের যারা এই সংবিধানের নীতিমালাসমূহ সঠিকভাবে পালনে সচেষ্ট তাদের যাবতীয় দায়দায়িত্ব আল্লাহতাআলার।
আর্টিকেল ৫৩: শত্রুরাষ্ট্রের কাউকে বা তাদের কোন মিত্রকে কোন আশ্রয় নয়
কুরাইশ এবং তার মিত্রদের কোন আশ্রয় দেয়া হবে না।
আর্টিকেল ৫৪: রাষ্ট্রের উপরে কোন আঘাত আসলে সম্মিলিত প্রতিরোধ
বাহির থেকে মদিনা রাষ্ট্রের উপর কোন আঘাত আসলে মুসলিম এবং ইহুদীগণ সম্মিলিতভাবে সেটা প্রতিরোধ করবে।
আর্টিকেল ৫৫: প্রতিটি মিত্র গোত্রের জন্য শান্তিচুক্তি মেনে চলা অবশ্যকর্তব্য
ইহুদীদেরকে কোন শান্তিচুক্তিতে আহবান জানানো হলে এটা তাদের দায়িত্ব যে তারা সেটি পালন করবে এবং এর সাথে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধভাবে যুক্ত থাকবে।একইভাবে মুসলিমদেরকে কোন শান্তিচুক্তিতে আহবান জানানো হলে এটা তাদের দায়িত্ব যে তারা সেটি পালন করবে এবং এর সাথে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধভাবে যুক্ত থাকবে।
আর্টিকেল ৫৬: কোন চুক্তিই ধর্মীয় চর্চা থেকে কাউকে বিরত রাখবে না বা ধর্মপালনে বাধা দিবে না
(যদিও মুসলিমদেরকে কোন শান্তিচুক্তিতে আহবান জানানো হলে এটা তাদের দায়িত্ব যে তারা সেটি পালন করবে এবং এর সাথে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধভাবে যুক্ত থাকবে। ) তবে কোন চুক্তিই তাদেরকে আল্লাহর পথে দ্বীনকে প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই থেকে বিরত করতে পারবে না।
আর্টিকেল ৫৭: প্রতিটি মিত্রপক্ষ তাদের নিজ নিজ সম্মুখভাগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে
চুক্তিতে সাক্ষররত প্রতিটি পক্ষ তাদের নিজ নিজ সম্মুখভাগের সমরনীতি নিজেরাই নির্ধারণ করবে।এবং কিভাবে নিজেদের রক্ষা করবে সে ব্যাপারে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিবে।
আর্টিকেল ৫৮: সাক্ষরকারী প্রত্যেকটি দলের জন্যই মূল সাংবিধানিক মর্যাদা সমান
আউস গোত্র এবং তাদের মিত্র সকল ইহুদিগণ এই সংবিধানে সাক্ষরকারী অন্যান্য দলগুলোর মতো সমানভাবে সাংবিধানিক মর্যাদা পাবে এই শর্তে যে তারা নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করবে।
আর্টিকেল ৫৯: সংবিধান অবমাননা করার কোন অধিকার কোন পক্ষের নেই
বিদ্যমান কোন দলেরই সংবিধান অবমাননা করার কোন অধিকার নেই।কেউ যদি কোন অপরাধ করে তাহলে সে নিজেই এর জন্য দায়ী।
আর্টিকেল ৬০: সংবিধানের প্রতি আনুগত্যশীলদের প্রতি আল্লাহতাআলা দয়াশীল
যারা বিশ্বস্ততার সাথে এই সংবিধানের প্রতি আনুগত্যশীল থাকবে আল্লাহতাআলা তাদের প্রতি সবসময়ে সদয় থাকবেন।
আর্টিকেল ৬১: কোন বিশ্বাসঘাতক বা বলপ্রয়োগকারীর জন্য এই সংবিধানের অধীনে কোন আশ্রয় নেই
এই মর্মে বলা হচ্ছে যে এই সংবিধান কোন বিশ্বাসঘাতক বা অন্যায়ভাবে বলপ্রয়োগকারীকে কোন সুরক্ষা দিবে না।
আর্টিকেল ৬২: সকল শান্তিপূর্ণ নাগরিক নিরাপদ এবং সুরক্ষিত
যারা যুদ্ধে যাবে বা যারা মদীনায় অবস্থান করবে সবার জন্যই নিরাপত্তা, শুধুমাত্র তাদের ছাড়া যারা গোলযোগ সৃষ্টি করছে এবং সংবিধান মেনে চলছে না।
আর্টিকেল ৬৩: সংবিধানের প্রতি আনুগত্যশীল মদিনার প্রত্যেক নাগরিকের জন্য আল্লাহ এবং তাঁর
রাসূল (সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন রক্ষাকর্তা
এ মর্মে ঘোষণা করা হচ্ছে যে আল্লাহ এবং তাঁর প্রেরিত রাসূল (সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনার সুনাগরিক এবং যারা আল্লাহকে ভয় করে তাদের রক্ষাকর্তা।  
এ ছিল মদীনা সনদের চুক্তিসমূহ।এ চুক্তির মধ্য দিয়ে মদিনার নানা গোত্রের, ধর্মের মানুষের মধ্যে একটি শান্তি ও নিরাপত্তাময় পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল।এবং এরপর থেকে ইসলামের মূল জয় শুরু হয়, কুরাইশদের সাথে বিভিন্ন যুদ্ধে ইসলামী বাহিনী জয় পেতে থাকে।এ চুক্তির ছয় বছর পর ৬২৮ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে কুরাইশদের সাথে রাসূল(সাঃ) এর বাহিনীর যে শান্তিচুক্তি হয় সেটির নাম “হুদায়বিয়ার সন্ধি”।সেখানে কুরাইশরা রাসূল(সাঃ) কে আল্লাহর নবী হিসেবে মানতে চায়নি, তবুও রাসূল(সাঃ) শুধু তাঁর পিতৃপদত্ত পূর্বনামেই চুক্তি সম্পন্ন করেছিলেন, মক্কায় হজ্জ করতে গিয়েছিলেন।আর এই সূত্র ধরেই আরো দুই বছর পর মুসলিমরা অর্জন করেছে তাদের চুড়ান্ত বিজয়।৬২৯ খ্রিস্টাব্দের ১১ই ডিসেম্বর রাসূল(সাঃ) এবং তাঁর বাহিনী মক্কা জয় করে।পবিত্র কাবা ঘরের সকল মূর্তি অপসারিত হয়, সেখানে দ্বীন ইসলাম পূর্ণাংগভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
আর্টিকেল ১: সাংবিধানিক দলিল– 
এই সংবিধান আল্লাহর নবী রাসূল (সাল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক প্রণীত। [আল্লাহ তাআলার হুকুমে]
আর্টিকেল ২: সংবিধানের অধিভুক্ত পক্ষসমূহ—এই সংবিধানটি কুরাইশ মুসলিম, মদিনার নাগরিক, তাদের অধীনস্ত গোত্রসমূহ যারা রাজনৈতিকভাবে তাদের সাথে যুক্ত হবে এবং তাদের হয়ে যুদ্ধ করবে।


Comments

Popular posts from this blog

শুধু মুখে কলেমা পড়লে জান্নাত যাওয়া যাবেনা

মসনবী শরীফ বই - মউলানা রুমী (রহঃ)