ইসলামে ক্রীতদাশী ও যুদ্ধবন্দী নারীদের বিবাহের নিয়ম

 


বিবাহ ছাড়া নারী সংস্পর্শ হারাম??

ভূমিকা: আজকাল অনেক মুসলিম পণ্ডিতরা সাধারণ মুসলমানদেরকে এটা বলে থাকে যে, ইসলামে যুদ্ধবন্দীদের এবং ক্রীতদাসীদের বিছানায় নেওয়া যায়, অর্থাৎ তাদের সাথে স্ত্রীর মত আচরণ করা যায়।

এটি একটি মারাত্মক মিথ্যাচার।

আলোচনা: সুরা নিসা আয়াত ২২, ২৩, ২৪, ২৫ একসাথে পড়ুন।

 সহজে বুঝতে পারবেন মোহরানা ধার্য করে বিবাহ ছাড়া কোন নারী সঙ্গ  হারাম এবং ব্যভিচার।

যেভাবে পর্যায়ক্রমে ধীরে ধীরে মদ নিষিদ্ধ হয়েছে, তেমনি অবাধ যৌনাচার বন্ধের পর্যায়ক্রমিক অনুশাসন সম্মিলিত কিছু আয়াতকে অনেকে অনুমতি হিসেবে ব্যবহার করার হীন মানসিকতা পোষণ করতে দেখা যায়।

এটা একটি শরীয়া বিরোধি অত্যন্ত গর্হিত কাজ।

আল্লাহ প্রদত্ত সীমালঙ্ঘনের অপরাধে তিনি অবশ্যই তাদেরকে কঠিন শাস্তি দিবেন।

সুরা নিসা আয়াত ২২, ২৩, ২৪ এ  উল্লেখ করা হয়েছে - যেসকল নারীদেরকে বিবাহ করা যাবে না।  তবে, ২৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে "মা মালাকাত আয়মানুকুম"--এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত।

অর্থাৎ তাদের কে বিয়ে করা যাবে। "মা মালাকাত আয়মানুকুম"--এর ইংরেজি অনুবাদ করা হয়েছেঃ "right-hand possessed" or "rightfully possessed"।

 বাংলা অনুবাদে বলা হয়েছে-- "ডান হাতের মালিকানাধীন"।

 অনেক অনুবাদক বলেছেন--  যুদ্ধবন্দী এবং ক্রীতদাসী। 

"মা মালাকাত আয়মানুকুম"--এর ব্যাপারে যথেষ্ট মতভেদ রয়েছে। যদিও ধরে নেয়া হয় "মা মালাকাত আয়মানুকুম" --মানে ক্রীতদাসী অথবা যুদ্ধবন্দী,তাহলেও সূরা নিসার ২৪ নম্বর আয়াতে-- "মা মালাকাত আয়মানুকুম" বিবাহের নিষেধাজ্ঞার আওতা মুক্ত রূপে উল্লেখ করার কারণো এটা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, তাদেরকে বিয়ে করা লাগবে।

যদি তাদের ক্ষেত্রে বিবাহ প্রয়োজন না হতো,তাহলে সূরা নিসা'র ২৪ নম্বর আয়াতে তাদের কথা উল্লেখ করা অপ্রাসঙ্গিক হতো। 

এরপর একই সূরার ২৫ নম্বর আয়াতে এটা একেবারেই নিশ্চিত করে দেয়া হয় যে--  মালাকাত আয়মানুকুম" দের বিয়ে করতে হবে। 

সুরা নিসা ২৫ নম্বর আয়াতের একটি অংশে বলা হয় যাদের মুক্ত নারী বিবাহের সামর্থ নেই,তারা তাদের 

"মা মালাকাত আয়মানুকুম"(বাংলা অনুবাদ অনুযায়ী)-- অধীনস্থ ক্রীতদাসী (পূর্বের) অথবা যুদ্ধবন্দীদের মোহরানা ধার্য করে বিবাহের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 


@ক্রীতদাসী, যুদ্ধবন্দিনীদের বিবাহের নিয়মঃ


#ক্রীতদাসী দের বিবাহের ক্ষেত্রে তার মুক্তিপণ অথবা ক্রয় মূল্যকে মোহরানা হিসেবে ধার্য করে তাকে মুক্ত করতে হবে এবং এরপরেই বিবাহ করা যাবে।  নবী সা: বিবাহ করেছিলেন মারিয়া কিবতিয়াকে-- যিনি একজন দাসী।

তাকে মিশরের রাজা মোকাওকিস নবীর খেদমতে উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন।

তিনি মিশর থেকে নবীর খেদমতে উপস্থিত হলে নবী তাকে মুক্ত করে বিবাহ করেন।

এর প্রমাণ পাওয়া যায়--  নবীর ওফাতের পর মারিয়া নবীর গৃহে অবস্থান করেছেন মৃত্যু অবধি এবং মৃত্যুর পর তাকে নবীর বাকি স্ত্রীদের সাথে কবর দেয়া হয়। 

#যুদ্ধবন্দীনী বিবাহের ক্ষেত্রে  মুক্তিপণ তার মোহরানা হিসেবে আলোচনা সাপেক্ষে ধার্য করা যেতে পারে। সাফিয়া রা: ছিলেন একজন ইহুদি যুদ্ধবন্দী।

 নবী সাঃ তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। সোফিয়া রাজি হলে তিনি তাকে মুক্ত করে বিবাহ করেন। তাকে মুক্ত করার পর নবী প্রথমে তাকে তার পরিবারে ফিরে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করেন। কিন্তু সাফিয়া রা: নবীকে বিবাহ করতে রাজি হন।

যাদের মুক্ত নারী বিবাহ করার সামর্থ্য নেই,তাদের জন্য এটি অত্যন্ত সহজ একটি বিধান।

 আর এভাবেই দাস এবং যুদ্ধবন্দিনী দের মুক্ত করার শরীয়া বিধিবদ্ধ ব্যবস্থার মাধ্যমে ইসলাম দাস প্রথা বিলুপ্তির পথ সুগম করে দেয়।

তবে সকল ক্ষেত্রে নারীর নিজস্ব মতামত সবার উপরে থাকবে-- কোনরকম জবরদস্তি করা যাবে না যা  জাহেলিয়াতের জমানায় ঘটতো। 

উপসংহার:

ইসলাম এভাবেই পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ রূপে সকল বঞ্চিত নারীদের অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।  নারীদেরকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভোগের জন্য অধিকার বা যথেচ্ছ করা যাবে না।

ক্রীতদাসী এবং যুদ্ধবন্দী হলেই তাদের সাথে যা ইচ্ছা তা করার স্বাধীনতা ও কর্তৃত্বের অধিকারী হওয়ার  জাহেলিয়াতের রীতি চিরতরে নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে।

Comments

Popular posts from this blog

শুধু মুখে কলেমা পড়লে জান্নাত যাওয়া যাবেনা

মসনবী শরীফ বই - মউলানা রুমী (রহঃ)