হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম আবু হামিদ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ তুসী আল-গাজ্জালি রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর 'কিমিয়ায়ে সাআদাত' (সৌভাগ্যের পরশমনি) কিতাবে কামিল ব্যাক্তির গুনাগুন উল্লেখ করে লিখেন–
কামিল ব্যক্তিগণ নিম্নলিখিত গুনরাজিকে সৎস্বভাবের অন্তর্ভুক্ত করিয়াছেন—
১৷ লজ্জাশীলতা,
২৷ অল্প কথা বলা,
৩৷ দুঃখকে লঘু মনে করা,
৪৷ সত্য কথা বলা,
৫৷ সৌজন্য ও ঘনিষ্ঠতার সহিত সকলের সঙ্গে অবস্থান,
৬৷ কর্তব্যকার্যে যত্নশীল ও পরিশ্রমী হওয়া,
৭৷ অত্যাধিক ইবাদত করা,
৮৷ অধিক ভুল-ত্রুটি না করা,
৯৷ অনাবশ্যক বিষয়ের প্রতি অনুরক্ত না হওয়া,
১০৷ সারা বিশ্বের মুসলিমদেরকে ভালোবাসা,
১১৷ সকলের মঙ্গল কামনা করা,
১২৷ মাহাত্ম্য,
১৩৷ করুণা,
১৪৷ ধীরতা,
১৫৷ ধৈর্য,
১৬৷ অল্পে তুষ্টি,
১৭৷ কৃতজ্ঞতা,
১৮৷ গম্ভীরতা,
১৯৷ কোমল হৃদয়ের অধিকারী হওয়া,
২০৷ অপরকে সহায়তা করিবার বাসনা,
২১৷ প্রলোভন হইতে বাঁচিবার শক্তি,
২২৷ অল্প আশা করা,
২৩৷ অপরকে গালি না দেওয়া এবং অভিশাপও না করা,
২৪৷ একের কথা অপরের নিকট না বলা,
২৫৷ পরনিন্দা ও অশ্লীল কথা হইতে বিরত থাকা,
২৬৷ হটকারিতা না করা ও দুঃসাহস বর্জন করা,
২৭৷ হিংসা-বিদ্বেষ বর্জন করা,
২৮৷ প্রফুল্ল বদনে থাকা ও মিষ্ট কথা বলা,
২৯৷ আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের নিমিত্ত অপরের সহিত মিত্রতা বা শত্রুতা করা,
৩০৷ ক্রোধ ও সন্তোষ শুধু আল্লাহর উদ্দেশ্যেই হওয়া ৷
১৷ লজ্জাশীলতা,
২৷ অল্প কথা বলা,
৩৷ দুঃখকে লঘু মনে করা,
৪৷ সত্য কথা বলা,
৫৷ সৌজন্য ও ঘনিষ্ঠতার সহিত সকলের সঙ্গে অবস্থান,
৬৷ কর্তব্যকার্যে যত্নশীল ও পরিশ্রমী হওয়া,
৭৷ অত্যাধিক ইবাদত করা,
৮৷ অধিক ভুল-ত্রুটি না করা,
৯৷ অনাবশ্যক বিষয়ের প্রতি অনুরক্ত না হওয়া,
১০৷ সারা বিশ্বের মুসলিমদেরকে ভালোবাসা,
১১৷ সকলের মঙ্গল কামনা করা,
১২৷ মাহাত্ম্য,
১৩৷ করুণা,
১৪৷ ধীরতা,
১৫৷ ধৈর্য,
১৬৷ অল্পে তুষ্টি,
১৭৷ কৃতজ্ঞতা,
১৮৷ গম্ভীরতা,
১৯৷ কোমল হৃদয়ের অধিকারী হওয়া,
২০৷ অপরকে সহায়তা করিবার বাসনা,
২১৷ প্রলোভন হইতে বাঁচিবার শক্তি,
২২৷ অল্প আশা করা,
২৩৷ অপরকে গালি না দেওয়া এবং অভিশাপও না করা,
২৪৷ একের কথা অপরের নিকট না বলা,
২৫৷ পরনিন্দা ও অশ্লীল কথা হইতে বিরত থাকা,
২৬৷ হটকারিতা না করা ও দুঃসাহস বর্জন করা,
২৭৷ হিংসা-বিদ্বেষ বর্জন করা,
২৮৷ প্রফুল্ল বদনে থাকা ও মিষ্ট কথা বলা,
২৯৷ আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের নিমিত্ত অপরের সহিত মিত্রতা বা শত্রুতা করা,
৩০৷ ক্রোধ ও সন্তোষ শুধু আল্লাহর উদ্দেশ্যেই হওয়া ৷
এ বিষয়ে আমাদেরকে প্রথমে জানতে হবে কামিল এর সঠিক অর্থ। তার পর ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহ্ আলাইহি এর উল্লেখিত তিরিশটি গুণের বিস্তারিত আলোচনা।
এবার আমরা ফিরে যাই পূর্বের তিরিশটি গুণরাজিতে যা কামিল ব্যাক্তিগণ সস্বভাবের অন্তর্ভুক্ত করিয়াছেন-
(১) লজ্জাশীলতা,
নির্লজ্জ লোক কখনো আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে পারেনা। কারণ একাধিক হাদিসে আছে ঈমানের সত্তরটি শাখা আছে । তার মধ্যে একটি হল লজ্জা। সুতরাং লজ্জাহীন মানে ঈমানের পূর্ণতাহীন। যার লজ্জা নেই সে কখনো কামিল হতে পারেনা। কারণ তার ঈমানই অপূর্ণ সে আল্লাহর নৈকট্যের আশা করাও বিভ্রান্তি।
নবী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন,- পূর্ববর্তী নবীদের (নবীদের) নাসীহাত থেকে মানুষ যা লাভ করেছে তার একটা হলো, যদি তুমি লজ্জাই না কর, তবে যা ইচ্ছে তাই কর।’’(বুখারী হাদিস নং৬১২০) তাহলে বুঝাযায় পূর্ববর্তী যুগেও লজ্জাশীলতার গুরুত্ব অনেক ছিল।
হযরত মুয়ায (রঃ) রসুলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনাকে আরজ করলেন, - সর্বোত্তম আমল কোনটি ? তিনি (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) জিহবা বের করে তার উপর আঙ্গুলি রাখলেন; অর্থাৎ চুপ থাকা সর্বশ্রেষ্ট আমল।
আবু যার (রঃ)-কে বললেন ’’তুমি সুন্দর চরিত্র ও দীর্ঘ নীরবতা অবলম্বন কর। সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে, সারা সৃষ্টি উক্ত দুই (অলংকারের) মত অন্য কিছু দিয়ে সৌন্দর্যমন্ডিত হতে পারে না।’’ (সহীহুল জামে ৪০৪৮)
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে; নচেৎ চুপ থাকে। (বুখারী ৬০১৮, মুসলিম ১৮২)
মোটকথা এজাতীয় আরো অনেক হাদীস আছে। সুতরাং কামেলের জন্য চুপ না থাকলেও অন্তত কম কথা বলা জরুরী। এটা হল নিম্নতর আমল।
(৩) দুঃখকে লঘু মনে করা,
দুঃখকে সর্বদা আল্লাহর পক্ষ থেকে উপঢৌকন মনে করে গ্রহন করতে হবে। হাদীসে কুদসীতে আছে, আল্লাহ্ তা'আলা বলেন "যে ব্যক্তি আমার (নির্ধারিত) তাকদীরের প্রতি অসন্তুষ্ট এবং আমার দান ও নে‘আমতে অকৃতজ্ঞ, সে যেন আমাকে ছাড়া অন্য কোন রব তালাশ করে নেয় ।” তাহলে কামেল হতে হলে দুঃখ ও সুখ উভয়ই সমান মনে করে মেনে নিতে হবে।
(৪) সত্য কথা বলা,
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন,– হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সঙ্গী হও। (সূরা তওবা ১১৯) তাহলে জানা দরকার সত্যবাদি কারা? নিচের হাদিসে তাহাই বুঝানো হয়েছে।-
ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় সত্য পুণ্যের পথ দেখায় এবং পুণ্য জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়। একজন মানুষ (অবিরত) সত্য বলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে তাকে খুব সত্যবাদী বলে লিখা হয়। পক্ষান্তরে মিথ্যা পাপের পথ দেখায় এবং পাপ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। একজন মানুষ (সর্বদা) মিথ্যা বলতে থাকে, শেষ অবধি আল্লাহর নিকটে তাকে মহা মিথ্যাবাদী বলে লিপিবদ্ধ করা হয়। (বুখারী ৬০৯৪ , মুসলিম ৬৮০৩-৬৮০৫, আবু দাউদ, তিরমিযী)
সুতরাং যে মিথ্যা বলবে সে কখনো কামেল হতে পারেনা।
(৫) সৌজন্য ও ঘনিষ্ঠতার সহিত সকলের সঙ্গে অবস্থান,
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন - “দীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে স্বদেশ থেকে বহিস্কার করেনি, তাদের প্রতি মহানুভবতা দেখাতে ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালবাসেন।” (সূরা আল-মুমতাহিনা, আয়াত: ৮)
“আল্লাহ তা‘আলা বলেন: হে আমার বান্দারা! আমি নিজের উপর যুলুমকে হারাম করে রেখেছি এবং তোমাদের মধ্যেও তা হারাম করেছি; সুতরাং তোমরা পরস্পর যুলুম করো না।” মুসলিম, হাদিস নং- ৬৭৩৭
রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম} বলেছেনঃ আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি অনুগ্রহ ও অনুকম্পা প্রদর্শনকারীদের প্রতি আল্লাহ রহমানুর রহীম অনুগ্রহ ও দয়া বর্ষণ করেন। সুতরাং তোমরা জমিনের অধিবাসীদের প্রতি দয়া করো, তাহলে আকাশের মালিক তোমাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করবেন। (মিশকাতুল মাসাবীহ্ ৪৯৬৯, আবূ দাঊদ ও তিরমিযী)
(৬) কর্তব্যকার্যে যত্ন ও পরিশ্রম,
রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন, "ওই শ্রমিক যে নিজের মালিকের হক আদায় করে সে আল্লাহর হকও আদায় করে, তার জন্য দ্বিগুণ পুরস্কার"।
(৭) অত্যধিক ইবাদত করা,
যত রকমের ফরয ইবাদত আছে তা সকলের জন্যই অপরিহার্য। অত্যধিক ইবাদত বলতে ফরযের পরে তাসবীহ্, তাহলীল, দরূদ-সালাম, যিকির-ফিকির, দান-সদকা, নফল রোযা, নফল নামাজ ইত্যাদি বেশী বেশী আদায় করা। এসকল ইবাদত নফল ইবাদতের মধ্যে গন্য। এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে,- আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, "আর বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে। এমন কি অবশেষে আমি তাকে আমার ওলি (বন্ধু) বানিয়ে নেই যে, আমিই তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শুনে। আমিই তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আর আমিই তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমিই তার পা হয়ে যাই, যা দ্বারা সে চলে। সে যদি আমার কাছে কোন কিছু চায়, তবে আমি নিশ্চয়ই তাকে তা দান করি।" (সহীহুল বুখারী ৬৫০২)
সুতরাং অত্যধিক ইবাদত না করলে কামেল হওয়ার কোন সুযোগ নেই। যারা ইবাদতের থেকে দুরে থেকে আল্লাহ্ তা,আলার নৈকট্যের আশা করে তা অনধিকার চর্চা করার মত। যদি আল্লাহ্ তা'আলা নিজ কৃপায় কাউকে উচ্ছাসনে অধিষ্টিত করেন তা ভিন্ন কথা।
(৮) অধিক ভুল-ত্রুটি না করা,
কামেল ব্যাক্তি কখনো ভুল- ত্রুটির মধ্যে অনড় থাকতে পারেননা। যদি ভুলবসত কোন ত্রুটি করেও থাকেন অনতিবিলম্বে তওবা করে নেন। খাজা নিজাম উদ্দীন (রহঃ) বলেন,- মুত্তাকি ও তাইয়েব (তওবাকারী) একই কথা। মোত্তাকি হচ্ছে সে ব্যক্তি যে জীবনে কখনও গোনাহ (ভুল-ত্রুটি) করে নি। আর তায়েব (তওবাকারী) সে ব্যক্তি যে গোনাহ করেছে কিন্তু তওবা করে পাপমুক্ত হয়েছে। এ উভয়েই পাপমুক্ত বিধায় সমান মর্যাদার অধিকারী। হাদীস শরীফে আছে - “যে গোনাহ হতে তওবা করে সে যেন কোন গুনাহই করেনি”। (ফাওয়ায়েদুল ফাওয়াদ ; প্রথম মাজলিশ)
(৯) অনাবশ্যক বিষয়ের প্রতি অনুরক্ত না হওয়া,
কামেল ব্যাক্তি অনর্তক বিষয়াদি নিয়ে মশগুল থাকাকে পছন্দ করেননা। আর যদি করে থাকে সে কখনো কামেল হতে পারেনা। কারণ- রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন, "কোন ব্যক্তির ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো অনর্থক আচরণ ত্যাগ করা"। (তিরমিযীঃ ২৩১৭, ইবন মাজাহঃ ৩৯৭৬)
(১০) বিশ্বপ্রেমিক হওয়া,
কামিল ব্যাক্তি কখনো এলাকা ভিত্তিক চিন্তা ধারা করেননা, পুরা বিশ্বকে নিয়ে চিন্তা করেন। কে কোন দেশের কে কোন তরিকার কিংবা কে কোন মাযহাবের এসব নিয়ে ভালবাসার বিচার করেননা। এমনকি কোন পশু-পাখীও তার থেকে উপকারিত হয়। হাদিসে আছে,- "প্রত্যেকটা প্রাণীর সাথে ভাল ব্যবহার করার মধ্যেও সাওয়াব আছে"।(বুখারী ৩৩২১, মুসলিম ২২৪৫, আহমাদ ১০৬২১, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৬৬৬, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৪১৬৩, মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৯০২)
(১১) সকলের মঙ্গল কামনা করা,
হাদিসে আছে "দ্বীন হল কল্যাণ কামনা করা, আল্লাহর রেজমন্দির জন্য, তাঁর রাসুলের জন্য, মুসলিম নেত্রীবৃন্দের জন্য এবং সকল মুসলিমের জন্য"। সহীহ বুখারী : ৫৫ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
এখানে কল্যান বলতে স্থরভেদে শুভকামনা করা। যেমন মুসলিমের জন্য আল্লাহর রেজামন্দি। উল্লেখ আছে 'রসূলের জন্য' তার মানে হল রসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার প্রতি ও উনার পরিবার পরিজনের প্রতি দরুদ পাঠ করা। এটি হল রসূলের প্রতি কল্যান কামনা। এর পরে আছে মুসলিম নেতৃবিন্দের জন্য। এখানে মুসলিম-নেত্রীবৃন্দ বলতে তারাই, যারা যুগে যুগে তাদের কর্ম ও লেখনির মাধ্যমে ইসলামকে উজ্জিবীত করে রেখেছেন। যাদের কারণে আমরা বিকৃত ইসলাম থেকে নিজেদের সরল পথে চলার দিশা খুজে পাই। অমুসলিমের জন্যও কল্যান কামনা করা কামিল ব্যাক্তির স্বভাব। যার বদৌলতে আউলিয়াকিরাম অগনিত অমুসলিমকে হেদায়েতের পথ দেখিয়েছেন।
(১২) মাহাত্ম্য,
কামেল ব্যাক্তি সদাই আল্লাহ্ ত'আলার মাহাত্ন্য অন্তরে জাগরুখ রাখে। যেমন রসূলুল্লাহ্ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেন "আমার দু’ চোখ ঘুমায় কিন্তু আমার অন্তর জাগ্রত থাকে" (বুখারী, সুনান আবূ দাউদ)
(১৩) করুণা,
রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি অনুগ্রহ ও অনুকম্পা প্রদর্শনকারীদের প্রতি আল্লাহ রহমানুর রহীম অনুগ্রহ ও দয়া বর্ষণ করেন। সুতরাং তোমরা জমিনের অধিবাসীদের প্রতি দয়া করো, তাহলে আকাশের মালিক তোমাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করবেন। (মিশকাতুল মাসাবীহ্ ৪৯৬৯, আবূ দাঊদ ও তিরমিযী) ইহা আল্লাহ্ ও তাঁর রসূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনাদের একটি উপনাম (সুরা তওবা : ১২৮) সুতরাং আল্লাহ্ ও রসূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনাদের নৈকট্য পেতে হলে এই রংগে রংগিন হওয়া অপরিহার্য।
(১৪) ধীরতা,
রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন- "ধীরস্থিরভাবে কাজ করা আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে আসে, আর তাড়াহুড়া করে কাজ করা শয়তানের পক্ষ থেকে আসে"। (মিশকাতুল মাসাবীহ্ : ৫০৫৫, তিরমিযী ২০১২, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৫৫৭০)
(১৫) ধৈর্য,
বিপদে ধৈর্য ধারণ ও আল্লাহর ফায়সালায় সন্তুষ্ট থাকা ঈমানের অংশ। হাদিসে আছে "সবর হল ইমানের অর্ধেক" অন্য হাদিসে আছে- "যার সবর নেই তার ঈমান নেই" আল্লাহ্ তা’আলা বলেন: “সবরকারীদেরকে বেহিসাব সওয়াব দান করা হবে" (এহইয়াউ উলুমিদ্দিন)
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন "আর আপনি ধৈর্যশীলদের জান্নাতের সুসংবাদ দেন।" (সূরা আল বাকারা, আয়াত-১৫৫)। মূলত: মানুষের ঈমান অনুসারেই আল্লাহ্ তা'আলা মানুষকে পরীক্ষা করে থাকেন। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সবচেয়ে বেশী পরীক্ষা, বিপদাপদ-বালা মুসিবত নবীদেরকে প্রদান করেন। তারপর যারা তাদের পরের লোক, তারপর যারা এর পরের লোক, তারপর যারা এর পরের লোক।” [মুসনাদে আহমাদ: ৬/৩৬৯] অর্থাৎ প্রত্যেকের ঈমান অনুসারেই তাদের পরীক্ষা হয়ে থাকে।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন- "নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন" সুতরাং এ থেকে বুঝা গেল কামেল ব্যাক্তির জন্য ধৈর্য অপরিহার্য।
(১৬) অল্পে তুষ্টি,
(১৭) কৃতজ্ঞতা,
পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, "যদি তোমরা আমার এ নিয়ামতগুলোকে অস্বীকার করো, তাহলে জেনে রাখো, আমার আজাব বড়ই কঠিন" (সূরা ইবরাহিম, আয়াত-৭)। সুতরাং অকৃতজ্ঞ কখনো আল্লাহর রাহে কামেল হতে পারেনা।
এ প্রসঙ্গে বলতে হয় আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে সকল কিছুই আমাদের জন্য করুণা ও রহমত। তবে তিনি সব কিছুর চাইতে বড় যে রহমত দিয়েছেন তা উল্লেখ করে কুরআনুল করিমে ইরশাদ করেন,- "আমিতো আপনাকে সৃষ্টিকুলের প্রতি শুধু রহমত রূপেই প্রেরণ করেছি"। (সুরা আম্বিয়া : ১০৭) হাদীসে এসেছে, রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “আমি তো আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত রহমত” সুতরাং এর চাইতে বড় নেয়ামত আর কি হতে পারে? যার কৃতজ্ঞতা প্রকাস করা জরুরী? সেই কারণে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত নেয়ামত প্রাপ্তির সেই দিনকে আনুষ্টানিকতার সহিত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। যেন পরবর্তী প্রজন্ম কৃতজ্ঞতার কথা স্মরণ করে থাকে। নচেৎ এর পরিণতি খারাপের দিকে যাবে। যেমন আল্লাহ্ তা'আলা অন্যত্র ইরশাদ করেন- “আপনি কি তাদেরকে দেখেন না, যারা আল্লাহ তা'আলার নেয়ামতের পরিবর্তে কুফর অবলম্বন করেছে এবং তাদের অনুসারী জাতিকে ধ্বংস ও বিপর্যয়ের অবস্থানে পৌছে দিয়েছে? তারা জাহান্নামে প্রজ্জ্বলিত হবে। জাহান্নাম অত্যন্ত মন্দ আবাস।” [সূরা ইবরাহীম: ২৮] পূর্বেই বলা হয়েছে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন "যদি তোমরা আমার এ নিয়ামতগুলোকে অস্বীকার করো, তাহলে জেনে রাখো, আমার আজাব বড়ই কঠিন" (সূরা ইবরাহিম, আয়াত-৭)
(১৮) গম্ভীরতা,
দুনিয়া নিয়ে আনন্দ উল্লাস করা কামিয়াবীর জন্য বাধা স্বরুপ। আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনাকে কখনো অট্টহাসি দিতে দেখিনি যাতে তাঁর মুখ গহ্বর প্রকাশ পায়।
(১৯) কোমল হৃদয়তা,
(২০) অপরকে সহায়তা করিবার বাসনা, (২১) প্রলোভন হইতে বাঁচিবার শক্তি, (২২) অল্প আশা করা, (২৩) অপরকে গালি না দেওয়া এবং অভিশাপও না করা, (২৪) একের কথা অপরের নিকট না বলা, (২৫) পরনিন্দা ও অশ্লীল কথা হইতে বিরত থাকা, (২৬) হঠকারিতা না করা ও দুঃসাহস বর্জন করা, (২৭) হিংসা-বিদ্বেষ বর্জন করা, (২৮) প্রফুল্ল বদনে থাকা ও মিষ্ট কথা বলা, (২৯) আল্লাহ্’র সন্তুষ্টি বিধানের নিমিত্ত অপরের সহিত মিত্রতা বা শত্রুতা করা, (৩০) ক্রোধ ও সন্তোষ শুধু আল্লাহর উদ্দেশ্যেই হওয়া"।
Comments
Post a Comment