ইসলামের আলোকে শ্রম ও শ্রমিকের মর্যাদা





দের হাজার বছর পূর্বে ইসলাম আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছে স্রমিকের হক কিভাবে আদায় করতে হবে। কোন দিবশ পালনের মাধ্যমে নয়। শ্রমিকের ন্যার্য পাওনা আদায়ের মাধ্যমে। এ বিষয়ে অনেক হাদিস আছে।
মহান আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন বিচার দিবসে শ্রমিকের পক্ষে দাড়াবেন।
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা’আলা বলেন, কিয়ামত দিবসে আমি তিন লোকের বিরুদ্ধে বাদী হবো- [১] যে লোক আমার নামে অঙ্গীকার করে পরে তা ভঙ্গ করেছে, [২] যে লোক স্বাধীন মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য খেয়েছে এবং [৩] যে লোক শ্রমিক নিয়োগ করে পূর্ণ কাজ আদায় করে নিয়েছে, কিন্তু তার প্রাপ্য মজুরী প্রদান করেনি।
তাহলে লক্ষ্য করুন কিয়ামত দিবসে তিন লোকের মধ্যে দুজনই শ্রমিক। যাদের পক্ষে মহান রব্বুল আলামিন সয়ং দাবি উপস্থাপন করবেন।

আব্দুল্লাহ ইবনে ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন- "তোমরা শ্রমিককে তার ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দিবে"।
(মিশকাত হা ২৯৮৭, ইবনে ইবনু মাজাহ ২৪৪৩)

রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন কারো জন্য নিজের হাতের (কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে) উপার্জনের আহারের চেয়ে আর কোনো উত্তম আহার নেই (অর্থাৎ- কোনো ব্যক্তি কখনো উত্তম খাদ্য খায়নি হাতের উপার্জনের খাদ্যের চেয়ে)।
উক্ত হাদিস থেকে বুজা যায় উত্তম রিযিক হল সরাসরি শ্রমের বিনিময়ে যাহা উপার্জন হয়। এখানে শ্রমিকের উচ্চমর্যাদার দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। এই হাদিসে এই কথাও বলা হয়েছে আল্লাহ্ তা'আলার প্রিয় নবী দাউদ আলাইহিস্সালাম তিনি নিজে মেহনত করে জীবিকা উপার্জন করেছিলেন।
শ্রমিকের অধিকার যেমন গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তেমনি ইসলামে তার উপর কর্তব্য পালনের উপরউ সুবিধা ঘোষনা করেছেন। বলা হয়েছে রসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন, "ওই শ্রমিক যে নিজের মালিকের হক আদায় করে সে আল্লাহর হকও আদায় করে, তার জন্য দ্বিগুণ পুরস্কার"। আরো দ্বিগুণ পুরষ্কার ঘোষনা করা হয়েছে সেই সকল মনিবের, যে দাসীকে মুক্ত করে নিজেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন।

এজাতীয় আরো অনেক হাদীস আছে যাহা দ্বারা শ্রমিকের ন্যার্য আদায়ের জন্য মানুষ উদ্বোদ্ধ হবে। এতকিছু লিখার মূল উদ্দেশ্য হল শ্রমিকের ব্যাপারে যদি ইসলামের বিধিবিধান লঙ্গন করা না হতো তাহলে সেই দিন শ্রমিকের জীবন বিসর্জন দিয়ে শ্রমিক দিবস নির্ধারণ করতে হতনা। প্রত্যেকটা শ্রমিকের জন্য প্রত্যেকটা দিনই শ্রমিক দিবশ হয়ে কাটত। ইসলামে শ্রমিকের দিবসের কথা বলা হয়নি। বরং যখনি শ্রম তখনই দিবশ সেটাই হল শ্রমিক দিবশ। তার পরও আন্তর্জাতীক দিবশ হিসেবে আমরা সেই দিনটি পালন করব দেরহাজার বছর পূর্বে আমাদের রসূল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) কি নির্দেশনা দিয়েছেন সে কথাগুলি স্মরণপূর্বক। পরিশেষে এটিই বলব 'ইসলাম-ই মুক্তির দিশা'।




Comments

Popular posts from this blog

শুধু মুখে কলেমা পড়লে জান্নাত যাওয়া যাবেনা

মসনবী শরীফ বই - মউলানা রুমী (রহঃ)