কারবালা – ৪
শামে কারবালা - (পর্ব- ৪)
মদীনা মুনাওওয়ারা থেকে যাত্রা—
ইমামে আলী মকাম হযরত হোসাইন (রাঃ) মদীনা ছেড়ে আসার প্রাক্কালে যখন নানাজান (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার রওজা মুবারকে উপস্থিত হন, সালাত ও সালাম আরয করার পর বিদায় অনুমতি চাইলেন, তখন তাঁর অবস্থা কী হতে পারে? বিষাদের রক্তিম অশ্রু অবিরাম ধারায় বর্ষিত ছিল! ব্যথিত হৃদয় বিরহ যাতনায় রক্তাক্ত ছিল। মুখে বলছিলেন, “কোলে কাঁধে বসিয়ে খাওয়াতেন যে নানা মায়া-মমতার বাঁধনে জড়িয়ে ঘুম পাড়ানিয়া শুনাতেন যে নানা, মাথায়, কপোলে, অধরে চুম্বনসিক্ত করতেন যে নানা, আমার গৌরবদীপ্ত নানা, আজ আমার অবস্থা দেখুন! বেদনা ভারাক্রান্ত আমি, অশ্রুসিক্ত আমি ! আপনার এই পবিত্র শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছি আমি, এই শহর আমার সবচেয়ে আদরের, প্রিয়তম শহর, কিন্তু কী করব? এখানে থাকা আমার পক্ষে দুষ্কর আজ। আমি যাচ্ছি, আমাকে অনুমতি দিন !
আর ওদিকে মমত্ববোধে লালনকারী মাতামহ, নবীকুল রাজ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম এর কী অবস্থা? এ অবস্থার কল্পনা হৃদয়কে চূর্ণ বিচূর্ণ করে ফেলে, এটা কেমন দিন ছিল! অত্যন্ত বেদনা বিধুর কঠিন সে সময় নবীজীর দৌহিত্র হযরত আলীর কলিজার টুকরা, ফাতেমা যাহরা (রাঃ)-এর নয়নজ্যোতি, হাসান মুজতবার আত্মার শান্তি চলে যাচ্ছেন, চিরতরে সেই চলে যাওয়া।
দেখ চেয়ে দেখ মনভরে সব,
দেখ চেয়ে আজ সব মুমিন,
বিদায়ী যাচ্ছেন কারবালায় আজ,
নায়েবে হযরত আল আমীন।
আকাশ থর থর ভয়ে কী অস্থির,
ভূমিতে কম্পন ধরিত্রীর মাঝখানে দেন ডানার ছায়া কে,
তিনি সেই রূহুল আমীন।
ফুল কলিরা শোন শোন
সব সুপ্ত কলি হে, বিদায়ী রব,
দৃষ্টি নন্দন গলি মদিনার,
বিদায়! বাজিছে ব্যথার বীণ।
অতঃপর তিনি ৬০ হিজরী সনের শাবান মাসে পরিবার-পরিজন নিয়ে মক্কা মুকাররামার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। যাত্রাকালে পবিত্র মুখে তেলাওয়াত পড়লেন
যার অনুবাদ–
“তিনি ঐ (শহর) জনপদ থেকে ভীতিগ্রস্থ হয়ে বেরিয়ে পড়লেন, এ প্রতীক্ষায় যে, না জানি কী হবে! বললেন, হে আমার প্রতিপালক, আমাকে এ জালিম গোষ্ঠী থেকে নাজাত দিন। (সুরা আল কাসাস- ২০)
————————
#শামে_কারবালা
#ইসলাম_ই_মুক্তির_দিশা

Comments
Post a Comment