কারবালা – ১১



শামে কারবালা - (পর্ব- ১১)
****************
ইমাম মুসলিমের অনুসন্ধানে গুপ্তচর —
হযরত মুসলিম হানীর গৃহে আত্মগোপন করেছিলেন। তাঁর ভক্ত-অনুরক্তবৃন্দ সেখানেও মোলাকাতের উদ্দেশ্যে গোপনে আসা-যাওয়া করতেন। 'বাইআত' এর ধারাবাহিকতা বরাবর বজায় ছিল। কোন বর্ণনায় এসেছে যে, চল্লিশ হাজার লোক বাইআত গ্রহণ করেছিল। 

এদিকে ইবনে যিয়াদ বরাবরই অনুসন্ধানে তৎপর ছিল, যাতে কে তাঁকে (ইমাম মুসলিম) আশ্রয় দিয়ে রেখেছে তার সন্ধান পাওয়া যায়। অথচ হানীর প্রতি তার বিন্দুমাত্র সন্দেহ জাগেনি। পরিশেষে সে তার গোলাম মুআক্কালকে এ কাজে নিয়োগ করে। তিন হাজার দিরহাম তার হাতে দিয়ে অনুসন্ধানের কূটকৌশল বাতলে দিল। এ জাতীয় রহস্যভেদের জন্য মোক্ষম জায়গা সচরাচর মসজিদই হয়ে থাকে। কেননা মসজিদে সর্বস্তরের লোকের আনাগোনা থাকে। পরিকল্পনা মোতাবেক ঐ গোলাম ও সোজা জামে মসজিদে গিয়ে পৌঁছল এবং অপেক্ষা করতে থাকল। সে লক্ষ্য করল এক ভদ্রলোক দীর্ঘক্ষণ নামায পড়তে আছেন। ইনি ছিলেন মুসলিম ইবনে আওসাজাহ্ আল আসাদী। যখন তিনি নামায সেরে উঠলেন, ঐ গোলাম তাঁর কাছেই উপস্থিত হল। আর বলতে লাগল, “আমি শামদেশী একজন গোলাম, আহলে বাইআতের প্রতি আসক্ত। আমার কাছে এই তিন হাজার দিরহাম রয়েছে। আমি শুনেছি যে, রাসুল (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) পরিবারের একজন সদস্য এখানে আগমন করেছেন। আর তিনি মানুষের কাছ থেকে নবী-দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রাঃ) এর পক্ষে বাইআত নিচ্ছেন। আমি দিরহামের এ অংকটা উনার খেদমতে ভক্তির নযরানা হিসাবে পেশ করতে চাই। যাতে তিনি এটা কোন উত্তম কাজে ব্যয় করেন। কিন্তু আমারতো এটা জানা নেই যে, সেই হযরত এখন কোথায় অবস্থান করছেন।”

মুসলিম ইবনে আওসাজাহ্ বললেন, “মসজিদে আরও তো লোক ছিলেন, তুমি তাঁদের কাউকে বললে না, আমাকে জিজ্ঞেস করছো কেন? “সে বলল, “আপনার চেহারায় ফুটে উঠা নেকী ও বরকতের আলামত এটা জানান দিচ্ছে যে, আপনি নিশ্চয় তাঁদের দোসরদের কেউ হবেন। এজন্যই আমি আপনার কাছে জানতে চেয়েছি। আল্লাহর ওয়াস্তে আপনি আমাকে সেই সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত করবেন না। দোহাই, 
উনার ঠিকানা আমাকে অবশ্যই বলুন।”

মোটকথা লোকটির ছলনাপূর্ণ কথাবার্তা মুসলিম বিন আওসাজার উপর প্রভাব বিস্তার করল। তিনি নিশ্চিত বিশ্বাস করলেন যে, এ লোকটি নিঃসন্দেহে আহলে বাইআত এর ভক্ত ও প্রেমিক। পরদিন লোকটিকে তিনি হযরত মুসলিম (রাঃ) এর কাছে নিয়ে গেলেন। তাঁর ভক্তি-বিশ্বাস সম্পর্কে নিজেও দৃঢ়তা প্রকাশ করলেন। সে তিন হাজার দিরহাম অর্পন করে বাইআত হয়ে যায়। বাইআতের পরে সে অত্যন্ত ভক্তি-বিশ্বাস সহকারে প্রতিদিন ইমাম মুসলিম (রাঃ) এর খেদমতে সকালে সবার আগে, রাতে সবার শেষে আসা যাওয়া করতে লাগল। আর যা কিছু শুনতো ও দেখত তার পুংখানুপুংখ রিপোর্ট ইবনে যিয়াদের কাছে পৌঁছে দিত। ইমাম মুসলিম (রাঃ) ঐ তিন হাজার দিরহাম আবু সুমামাহসায়েদীকে দিয়ে কিছু হাতিয়ার কেনার নির্দেশ দিলেন।
—————
#শামে_কারবালা
#ইসলাম_ই_মুক্তির_দিশা

Comments

Popular posts from this blog

শুধু মুখে কলেমা পড়লে জান্নাত যাওয়া যাবেনা

মসনবী শরীফ বই - মউলানা রুমী (রহঃ)