কারবালা – ১৭ (হানীর গ্রেফতারী (পর্ব- ৬)




শামে কারবালা - (পর্ব- ১৭)
****************
কারবালার ইতিহাস—

হানীর গ্রেফতারী (পর্ব- ৬)
ইবনে আশআস হযরত মুসলিমকে নিয়ে গভর্ণর হাউসে পৌঁছল। তাঁকে দরজার নিকট রেখে সে ভিতরে ঢুকল। ইবনে যিয়াদের কাছে পূর্বাপর সকল ঘটনা বর্ণনা করল। আর বলল, “আমি তাকে নিরাপত্তা দিয়েছি।” 

ইবনে যিয়াদ বলল, “তুমি নিরাপত্তা দেয়ার কে? আমি তোমাদের শুধুমাত্র গ্রেফতার করার জন্যই পাঠিয়েছিলাম। নিরাপত্তা ঘোষণার জন্য তো নয়।” 

ইবনে আশআস নিরুত্তর হয়ে রইল। হযরত মুসলিম (র.) এর ভয়ানক তেষ্টা পেয়েছিল। গর্ভনর হাউসের দরজার সামনে ঠান্ডা পানিভর্তি একটি কলসী দেখতে পেয়ে বললেন, "আমাকে এ কলসী থেকে একটু পানি পান করাও।” 

মুসলিম ইবনে আমর বাহেলী বলল, দেখছ, কেমন ঠান্ডা পানি? কিন্তু খোদার কসম, তোমাকে এর থেকে একটি ফোঁটা ও দেব না। এখন তো তোমার ভাগ্যে জাহান্নামের ফুটন্ত পানিই রয়েছে।”

 তিনি শুধালেন, “তুমি কে? সে উত্তর দিল, আমি " সেই ব্যক্তি, যে সত্য চিনেছে, যখন তুমি তা ত্যাগ করেছ, আমি সেই ব্যক্তি, যে, মুসলিম উম্মাহ্ এবং ইমামের শুভাকাংখী, যখন তুমি হয়েছিলে অবাধ্য এবং বিদ্রোহী। (মাআযাল্লাহ্) আমি মুসলিম ইবনে আমর বাহেলী ।” 

তিনি বললেন, “খোদা এমন করুন, যেন তোমার মা তোমার উপর ক্রন্দন করে! কেমন দূরাচার আর পাষন্ড তুমি? হে বাহেলার বাচ্চা, জাহান্নামের আগুন এবং গরম পানির জন্য আমার চেয়ে তুমিই অধিক উপযুক্ত।”

তাঁর (মুসলিমের)  করুণ দশা দেখে আম্মারা ইবনে আকাবার মায়া হল। তিনি তার গোলামকে পাঠিয়ে দিলেন। সে ঠান্ডা পানির একটি মোটকা ও পেয়ালা নিয়ে আসল। পেয়ালা ভর্তি করে তাঁকে পানি দিল। পানিতে মুখ দিতেই তাঁর চেহারা বেয়ে রক্তের ফোঁটা গড়িয়ে পড়ল। পানি রক্তে লাল হল।

গোলাম দ্বিতীয় পেয়ালা দিল। তাও রক্তে পূর্ণ হয়ে গেল। তৃতীয়বারও দেয়া হল। যখন পান করতে লাগলেন, তখন সামনের পাটির উৎপাটিত দাঁত মোবারক পেয়ালায় পড়ে গেল। 

তিনি বললেন, “আলহামদুলিল্লাহ্ আমার অদৃষ্টে আর দুনিয়ার পানি নেই।” এ ঘটনার পরে ঐ তৃষ্ণার্ত অবস্থায়, যখন তাঁর মুখাবয়ব এবং কাপড়চোপড় রক্তে আলুথালু ছিল, তাঁকে ইবনে যিয়াদের কাছে নিয়ে যাওয়া হল। তিনি নিয়ম মাফিক তাকে সালাম জানালেন না।

 এক সিপাহী বলে উঠল, “তুমি আমীরকে সালাম করলে না?” তিনি বললেন, “আমীর যদি আমাকে কতল করতে চায় তো তাকে আমার সালাম দেয়া হবে না। যদি কতলের ইচ্ছা না থাকে, তবে তাকে সালাম জানাতে পারি।” 

ইবনে যিয়াদ বলল, “সন্দেহ নেই যে, আমি তোমাকে অবশ্যই কতল করব।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “সত্যিই কি? বলল, “হ্যাঁ।” 

তিনি বললেন, “বেশ তো, তবে আমাকে এতটুকু অবকাশ দাও, যাতে আমি স্বগোত্রের কাউকে কিছু অসিয়ত (অন্তিম উপদেশ) করব।” বললো, “হ্যাঁ” করতে পার।” 

তিনি (মুসলিম) আমর বিন সা'দকে বললেন, “তোমার আমার মধ্যে আত্মীয়তা আছে, এ কারণে আমি আলাদা স্থানে তোমাকে কিছু বলতে চাই।” 

ইবনে সা'দ উঠে তাঁর সাথে একপাশে চলে গেল । তিনি বলতে লাগলেন, “আমি কুফার অমুক ব্যক্তি থেকে ৭০০/- (সাতশ) দিরহাম কর্জ নিয়ে নিজ প্রয়োজনে খরচ করেছি। ঐ কর্জ শোধ করে দেয়া, কতলের পর আমার লাশ দাফন করা এবং হযরত হুসাইনের নিকট কাউকে পাঠিয়ে দেয়া, যে তাঁকে রাস্তা থেকে ফিরিয়ে দেবে।”

ইবনে সা'দ ইবনে যিয়াদের কাছে অসিয়তের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করল। ইবনে যিয়াদ বলল, “কর্জ সম্পর্কে যে অসিয়ত, সে ব্যাপারে তোমার করণীয় নিজস্ব (অর্থাৎ সে তোমার ইচ্ছার উপর) যেমনটি তুমি চাও, হুসাইনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হল, তিনি যদি এখানে এসে না পড়েন, তবে আমরা তাঁর পিছু নেব না, যদি এসেই পড়েন, তবে তাঁকে ছেড়ে দেব না”।

পরবর্তী পর্ব 
হযরত মুসলিম এবং ইবনে যিয়াদের কথোপকথন 

#শামে_কারবালা
#ইসলাম_ই_মুক্তির_দিশা

Comments

Popular posts from this blog

শুধু মুখে কলেমা পড়লে জান্নাত যাওয়া যাবেনা

মসনবী শরীফ বই - মউলানা রুমী (রহঃ)