কারবালা – ১৮



শামে কারবালা - (পর্ব- ১৮)
****************
কারবালার ইতিহাস

হযরত মুসলিম এবং ইবনে যিয়াদের কথোপকথন—
ইবনে যিয়াদ হযরত মুসলিমকে বলল, “এ পর্যন্ত মানুষ একমত ও পরস্পর ঐক্যবদ্ধই ছিল। তুমি এসে বিচ্ছিন্নতা এবং মতানৈক্য সৃষ্টি করেছ এবং আমাদের বিরুদ্ধে তাদের উত্তেজিত করে তুলেছ। তিনি বললেন, "কখনও না, আমি এজন্য আসিনি। বরং এ এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য হল, তোমার বাবাই তাদের বুযুর্গ ও নেককার লোকদের হত্যা করেছে এবং রক্তপাত করেছে। তাছাড়া তাদের উপর কায়সার ও কিসরা (রোম পারস্যের অধিকর্তা) এর মত শাসন চালিয়েছে। এ কারণেই লোকেরা আমাকে আহবান জানিয়েছে। আমি মানুষের প্রতি ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, কুরআন-সুন্নাহর উপর আমল করার প্রতি আহবান জানাতে এখানে এসেছি।” 
ইবনে যিয়াদ একথা শুনেই রেগে উঠল। বলল, “রে দূরাচার, (মা আযাল্লাহ্) পাপিষ্ট হয়ে এই দাবী করছ ! যে সময় মদীনায় বসে শরাব পান করতে ঐ সময় খেয়ালে আসেনি যে, মানুষের মধ্যে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে?” তিনি বললেন, “কী, আমি শরাব পান করতাম? খোদার কসম, আল্লাহ্ উত্তম জানেন, আর তোমার নিজেরও নিশ্চিত জানা আছে যে, তুমি মিথ্যা বলছো, আমাকে নাপাক অপবাদে কলুষিত করছ! আমি কখনোই এমন নই। শরাবখোর বা শরাবী বলা হয় ঐ ব্যক্তিকে, যে নিরপরাধ মুসলমানের রক্ত প্রবাহিত করে, নিছক ব্যক্তিগত শত্রুতা, হিংসা ক্রোধের বশবর্তী হয়ে তাদের হত্যা করে, যাঁদের হত্যা করা আল্লাহ্ তা'য়ালা নিষিদ্ধ করেছেন, আর ঐ জুলুম নির্যাতনকে যারা খেল-তামাশা মনে করে।”

ইবনে যিয়াদ বলল, “খোদা আমাকে ধংস করুন, যদি না আমি তোমাকে এমনভাবে কতল করি, যেমনিভাবে ইসলামে আজতক কেউ কতল হয়নি।” তিনি বললেন, “সন্দেহ নেই, ইসলামে তেমনি মন্দও অনিষ্টকর প্রবর্তন করার জন্য তোমার চেয়ে অধিক যোগ্য কেউ নেই। হ্যাঁ, তুমি আমাকে অত্যন্ত ঘৃন্য প্রক্রিয়া কতল করবে, নিষ্ঠুরভাবে আমার অঙ্গছেদন করবে, কোন মন্দ ব্যবহারই পরিহার করবে না, কারণ এসবই তোমার জন্য অধিকতর মানানসই।” এমন তিক্ত সত্যের অবতারণায় ইবনে যিয়াদ ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে উঠল এবং সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ল। পাপিষ্ট তাঁকে তাঁর পিতা হযরত আকীলকে, হযরত আলী ও হুসাইন (রাঃ) কে গালিগালাজ করতে শুরু করল। তিনি চুপচাপ রইলেন, তার সাথে আর কোন কথা বললেন না।

(পরবর্তী পর্ব– 
হযরত মুসলিম ও হানীর শাহাদত)

#শামে_কারবালা
#ইসলাম_ই_মুক্তির_দিশা

Comments

Popular posts from this blog

শুধু মুখে কলেমা পড়লে জান্নাত যাওয়া যাবেনা

মসনবী শরীফ বই - মউলানা রুমী (রহঃ)