কারবালা – ১৯
শামে কারবালা - (পর্ব- ১৯)
****************
কারবালার ইতিহাস
হযরত মুসলিম ও হানীর শাহাদত
মুসলিমের সাহাদাত—
ইবনে যিয়াদ জল্লাদকে ডেকে হুকুম দিল “যাও, একে মহলের ছাদে নিয়ে হত্যা কর। এর শরীর ও মাথা বিচ্ছিন্ন করে উপর থেকে এমনভাবে নিচে নিক্ষেপ করবে যাতে হাড়গোড় চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায়। ” তিনি (হযরত মুসলিম) ইবনে আশআসকে বললেন, “যদি তুমি নিরাপত্তার কথা না বলতে, তবে এত সহজপন্থায় আমি তার করায়ত্ত হতাম না। এখন আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তোমার তরবারি উঠাও, আর দায়মুক্ত হও।” ইবনে আশআস চুপ হয়ে থাকল।
জল্লাদ তাঁকে মহলের ছাদে নিয়ে গেল। সে সময় তার মুখে ছিল আল্লাহর পবিত্রতা ও মহত্বের জয়গান ও দরুদ সালামের জপনা। আর স্বগতঃ বলছিলেন,
“হে আল্লাহ্, আমার এবং এ সব লোকদের মাঝে তুমিই ফয়সালা বিধানকারী, যারা আমার সাথে মিথ্যার বেসাতি করেছে, আমাকে ধোঁকায় ফেলেছে, আর আমাকে একাকী পরিত্যাগ করেছে, সবশেষে আমাকে নির্মমভাবে হত্যা করছে। অন্তিমযাত্রায় জ্যোতির্ময় চেহারা মক্কা মুকাররমার দিকে ফিরায়ে রাখলেন, ইমাম হোসাইনকে ভেবে মুক্ত বাতাসে নিবেদন করলেন এই পংক্তিমালা
খোদার লাগি হে ভোরের হাওয়া, কা'বার সকাশে একটু বয়ে যা।
নবীর আওলাদ হুসাইন যেথা রয়, খুঁজে নে তাঁরে তুই সারা শহর ময়।
নিয়ে যাবি মোর সালাম তাঁরি পায় খুলে বলিস, আমি আছি কী দশায়।
কুফাবাসীর এই জুলুম শুনাবি, আমার শাহাদত, তাও না লুকাবি।
এ অকৃতজ্ঞ, যালিম কুফীরা, ফিরে যেন যান, বলে দিবি, যা।
বলবি, “মজলুম! কথাটি শুনবেন, খোদার লাগি ওই দিকে না চাইবেন।
হলো এ 'মুসলিম' চরণে কুরবান, আরামে যাক তাঁর কাবা'য় দিনমান।
অতঃপর জল্লাদ উপূর্যপরি আঘাতে কুপিয়ে তাঁকে শহীদ করে দিল। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন) তাঁর পবিত্র ধড় ও মাথা মোবারক আলাদাভাবে উপর থেকে নিক্ষেপ করে দিল।
হানীর শাহাদাত—
—————-
হযরত মুসলিমের শাহাদাতের পর ইবনে আশআছ হযরত হানী সম্পর্কে ইবনে যিয়াদকে বলল, “আপনি তো জানেন, এই শহরে এবং নিজগোত্রে হানী'র মর্যাদা কতখানি! তাঁর গোত্রের লোকেরা জানে যে, আমি এবং দু'জন সঙ্গীই তাঁকে আপনার নিকট নিয়ে এসেছিলাম, আমি আল্লাহ্ দোহাই দিয়ে আপনাকে অনুনয় করছি, অন্ততঃ আমার দিকে চেয়ে তাঁকে ক্ষমা করে দিন। নচেৎ তাঁর গোত্রের লোকদের শত্রুতা ও প্রতিশোধের ভয় আমাকে তাড়িত করবে।” ইবনে যিয়াদ ক্ষমা করার ব্যাপারে ওয়াদা করেছিল। কিন্তু মুসলিমের কথা মনে করতেই তার মত পাল্টে গেল। সে হানীকেও হত্যা করার হুকুম দিয়ে দিল। নির্দেশ পেয়ে তার তুর্কী গোলাম হযরত হানীকেও শহীদ করে দেয়।
ইবনে যিয়াদ . হযরত মুসলিম ও হানী (রাঃ) এর খন্ডিত মস্তকদ্বয় ইয়াযীদের কাছে পাঠিয়ে দেয় এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাকে অবহিত করে। হযরত মুসলিম (রাঃ) এর শাহাদাত ৬০ হিজরীর যিলহজ্ব মাসে সংঘটিত হয়েছিল।
কবি বলেন:—
বইতে লাগল এমন কিছু যুগ বদলের বায়
নবীর কানন-কুসুম গুলো ঝরল কাঁটার ঘা'য় ।
আত্মবিলীন নিস্পাপেরা প্রভুর ইনাম পায়
“ফুল' বানিয়ে আল্লাহ তা'য়ালা জান্নাতে পাঠায়।
(পরবর্তী পর্ব
ইমাম মুসলিমের দুই পুত্ৰের কাহিনি)
#শামে_কারবালা
#ইসলাম_ই_মুক্তির_দিশা

Comments
Post a Comment