কারবালা – ৪২



কারবালার ইতিহাস (পর্ব -৪২)
📚শামে কারবালা

ইবনে সা’দের সঙ্গে একান্তে বৈঠক–
ইমামে আলী মকাম (রাদিঃ) উমর বিন কুরজা বিন কা'ব আনছারীর মাধ্যমে ইবনে সা'দের কাছে প্রস্তাব দিলেন; “আমি আজ রাতে উভয় পক্ষের লোক লস্করের মাঝখানে তোমার সাথে সাক্ষাত করতে চাই।” ইবনে সা'দ তা মেনে নেয়। রাতে সে বিশজন অশ্বারোহীকে সাথে নিয়ে উপস্থিত হল। ইমামও বিশজন আরোহী নিয়ে তাশরীফ আনলেন। ইমাম সঙ্গীদের পৃথক রাখলেন, ইবনে সা'দও নিজের সঙ্গীদের আলাদা স্থানে সরিয়ে দেয়। দু'জনের মধ্যে দীর্ঘক্ষন যাবৎ একান্তে কথাবার্তা হল, যা অন্য কেউ শোনেনি। অতঃপর দু'জনে নিজ নিজ সঙ্গীদের কাছে ফিরে আসলেন। এ কথাবার্তা নিয়ে দুটি মত পাওয়া যায়। (এক) তিনি ইবনে সা'দকে বললেন, “আমরা দু'জনে নিজ নিজ লোক লস্কর এখানে রেখে ইয়াযীদের কছে যাব। ইবনে সা'দ বললো, 'আমার ভয় হচ্ছে এটা করলে আমার ঘরবাড়ী ধংস করা হবে। আমার সকল সম্পত্তি জায়গা-জমি বাজেয়াপ্ত করা হবে।” তিনি বললেন, “আমি তোমাকে এর চেয়ে ভাল ঘর বানিয়ে দেব, এর চাইতে উত্তম সম্পত্তি দেবো। ইবনে সা'দ কোন মূল্যে সে প্রস্তাবে সাড়া দিতে প্রস্তুত হয়নি।
(দুই) তিনি ইবনে সা'দের কাছে তিনটি প্রস্তাব রেখে এর যে কোন একটি মানতে বললেন । (১) আমাকে যেখান থেকে এসেছি, সেখানে ফিরে যেতে দাও। (২) আমাকে সোজা ইয়াযীদের কাছে নিয়ে চলো,আমি সরাসরি তার হাতে হাত দেবো, পরে আমার এবং তাঁর মাঝে যে ফায়সালা হবার আছে, তা-ই হবে। (৩) আমাকে ইসলামী রাষ্ট্রগুলোর কোন একটি প্রান্তে নিয়ে যাও, আমি সেই সীমান্তবাসীদের সাথে থেকে কালাতিপাত করবো।
এ তিনের প্রথমোক্ত বর্ণনা কিছুটা হলেও শুদ্ধ বলে মনে করা যায়; কিন্তু দ্বিতীয় মতটি যে সব তথ্য সম্পকির্ত তা, বর্ণনা কিংবা বিবেকগ্রাহ্যতা কোন দিক থেকেই আমলে আনা যায় না।
বর্ণনার দিক থেকে এ জন্যই গ্রহণযোগ্য নয়, যেহেতু তার বর্ণনায় আলমুজালিদ ইবনে সাঈদ হামদানী রয়েছে, যার বর্ণনা মুহাদ্দেসীনে কেরামের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লামা হাফেজ যাহাবী ও ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী উভয়েই তার সম্পর্কে আপত্তি উত্থাপন করেছেন, তাকে বর্ণনা গ্রহনের অযোগ্য বলে সাব্যস্ত করেন।
বিবেকগ্রাহ্যতার দিক থেকেও গ্রহণযোগ্য নয়, একারণে যে (ইবনে সা'দের প্রতি) ইবনে যিয়াদের হুকুমই তো ছিল এটা যে, হুসাইন যদি বাইয়াত গ্রহনে স্বীকৃত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে না। সেখানে ইমাম হুসাইন যদি এ কথাতে সম্মতি জানাতেন যে, আমি ইয়াযীদের হাতে হাত দিতে (অর্থাৎ বাইয়াত গ্রহণে) তৈরী, তাহলে ইবনে সা'দ ও ইবনে যিয়াদের সেটা গ্রহণ না করা এবং তাঁর সাথে যুদ্ধ করে তাঁকে ও তাঁর সাথীদের শহীদ করা কি করে যুক্তি সঙ্গত হবে?
তার বিপরীতে উকবা ইবনে সমআনের বর্ণনা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমি মদীনা পাক থেকে মক্কা মুকাররামা পর্যন্ত এবং মক্কা শরীফ থেকে ইরাক পর্যন্ত বরাবরই ইমাম হুসাইনের সঙ্গে সঙ্গে ছিলাম, শাহাদাতের দিন পর্যন্ত কোন একটি সময় আমি তাঁর থেকে আলাদা হইনি। আমি তাঁর সব কথাবার্তা ও বক্তৃতাসমূহ শুনেছি,কিন্তু খোদার কসম,তিনি কদাচও একথা কখনো বলেননি যে, আমি আমার (আনুগত্যের)হাত ইয়াযীদের হাতে দিয়ে দেব। বরং তিনি সর্বক্ষণ এটাই বলতেন যে,আমার পথ ছেড়ে দাও,আমি আল্লাহর বিশাল বিস্তৃত যমীনের কোথাও চলে যাই। আর আমি শেষ পর্যন্ত দেখে যেতে চাই যে মানুষ (এ ব্যাপারে) কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
(✍🏼ত্বাবরী ২৩৫/৬,✍🏻ইবনে আসীর ২২/৪) 

পরবর্তী পর্ব–
দুনিয়ার লোভে ইবনে সা'দ 

Comments

Popular posts from this blog

শুধু মুখে কলেমা পড়লে জান্নাত যাওয়া যাবেনা

মসনবী শরীফ বই - মউলানা রুমী (রহঃ)