কারবালা – ৩৭



কারবালার ইতিহাস (পর্ব -৩৭)
📚শামে কারবালা
হুরের প্রতি ইবনে যিয়াদের কঠোর নির্দেশ—
অতঃপর ইমামের কাফেলা আযীব আল্ হাজানাত থেকে রওয়ানা হয়ে কসরে বনী মাকাতেল এ উপনীত হয়। মধ্য রাতে ইমাম সঙ্গীদের উদ্দেশ্যে বললেন, “পানি (মশক) ভরে নাও এবং যাত্রা করো।” সফর করতে করতে চোখে একটু তন্দ্রা লেগেছিল, সহসা হকচকিয়ে গেলেন এবং তিনবার বললেন, “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, ওয়াল হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন।” এটা শুনে ইমামপুত্র হযরত যয়নুল আবেদীন (রাদিঃ) বললেন, “আব্বাজান, আমি আপনার জন্য উৎসর্গ হবো, এ সময়ে এ বাক্যদ্বয় উচ্চারণ করার হেতু কি?” ইমাম বললেন, “আমার তন্দ্রা লেগেছিল, (তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায়) আমি দেখছিলাম, একজন আরোহী ব্যক্তি বলছে, লোকেরা সফর করে চলেছে আর মৃত্যু তাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এতে আমি উপলব্ধি করলাম যে, আমাদের মৃত্যুর সংবাদ দেয়া হচ্ছে।” ইমামতনয় বললেন, অশুভ কাল থেকে আল্লাহ্ আপনাকে রক্ষা করুন, আমরা কি সত্যের উপর নই?” উত্তরে ইমাম ফরমালেন, “ঐ সত্তার শপথ, যাঁর দিকে বান্দাকে ফিরতেই হবে, আমরা সত্যের উপরই প্রতিষ্ঠিত।” প্রত্যয়ী সন্তানও বললেন, “সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে যদি আমাদের মরণ হয়, তবে এমন মৃত্যুতে শংকা নেই।” ইমামে পাক বললেন, “আল্লাহ্ তোমায় সেই পুরষ্কার দিন, যা একজন পিতার পক্ষ থেকে পুত্রের জন্য শুভ হয়। 
“এই দুনিয়া যদিও মজার কিন্তু ফের বেহেশত তাহার চাইতে ভালো, রূপ সে ঢের, এই যে দেহ মরার তরে, তাই যদি খোদার রাহে উত্তম সে যৌবনের।”
“সেই হাশরের রূপে দেখে সব রূপ হবে তো বর্ণহীন, 
কেউ বলো না শহীদানের এই রাঙা খুন অর্থহীন।” 
সকালে একটি জায়গায় অবস্থান নিয়ে নামায আদায় করলেন। অতঃপর রওয়ানা হলেন। হুর সাথে সাথে ছিল, এভাবে নীনওয়া ময়দানে পৌঁছলেন। এখানে পৌঁছে তিনি কাঁধে তীর-ধনুকে সজ্জিত একজন আরোহীকে আসতে দেখলেন। লোকটি কাছে এসে ইমামে পাককে নয়, হুরকে সালাম জানাল। এর পর ইবনে যিয়াদের একটি চিঠিও হুরের হাতে দিল। যাতে লিখা ছিল। 
“বাহক যখন আমার চিঠি নিয়ে তোমার কাছে পৌঁছবে তখন, (সেই মূহুর্ত থেকেই হোসাইন এর উপর কড়াকড়ি আরোপ করো, আর তাঁকে এমন খোলা ময়দান, ছেড়ে কোথাও যেতে দিওনা, যেখানে না কোন আশ্রয় বা সহায় আছে, না পানি আছে। আমি আমার বাহককে নির্দেশ দিয়েছি, যেন তোমার কড়া পাহারার ব্যবস্থা করে এবং ততক্ষণ পর্যন্ত তোমার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়, যতক্ষণ না আমার কাছে এ সংবাদ পৌঁছে যে, তুমি আমার হুকুম যথাযথ পালন করেছো, সালামান্তে, (✍🏼ত্বাবরী খন্ড ৬, পৃ.২,✍🏼ইবনে আসির ২১/৪) ইবনে যিয়াদ (লানতুল্লাহ্)
হুর এ চিঠি ইমাম ও তাঁর সহযাত্রীদের পড়ে শোনাল। আর ইমাম ও তাঁর সাথীদের কঠোরতার সাথে এমন ময়দানের দিকে যেতে এবং যাত্রা বিরতি করতে বললো, সেখানে না আছে কোন জনপদ না পানি ইত্যাদি। তাঁর সাথীরা বললো, “হুর আমাদেরকে ছেড়ে দাও, আমরা নীনওয়া বা গাদির কিংবা শোফাইহে অবতরণ করবো। ” হুর বললো," খোদার কসম, আমি এমনটি করতে পারব না, কেননা, এ ব্যক্তিকে আমার প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতেই নিযুক্ত করা হয়েছে”।
এ অবকাশে যুহাইর বিন কাইন আরজ করলো, হে ইবনে রাসুলুল্লাহ্ ! এখন আমরা এদের সাথে অনায়াসে লড়তে পারি। কিন্তু এর পরে যে সময়। আসবে, তা আরো কঠিন হবে। শত্রুসৈন্য এত বেশী সংখ্যক হবে যে, আমরা তাদের মোকাবিলা করতে পারব না।” নবীর প্রিয় দৌহিত্র বললেন, “আমি নিজের পক্ষ থেকে যুদ্ধের সূচনা করবো না। 
যুহাইর" বলল, “ঠিক আছে, তবে এটা করতে পারেন যে, সামনে যে পল্লী আছে সেখানে অবতরন করুন। এটা অপেক্ষাকৃত সুরক্ষিত আছে। ফোরাতের তীরেও আছে। এরা যদি আমাদের সেখানে যেতে বাধা দেয়, তবে আমরা লড়াই করবো। আর এ সংঘর্ষ পরবর্তী মোকাবিলার তুলনায় সহজতর হবে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন,“ এ পল্লীর নাম কি?” তিনি বললেন, 'আকর' তিনি এরশাদ করলেন, “আমি আকর থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।”
পরবর্তী পর্ব–
কারবালার ময়দানে

Comments

Popular posts from this blog

শুধু মুখে কলেমা পড়লে জান্নাত যাওয়া যাবেনা

মসনবী শরীফ বই - মউলানা রুমী (রহঃ)