কারবালা – ৩১
ইমামের অভিভাষণ— ১
যখন ইমাম এসব দুঃখজনক সংবাদ জানতে পারলেন, তখন যারা ইমামের সাথে ছিলেন সবাইকে একত্রিত করে তাদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রাখলেন,
“আমাদের কাছে একে একে মুসলিম বিন আকিল, হানী ইবনে উরওয়াহ, আব্দুল্লাহ ইবনে বকতর প্রমূখের শাহদাতের সংবাদ এসে পৌঁছেছে। সেখানে আমাদের হিতাকাংখীরা আমাদের সঙ্গত্যাগ করেছে। কাজেই আমি আপনাদের জানাতে চাই, আপনাদের মধ্যে থেকে যাঁরা এখনও ফিরে যেতে চান, তাঁরা খুশীমনে ফিরে যেতে পারবেন। এর প্রেক্ষিতে আমার পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ থাকবে না।”
এটা তিনি এ জন্য বলেছিলেন, যে, এদের মধ্যে যারা অন্য খেয়ালে তাঁর সাথে ভিড়ে ছিলেন, তাঁদের মধ্যে যেন কোন ভুল ধারণা না থাকে এবং এটাও মনে না আনে যে, তারা বেকায়দায় আটকে গেল। বরং তারা স্বাধীনভাবে যেথা ইচ্ছা চলে যেতে পারে। আর এ উদ্দেশ্যে যে, তাঁর সাথে এমন লোকেরাই থাকুক, যারা তাঁর উদ্দেশ্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত এবং পূর্ণআগ্রহে আল্লাহর রাস্তায় জীবন দিতে প্রস্তুত। তাঁর কথা শুনে যারা পথের মধ্যে যোগ দিয়েছিলেন, তারা সরে পড়ল। কারণ তারা ভিড়েছিল লড়াই করতে নয়; বরং ভেবেছিল কুফা ইমামের অধিকৃত হয়ে গেছে।
যোবালা থেকে রওয়ানা হয়ে ইমামে পাক বতনে আকাবায় পৌঁছলেন। এখানে বনু ইকরামা গোত্রের একজন লোকের সাক্ষাৎ পেলেন। তিনি ইমামকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনি কোথায় চলেছেন? তিনি বললেন, ‘কুফায়’। লোকটি আরজ করলেন, 'আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ ও দোহাই দিচ্ছি, আপনি ফিরে যান। খোদার কসম, আপনাকে তীর বল্লমের মোকাবিলা করতে হবে। যারা আপনাকে দাওয়াত দিয়েছেন যদি তারা আপনার পথ নিষ্কন্টক করতে এবং আপনার পক্ষে লড়তে ও মরতে প্রস্তুত থাকত, তবে আপনার যাওয়াটা ঠিক হত। কিন্তু যে পরিস্থিতির কথা আপনি জানালেন, এ পরিস্থিতিতে যাওয়াটা কোনভাবেই সমীচিন নয়।” তিনি উত্তর দিলেন,
“হে আল্লাহর বান্দা, আপনি যা বলেছেন, তা আমার অগোচরে নয়। তবে আল্লাহ্ কোন সিদ্ধান্তই পরাভুত হয় না।
(✍🏻ত্বাবরী ২২৬/৬,✍🏻ইবনে আসীর, ১৮/৪)।
“দুনিয়া থেকে হাত গুটালেন দৌহিত্র রাসুলের,
অঞ্জলীতে ফুল ধৈর্য্য ও সন্তোষ হাসিলের।”
পরবর্তী পর্ব–
হুর বাহিনীর উদ্দেশ্যে তাক্বরীর (ভাষণ)

Comments
Post a Comment