কারবালা – ৫২
কারবালার ইতিহাস (পর্ব -৫২)
📚শামে কারবালা
📚শামে কারবালা
হুর এর অভিভাষণ—
ইমামে আলী মকামের নিবেদিত প্রান সহযোদ্ধাদের সাথে শামিল হওয়ার পরে হুর ইবনে ইয়াযীদ কুফাবাসী ইয়াযীদপক্ষীয়দের উদ্দেশ্যে বলতে লাগলেন,
“হে জনগোষ্ঠি, হুসাইন তোমাদের সামনে যে তিনটি প্রস্তাবনা রেখেছেন, তার কোন একটি ভোমরা মেনে নিচ্ছে না কেন ? যাতে আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিগ্রহে লিপ্ত হওয়া থেকে বাঁচিয়ে দিতেন।” কুফাবাসীরা বলল, আমাদের আমীর ইবনে সা'দ এর সাথে কথা বলুন। ইবনে সা'দ বলল, “আমি তো চেয়েছিলাম, তবে তা হবার নয়।” হুর বললেন, “হে কুফাবাসী, আল্লাহ তোমাদের ধংস করুন। তোমরা নিজেরাই হুসাইনকে আহবান করেছ, যখন তিনি এসে পৌঁছলেন, তোমরা তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করলে, উপরন্তু শত্রুর হাঁতে সঁপে দিলে। তোমরা এটাতো বলেছিলে যে, আমরা নিজেদের জীবন (আপনার পক্ষে) উৎসর্গ করবো, আর এখন তোমরাই তাঁকে আক্রমন করতে এবং হত্যা করতে উদ্যত হয়েছ। তোমরা চারদিকে থেকে তাঁকে ঘিরে ফেলেছ। তাঁকে ও আহলে বাইত (পরিবারবর্গ)-কে আল্লাহ তালার প্রশস্ত ও বিস্তৃত ভূখন্ডের কোন এক স্থানে গিয়ে স্বস্তি ও নিরাপত্তার সাথে থাকতে বাধা সৃষ্টি করছো। এখন তিনি সম্পূর্ণ কয়েদীর হালে । তোমরা তাঁর জন্য ফোরাত নদীর পানি বন্ধ করে রেখেছ, যা ইহুদী, নাসারা, অগ্নি পূজারী নির্বিশেষে সকলেই পান করছে, এ অঞ্চলের কুকুর শুকর পর্যন্ত সেখানে অবাধে ফিরছে, সেই পানির জন্য হুসাইন এবং তাঁর পরিবার পরিজন হাহাকার করছে। তোমরা হযরত মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম) এর পরে তাঁর আওলাদগণের সাথে কতই না খারাপ আচরণ করছ! যদি এখনই তোমরা তাওবা না করো এবং নিজেদের এ ইচ্ছা পরিত্যাগ না কর, তবে রোজ কিয়ামতে আল্লাহ্ তা'লা তোমাদেরও পিপাসার যন্ত্রনায় অস্থির রাখবেন।"
এর পর কুফাবাসী ইয়াযীদ পক্ষীয়রা হুর এর প্রতি তীর বর্ষন করতে শুরু করে। হুর সেখান থেকে সরে ইমামে পাকের সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়লেন।
পরবর্তী পর্ব -
যুদ্ধের সূচনা

Comments
Post a Comment