কারবালা – ৬২



কারবালার ইতিহাস (পর্ব -৬২)

📚শামে কারবালা


যেভাবে একের পর এক শহীদ হলেন – ৬

হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুসলিম—


নিকটজনদের মধ্যে হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুসলিম ইবনে আকীল ইমামে পাকের খেদমতে হাজির হয়ে আরজ করলেন, “চাচাজান, আমাকে অনুমতি দিন, আমি সত্যের পথে জীবন দিতে এবং আব্বাজানও ভাইদের কাছে পৌঁছে যেতে উদগ্রীব।” ইমামে পাকের চোখে অশ্রু এসে গেল। বললেন,“বাবা তোমার আব্বার এবং ভাইদের বিয়োগব্যথা যে, এখনও আমার অন্তর থেকে মুছেনি, আমি কীভাবে তোমাকে যাওয়ার অনুমতি দেই! তুমি বরং এক কাজ করো, তোমার আম্মাজানকে সাথে নিয়ে যেখানেই তোমার মন চায়, কোন নিরাপদ জায়গায় চলে যাও। এরা তোমার পথ আটকাবে না;কেননা এদের যে শুধু আমারই রক্তের পিপাসা ! আব্দুল্লাহ্ আরজ করলেন, “চাচাজান, এ আপনি কী বলছেন? আপনাকে ছেড়ে আমি কোথাও চলে যাবো? খোদার কসম, এটা হতেই পারে না। আপনাকে ছেড়ে আমি কক্ষনো যাবো না, বরং আপনার সামনেই শাহাদাতের পেয়ালায় চুমুক দেবো।” তিনি তাঁর জ্বেহাদের তীব্র আকাংখাও শাহাদাতের অদম্য আগ্রহ দেখে বিগলিত নয়নে তাঁকে বুকে জড়িয়ে নিলেন এবং বললেন, “যাও,সত্যের পথে কুরবান হয়ে যাও।” হাশেমী বংশের এ যুবক ময়দানে আসলেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য শত্রুকে আহবান জানালেন। ইবনে সা'দ তার সৈন্যদের জিজ্ঞেস করল, এ যুবকের মোকাবেলা করবে কে?” এরপর সে কুদামা ইবনে আসাদ ফাযারীর দিকে তাকিয়ে বলল, “কুদামা, তুমিই তার মোকাবেলা করতে পার।” কুদামাকে অত্যন্ত রণনিপূন ও বীর যোদ্ধা মনে করা হোত, সেই আব্দুল্লাহ্ বিরুদ্ধে লড়তে আসল। কিছুক্ষণ উভয়ের মধ্যে লড়াই চলতে থাকল, এক সময় আব্দুল্লাহ্ তলোয়ারের এমন এক কার্যকর আঘাত হানতে সক্ষম হলেন যে, কুদামাকে দ্বিখন্ডিত করে ফেললেন। আর তার কোমরবন্দ ধরে টান দিয়ে ঘোড়ার পিঠ থেকে তাকে নিচে ফেলে নিজেই ঘোড়ায় চেপে বসলেন। তাঁর ঘোড়াটি ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় একেবারে কাহিল পড়েছিল। এবার তিনি বর্শা উঁচিয়ে শত্রুকে আহবান করতে লাগলেন । তাঁর মুখে কিছু শেএর আবৃত্তি হচ্ছিল, যার ফার্সীরূপ কেউ এভাবে প্রদান করেছেন,

“ফুটন্ত এক হৃদয় নিয়ে দেখিনু এক যুবক আজ, 

নিপীড়িত প্রাণনাথের ওই চরণে প্রাণ জ্বলার ঝাঁজ, 

অনন্তের ওই প্রাচুর্য কী গড়াগড়ি তাঁর সে ঠাঁই, 

স্বর্গ কানন সমাধি তায় নজর আসে হুরের সাজ।”


কুদামার পুত্র সালামা ইবনে কুদামা আব্দুল্লাহ্র সাহসিকতা ও বাহাদুরী দেখে ইবনে সা'দকে বলল,“আমি এমন তেজস্বী বাহাদুর জওয়ান আর দেখিনি।”এবার তাঁর সামনে একাকী লড়তে আর কারো হিম্মত হচ্ছিল না। তিনি ক্ষুধার্ত ব্যাঘ্রের ন্যায় তাদের উপর আক্রমন চালালেন। নরাধম বাহিনীকে তছনছ করতে করতে তাদের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়লেন। অনেক শত্রু সৈন্যকে নিহত ও আহত করে ছাড়লেন। শেষ দিকে তারা তাঁকে ঘিরে ধরল এবং জেদা ও মশকী পেছন দিক থেকে অতর্কিত তলোয়ার চালাল। এতে তাঁর ঘোড়ার পা কেটে গেল। তখন তিনি নিচে অবতরণ করে পদব্রজেই মোকাবেলা করে চললেন। আচানক নওয়াফেল ইবনে মুজাহেম হিময়ারী তাঁকে বর্শার আঘাতে ঘায়েল করল, কারো মতে আমর বিন সাবীহ সায়দাভী তীরের নিশানা বানিয়েছিল। এভাবে আকীল খান্দানের এ বীরপ্রাণ অবশেষে বেহেশতে পাড়ি জমালেন। (রাদি.)


পরবর্তী পর্ব–

যেভাবে একের পর এক শহীদ হলেন – ৭

Comments

Popular posts from this blog

শুধু মুখে কলেমা পড়লে জান্নাত যাওয়া যাবেনা

মসনবী শরীফ বই - মউলানা রুমী (রহঃ)