হুজুর (সঃ)-এর প্রসংশা – ৩



হুজুর (সঃ)-উনার প্রসংশা – (পর্ব– ৩)

📚আশ্-শিফা বিতা–রীফি হুকুকিল মুস্তফা ✍🏻কাযী আয়ায আন্দুলুসী (রহঃ)


আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাগণের পক্ষ থেকে রাসূলের আনুগত্য করাকে আল্লাহ তা'আলা তাঁর (আল্লাহর) আনুগত্য এবং রসূলের আনুকূল্য স্বয়ং তাঁর (আল্লাহর) আনুকূল্য হিসেবে কবুল করেন।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআন মাজীদে এরশাদ হয়েছে-

>”যে ব্যক্তি রাসূলের নির্দেশ মান্য করেছে নিঃসন্দেহে সে আল্লাহরই আনুগত্য করেছে”।

(সূরা নিসা - ৮০)

অপর এক আয়াতে এরশাদ করা হয়েছে-

>”আর আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি বিশ্বজগতসমুহের জন্য রহমত করেই”।

(সূরা আম্বিয়া – ১০৭)

হযরত আবু বকর মুহাম্মদ বিন তাহের (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) বলেন, আল্লাহ তা'আলা হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনাকে রহমতের সৌন্দর্যে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছেন। উনাকে রহমতের এমন মূর্তপ্রতীক করেছেন যে, যার সকল শামায়েল ও সিফাতসমূহ মাখলুকের জন্যই শুধু রহমত। সুতরাং তাঁর মুবারক অস্তিত্ব বিশ্বজগত সমুহের জন্য রহমত হয়ে যায়। সেহেতু সে রহমতের অংশ যাঁর ভাগেই পড়েছে সেই দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতে সকল প্রকার বিপদ-আপদ থেকে নাজাত পেলো এবং দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতে যা তার পছন্দনীয় তাই সে পাবে। তোমরা কি দেখতে পাচ্ছ না মহান আল্লাহ তা'আলা কুরআন মাজীদে এরশাদ করেছেন-

>”আর আমি আপনাকে বিশ্বজগতসমুহের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি”।

(সূরা আম্বিয়া – ১০৭)

সুতরাং হুযুর (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) পবিত্র হায়াতও রহমত ওফাতও রহমত। যথা হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেছেন,–

“আমার জীবন এবং ওফাত উভয়টিই তোমাদের জন্য রহমত”।

হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেছেন, 

“আল্লাহ তা'আলা যখন কোনো উম্মাতের উপর রহমত নাজিল করার ইচ্ছা করেন তখন তাদের নবী উঠিয়ে নিতেন। তিনি তাদের পূর্বে আল্লাহ তাআলার দরবারে পৌঁছে তাদের মাগফিরাত কামনা করতেন।

‘রহমাতাল লিল আলামীন'এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে হযরত আল্লামা ফকীহ আবু লাইস সমরকন্দী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, এটা তার অর্থাৎ হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) সমগ্র মানব ও জীনজাতির জন্য রহমত। অপর একদল ওলামাদের অভিমত হলো- হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) সমগ্র সৃষ্টি জীবের জন্য রহমত।

হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) মুমিনদের জন্য রহমত হিদায়াতের মাধ্যমে, মুনাফিকদের জন্য রহমত তাঁর উপস্থিতিতে হত্যা করা থেকে নিরাপত্তা প্রাপ্তির মাধ্যমে। আর কাফিরদের জন্য রহমত আল্লাহ তা'আলার আযাব-গজব বিলম্বিত হওয়ার মাধ্যমে।

হযরত ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুমা) বলেন, হুযুর (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) মুমিনদের জন্য যেমনি রহমতস্বরূপ, তেমনি কাফিরদের জন্যও রহমত। কেননা তাঁর উপস্থিতিতে কাফিররা ওই সমস্ত আযাব থেকে নাজাত পেয়েছে যা পূর্ববর্তী উম্মাতরা তাদের নবীগণকে মিথ্যাবাদী বলে আখ্যায়িত করার কারণে যে শাস্তি পেতো।

এক বর্ণনায় এসেছে একবার হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) হযরত জিবরাঈল (আলাইহিস্ সালাম)-কে জিজ্ঞেস করেন- বলুনতো আমার রহমত আপনি কিভাবে লাভ করেছেন? তদুত্তরে হযরত জিবরাঈল (আলাইহিস্ সালাম) বললেন, হ্যাঁ প্রথমে আমি আমার শেষ পরিণতি সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। কিন্তু যখন পবিত্র কুরআন মাজীদে এইভাবে আমার প্রশংসা করা হয়েছে-

“তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী, আরশাধিপতির দরবারে সম্মানিত। সেখানে তাঁর আদেশ পালন করা হয়, যিনি আমানতদার”।

(সূরা তাকভীর : ২০-২১)

এখন আমি আমার শেষ পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছি। আপনার উসিলাতেই আমি নিরাপত্তা লাভ করেছি। এভাবেই আমি আপনার রহমতের অংশ লাভ করেছি।

হযরত জাফর সাদেক (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) পবিত্র কুরআন মাজীদের আয়াত-

“তবে হে মাহবুব! আপনার উপর সালাম হোক, ডানপার্শ্বস্থদের পক্ষ থেকে”

(সূরা ওয়াক্বিয়াহ – ৯১)

এর তাফসীর প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন- “হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার উসিলাতে নেককারগণ নিরাপত্তা প্রাপ্ত হয়েছে। অর্থাৎ নেককার লোকেরা নিরাপত্তার যে দৌলত লাভ করেছে তা একমাত্র হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার কারণেই লাভ করতে সক্ষম হয়েছে।

———————

Comments

Popular posts from this blog

শুধু মুখে কলেমা পড়লে জান্নাত যাওয়া যাবেনা

মসনবী শরীফ বই - মউলানা রুমী (রহঃ)