কারবালা - ৩৫
কারবালার ইতিহাস (পর্ব -৩৫)
📚শামে কারবালা
📚শামে কারবালা
ত্বরমাহ্ ইবনে আদীর আগমন—
আহলে বাইতের কাফেলা আযীব আল হাজানাত নামক স্থানে পৌঁছলে ইমামে পাক চার আরোহীকে দেখলেন, যারা ত্বরমাহ্ ইবনে আদীর পরিচালনায় কুফার সংবাদ নিয়ে নিম্নবর্ণিত শেয়ের আবৃত্তি করতে করতে তাঁরই দিকে আসছিলেন।
“হে আমার উটনী, আমার হম্বি তম্বিতে ভড়কে যেওনা, দ্রুতবেগে ধাবিত হও, যাতে প্রভাত হওয়ার আগেই পৌঁছতে পার।
উত্তম আরোহীদের সাথে, উত্তম ভ্রমণ করত, ঐ ব্যক্তির নিকট উপনীত হও।
যিনি সদ্বংশীয়, সম্ভ্রান্ত, মানমর্যদায় অতি উঁচুতে এবং দানদখিনায় যিনি মুক্ত প্রান।
আল্লাহ্ তাকে এক উত্তম কাজের জন্য এনেছেন, যা তাঁকে অনাগত প্রজন্মে অমর, অক্ষয় করে রাখবে।"
শের-এর এ পংক্তি গুলো শুনে ইমামে পাক (রাদিঃ) বললেন,
"শোনো,আল্লাহর শপথ, আমি অবশ্যই আশা করছি যে, আল্লাহ্ তা'লা আমাদের মাধ্যমে যা চাইছেন তাতে আমাদের নিহত বা জীবিত হওয়ার মধ্যে কল্যাণই নিহিত"।
“মালঞ্চে ফুল ফুটবেই তো, তার ফোটাতে কি যায় আসে,
সার্থক সেই পুষ্প, যাতে মরুর বুকে কানন হাসে।”
হুর এগিয়ে এসে বলল, “এরা তো আপনার সহযাত্রী নয়, বরং এরা এসেছে কুফা থেকে। আমি আপনার সাথে তাদের মিলতে দেবোনা। বরং গ্রেফতার করবো, অথবা ফিরায়ে দেবো।” তিনি বললেন “আমি এমনটি হতে দেবো না। এরা আমার সাহায্যকারী; আমি জীবন দিয়ে এদের রক্ষা করবো। তুমি আমাকে বলেছোই তো, যে, যতক্ষণ ইবনে যিয়াদের চিঠি তোমার কাছে না আসে, ততক্ষণ তুমি আমার প্রতি হস্তক্ষেপ করবেনা। তিনি বললেন, “যদিও এরা আমার সাথে আসেনি, তবুও সাথে যারা এসেছে তাঁদের মতোই, যদি তুমি তাঁদের সাথে সামান্যতম বিরোধিতা করো, তবে আমি তোমার সাথে যুদ্ধ করবো।” এটা শুনে হুর তাদের কাছে থেকে পৃথক থাকলো।
ইমামে পাক তাঁদের কাছে কুফাবাসীর অবস্থা জানতে চাইলেন। তাঁদের মধ্যে থেকে মজমা ইবনে আব্দুল্লাহ্ আমেরী বললেন, “শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা তো মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে প্রশাসনের সাথে একাত্ম হয়ে গেছে। এখন ওরা সবাই আপনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ও তৎপর। বাকী সাধারণ জনতা, তাদের অন্তর তো আপনারই দিকে ধাবিত। কিন্তু কাল তারাও তলোয়ার নিয়ে আপনার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাবে।”
ইমামে পাক তাঁদের কাছে নিজদূত কায়েস বিন মুসহার আসসায়দাভী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তাঁরা বললেন, “ হুসাইন বিন নুমাইর তাঁকে গ্রেফতার করে ইবনে যিয়াদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিলো। ইবনে যিয়াদ তাঁকে আপনার এবং আপনার পিতার প্রতি লা'নত করার হুকুম দেয়। তিনি এতে আপনার ও আপনার পিতার প্রতি সালাত-সালাম পেশ করেন, ইবনে যিয়াদ ও তার পিতার উপর লানৎ দেয়। মানুষকে আপনার পয়গাম শুনিয়ে, আপনার আগমন সংবাদ এবং আপনাকে সাহায্য করার আহবান জানান। এতে ইবনে যিয়াদ প্রাসাদের চুড়া থেকে তাঁকে নিচে ফেলে দেয়ার নির্দেশ দেয়। কথামত কায়েসকে উপর থেকে এভাবে নিক্ষেপ করা হয়, যাতে তাঁর হাড়গোড় ভেঙ্গে যায়। এর পর তাঁকে হত্যা করা হয়। এ খবর শুনে তাঁর চোখ অশ্রুতে ভরে গেল। পবিত্র গণ্ডদ্বয় বেয়ে অশ্রুর বিন্দু বয়ে পড়তে থাকল । মুখে উচ্চারিত হয়ে গেল এ আয়াত,
“তাদের মধ্যে কেউ তো নিজের জীবন উৎসর্গ করে গেল, আর কেউ রইল অপেক্ষায়। আর তারা কিছুই রদবদল করেনি।” অতঃপর তিনি প্রার্থনা করলেন,
“হে আল্লাহ, আমাদের এবং তাঁদেরকে বেহেশতের নেয়ামত দান করুন, এবং আমাদের ও তাদের আপনার অনুগ্রহস্থলে একত্রিত করুন এবং স্বীয় পুরস্কারের ভান্ডার থেকে উত্তম অংশ দান করুন।”
“খোদার নামে মরলো যে জন, সেই তো হয়ে যায় অমর,
মৃত্যু পেল জিয়নকাঠি, অবাক ভূবন এ নশ্বর!”
পরবর্তী পর্ব–
ত্বরমাহ্ ইবনে আদীর পরামর্শ
আহলে বাইতের কাফেলা আযীব আল হাজানাত নামক স্থানে পৌঁছলে ইমামে পাক চার আরোহীকে দেখলেন, যারা ত্বরমাহ্ ইবনে আদীর পরিচালনায় কুফার সংবাদ নিয়ে নিম্নবর্ণিত শেয়ের আবৃত্তি করতে করতে তাঁরই দিকে আসছিলেন।
“হে আমার উটনী, আমার হম্বি তম্বিতে ভড়কে যেওনা, দ্রুতবেগে ধাবিত হও, যাতে প্রভাত হওয়ার আগেই পৌঁছতে পার।
উত্তম আরোহীদের সাথে, উত্তম ভ্রমণ করত, ঐ ব্যক্তির নিকট উপনীত হও।
যিনি সদ্বংশীয়, সম্ভ্রান্ত, মানমর্যদায় অতি উঁচুতে এবং দানদখিনায় যিনি মুক্ত প্রান।
আল্লাহ্ তাকে এক উত্তম কাজের জন্য এনেছেন, যা তাঁকে অনাগত প্রজন্মে অমর, অক্ষয় করে রাখবে।"
শের-এর এ পংক্তি গুলো শুনে ইমামে পাক (রাদিঃ) বললেন,
"শোনো,আল্লাহর শপথ, আমি অবশ্যই আশা করছি যে, আল্লাহ্ তা'লা আমাদের মাধ্যমে যা চাইছেন তাতে আমাদের নিহত বা জীবিত হওয়ার মধ্যে কল্যাণই নিহিত"।
“মালঞ্চে ফুল ফুটবেই তো, তার ফোটাতে কি যায় আসে,
সার্থক সেই পুষ্প, যাতে মরুর বুকে কানন হাসে।”
হুর এগিয়ে এসে বলল, “এরা তো আপনার সহযাত্রী নয়, বরং এরা এসেছে কুফা থেকে। আমি আপনার সাথে তাদের মিলতে দেবোনা। বরং গ্রেফতার করবো, অথবা ফিরায়ে দেবো।” তিনি বললেন “আমি এমনটি হতে দেবো না। এরা আমার সাহায্যকারী; আমি জীবন দিয়ে এদের রক্ষা করবো। তুমি আমাকে বলেছোই তো, যে, যতক্ষণ ইবনে যিয়াদের চিঠি তোমার কাছে না আসে, ততক্ষণ তুমি আমার প্রতি হস্তক্ষেপ করবেনা। তিনি বললেন, “যদিও এরা আমার সাথে আসেনি, তবুও সাথে যারা এসেছে তাঁদের মতোই, যদি তুমি তাঁদের সাথে সামান্যতম বিরোধিতা করো, তবে আমি তোমার সাথে যুদ্ধ করবো।” এটা শুনে হুর তাদের কাছে থেকে পৃথক থাকলো।
ইমামে পাক তাঁদের কাছে কুফাবাসীর অবস্থা জানতে চাইলেন। তাঁদের মধ্যে থেকে মজমা ইবনে আব্দুল্লাহ্ আমেরী বললেন, “শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা তো মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে প্রশাসনের সাথে একাত্ম হয়ে গেছে। এখন ওরা সবাই আপনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ও তৎপর। বাকী সাধারণ জনতা, তাদের অন্তর তো আপনারই দিকে ধাবিত। কিন্তু কাল তারাও তলোয়ার নিয়ে আপনার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাবে।”
ইমামে পাক তাঁদের কাছে নিজদূত কায়েস বিন মুসহার আসসায়দাভী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তাঁরা বললেন, “ হুসাইন বিন নুমাইর তাঁকে গ্রেফতার করে ইবনে যিয়াদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিলো। ইবনে যিয়াদ তাঁকে আপনার এবং আপনার পিতার প্রতি লা'নত করার হুকুম দেয়। তিনি এতে আপনার ও আপনার পিতার প্রতি সালাত-সালাম পেশ করেন, ইবনে যিয়াদ ও তার পিতার উপর লানৎ দেয়। মানুষকে আপনার পয়গাম শুনিয়ে, আপনার আগমন সংবাদ এবং আপনাকে সাহায্য করার আহবান জানান। এতে ইবনে যিয়াদ প্রাসাদের চুড়া থেকে তাঁকে নিচে ফেলে দেয়ার নির্দেশ দেয়। কথামত কায়েসকে উপর থেকে এভাবে নিক্ষেপ করা হয়, যাতে তাঁর হাড়গোড় ভেঙ্গে যায়। এর পর তাঁকে হত্যা করা হয়। এ খবর শুনে তাঁর চোখ অশ্রুতে ভরে গেল। পবিত্র গণ্ডদ্বয় বেয়ে অশ্রুর বিন্দু বয়ে পড়তে থাকল । মুখে উচ্চারিত হয়ে গেল এ আয়াত,
“তাদের মধ্যে কেউ তো নিজের জীবন উৎসর্গ করে গেল, আর কেউ রইল অপেক্ষায়। আর তারা কিছুই রদবদল করেনি।” অতঃপর তিনি প্রার্থনা করলেন,
“হে আল্লাহ, আমাদের এবং তাঁদেরকে বেহেশতের নেয়ামত দান করুন, এবং আমাদের ও তাদের আপনার অনুগ্রহস্থলে একত্রিত করুন এবং স্বীয় পুরস্কারের ভান্ডার থেকে উত্তম অংশ দান করুন।”
“খোদার নামে মরলো যে জন, সেই তো হয়ে যায় অমর,
মৃত্যু পেল জিয়নকাঠি, অবাক ভূবন এ নশ্বর!”
পরবর্তী পর্ব–
ত্বরমাহ্ ইবনে আদীর পরামর্শ

Comments
Post a Comment