কারবালা – ৫৫



কারবালার ইতিহাস (পর্ব -৫৫)

📚শামে কারবালা


যুদ্ধের ঘঠনা —

এরপর কুফাবাহিনী থেকে ইয়াযীদ ইবনে মা'কাল বের হল ও ইমাম বাহিনী থেকে বের হল বরীর ইবনে হুযাইর। ইয়াযীদ বল্ল, “বরীর, তুমি তো দেখলে, খোদা তোমাদের সাথে কী আচরণ করলেন।” বরীর বললেন, “খোদার কসম, তিনি আমাদের সাথে ভাল ব্যবহারই করেছেন; বরং তোমার সাথেই অনভিপ্রেত আচরণ করা হয়েছে।” ইয়াযীদ বলল, “তুমি মিথ্যা বললে, অথচ এর আগে তুমি কখনো মিথ্যা বলোনি। আর আজ আমি তোমাকে জানিয়ে দিচ্ছি যে, আজ তুমি পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভূক্ত হয়েছো।” বরীর বললেন, “তবে এস আসো আগে 'মোবাহালা' (পারস্পারিক অভিশম্পাত দেওয়া) সেরে নিই, আস, খোদা তালা'র কাছে প্রার্থনা করি, মিথ্যাবাদীর উপর লা'নত হোক, পথভ্রষ্টকে আল্লাহ্ ধ্বংস করুন। এরপর দু'জন লড়াই করবো। তবে প্রমাণ হয়ে যাবে যে, কে পথভ্রষ্ট। কথানুযায়ী দু'জনই দুআ করলেন, যাতে আল্লাহ্ মিথ্যুকের উপর অভিশম্পাত দেন, আর যে সত্যের উপর আছে, সে যেন পথভ্রষ্টকে কতল করে। উভয়ে তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধে অবতীর্ন হয়ে গেলেন। ইয়াযীদ বরীরের উপর হামলা চালালেও এটা ব্যর্থ হয়। কিন্তু বরীর তার জবাবে এমন প্রচন্ড আঘাত হানলেন যে, তরবারী ইয়াযীদকে বিদীর্ণ করে তার মগজ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল আর তরবারী তার মাথার খুলিতে আটকে যায়। বরীর তরবারী টেনে বের করছিলেন, এমন সময় রাদ্বী ইবনে মুনকিয আল আবদী তাঁকে জাপটে ধরে কিছুক্ষণ উভয়ের কুস্তি চলতে থাকল, শেষে বরীর রাদ্বীকে ধরাশায়ী করে তার বুক চেপে বসে যান। রাদ্বী চিৎকার করে বলতে লাগল, “প্রতিরোধকারী আর আমাকে রক্ষাকারীরা কোথায়? আমাকে এসে রক্ষা করছ না কেন?” রাদ্বীর চিৎকার শুনে কা'ব বিন জাবের বরীরকে বর্শার আঘাত করে, বর্শা তার পিঠে গেঁথে যায়। পিঠে বর্শা বিদ্ধ অবস্থায় তিনি রাদ্বীর বুক থেকে উঠতে উদ্যত হতেই কা'ব পুনরায় আক্রমন করে তাঁকে শহীদ করে দেয়। এ কা'ব যখন তাঁবুতে ফিরে গেল, তখন তার বোন নাওয়ার বিনতে জাবের বলল, “তুমি ফাতেমা বিনতে রাসুলুল্লাহ্ সন্তানদের শত্রুকে সাহায্য করেছ, তাঁদের কারীকুল শিরমনি হযরত বরীরকে কতল করে ফেলেছ! খোদার কসম, আমি কখনো তোমার সাথে কথা কলবো না।” 

হযরত বরীর'র পর হযরত উমর ইবনে কুরযা আনছারী নিম্নোক্ত শেএর আবৃত্তি করতে করতে হয়ে অগ্রসর হলেন।

“আল আনসারের এ বীর কেশরী নিঃসন্দেহে অবগত

 চলচ্চি কোন্ মনিষীর সহায়তায় যুদ্ধ মাঝে আছি রত। 

তাকে এই গোলামের অসির চালন অব্যর্থ ও অবিরত, 

হুসাইনের এই রক্ষা ফরজ, শত্রু করে হতাহত।”


এই বীর পুরুষ অমিততেজে লড়াই করে বীরত্ব প্রদর্শন পূর্বক শহীদ হয়ে যান। তাঁর ভাই আলী ইবনে কুরযা ছিল ইবনে সা'দের সাথে। ঐ যালিম নিজ সহোদরকে রক্তাক্ত দেহে মাটিতে লুটাতে দেখে বলে উঠে, “হে হুসাইন, মিথ্যুকের সন্তান মিথ্যুক! তুমিই আমার ভাইকে বিভ্রান্ত করেছ, বোকা বানিয়ে তাকে মৃত্যুর দুয়ারে ঠেলে দিয়েছ।” (নাউযু বিল্লাহ্) উত্তরে ইমাম বললেন, “খোদা তোমার ভাইকে গোমরাহ করেননি; বরং সুপথের দিশা দিয়েছেন, আর তোমাকেই পথভ্রষ্ট করেছেন।”এ জওয়াব শুনে সে বলতে লাগল, “আমি যদি তোমাকে কতল না করি, তো আল্লাহ্ আমাকে নিধন করবে।” এ বলেই সে ইমামের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ল। হযরত নাফে বিন হেলাল মুরাদী দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে প্রতিহত করলেন এবং এমন ভাবে আঘাত করলেন যে, সে হাত পা ছড়িয়ে চিৎ হয়ে পড়ে গেল । তার সঙ্গী-সাথীরা দৌড়ে এসে তাকে রক্ষা করল এবং উঠিয়ে নিয়ে গেল।


পরবর্তী পর্ব–

রণক্ষেত্রে হুর ইবনে ইয়াযীদ

Comments

Popular posts from this blog

শুধু মুখে কলেমা পড়লে জান্নাত যাওয়া যাবেনা

মসনবী শরীফ বই - মউলানা রুমী (রহঃ)