হুজুর (সঃ) এর প্রসংশা – ৬
হুজুর (সঃ)-উনার প্রসংশা – (পর্ব– ৬)
📚আশ্-শিফা বিতা–রীফি হুকুকিল মুস্তফা ✍🏻কাযী আয়ায আন্দুলুসী (রহঃ)
হযরত ইবনে আতা (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) বলেন, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, আমি পরিপূর্ণ ঈমানকে নির্ভরশীল করেছি আমার নামের সাথে আপনার নাম উচ্চারণের বিধান দিয়ে। অর্থাৎ আপনার নাম বাদ দিয়ে শুধু আমার উপর ঈমান আনলে কখনো মুমিন হবে না। তিনি আরও বাড়িয়ে বলেছেন, শুধু তাই নয়, আপনার জিকিরকে আমার জিকির, অর্থাৎ যে আপনার জিকির করলো সে মূলতঃ আমারই জিকির করলো। আপনার নাম বাদ দিয়ে আমার জিকিরে কোনো লাভ হবেনা।
ইমাম জাফর সাদেক (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) বলেন, যে রিসালতের সাথে আপনার জিকির করবে, সে মূলতঃ রুবুবিয়াতের সাথে আমার জিকির করলো। অর্থাৎ যে আপনাকে রাসূল রূপে স্বীকার করলো, সে প্রকারান্তে আমাকে রব বলে স্বীকার করলো।
একদল ওলামায়ে কেরামের অভিমত হলো- এখানে হুযুর (সল্লল্লাহ আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর শাফায়াতের মাকামের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা নিজের সাথে হুযুর (সল্লল্লাহ আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর জিকির হলো যে, আনুগত্যকে হুযুরের আনুগত্যের সাথে এবং হুযুরের পবিত্র নামকে তাঁর মহান নামের সাথে মিলিত করা।
যেমন পবিত্র কুরআন মাজীদে এরশাদ হয়েছে-
“আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হুকুম মান্য কর”। (সূরা আলে ইমরান : ১৩২)।
“আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো”। (সূরা আ'রাফ : ১৫৮)
উক্ত আয়াতদ্বয়ে আল্লাহ ও রাসূল শব্দদ্বয় সংযোগবোধক অব্যয় 'ওয়াও' দ্বারা সংযুক্ত। এভাবে আল্লাহ তা'আলার নামের সাথে হুযুর (সল্লল্লাহ আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর পবিত্র নাম ব্যতীত অন্য কারও নাম মিলানো জায়িয নেই।
হযরত হুযায়ফা (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) থেকে বর্ণিত আছে, হুযুর (সল্লল্লাহ আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেছেন যে, “তোমরা কেউ কখনো এরূপ কথা বলবে না যে, আল্লাহ তা'আলা ও অমুক ব্যক্তি যা চান বরং এরূপ বলবে যে, আল্লাহ তা'আলা যেরূপ চান অতঃপর অমুক ব্যক্তি সেরূপ চায়”।
ইমাম খাত্তাবী (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) বলেন, এই হাদীসে হুযুর (সল্লল্লাহ আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এ আদব শিক্ষা দিয়েছেন যে, আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা ও এরাদাকে সর্বদা গায়রুল্লাহর কামনা বাসনার উপর অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ কারণে হুযুর (সল্লল্লাহ আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আরবী শব্দ 'সুম্মা' ব্যবহার করেছেন। অর্থাৎ প্রথমে আল্লাহ তা'আলার কথা ইরশাদ করেন, তারপর অপর ব্যক্তি ইচ্ছা করে। ‘ওয়াও' কিন্তু এর সম্পূর্ণ বিপরীত। তাতে এ বিষয়ে সন্দেহের সূচনা দেখা দেয় যে, ইরাদা করার সাথে আল্লাহ তা'আলা ও গায়রুল্লাহ উভয়ই ইচ্ছা করে। (এটা বেয়াদবী)। একারণে ইচ্ছার ক্ষেত্রে আল্লাহ তা'আলার সাথে অন্য কেউ অংশগ্রহণ করতে পারে না। আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা কার্যকরী হয়, তাঁর ইচ্ছার সমান কারও ইচ্ছা হতে পারেনা। এর উদাহরণ এক হাদীসে বিদ্যমান।
জনৈক ভাষণদানকারী হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার সামনে এভাবে ভাষণ দিচ্ছিলো- “যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করলো সে হিদায়াত পেলো, আর যে তাদের উভয়ের নাফরমানী করলো”। এই কথা শুনে হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ভীষণ অসন্তুষ্ট হয়ে বললেন,
“তুমি জাতির অতি মন্দ ভাষণ দানকারী, তুমি আমার সামনে থেকে চলে যাও”৷
হযরত আবু সোলায়মান (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) বলেন, হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে এ কথা ভীষণ অপছন্দ হয় যে, ওই ভাষণদানকারী ইঙ্গিতবোধক শব্দের মাধ্যমে ওই পবিত্র নাম দুখানাকে একত্রে সমবেত করেছে। যাতে উভয় পবিত্র নাম দু'খানার মধ্যে সমতা দেখা দিয়েছে। আর একদল ওলামায়ে কেরামের অভিমত হলো- সেই ভাসনদানকারী “ইয়া‘সিহিমা” শব্দের পর 'ফাকদ গাওয়া’ অর্থাৎ সে পথভ্রষ্ট হয়েছে বলেছিলো। আর ‘মাই ইয়াসিহিমা' এরপর যেভাবে লোকেরা বলে ঐ ব্যক্তি সেভাবে না বলে থেমে যায়।
তাফসীরবিদ ও শব্দতাত্ত্বিক ব্যক্তিগণ বলেন, আল্লাহ তা'আলার বাণী- “নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা ও তাঁর ফিরিশতাগণ ঐ নবী উপর দুরূদ প্রেরণ করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরা তাঁর উপর দুরূদ পাঠ কর এবং উত্তমরূপে সালাম প্রেরণ কর”। (সূরা আহযাব : ৫৬)
এখানে ‘ইউসাল্লুনা' শব্দে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা ও ফিরিশতাগণ উভয় দুরূদ প্রেরণ করে কিনা?
সুতরাং একদল ওলামায়ে কেরামের বলেন, উভয়ের জন্য প্রযোজ্য হবে। অপর দলের মতে, এরূপ ধারণা করা জায়িয হবে না। কেননা এ অবস্থায় ফিরিশতাবৃন্দ আল্লাহ তা'আলার সাথে একই কাজে জড়িত হয়ে যায়। (এটা জায়িয নয়) তারা বলেন ‘ইউসাল্লুনার যমীর' শুধু ফিরিশতাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাদের মতে এই আয়াতের অর্থ হবে- “নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা রহমত অবতীর্ণ করেন। আর তাঁর ফিরিশতাবৃন্দ হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর দুরূদ প্রেরণ করেন।
----

Comments
Post a Comment