কারবালা – ৪১



কারবালার ইতিহাস (পর্ব -৪১)
📚শামে কারবালা

পানি বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ–
এর পরপরই ইবনে যিয়াদের দ্বিতীয় চিঠি ইবনে সা'দের কাছে পৌঁছল। যাতে লিখা ছিল এই নির্দেশ,
“হুসাইন ও তাঁর সাথীদের মাঝে এবং ফোরাতের মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াও। পানি এমন ভাবে বন্ধ করে দাও, যেন তাঁরা এক ফোঁটাও পান করতে না পারে। যেমনটি মুত্তাকী নির্মলচিত্ত মজলুম আমীরুল মুমেনীন (হযরত) ওসমান বিন আফফান (রাদিঃ) এর সাথে করা হয়েছিল।" এ নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ইবনে সা'দ আমর বিন হাজাজকে পাঁচ শ' সৈন্যের আরোহী বাহিনীর অধিনায়ক বানিয়ে ফোরাতের তীরে মোতায়েন করে দেয়। এরা ফোরাত এবং ইমামের মাঝে বাঁধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায়, যাতে তিনি এক বিন্দু পানিও না নিতে পারেন।
(কবির ভাষায়)
“হাকীম এমন হুকুম করে লোকে পানি করবে পান, 
পান করবে উটও ঘোড়া আরো আছে যাদের প্রাণ। 
পশুপাখী নেবে পানি, নেই তো কোন বাঁধা নেই,
ফাতেমারই বেটায় শুধু দিওনা এক ফোঁটাও দান।"
আব্দুল্লাহ ইবনে আবী হুসাইন আরযমী উচ্চ কন্ঠে বলে উঠলো, “হে হুসাইন দেখতে পাচ্ছ, (ফোরাতের) পানি আকাশের বিশালতা নিয়ে ঢেউ খেলছে, কিন্তু খোদার শপথ, তোমার কপালে এর এক ফোঁটাও জুটবেনা। আর তোমরা এভাবে তৃষ্ণার্ত হয়েই মরবে।” (নাউযুবিল্লাহ) 
তার এ কথা শুনে ইমাম (রাদিঃ) বললেন : “হে আল্লাহ, তাকে পিপাসার্ত অবস্থায় মৃত্যু দাও। আর তাকে কখখনো ক্ষমা কোরনা।” এর পরেই এ অভদ্র বে-আদব অসুস্থ হয়ে পড়ে। হামীদ ইবনে মুসলিম বর্ণনা করেন, “আমি তাকে দেখতে গেলাম। লা শরীক এক আল্লাহর কসম, তার অবস্থা এমন হয়ে ছিল যে, পানি পান করতো সাথে সাথে বমি করতো। আবার পান করত এবং গল গল করে বমি করে দিত। এভাবে সারাক্ষণ পানি পানি করে চেঁচাত অথচ তৃষ্ণা মেটাতে পারত না। এ অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।” (✍🏻ত্বাবরী ২৩৪ / ৬, ✍🏼ইবনে আসীর ২২/৪)
ইমামে পাক ভাই আব্বাস ইবনে আলীর সাথে ত্রিশজন আরোহী এবং বিশজন পদাতিক সৈন্য দিয়ে পানি আনতে পাঠালেন। আমর বিন হাজ্জাজ নিজের সাঙ্গ পাঙ্গদের নিয়ে প্রতিরোধ করল। কিন্তু হযরত আববাসও নিজ সঙ্গীদের নিয়ে মোকাবিলা করেন। উভয় দলের মধ্যে সংঘর্ষ হল। কিন্তু এ লড়াইয়ে হযরত আব্বাস পানি সংগ্রহে সফল হয়েছিলেন।(✍🏼ত্বাবরী ২৩৪ / ৬, ✍🏻ইবনে আসীর ২২/৪)

পরবর্তী পর্ব–
ইবনে সা’দের সঙ্গে একান্তে বৈঠক 

Comments

Popular posts from this blog

শুধু মুখে কলেমা পড়লে জান্নাত যাওয়া যাবেনা

মসনবী শরীফ বই - মউলানা রুমী (রহঃ)