কারবালা – ২৭
শামে কারবালা - (পর্ব- ২৭)
কারবালার ইতিহাস
হযরত কায়েস (রাদিঃ) এর শাহাদত—
ইমামে পাক হাজের নামক স্থানে পৌঁছে নিজ সঙ্গী কায়েস ইবনে মাসহার আস সাইদাভীকে একখানা চিঠি দিয়ে কুফায় পাঠালেন। ওই চিঠিতে তিনি কুফাবাসীকে তাঁর কুফা আসার সংবাদ এবং উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পূর্ণোদ্যমে সাধ্য-সাধনা চালিয়ে যাবার নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু রাস্থায় তো পাহারা বসানো আগেই হয়েছিল। কাজেই কায়েস যখন কাদেসিয়ার নিকটে পৌঁছলেন, তখনই তাঁকে গ্রেফতার করা হল। হাছীন তাঁকে কুফায় ইবনে যিয়াদের কাছে প্রেরণ করে দেয়। ইবনে যিয়াদ তাঁকে হুকুম দিল, “রাজ প্রাসাদের চুড়ায় (ছাদে) আরোহন কর এবং মিথ্যুকের ছেলে মিথ্যুক অর্থাৎ হুসাইন ইবনে আলীকে (নাউযুবিল্লাহ্) গালি দাও। কায়েস ভাবলেন ইমামের পয়গাম কুফাবাসীকে পৌঁছে দেয়ার জন্য এট একটা মহা মূল্যবান সুযোগ। ভাবামাত্রই তিনি ছাদে গিয়ে উঠলেন।
আল্লাহ্ তা'লার হামদ ও সানা'র পর জনতার উদ্দেশ্যে বললেন, “হুসাইন ইবনে আলী হচ্ছেন ফাতেমা বিনতে রাসুলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া-আলিহী ওয়াসাল্লাম)-এর হৃদয়ের নিধি এবং সকল মানুষের সর্বোত্তম ব্যক্তি। আমি তাঁরই সংবাদবাহক, তিনি হাজের নামক স্থানে এসে পৌঁছেছেন। আপনারা তাঁর আহবানে সাড়া দিন।” এরপর তিনি ইবনে যিয়াদ ও তার পিতার প্রতি অভিসম্পাত (লানত) দিলেন। হযরত আলীর জন্য প্রাণভরে দুআ করলেন। এ ঘটনায় ইবনে যিয়াদ ক্রোধান্বিত হয়ে গেল। অগ্নিশর্মা হয়ে সে হকুম জারী করল যে, এ লোককে (কায়েস) অনেক উঁচুতে তুলে ধরে এমন ভাবে নিক্ষেপ কর, যাতে সে টুকরো টুকরো হয়ে যায়।” যথানির্দেশ কার্য সম্পাদন হয়ে গেল। হযরত কায়েসকে এমন নিমর্মভাবে নিক্ষেপ করা হল যে, হাড় গুঁড়ো হয়ে গেল। সামান্যতম প্রাণের একটু স্পন্দন যাও বাকী ছিল, আবদুল মালেক ইবনে উমাইর এগিয়ে এসে জবাই করে দিল। এভাবে ইমামে আলী মাকামের একজন অকৃত্রিম অনুরাগী তাঁর প্রতি উৎসর্গ হয়ে গেলেন, যাঁকে ইমাম পাক চিঠি দিয়ে হযরত মুসলিমের কাছে পাঠিয়েছিলেন। ( ✍🏻ইবনে আসীর- ১৭/৪)
(পরবর্তী পর্ব–
আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুতী'র সাক্ষাৎ)
#শামে_কারবালা
#ইসলাম_ই_মুক্তির_দিশা

Comments
Post a Comment