হুজুর (স.)-কে সম্বোধনের ধরন
আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনাকে স্নেহ ওমুহাব্বতের সাথে সম্বোধন করা
📚আশ্-শিফা বিতা–রীফি হুকুকিল মুস্তফা ✍🏻কাযী আয়ায আন্দুলুসী (রহঃ)
আল্লাহ তা'আলা হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি মুহাব্বত ওমেহেরবানী প্রসঙ্গে এরশাদ করেছেন—
"আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন, আপনি তাদেরকে কেন অনুমতি দিলেন?" (সূরা, তাওবা : ৪৩)
টিকা—
[এই আয়াত তখনি নাযিল হয়, যখন তাবুক যুদ্ধের সময় মুনাফিকরা শঠতার আশ্রয় নিয়েহুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট যুদ্ধে যোগদান না করার জন্যআপত্তি করে। হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে যুদ্ধে যোগদানকরা থেকে বিরত থাকার অনুমতি দেন। তখন উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়। আপনি কেনোতাদেরকে যুদ্ধে যোগদানে বিরত থাকার অনুমতি দিলেন?]
হযরত আবু মুহাম্মদ মক্কী (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) বলেছেন, আল্লাহ তা'আলাবক্তব্যের সূচনাতে এমনভাবে সম্বোধন করেছেন যাতে একথা প্রমাণিত হয়েছে যে, আল্লাহতা'আলার অসন্তোষ প্রকাশ করার উদ্দেশ্য নয় বরং হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর সংশোধন, তাঁর সম্মান ও মর্যাদাকে আরো বেশি সমুন্নত দেয়া।
হযরত আওন বিন আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) এ আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গেবলেন, উক্ত আয়াতে আল্লাহ তা'আলা হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) কে ত্রুটি-বিচ্যুতি সম্পর্কে অভিহিত করার পূর্বে তাঁকে ক্ষমা করার সুসংবাদ শুনিয়েছেন।
আল্লামা সমরকন্দি (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) এ আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে বলেন, হেপবিত্র অন্তরের অধিকারী! আল্লাহ তা'আলা আপনার ত্রুটি ক্ষমা করেছেন। কিন্তু আপনিকেন ঐ সকল মুনাফিকদের যুদ্ধে যোগদানে বিরত থাকার অনুমতি দিলেন?
আল্লামা সমরকন্দি (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) বলেন, যদি আল্লাহ তা'আলা তাঁরবক্তব্যের সূচনাতে তাঁকে ক্ষমা করে দেয়ার স্থলে এরূপ বলতেন যে, আপনি কেন তাদেরকেঅনুমতি দিয়েছেন? তাহলে এ ধরণের আতঙ্কজনক বক্তব্যের ভয়ে হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহেওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর ক্বালব মুবারক ভেঙ্গে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যেতো। কিন্তু এটা হুযুর(সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি পরিপূর্ণ রহমত ও একান্ত মুহাব্বতেরবহিঃপ্রকাশ। তাই আল্লাহ তা'আলা প্রথমে ক্ষমা করার সুসংবাদ প্রদান করেন, যাতে তাঁরক্বালব মুবারক পূর্ণাঙ্গ প্রশান্ত হয়ে যায়। তার পর তাঁকে স্বীয় ত্রুটির কথা অভিহিত করেবলেছেন, কেনো আপনি তাদেরকে যুদ্ধে যোগদানে বিরত থাকার অনুমতি দিয়েছেন? যদিআপনি এরূপ না করতেন তাহলে বিশ্বাসী মুমিন ও কপট বিশ্বাসী মুনাফিকদের মধ্যে সঠিকপার্থক্য নির্ণয় করা সম্ভব হতো। আল্লাহ তা'আলা হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনাকে সম্বোধন করার মাধ্যমে একথা প্রমাণিত হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলারনিকট হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) কতো মহিমান্বিত গৌরবান্বিতমর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী। এ বিষয় সকল জ্ঞানীগণ ভালোভাবে অভিহিত।
এছাড়াও যে ব্যক্তি অভিহিত যে, আল্লাহ তা'আলা হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনাকে কতো বেশী মর্যাদা ও সম্মান প্রদান করেছেন তার পক্ষে এটা বুঝতেকখনো কষ্ট হবে না। আল্লাহ তা'আলা যদি বিন্দুমাত্রও হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহেওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন একথা বুঝতে পারতেন তাহলেদুঃখ বেদনা ও চিন্তায় হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর অন্তর আত্মাশুকিয়ে ওফাত হয়ে যেতো।
হযরত নাফতুবিয়া (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, কেউ কেউ উক্ত আয়াতের মাধ্যমেআল্লাহ তা'আলা হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার প্রতি অসন্তোষপ্রকাশ করেছেন বলে মনে করেছে। অথচ হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) তা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিলেন বরং বাস্তব কথা হলো যে, হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহেওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার অনুমতি দেয়া না দেয়ার পূর্ণ ইখতিয়ার ছিলো এবং হুযুর(সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এ বিষয় স্বাধীন ছিলেন।
কিন্তু আপনি যদি ঐ সমস্ত মুনাফিকদেরকে যুদ্ধে যোগদানে বিরত থাকার অনুমতি না দিয়েতাদেরকে যুদ্ধে যোগদানে বাধ্য করতেন এবং কঠোর ভাষায় বলতেন যে, তোমাদেরকেবাধ্যতামূলকভাবে যুদ্ধে যোগদান করতেই হবে। যদি তারা আপনার নির্দেশ অমান্য করে যুদ্ধেযোগদান না করতো তাহলে তারা মুনাফিক বলে চিহ্নিত হতো। এ অবস্থায় তাদের মুনাফিকীপ্রকাশ পেয়ে যেতো।'
টিকা—
তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণে বিরত থাকার অনুমতি প্রদান করার কারণে তাদের কপটতা গোপনথেকে যায়। ফলে তাদের এ কথা বলার সুযোগ হয়েছে যে, হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহেওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে যুদ্ধে যোগদানের নির্দেশ দিতেন, তাহলে আমরা যুদ্ধেযোগদান করতাম। তিনি যেহেতু আমাদেরকে যোগদানে অনুমতি দেননি সেহেতু আমরা যুদ্ধেযোগদান করিনি।
মোটকথা যদি আপনি তাদেরকে যে-কোন অবস্থায় যুদ্ধে যোগদানের নির্দেশ দিতেন তাহলেক্ষতির কিছুই ছিলো না। তাদেরকে অনুমতি দেয়ার কারণে আপনার মর্যাদায় কোনো প্রকারপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতো না।
কাজী আয়ায (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) বলেন, যে মুসলমান স্বীয় প্রবৃত্তির বিরুদ্ধেজিহাদ করতে ইচ্ছুক ও যার আখলাক শরীয়াতের অনুসারী তার কর্তব্য হলো, কুরআনেরআদব অনুযায়ী আদব শিক্ষা করা, আর কুরআনের আদব অনুযায়ী কথা, কাজ, আদান-প্রদান ও চরিত্র গঠন করা। কেননা কুরআন হলো প্রকৃত জ্ঞানের ভাণ্ডার, দীন-দুনিয়ার শিষ্টাচারের সাজানো বাগান। কেননা একজন সাচ্ছা মুসলমান যে কুরআনেরআদব অভিহিত তাকে কুরআনের অপূর্ব বাচনভঙ্গির প্রতি লক্ষ্য করতে হবে যে, তারবহিঃপ্রকাশক হলেন স্বয়ং মহান রব আল্লাহ তা'আলা। সকলে তাঁরই নিয়ামতের মুখাপেক্ষীকিন্তু তিনি কারও মুখাপেক্ষী নন।
মুসলমানদের এ আয়াতের প্রতি গভীরভাবে মনোযোগী হবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এআয়াতের প্রতি গভীর মনোযোগী হলে অনেক বেশী উপকৃত হবে। আল্লাহ তা'আলা হুযুর(সল্লল্লাহ আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর কোনো কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করার পূর্বেকিরূপ তাযীম ও সম্মান প্রদর্শনের সাথে বক্তব্যের সূচনা করেছেন। তাঁর ত্রুটি প্রকাশ করারপূর্বে কিভাবে ক্ষমা করার কথা বর্ণনা করে কিভাবে তাঁকে অন্তরঙ্গ করে নিয়েছেন। অথচ ঐসকল মুনাফিকদের অনুমতি দেয়া তাঁর ভুল হয়নি। আল্লাহ তা'আলার বাণী-
"এবং যদি আমি আপনাকে অবিচলিত না রাখতাম তবে এ কথা নিকটবর্তী ছিলো যে, আপনি তাদের প্রতি সামান্য কিছু ঝুঁকে পড়তেন।" (সূরা বনী ইসরাঈল : ৭৪)
কোনো কোনো মুফাসসিরগণ বলেন, অন্যান্য হযরতে আম্বিয়া (আলাইহিমুস্ সালাম) উনাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি হবার পর আল্লাহ তা'আলা তাঁদের উপর অসন্তুষ্টির ভাব প্রকাশকরতেন। কিন্তু আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার ত্রুটি হবার পূর্বে আল্লাহ তা'আলা তাঁকে অসন্তোষের কথা জানিয়ে দিতেন। যাতেতিনি সে ত্রুটির নিকটবর্তী না হন। এটা আল্লাহ তা'আলার হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহেওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি একান্ত মুহাব্বত ও অনুরাগের ব্যাপার। এটা তাঁর প্রতিআল্লাহ তা'আলার একান্ত মহানুভবতা। তারপরও এ বিষয়ে একটু চিন্তা করলে দেখা যায় যে, তাঁর ত্রুটির বিষয় প্রকাশ করার পূর্বে আল্লাহ তা'আলা তাঁকে অবিচল রাখতেন এবং সকলপ্রকার ত্রুটি ও ভ্রান্তি থেকে সংরক্ষণ করেছেন। যদি তাঁর দ্বারা ত্রুটি সংঘটিত হয়ে যায়। তবেসে সম্পর্কেও বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা তাকে অবিচল রাখার কারণে তিনি সকলপ্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে নিরাপদ ছিলেন। এই মর্যাদাও আল্লাহ তা'আলা তাঁকে প্রদানকরেছেন। যদি কখনো কোনো বিষয় তাঁকে আগাম জানিয়ে দেয়ার প্রয়োজন দেখা দিতোতখনও তাঁর প্রশংসনীয় গুণাবলীর প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা হতো। এধরনের কথা উক্তআয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে।
"আমি জানি যে, আপনাকে কষ্ট দিচ্ছে ঐ কথা যা এরা বলছে। অতঃপর তারা তোআপনাকে অস্বীকার করছে না বরং যালিমগণই আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করছে।" (সূরা আন'আম : ৩৩)।
হযরত আলী (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) থেকে বর্ণিত আছে, আবু জাহেল অধিকাংশসময় বলতো যে, আমরা মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) কেমিথ্যাবাদী বলি না। বরং তাঁর আনীত দীনকে মিথ্যা বলি। যা তিনি নিয়ে এসেছেন। এপ্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা উক্ত আয়াত অবতীর্ণ করেন।
হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে, যখন মক্কাবাসী হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে মিথ্যাবাদী বলে আখ্যায়িত করলো তখন তিনি ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়েন।তখন হযরত জিবরাঈল (আলাইহিস্ সালাম) আগমন করে বললেন, আপনি কেনো চিন্তিতহচ্ছেন? হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেন- আমারসম্প্রদায় আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে। তখন হযরত জিবরাঈল (আলাইহিস্ সালাম) বললেন, এর বাস্তবতা হলো এই যে, তারা অন্তরে আপনাকে সত্য বলে জানে। তখন আল্লাহতা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন।
এখন দেখুন উক্ত আয়াতে নিহিত সূক্ষ তত্ত্ব হলো এই যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর অশান্তহৃদয়কে প্রশান্ত করার ইচ্ছে করেছেন। এটা হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি আল্লাহ তা'আলার এক বিশেষ মহানুভবতার বহিঃপ্রকাশ যা তিনিপ্রমাণ করেছেন যে, কাফিররাও আপনাকে সত্যবাদী বলে জানে। সঠিক অর্থে তাঁরাআপনাকে মিথ্যাবাদী বলে না এবং তারা একথাও জানে যে আপনি কথায় ও কাজেসত্যবাদী। আর এ কারণে তারা আপনাকে নবুওয়াত প্রকাশের পূর্বে 'আল-আমিন' অর্থাৎ বিশ্বাসভাজন' উপাধীতে ভূষিত করেছে। এ ধরনের আলোচনার মাধ্যমে তাঁকে মিথ্যাবাদীআখ্যায়িত করে তাঁর অন্তরে যে ব্যথা দিয়েছে সেই ব্যথা বেদনাকে আল্লাহ তা'আলা দূর করেদেন।
অতঃপর আল্লাহ তা'আলা 'জাহেদীন' বা 'অস্বীকারকারী' ও 'যালেমীন' বা 'অত্যাচারী' বলে কাফিরদের ঘৃণা ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআন মাজীদে এরশাদহয়েছে- "বরং যালিমগণই আল্লাহর আতসমূহকে অস্বীকার করছে।" (সূরা আন'আম : ৩৩)
অনুরূপভাবে আল্লাহ তা'আলা হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনাকে সকল প্রকার মিথ্যা অপবাদ থেকে পূতঃপবিত্র ঘোষণা করেন। আর তাঁর বিপরীতেকাফিরদের গলায় অবাধ্যতা ও আল্লাহ তা'আলার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলার অপরাধেঅপরাধী হবার অভিশাপের রশি পরিয়ে দেন কেননা যে মানুষ জেনেশুনে স্বজ্ঞানে সত্যকেঅস্বীকার করে তাকে 'যালেম' বলা হয়।
অপর এক আয়াতে এরশাদ হয়- "আর সেগুলোকে অস্বীকার করলো অথচ তাদেরঅন্তরগুলোতে সেগুলোর সত্যতার নিশ্চিত বিশ্বাস ছিলো, যুলুম ও অহংকার বশতঃ।
অতঃপর আল্লাহ তা'আলা হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনাকেপ্রশান্তি দান করেছেন এবং তাঁকে সাহায্য করার নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন। এ প্রসঙ্গে এরশাদকরা হয়েছে- "আর আপনার পূর্বেও বহু রাসূলকে অস্বীকার করা হয়েছে। তখন তারাধৈর্য্যধারণ করেছিলেন এ অস্বীকার করা ও কষ্ট পাওয়ার উপর, যে পর্যন্ত তাদের নিকট আমারসাহায্য এসেছে। এবং আল্লাহর বাণীসমূহ পরিবর্তনকারী কেউ নেই এবং আপনার নিকটরাসূলগণের খবরাদি এসে গেছে।" (সূরা আন'আম : ৩৪)
উক্ত আয়াত দু'ভাবে পাঠ করা যায়। যে সকল লোক সাকিন সহকারে পাঠ করেন তখন এরঅর্থ হবে যে, এই কাফিররা আপনাকে মিথ্যাবাদী পাবে না। ফারা ও কাসায়ী (রাদিয়াল্লাহুতা'আলা আনহু) বলেন, এর অর্থ হলো তাঁরা বলে না যে, আপনি মিথ্যাবাদী। কেউ কেউবলেছেন এর অর্থ হলো এই যে, আপনার মিথ্যাবাদী হবার বিষয়ে তারা কোনো দলীল পেণকরতে পারেনা। আর না তারা আপনার মিথ্যাকে প্রমাণিত করতে পারছে। আর যারাতাশদীদ যোগে পাঠ করে তার অর্থ হলো যে, কাফিররা মিথ্যাকে আপনার সাথে সম্পর্কিতকরেনা।
কেউ কেউ বলেন যে, এর অর্থ হলো- তারা এ ধারণায়ও বদ্ধমূল নয় যে আপনি মিথ্যাবাদী।(আল্লাহ মাফ করুন) হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর বিশেষত্বেরমাধ্যমে এটাও এক বিশেষত্ব যে, আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআন মাজীদে সমস্ত আম্বিয়া(আলাইহিমুস্ সালাম) কে নাম ধরে সম্বোধন করেছেন, যথা- হে আদম! হে নূহ। হে ইবরাহিম! হে মূসা! হে ঈসা! হে জাকারিয়া! হে ইয়াহিয়া। কিন্তু হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহিওয়াসাল্লাম) কে কখনো নাম ধরে সম্বোধন করেন নি। বরং তাঁকে সম্বোধন করেছেন এভাবেযথা- হে রাসূল! হে নবী! হে কম্বলধারী! হে মুদ্দাসসির! বলে। এরূপ প্রেমময়ী শব্দের মাধ্যমে আহবান করা মুহাব্বতের নিদর্শন।
-------
Comments
Post a Comment