কারবালা – ৩২
কারবালার ইতিহাস (পর্ব -৩২)
📚শামে কারবালা
📚শামে কারবালা
হুর বাহিনীর উদ্দেশ্যে ভাষণ —
বতনে আকাবা থেকে শেরাফ পৌঁছলেন। সেখান থেকে ভোরে কোহে যী হেশম উপত্যকার দিকে রওয়ানা হলেন। সেখানে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে তাঁবু গাড়লেন। এখানে হুর বিন ইয়াযীদ রাইয়াহী তমিমী (যাকে ইমামকে গ্রেফতারীর উদ্দেশ্যে ইয়াযীদের পক্ষে পাঠানো হয়েছিল) এক হাজার সশস্ত্র অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে উপস্থিত হল এবং ইমামের মুখোমুখি এসে অবস্থান নিল। যুহরের ওয়াক্ত হলে ইমাম পাক আযান দেয়ার নির্দেশ দিলেন। আযানের পর তিনি হুর বাহিনীর সামনে উপস্থিত হলেন। হামদ্ ও সানার পর তিনি তাদের উদ্দেশ্যে নিম্নোক্ত ভাষণ দেন,
তাক্বরীর (ভাষণ)— ১
“হে শ্রোতামন্ডলী, আমি আল্লাহ্ তা'য়ালা এবং তোমাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমি তোমাদের কাছে উপযাচক হয়ে আসিনি; বরং আমার কাছে এই মর্মে তোমাদের চিঠিপত্র ও দূত পৌঁছে যে, “আমাদের কোন কর্ণধার তো নেই, আপনি আমাদের কাছে তাশরীফ আনুন, আপনার মাধ্যমেই হয়তো আল্লাহ্ তা'লা আমাদের সঠিক নির্দেশনা দেবেন। একারণেই আজ আমি এসেছি। তোমরা নিজেদের কথাও অঙ্গীকারের উপর অটল থেকে আমাদের সাথে ওয়াদা করো, যাতে আমার পূর্ণ প্রশান্তি অর্জিত হয়। তবে আমি তোমাদের শহরে প্রবেশ করবো। আর যদি তোমরা তা না করো, আমার আগমন তোমাদের অনভিপ্রেত হয়, তবে আমি যেখান থেকে এসেছি সেখানেই চলে যাবো।”
এটা শুনে উপস্থিত সবাই নিরুত্তর রইলো। কেউ কোন কথা বলল না। ইমাম পাক মুয়াযযিনের উদ্দেশ্যে বললেন, 'ইকামত বলুন।' হুরকে জিজ্ঞেস করলেন, “ তুমি কি আমার সাথে নামায পড়বে, না পৃথক?” হুর বললেন, আলাদা নয়; আমরা সবাই আপনার সাথেই নামায পড়বো।” যথারীতি ইমামে পাক নামায আদায় করলেন। নামাযের পর তিনি তাঁবুতে ফিরে আসলেন। হুর নিজের গন্তব্যে ফিরে গেলেন। আসরের ওয়াক্তে ইমাম কাফেলাকে তৈরী হওয়ার নির্দেশ দিলেন। মুয়াযযিনকে আযান দিতে বললেন। পুনরায় সকলে তাঁর পেছনেই নামায পড়লেন। নামায শেষ করে হামদ ও সালাতের মাধ্যমে ইমাম বক্তব্য রাখলেন-
“সমবেত জনতা, যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, এবং হকদারের হক চেনো; তবে তা আল্লাহর রেজামন্দী (সন্তুষ্টি) এর মাধ্যম হবে। আমরা নবীজির আহলে বাইত, ঐ সমস্ত দাবীদারদের তুলনায় খেলাফতের জন্য অধিকতর হক্বদার, যারা তোমাদের উপর অত্যাচার ও বাড়াবাড়িমূলক জবরদস্তি শাসন চালাচ্ছে, যে অধিকার তাদের নেই। তোমরা যদি আমাদের অপছন্দ করো, আমাদের হক্ব সম্পর্কে অনবহিত হও, সর্বোপরি তোমরা চিঠি-পত্র ও দূত প্রেরণের মাধ্যমে যে অভিমত ইতোপূর্বে আমার কাছে প্রকাশ করেছিল, বর্তমান সিদ্ধান্ত যদি তার বিপরীত হয়, তবে আমি তোমাদের কাছ থেকে চলে যাবো।”
হুর বললেন, “খোদার কসম, আপনি এই মাত্র যে চিঠি-পত্র ও দূত পাঠানোর কথা বললেন, সে সম্পর্কে আমরা অবহিত নই।” ইমাম পাক উকবা ইবনে সামআনকে বললেন, “ঐ ব্যাগটি দাও, যাতে এ লোকগুলোর চিঠি রয়েছে।” যথানির্দেশ তিনি ব্যাগটি বাড়িয়ে দিলেন। ইমাম পাক থলেটি সবার সামনে উপুড় করে দিলেন। চিঠির স্তুপ দেখে হুর বললেন, “আমরা এ চিঠি গুলো যারা লিখেছে, তাদের মধ্যে নেই। আমরা তো এটাই নির্দেশ পেয়েছি যে, যখনই আমরা আপনার সাক্ষাৎ পাবো, তখন আপনাকে কুফায় ইবনে যিয়াদের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত আপনার সঙ্গ ছাড়তে পারবোনা।”
ইমাম বললেন, “তোমার মৃত্যু তো তার চেয়ে বেশী কাছে।” অতঃপর তিনি সঙ্গীদের বাহনে আরোহন পূর্বক ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। হুর পথরোধ করে দাঁড়ালো। তিনি বললেন, “তোমার মা তোমার উপর ক্রন্দন করুক, কী চাও তুমি?” হুর বলল, “খোদার কসম, আপনি ছাড়া অন্য কোন আরবী যদি এ শব্দ বলতো, তবে সে যেই হোকনা কেন, তবে তার মায়ের উদ্দেশ্যেও আমি তাই বলতাম। কিন্তু, আল্লাহর শপথ, আমি আপনার মায়ের উল্লেখ সর্ব্বোত্তম তরীকাতেই করব।” তিনি বললেন, “আচ্ছা, বলো তোমার কী অভিপ্রায়?” হুর বললো, “আমি আপনাকে ইবনে যিয়াদের কাছে নিয়ে যেতে চাই।” তিনি বললেন, খোদার কসম, আমি তোমার এ কথায় সায় দেবনা।” হুর বলল, “খোদার কসম, আমিও আপনার পথ ছাড়ব না।” এভাবে পরস্পরে তর্কাতর্কি ও উত্তপ্ত বাকবিনিময় হতে থাকে। হুর বলল, “আপনার সাথে লড়তে আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়নি; আমাকে শুধু এটুকুই নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, যেখানেই পাই, আপনার সঙ্গ যেন না ছাড়ি, যতক্ষণ না আপনাকে কুফায় পৌঁছে দেই। তবে আপনি এমন কোন উপায় বেছে নিন, যাতে আপনাকে কুফায়ও যেতে না হয়, আবার না মদিনায়ও ফিরে যান। ইত্যবসরে আমি ইবনে যিয়াদকে চিঠি লিখছি, আর আপনি ও ইবনে যিয়াদ অথবা ইয়াযীদকে লিখুন। আশাকরি আল্লাহ্ এমন কোন সহজতর পরিস্থিতির উদ্ভব করবেন, যাতে আমিও আপনার বিষয়ে পরীক্ষা থেকে বেঁচে যাবো।”
বতনে আকাবা থেকে শেরাফ পৌঁছলেন। সেখান থেকে ভোরে কোহে যী হেশম উপত্যকার দিকে রওয়ানা হলেন। সেখানে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে তাঁবু গাড়লেন। এখানে হুর বিন ইয়াযীদ রাইয়াহী তমিমী (যাকে ইমামকে গ্রেফতারীর উদ্দেশ্যে ইয়াযীদের পক্ষে পাঠানো হয়েছিল) এক হাজার সশস্ত্র অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে উপস্থিত হল এবং ইমামের মুখোমুখি এসে অবস্থান নিল। যুহরের ওয়াক্ত হলে ইমাম পাক আযান দেয়ার নির্দেশ দিলেন। আযানের পর তিনি হুর বাহিনীর সামনে উপস্থিত হলেন। হামদ্ ও সানার পর তিনি তাদের উদ্দেশ্যে নিম্নোক্ত ভাষণ দেন,
তাক্বরীর (ভাষণ)— ১
“হে শ্রোতামন্ডলী, আমি আল্লাহ্ তা'য়ালা এবং তোমাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমি তোমাদের কাছে উপযাচক হয়ে আসিনি; বরং আমার কাছে এই মর্মে তোমাদের চিঠিপত্র ও দূত পৌঁছে যে, “আমাদের কোন কর্ণধার তো নেই, আপনি আমাদের কাছে তাশরীফ আনুন, আপনার মাধ্যমেই হয়তো আল্লাহ্ তা'লা আমাদের সঠিক নির্দেশনা দেবেন। একারণেই আজ আমি এসেছি। তোমরা নিজেদের কথাও অঙ্গীকারের উপর অটল থেকে আমাদের সাথে ওয়াদা করো, যাতে আমার পূর্ণ প্রশান্তি অর্জিত হয়। তবে আমি তোমাদের শহরে প্রবেশ করবো। আর যদি তোমরা তা না করো, আমার আগমন তোমাদের অনভিপ্রেত হয়, তবে আমি যেখান থেকে এসেছি সেখানেই চলে যাবো।”
এটা শুনে উপস্থিত সবাই নিরুত্তর রইলো। কেউ কোন কথা বলল না। ইমাম পাক মুয়াযযিনের উদ্দেশ্যে বললেন, 'ইকামত বলুন।' হুরকে জিজ্ঞেস করলেন, “ তুমি কি আমার সাথে নামায পড়বে, না পৃথক?” হুর বললেন, আলাদা নয়; আমরা সবাই আপনার সাথেই নামায পড়বো।” যথারীতি ইমামে পাক নামায আদায় করলেন। নামাযের পর তিনি তাঁবুতে ফিরে আসলেন। হুর নিজের গন্তব্যে ফিরে গেলেন। আসরের ওয়াক্তে ইমাম কাফেলাকে তৈরী হওয়ার নির্দেশ দিলেন। মুয়াযযিনকে আযান দিতে বললেন। পুনরায় সকলে তাঁর পেছনেই নামায পড়লেন। নামায শেষ করে হামদ ও সালাতের মাধ্যমে ইমাম বক্তব্য রাখলেন-
“সমবেত জনতা, যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, এবং হকদারের হক চেনো; তবে তা আল্লাহর রেজামন্দী (সন্তুষ্টি) এর মাধ্যম হবে। আমরা নবীজির আহলে বাইত, ঐ সমস্ত দাবীদারদের তুলনায় খেলাফতের জন্য অধিকতর হক্বদার, যারা তোমাদের উপর অত্যাচার ও বাড়াবাড়িমূলক জবরদস্তি শাসন চালাচ্ছে, যে অধিকার তাদের নেই। তোমরা যদি আমাদের অপছন্দ করো, আমাদের হক্ব সম্পর্কে অনবহিত হও, সর্বোপরি তোমরা চিঠি-পত্র ও দূত প্রেরণের মাধ্যমে যে অভিমত ইতোপূর্বে আমার কাছে প্রকাশ করেছিল, বর্তমান সিদ্ধান্ত যদি তার বিপরীত হয়, তবে আমি তোমাদের কাছ থেকে চলে যাবো।”
হুর বললেন, “খোদার কসম, আপনি এই মাত্র যে চিঠি-পত্র ও দূত পাঠানোর কথা বললেন, সে সম্পর্কে আমরা অবহিত নই।” ইমাম পাক উকবা ইবনে সামআনকে বললেন, “ঐ ব্যাগটি দাও, যাতে এ লোকগুলোর চিঠি রয়েছে।” যথানির্দেশ তিনি ব্যাগটি বাড়িয়ে দিলেন। ইমাম পাক থলেটি সবার সামনে উপুড় করে দিলেন। চিঠির স্তুপ দেখে হুর বললেন, “আমরা এ চিঠি গুলো যারা লিখেছে, তাদের মধ্যে নেই। আমরা তো এটাই নির্দেশ পেয়েছি যে, যখনই আমরা আপনার সাক্ষাৎ পাবো, তখন আপনাকে কুফায় ইবনে যিয়াদের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত আপনার সঙ্গ ছাড়তে পারবোনা।”
ইমাম বললেন, “তোমার মৃত্যু তো তার চেয়ে বেশী কাছে।” অতঃপর তিনি সঙ্গীদের বাহনে আরোহন পূর্বক ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। হুর পথরোধ করে দাঁড়ালো। তিনি বললেন, “তোমার মা তোমার উপর ক্রন্দন করুক, কী চাও তুমি?” হুর বলল, “খোদার কসম, আপনি ছাড়া অন্য কোন আরবী যদি এ শব্দ বলতো, তবে সে যেই হোকনা কেন, তবে তার মায়ের উদ্দেশ্যেও আমি তাই বলতাম। কিন্তু, আল্লাহর শপথ, আমি আপনার মায়ের উল্লেখ সর্ব্বোত্তম তরীকাতেই করব।” তিনি বললেন, “আচ্ছা, বলো তোমার কী অভিপ্রায়?” হুর বললো, “আমি আপনাকে ইবনে যিয়াদের কাছে নিয়ে যেতে চাই।” তিনি বললেন, খোদার কসম, আমি তোমার এ কথায় সায় দেবনা।” হুর বলল, “খোদার কসম, আমিও আপনার পথ ছাড়ব না।” এভাবে পরস্পরে তর্কাতর্কি ও উত্তপ্ত বাকবিনিময় হতে থাকে। হুর বলল, “আপনার সাথে লড়তে আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়নি; আমাকে শুধু এটুকুই নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, যেখানেই পাই, আপনার সঙ্গ যেন না ছাড়ি, যতক্ষণ না আপনাকে কুফায় পৌঁছে দেই। তবে আপনি এমন কোন উপায় বেছে নিন, যাতে আপনাকে কুফায়ও যেতে না হয়, আবার না মদিনায়ও ফিরে যান। ইত্যবসরে আমি ইবনে যিয়াদকে চিঠি লিখছি, আর আপনি ও ইবনে যিয়াদ অথবা ইয়াযীদকে লিখুন। আশাকরি আল্লাহ্ এমন কোন সহজতর পরিস্থিতির উদ্ভব করবেন, যাতে আমিও আপনার বিষয়ে পরীক্ষা থেকে বেঁচে যাবো।”
পরবর্তী পর্ব–
হুর বাহিনীর উদ্দেশ্যে তাক্বরীর (ভাষণ)

Comments
Post a Comment