কারবালা – ৭০
কারবালার ইতিহাস (পর্ব -৭০)
📚শামে কারবালা
****************
তাজেদারে কারবালা সাইয়িদুনা
ইমাম হুসাইন (রদিয়াল্লাহু আনহু)– ২
শেষ চেষ্টা—
অতঃপর বললেন, “হে জনগোষ্টি, তোমরা যে রাসুলের কলেমা পড়ে থাক সেই রাসুলের এরশাদ, 'আমার এই দৌহিত্রদ্বয় হাসান হোসাইন হচ্ছে বেহেশতী যুবকদের সর্দার।' তোমাদের মধ্যে কে এই হাদীস অস্বীকার করবে? সম্ভ্রমবোধ নেই? একটু লাজ শরম তো করো। আল্লাহ্ ও রাসূলের উপর যদি ঈমান থাকে তো, চিন্তা করো সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, সর্বত্র দৃষ্টিনিক্ষেপকারী সেই আল্লাহকে কী জবাব দেবে? শ্রেষ্ঠ ত্রাতা, নূরানী সত্তা, রহমতুল্লিল আলামীন হুযুর মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম) উনাকে মুখ দেখাবে কী করে? নিজ রাসূলেরই গৃহ উজাড়কারীরা, ক্বিয়ামতের প্রতি বিশ্বাস থাকে তো, নিজের পরিণাম তো ভাবো! হে বিশ্বাস ঘাতকেরা, তোমরাই আমাকে চিঠি লিখেছিলে, নিজেদের দূত পাঠিয়ে বলেছিলে, দোহাই আমাদের পথনির্দেশনা দিন। নচেৎ আল্লাহর কাছে আপনার পোশাক টেনেই নালিশ জানাব।' আমি তোমাদের বিশ্বাস করেই এখানে এসে পৌঁছেছি। হে নির্লজ্জরা তোমাদের তো উচিৎ ছিল আমার আগমন পথে দৃষ্টি বিছিয়ে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাবে, আমার চরণধুলি তোমাদের চোখে সুরমা বানিয়ে নেয়া, ওয়াদামতে তোমাদের সর্বস্ব আমার উদ্দেশ্যে অর্ঘ্য দেয়া। কিন্তু তোমরা তার সম্পূর্ণ বিপরীত আমার সাথে এতটাই খারাপ আচরণ করেছ, যে অনাচার কদাচারের আর অন্ত রইল না। রে দুরাচার যালিম, তোমরা আমার সামনেই যাহরা কাননের দোলায়িত পুষ্পের মত নিরাপরাধ তরুণদের হত্যা করেছ। রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম) উনার প্রাণ প্রতীম সন্তানদের রক্ত ধুলোয় গড়াগড়ি করিয়েছ, আমার সাহায্যকারী ও সহযোগীদের কতল করেছ, এখন আমাকেও জবাই করতে চাচ্ছ!! এখনও সময় আছে, লজ্জা ও অনুশোচনায় বিদ্ধ হও। আমারও রক্তে হাত রঙিন করা থেকে সংযত হও। আমাকে হত্যা করার অভিশপ নিজ ঘাড়ে নিতে যেও না। বলো, তোমাদের কী উত্তর?” তারা বলল, “আপনি ইয়াযীদের বশ্যতা মেনে নিন, অন্যথায় যুদ্ধ ছাড়া উপয় নেই।
তিনি জানতেন যে, তাঁর এ সব কথায় তাদের কোন প্রতিক্রিয়া হবে না। কারণ তাদের অন্তরে যে দূর্ভাগ্যের সীল পড়ে গেছে। মন্দ নিয়তি তার প্রান্ত সীমায় উপনীত। কিন্তু তিনি একথাগুলো প্রমান প্রতিষ্ঠার জন্য বলেছিলেন। যাতে পরবর্তীতে তাদের (আত্মপক্ষে) আর ওযর অবশিষ্ট না থাকে।
পরবর্তী পর্ব
রণাঙ্গনে ইমামের শাহাদাত

Comments
Post a Comment