কারবালা - ৩৬
কারবালার ইতিহাস (পর্ব -৩৬)
📚শামে কারবালা
ত্বরমাহ্ ইবনে আদীর পরামর্শ—
তুরমাহ্ ইবনে আদী আরয করলেন, “হযরত! পরিস্থিতি বড়ই নাজুক হয়ে পড়েছে। আপনার সাথে আছে মুষ্টিমেয় কিছু লোক, যারা যুদ্ধ করার খেয়ালেও এখানে আসেননি। শুধু তাদেরই রুখতে হুরের বাহিনীতে হাজার সৈন্য (সবাই অস্ত্রে সজ্জিত), তারাই তো অনেক বেশী! আর আমি তো কুফা থেকে বের হবার সময় কুফার বাইরে এত বড় সৈন্যবাহিনী দেখেছি যে, এর আগে কোথাও এত বিশাল বাহিনী আমার চোখে দেখিনি। আমি এক লোককে জিজ্ঞেস করলাম, “এ বাহিনী কার বিরুদ্ধে জড়ো হচ্ছে?” তখন সে বলল, “হুসাইন বিন আলীর (রদিয়াল্লাহু আমহুম) বিরুদ্ধে। এ জন্য আমি আপনাকে আল্লাহর দোহাই দিচ্ছি, যদি সম্ভব হয়, তবে একপাও কুফার দিকে অগ্রসর হবেন না। যদি আপনি এমন কোনো স্থানে যেতে চান, যেখানে আল্লাহ আপনাকে নিরাপদে রাখবেন, আর আপনি যা করতে চান, সে ব্যাপারেও একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থির করে আমার সাথে চলুন। আমি আপনাকে কোহে ‘আজাহ’ নামক আমার নিজের এক উঁচু পাহাড়ে নিয়ে যাবো। খোদার কসম, পাহাড়টি এমন (দূর্গম), যার কারণে আমরা গাসসান, হুমাইর, নুমান বিন মুনযির প্রমূখ বাদশাহ এবং প্রতিটি কালো,গৌর (নিপীড়ক) সম্প্রদায়, গোত্রসমূহ থেকে নিরাপদে রয়েছি। আল্লাহর শপথ, আমাদেরও কেউ তাবেদার বানাতে পারেনি। আমি আপনাকে সাথে করে সেখানে পৌঁছে দেবো। এরপর আজাহ্ ও সলমী পাহাড়ী বাসিন্দাদের কাছে আপনার দাওয়াতও পৌঁছে দেবো। খোদার কসম দশদিন না যেতেই ত্বাঈ গোত্রের আরোহী ও পদাতিক বাহিনী আপনার কাছে ভিড় জমাবে। যতো দিন আপনার মন চাইবে ততদিন আপনি আমাদের মাঝেই অবস্থান করবেন। আপনি যদি যুদ্ধ করতে মনস্থ করেন, তবে আমি আপনার সাহায্যে বনু ত্বাঈয়ের এমন বিশ হাজার লোক যোগাড় করে দেবার দায়িত্ব নিচ্ছি, যারা আপনার পক্ষে বীরত্ব ও তলোয়ার নৈপূণ্যের চমক দেখাবে। আর যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের একটি লোকও বেচেঁ থাকবে, ততক্ষণ কোন শত্রুকেই সে আপনার কাছটি ঘেঁষতে দেবে না।” ইমামে আলী মকাম বললেন, আল্লাহ্ আপনাকে ও আপনার সম্প্রদায়কে উত্তম প্রতিদান দিন, আসল ব্যাপার হচ্ছে, তাদের ও আমার মধ্যে একটি কথা হয়ে গেছে, যার কারণে আমি ফিরে যেতে পারছিনা। জানি না এখন আমার ও তাদের মধ্যে সংঘটিত বিষয় কোন দিকে গড়ায়।”
ইমামে পাক এর এ জবাব শুনে ত্বরমাহ্ বললেন, “আল্লাহ্ আপনাকে জ্বীন ও ইনসানের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন। আমি নিজ পরিবারপরিজনের জন্য কুফা থেকে কিছু রসদ সামগ্রী এনেছি, এ সব তাদের নিকট পৌঁছে দিয়েই ইনশা আল্লাহ্ আপনার কাছে ফিরে আসবো। এবং আপনার সহযোগীদের শামিল হয়ে যাবো।”
ইমাম বললেন, “যদি এটাই করেন, তবে জলদী করুন। আল্লাহ্ আপনার প্রতি রহম করুন।” এরপর ত্বরমাহ্ বিদায় নিয়ে চলে গেলেন। পরবর্তীতে ওয়াদা মোতাবেক তিনি ফিরেও এসেছিলেন, কিন্তু পথিমধ্যেই তিনি ইমামের শাহাদাতের সংবাদ পেয়ে ভারাক্রান্তমনে ফিরে গিয়েছিলেন।
পরবর্তী পর্ব–
হুরের প্রতি ইবনে যিয়াদের কঠোর নির্দেশ
📚শামে কারবালা
ত্বরমাহ্ ইবনে আদীর পরামর্শ—
তুরমাহ্ ইবনে আদী আরয করলেন, “হযরত! পরিস্থিতি বড়ই নাজুক হয়ে পড়েছে। আপনার সাথে আছে মুষ্টিমেয় কিছু লোক, যারা যুদ্ধ করার খেয়ালেও এখানে আসেননি। শুধু তাদেরই রুখতে হুরের বাহিনীতে হাজার সৈন্য (সবাই অস্ত্রে সজ্জিত), তারাই তো অনেক বেশী! আর আমি তো কুফা থেকে বের হবার সময় কুফার বাইরে এত বড় সৈন্যবাহিনী দেখেছি যে, এর আগে কোথাও এত বিশাল বাহিনী আমার চোখে দেখিনি। আমি এক লোককে জিজ্ঞেস করলাম, “এ বাহিনী কার বিরুদ্ধে জড়ো হচ্ছে?” তখন সে বলল, “হুসাইন বিন আলীর (রদিয়াল্লাহু আমহুম) বিরুদ্ধে। এ জন্য আমি আপনাকে আল্লাহর দোহাই দিচ্ছি, যদি সম্ভব হয়, তবে একপাও কুফার দিকে অগ্রসর হবেন না। যদি আপনি এমন কোনো স্থানে যেতে চান, যেখানে আল্লাহ আপনাকে নিরাপদে রাখবেন, আর আপনি যা করতে চান, সে ব্যাপারেও একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থির করে আমার সাথে চলুন। আমি আপনাকে কোহে ‘আজাহ’ নামক আমার নিজের এক উঁচু পাহাড়ে নিয়ে যাবো। খোদার কসম, পাহাড়টি এমন (দূর্গম), যার কারণে আমরা গাসসান, হুমাইর, নুমান বিন মুনযির প্রমূখ বাদশাহ এবং প্রতিটি কালো,গৌর (নিপীড়ক) সম্প্রদায়, গোত্রসমূহ থেকে নিরাপদে রয়েছি। আল্লাহর শপথ, আমাদেরও কেউ তাবেদার বানাতে পারেনি। আমি আপনাকে সাথে করে সেখানে পৌঁছে দেবো। এরপর আজাহ্ ও সলমী পাহাড়ী বাসিন্দাদের কাছে আপনার দাওয়াতও পৌঁছে দেবো। খোদার কসম দশদিন না যেতেই ত্বাঈ গোত্রের আরোহী ও পদাতিক বাহিনী আপনার কাছে ভিড় জমাবে। যতো দিন আপনার মন চাইবে ততদিন আপনি আমাদের মাঝেই অবস্থান করবেন। আপনি যদি যুদ্ধ করতে মনস্থ করেন, তবে আমি আপনার সাহায্যে বনু ত্বাঈয়ের এমন বিশ হাজার লোক যোগাড় করে দেবার দায়িত্ব নিচ্ছি, যারা আপনার পক্ষে বীরত্ব ও তলোয়ার নৈপূণ্যের চমক দেখাবে। আর যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের একটি লোকও বেচেঁ থাকবে, ততক্ষণ কোন শত্রুকেই সে আপনার কাছটি ঘেঁষতে দেবে না।” ইমামে আলী মকাম বললেন, আল্লাহ্ আপনাকে ও আপনার সম্প্রদায়কে উত্তম প্রতিদান দিন, আসল ব্যাপার হচ্ছে, তাদের ও আমার মধ্যে একটি কথা হয়ে গেছে, যার কারণে আমি ফিরে যেতে পারছিনা। জানি না এখন আমার ও তাদের মধ্যে সংঘটিত বিষয় কোন দিকে গড়ায়।”
ইমামে পাক এর এ জবাব শুনে ত্বরমাহ্ বললেন, “আল্লাহ্ আপনাকে জ্বীন ও ইনসানের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন। আমি নিজ পরিবারপরিজনের জন্য কুফা থেকে কিছু রসদ সামগ্রী এনেছি, এ সব তাদের নিকট পৌঁছে দিয়েই ইনশা আল্লাহ্ আপনার কাছে ফিরে আসবো। এবং আপনার সহযোগীদের শামিল হয়ে যাবো।”
ইমাম বললেন, “যদি এটাই করেন, তবে জলদী করুন। আল্লাহ্ আপনার প্রতি রহম করুন।” এরপর ত্বরমাহ্ বিদায় নিয়ে চলে গেলেন। পরবর্তীতে ওয়াদা মোতাবেক তিনি ফিরেও এসেছিলেন, কিন্তু পথিমধ্যেই তিনি ইমামের শাহাদাতের সংবাদ পেয়ে ভারাক্রান্তমনে ফিরে গিয়েছিলেন।
পরবর্তী পর্ব–
হুরের প্রতি ইবনে যিয়াদের কঠোর নির্দেশ

Comments
Post a Comment