হুযুর (সঃ) এর সাক্ষ্যদাতার গুণ- ২



হুযুর (সঃ) এর সাক্ষ্যদানকারীর গুণ প্রসঙ্গে – ২

📚আশ্-শিফা বিতা–রীফি হুকুকিল মুস্তফা ✍🏻কাযী আয়ায আন্দুলুসী (রহঃ)


অপর এক হাদীসে বর্ণিত আছে। আল্লাহ তা'আলা তাওরাত শরীফে তাঁর প্রশংসনীয় গুণাবলীকে এভাবে বর্ণনা করেছেন,

“আমার বান্দা হবেন আহমদ মুখতার (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)। পবিত্র মক্কানগরী হবে তার জন্মস্থান। মদিনা নগরী হবে তার হিজরতের স্থান। তার উম্মত সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা'আলার প্রশংসাকারী ও কৃতজ্ঞচিত্ত হবে। 

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বর্ণনা করেছেন-

“ওইসব লোক যারা অনুসরণ করবে এ বার্তাবাহক উম্মী নবীর, যার উল্লেখ আছে তাওরাত ও ইন্জীলে, যা তাদের নিকট আছে তাতে লিপিবদ্ধ রয়েছে, যিনি তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করবেন এবং অপবিত্র বস্তুসমূহ তাদের জন্য হারাম করবেন এবং তাদের উপর থেকে সে কঠিন কষ্টের বোঝা ও গলার শৃঙ্খল যা তাদের উপর ছিল, নামিয়ে অপসারিত করবেন। সুতরাং ওইসব লোক, যারা তাঁর উপর ঈমান এনেছে, তাকে সম্মান করেছে, যা তার সাথে অবতীর্ণ হয়েছে, তারাই সফলকাম হয়েছে। আপনি বলুন, হে মানবকূল! আমি তোমাদের সবার প্রতি ঐ আল্লাহরই রসূল হই যে, আসমানসমূহ ও যমীনের রাজত্ব একমাত্র তাঁরই। তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। তিনি জীবিত করেন ও মৃত্যু ঘটান। সুতরাং ঈমান আনো আল্লাহ ও তাঁর রাসূল, উম্মী অদৃশ্যের সংবাদদাতার উপর। যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহের উপর ঈমান আনেন এবং তাঁরই অনুসরণ করো, তবেই তোমরা সুপথ পাবে।


অপর এক আয়াতে এরশাদ করা হয়েছে—

“অতঃপর কেমনই আল্লাহর কিছু দয়া হয়েছে যে, হে মাহবুব! আপনি তাদের জন্য কোমল হৃদয় হয়েছেন। আর যদি আপনি রূঢ় বা কঠোর চিত্ত হতেন তবে তারা নিশ্চয় আপনার আশপাশ থেকে সরে পড়ত। সুতরাং আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিন এবং তাদের জন্য সুপারিশ করুন। আর কার্যাদিতে তাদের সাথে পরামর্শ করুন, আর যখন কোন কাজের দৃঢ় সংকল্প করবেন তখন আল্লাহর উপর নির্ভর করুন। নিশ্চয় আল্লাহ নির্ভরকারীদের ভালোবাসেন”।


আল্লামা সমরকন্দি (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) বলেন- আল্লাহ তা'আলা উক্ত আয়াতে মানুষের প্রতি বিরাট ইহসান করার কথা বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তা'আলা তাঁর রাসূলকে মুমিনদের জন্য স্নেহশীল কোমল হৃদয়ের অধিকারী ও প্রিয়ভাজনকারী বানিয়েছেন। এর বিপরীতে যদি হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) কর্কশভাষী কঠোরচিত্ত হতেন তাহলে লোকেরা তাঁর আশপাশ হতে পেরেশান হয়ে দূরে পালিয়ে যেত। কিন্তু তাঁর উপর এটা আল্লাহ তা'আলার এক বিশেষ দয়া ও অনুগ্রহ করেছেন যে, তাঁকে সাহসিকতা, দানশীলতা দান করে, সকলের সাথে হাস্যোজ্জ্বল মুখে সাক্ষাতকারী, কল্যাণকামী ও অনুকম্পা প্রদর্শনকারী বানিয়েছেন।

হযরত দোহাক (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু)ও এরূপ ব্যাখ্যা করেছেন। অপর এক আয়াতে এরশাদ করা হয়েছে- "আর কথা হলো এই রূপ যে- আমি তোমাদেরকে সব উম্মাতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ করেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির উপর সাক্ষী হও। আর রাসূল তোমাদের উপর সাক্ষী হন।

(সূরা বাকারা : ১৪৩)


হযরত আবুল হাসান কালবী (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) বলেন, এ আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা আমাদের নবী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সম্মানিত উম্মাতের মর্যাদাকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন। 

অপর এক আয়াতে এরশাদ করা হয়েছে- "আর এ কুরআনে যাতে রাসূল তোমাদেরও সাক্ষী হন। এবং তোমরা অন্যান্য লোকদের উপর সাক্ষী দাও।(সূরা হজ্ব : ৭৮)

------

Comments

Popular posts from this blog

শুধু মুখে কলেমা পড়লে জান্নাত যাওয়া যাবেনা

মসনবী শরীফ বই - মউলানা রুমী (রহঃ)