কারবালা – ৫৪
কারবালার ইতিহাস (পর্ব -৫৪)
📚শামে কারবালা
একটি কারামত —
কুফাবাসীদের মধ্যে এক দুরাত্মা ইবনে জুযাহ উচ্চকিত কণ্ঠে দু'বার বলল, “হুসাইন আছে?” তৃতীয়বার বলাতে ইমামের সহযোগিরা বললেন, “তোমার কী দরকার”? ঐ দুরাচার বলল, “হুসাইন, তোমার প্রতি জাহান্নামের সুসংবাদ!” (নাউযুবিল্লাহ্) ইমামে আলী মাকাম এরশাদ ফরমালেন, “তুমি মিথ্যুক! আমি দোযখে না; বরং দয়াময় প্রভূ ও মান্যবর সুপারিশকারী প্রিয় নবীর কাছেই যাবো।” অতঃপর জিজ্ঞেস করলেন, “লোকটি কে?” সহযোগিরা আরজ করলেন, “এটা ইবনে জুযাহ্।” তখন ইমাম হাত উঠিয়ে বলতে লাগলেন, “হে খোদা, এ নরাধমকে তুমি আগুনে নিক্ষেপ কর।” এ দু'আ করতে না করতেই ইবনে জুযাহর ঘোড়া দিকবিদিক দৌড়াতে দৌড়াতে ইমামের তাঁবুর পেছনে যে পরিখায় (গর্তে) আগুন জ্বলছিল ঐ দিকে চলে গেল। ইবনে জুযাহ্ ঐ গর্তকে পাশ কাটিয়ে যেতে চাইল; কিন্তু ঘোড়ার লম্ফ জঙ্কের সময় সে আছড়ে পড়ল, আর একটি পা ঘোড়ার রেকাবের মধ্যে আটকে যায়। তার একটি পা রেকাবের মধ্যে আটকেছিল, বাকী অস্থিত্ব লটকানো অবস্থায় রইল, কিন্তু ঘোড়া বড়ই অস্থির হয়ে ছুটোছুটি করতে রইল। এভাবে তার মাথা, উরু গোড়ালি ও অপর পা ঘোড়ার নিচে পড়ে আছড়াতে আছড়াতে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছিল। পরিশেষে বিরক্ত ঘোড়া তাকে আছড়ে আগুনেই ফেলে দিল। এভাবে ঐ জালিম জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ডে মিশে গেল।
মাসরুক বিন ওয়ায়েল হাদরামীও ছিল ঐ অশ্বারোহীদের একজন, যে পুরো ব্যাটালিয়নের আগে আগে ছিল। তার বর্ণনা হল, “আমি আগে আগে থাকার উদ্দেশ্য ছিল যে, কোনো উপায়ে আমি হুসাইনের শিরচ্ছেদ করতে পারি কিনা দেখি, যাতে এ কৃতিত্বের দ্বারা ইবনে যিয়াদের কাছে আমার সম্মানও মর্যাদা বেড়ে যায়। কিন্তু যখনই আমি হুসাইনের বদদুআ (অভিশাপ)'র দ্বারা ইবনে জুযার করুণ পরিনতি দেখলাম, তখনই আমার মনের গতি পরিবর্তন হয়ে যায়। ইয়াযীদের সৈন্যবাহিনী থেকে আমি সম্পূর্ণ পৃথক হয়ে গেলাম।” তার সহোদর আব্দুল জব্বার সৈন্যবাহিনী থেকে তার বিচ্ছিন্নতার কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলতে লাগল, “আমি ঐ খান্দানের মানুষগুলোর কাছে এমন একটি ব্যাপার লক্ষ্য করেছি, যদ্দরুণ আমি কখনোই তাঁদের সাথে আর লড়তে যাব না।সমঝোতার সম্পাদনের ধারাবাহিকতার এটাও ছিল একটি অংশ। ইমামে আলী মাকামের এটাই দেখানো উদ্দেশ্য ছিল যে, আল্লাহর কাছে আমার গ্রহনযোগ্যতায় যদি তোমাদের কিছু সন্দেহ থাকে, তবে চোখ থাকে তো দেখে নাও, আমার মুখ থেকে এদিকে যেটাই বের হচ্ছে, ও দিকে সেটাই হয়ে যাচ্ছে। এখন ভেবে দেখো এমন কবুল হওয়া সত্ত্বা ও গৃহীত-প্রার্থনা (যাঁর দু'আ কবুল) ব্যক্তির সাথে লড়াই করা ও তাঁকে কষ্ট দেওয়ার পরিণাম কতটা কঠিন হবে, এখনও সুযোগ আছে, ফিরে আসো। কিন্তু এ মৃত দুনিয়ার প্রতি লোভ-লালসা যাদের অন্ধ ও বধির করে দিয়েছে, সে সমস্ত হতভাগাদের এটা মোটেও স্পর্শ করল না।
পরবর্তী পর্ব–
যুদ্ধের ঘঠনা

Comments
Post a Comment