হুজুর (সঃ)-উনার প্রসংশা– ৭



হুজুর (সঃ)-উনার প্রসংশা – (পর্ব– ৭)

📚আশ্-শিফা বিতা–রীফি হুকুকিল মুস্তফা ✍🏻কাযী আয়ায আন্দুলুসী (রহঃ)


হযরত উমর (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) থেকে বর্ণিত আছে, আল্লাহ তা'আলা হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর মর্যাদাকে এভাবে প্রকাশ করেছেন যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর আনুগত্যকে হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর আনুগত্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। যথা পবিত্র কুরআন মাজীদে এরশাদ হয়েছে- “যে ব্যক্তি রাসূলের নির্দেশ মান্য করেছে, নিঃসন্দেহে সে আল্লাহরই নির্দেশ মান্য করেছে”। (সূরা নিসা : ৮o)


অপর এক আয়াতে এরশাদ করা হয়েছে- “হে মাহবুব! আপনি বলে দিন; হে মানবকুল যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবেসে থাক, তবে আমার অনুগত হয়ে যাও। আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে ভালবাসবেন”। (সূরা আলে ইমরান : ৩১)


হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলো তখন মক্কার কাফিররা বলতে শুরু করলো মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) চান যে, আমরা যেন তাঁকে দয়াময় রব বানিয়ে নিই। যেভাবে খৃষ্টানরা হযরত ঈসা (আলাইহিস্ সালাম)-কে তাদের রব বানিয়ে ছিলো। তখন আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করলেন- “হে মাহবুব! আপনি বলে দিন, আদেশ মান্য করো আল্লাহ ও রাসূলের আর যদি মুখ ফিরিয়ে নাও তবে জেনে রাখো যে, নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদের পছন্দ করেন না। (সূরা আলে ইমরান : ৩২)


এইভাবে আল্লাহ তা'আলা তাদের সন্তুষ্টির বিপরীতে হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর আনুগত্যকে তাঁর আনুগত্যের সাথে জুড়ে দিয়েছেন। আর তাফসীরবিদগণের মতে সূরা ফাতিহার এ আয়াতের অর্থেও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে-

“আমাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করুন, তাঁদের পথে যাদের উপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন”। (সূরা ফাতিহা : ৬-৭)


যথা- হযরত আবুল আলীয়া ও হযরত হাসান বসরী (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) বলেন, “সিরাতুল মুসতাকীম' স্বয়ং হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর পূত-পবিত্র চরিত্র ও তাঁর পরিবার-পরিজন আহলে বায়ত ও সাহাবায়ে কেরাম। এতে প্রমাণিত হয় যে, 'সিরাতুল মুস্তাকিম' হলো আহলে সুন্নাতেরই অনুসৃত পথ। যাঁরা আহলে বায়ত, সাহাবায়ে কিরাম, কুরআন ও সুন্নাহ এবং বৃহত্তম জামাআত সবাইকে মান্য করে।


হযরত আবুল হাসান মাওয়ারদী ও হযরত মক্কী (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) এ অভিমতের সমর্থক। তবে হযরত মক্কী (রদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) আরও অতিরিক্ত বর্ণনা করে বলেন- এর অর্থ হলো রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত আবু বকর ও হযরত উমর (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুমা)।


ইমাম আবুল লাইস সমরকন্দি (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) ও হযরত আবুল আলীয়া (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু)'র সূত্রে 'সিরাতুল মুসতাকীম' সম্পর্কে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। হযরত হাসান বসরী (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) হযরত আবুল আলীয়া (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) এর এ ব্যাখ্যা জানতে পেরে বললেন, 'আল্লাহর কসম! তিনি সত্য কথাই বলেছেন। তিনি অতি উত্তম কথাই বলেছেন।


ইমাম আবুল হাসান মাওয়ারদী (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) এর ব্যাখ্যাটি হযরত আবদুর রহমান বিন জায়িদ (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।


হযরত আবু আবদুর রহমান আস সুলামী (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) একদল ওলামায়ে কেরাম থেকে আল্লাহ তা'আলার বাণী-

“সে এমন এক মজবুত গ্রান্থি ধারণ করেছে যা, কখনো খোলার নয়।(সূরা বাকারা : ২৫৬) এ আয়াতের তাফসীরে উল্লেখ করা হয়েছে যে এখানে 'মজবুত গ্রন্থির' অর্থ হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)। কেউ বলেছেন, ইসলাম, আবার কেউ বলেছেন, তাওহীদের সাক্ষ্যবাণী।


আল্লাহ তা'আলার বাণী- “আর যদি আল্লাহর অনুগ্রহসমূহ গণনা করো তবে সেগুলোর সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবেনা”। (সূরা নাহল : ১৮)


আর এসব অনুগ্রহ হযরত মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর উসীলায় প্রদত্ত হয়েছে।


আল্লাহ তা'আলার বাণী- “আর তিনিই যিনি এ সত্য নিয়ে তাশরীফ এনেছেন এবং ঐসব লোক যারা তাঁকে সত্য বলে মেনে নিয়েছে। তারাই ভীতিসম্পন্ন”। (সূরা যুমার : ৩৩)

অধিকাংশ তাফসীরবিদদের অভিমত হলো- সত্য নিয়ে আগমণকারী হলেন হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)। আর একদল তাফসীরকারকের অভিমত হলো- সত্যায়নকারী হলেন হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)। এক কিরআতে *সাদ্দাকা এর তাশদীদের স্থলে 'সদাকা ও পড়া যায়। অপর একদল তাফসীরবেত্তাদের মতে সত্যায়নকারী হলো সাধারণ মুমিনগণ। কারও মতে হযরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু)। আর একদলের মতে হযরত আলী (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু)। অনুরূপ এ সম্পর্কে আরো অনেক বর্ণনা বর্ণিত আছে।


হযরত মুজাহিদ (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) বলেন, আল্লাহ তা'আলার বাণী- “শুনে নাও আল্লাহর স্মরণেই অন্তরে প্রশান্তি রয়েছে”।

এর অর্থ হলো হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীদের স্মরণ দ্বারা অন্তরকে প্রশাস্ত করে নেয়া।(সুরা রা-আদ : ২৮)


পরবর্তী পর্ব

 হুযুর (সঃ) এর সাক্ষ্যদানকারীর গুণ প্রসঙ্গে 

Comments

Popular posts from this blog

শুধু মুখে কলেমা পড়লে জান্নাত যাওয়া যাবেনা

মসনবী শরীফ বই - মউলানা রুমী (রহঃ)