হুযুর (সঃ) এর সাক্ষ্যদাতার গুণ- ৩



হুযুর (সঃ) এর সাক্ষ্যদানকারীর গুণ প্রসঙ্গে – ৩

📚আশ্-শিফা বিতা–রীফি হুকুকিল মুস্তফা ✍🏻কাযী আয়ায আন্দুলুসী (রহঃ)


অপর এক আয়াতে এরশাদ করা হয়েছে— "তবে কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক উম্মাত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করবো এবং হে মাহবুব। আপনাকে তাদের সবার উপর সাক্ষী ও পর্যবেক্ষণকারীরূপে উপস্থিত করবো"।(সূরা নিসা : ৪১)


আর আল্লাহ তা'আলার বাণী- 'ওয়াসাতান' শব্দের অর্থ ইনসাফকারী উত্তম উম্মাত। এ আয়াতের অর্থ হলো আমি যেভাবে তোমাদেরকে হিদায়াত প্রদান করেছি। অনুরূপভাবে তোমাদেরকে কতিপয় বিশেষত্ব ও বৈশিষ্ট্য প্রদান করেছি। যেমন- আমি তোমাদেরকে মনোনীত, ন্যায়পরায়ণ ও ইনসাফকারী উম্মাত বানিয়েছি যে, তোমরা অন্যান্য নবীদের সাক্ষী হবে। কিয়ামতের দিন যখন অন্যান্য নবীদের উম্মাত বলবে যে, ঐ সমস্ত নবী আল্লাহর পয়গাম তাঁদের নিকট পৌঁছায় নি। সেই দিন নবীদের বক্তব্যের সত্যায়ন করবেন হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)। হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের মাঠে হযরত আম্বিয়া (আলাইহিস্ সালাম) উনাদেরকে জিজ্ঞাসা করবেন আপনারা আমার পয়গাম উম্মাতের নিকট পৌছিয়েছেন কী? তখন হযরত আম্বিয়া (আলাইহিস্ সালাম) উনারা বলবেন, হ্যা। তখন হযরত আম্বিয়া (আলাইহিমুস্ সালাম) উনাদের উম্মাতগণ বলবে, না; আমাদের নিকট কোনো ভীতিপ্রদর্শনকারী, সুসংবাদ প্রদানকারী আগমন করেন নি। তখন হযরত মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর উম্মাত হযরত আম্বিয়া (আলাইহিস্ সালাম) উনাদের পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করে বলবে যে, এরা মিথ্যাবাদী। সমস্ত আম্বিয়া (আলাইহিস্ সালাম) স্ব-স্ব উম্মাতকে শাস্তির ভয় দেখিয়েছেন, নিয়ামতের সুসংবাদ দিয়েছেন। অতঃপর আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মাতের সাক্ষ্য সত্যায়ন ও তাদেরকে পবিত্র করবেন। 

একদল ওলামায়ে কেরামের অভিমত হলো যে, এ আয়াতের অর্থ হলো, আমরা উম্মাতে মুহাম্মদী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) যারা হযরত আম্বিয়া (আলাইহিস্ সালাম) এর বিরোধীতাকারী তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হবো। আর হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের পক্ষে সাক্ষী হবেন। আল্লামা সমরকন্দি (রহঃ) এ অভিমতের সমর্থক।


আল্লাহ তা'আলার বাণী-"আর ঈমানদারগণকে সুসংবাদ দিন যে, তাদের জন্য তাদের পালনকর্তার নিকট সত্যের মর্যাদা রয়েছে।" (সূরা ইউনুস : ২)


হযরত কাতাদা, হযরত হাসান বসরী, হযরত জায়িদ বিন আসলাম (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুম) বলেন, 'কাদামু সিদকীন' এর অর্থ হলো হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার পূতঃপবিত্র সত্তা। যিনি কিয়ামতের মাঠে নিজ উম্মাতের জন্য শাফায়াত করবেন। আর তার শাফায়াতের উসিলায় মুমিনদের মর্যাদা উচ্চস্তরে উপনীত হবে।

হযরত হাসান বসরী (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) থেকে অপর এক বর্ণনায় বর্ণিত আছে, 'কাদামু সিদকীন'- এর অর্থ হলো, হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর ওফাত। কেননা আল্লাহ তা'আলা পূর্বে হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনাকে তাঁর নিকট উঠিয়ে নিয়ে উম্মাতের মাগফিরাতের আয়োজন করেছেন।


হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) থেকে বর্ণিত আছে। “কাদামু সিদকীন” এর অর্থ হলো- হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর শাফায়াত। তিনি আল্লাহ তা'আলার নিকট সব চাইতে বেশী শাফায়াত করবেন।

হযরত সাহাল বিন আবদুল্লাহ তাসতরী (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা তাঁর রহমতের সব চাইতে বড় অংশ হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনাকে প্রদান করেছেন।


হযরত মুহাম্মদ বিন আলী তিরমিযী (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) বলেছেন, হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) দুনিয়ার সকল সত্যবাদী ও সিদ্দিকীনদের ইমাম। তিনি শাফায়াতকারী। তাঁর শাফায়াত গৃহীত হবে। তিনি আল্লাহ তা'আলার নিকট আবেদন করবেন। তাঁর আবেদন গৃহিত হবে। 

হযরত সুলামী (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) থেকেও এরূপ বর্ণিত আছে।

-----

Comments

Popular posts from this blog

শুধু মুখে কলেমা পড়লে জান্নাত যাওয়া যাবেনা

মসনবী শরীফ বই - মউলানা রুমী (রহঃ)