হুজুর (সঃ)-এর প্রসংশা – ২



হুজুর (সঃ)-উনার প্রসংশা – (পর্ব– ২)

📚আশ্-শিফা বিতা–রীফি হুকুকিল মুস্তফা ✍🏻কাযী আয়ায আন্দুলুসী (রহঃ)


অপর এক আয়াতে এরশাদ করা হয়েছে—

>”তিনিই উম্মী লোকদের মধ্যে তাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন, যে তাদের নিকট আবৃত্তি করেন তাঁর আয়াতসমূহ; তাদেরকে পবিত্র করেন এবং শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমত; ইতিপূর্বে তো তারা ছিল ঘোর বিভ্রান্তিতে।

(✍🏻আল কুরআন সূরা ঘুম' আহ্, ৬২:২)

অপর এক আয়াতে এরশাদ করা হয়েছে-

>যেমন “আমি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের নিকট একজন রাসূল প্রেরণ করেছি, যে আমার আয়াতসমূহ তোমাদের নিকট তিলাওয়াত করে এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেয় আর তোমরা যা জানতে না তা শিক্ষা দেয়। (আল কুরআন সূরা বাকারা, ১৫১)।

উক্ত আয়াতসমূহে হুযুর (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার প্রশংসা করা হয়েছে।

আল্লাহ তা'আলার বাণী— ‘(মিন আনফুসিকুম)' এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে হযরত আলী (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) থেকে বর্ণিত আছে। হুযুর (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেছেন—

হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের মধ্যে বংশে ও শশুরের বংশে উৎস 'হযরত আদম (আলাইহিস্ সালাম) থেকে আমার পিতা, পিতামহ কেউ ব্যভিচারী ছিলো না। তাঁরা সবাই বিবাহিত ছিলেন।

হযরত ইবনে কালবী (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) বলেন, “আমি হুযুর (সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার উর্ধ্বতন দাদী- নানীদের পাঁচশ জনের নাম সংগ্রহ করেছি। কিন্তু তাঁদের মধ্যে একজনও ব্যভিচারী পাইনি। আর তাঁদের কাউকে জাহেলি যুগের অজ্ঞতা ও কাউকে স্পর্শ করতে পারেনি”।

হযরত ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুমা) থেকে আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্ণিত আছে যে,–

>”আর আমি আপনাকে নামাযীদের মধ্যে স্থানান্তরিত করেছি”।

(আল কুরআন: সূরা শু'আরা – ২১৯)

এ আয়াতের অর্থ হলো–

“আপনার মহন সত্তা এক নবী থেকে অপর নবীর মধ্যে স্থানান্তরিত হয়েছে। অতঃপর আমি আপনাকে নবী হিসেবে প্রকাশ করেছি”।

হযরত ইমাম জাফর সাদেক (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) বর্ণনা করেছেন; আল্লাহ তা'আলা জানতেন যে, কোনো সৃষ্টিজীবই তাঁর ইবাদতের হক আদায় করতে পারবে না। তাই আল্লাহ তা'আলা উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চাইলেন মাখলুকের নিকট স্বীয় পরিচয় প্রদান করতে যাতে তারা আল্লাহ তা'আলার আনুগত্য প্রকাশের মাধ্যমে উচ্চমর্যাদা লাভ করতে পারে। তাতেও তিনি দেখলেন তারা অক্ষম। তাই তিনি এক মাখলুক সৃষ্টি করেন। যিনি তাদেরই স্বশ্রেণীভুক্ত। তাঁকে সৃষ্টি করে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় গুণাবলী থেকে রহমত ও মেহেরবানীর পোশাকে আচ্ছাদিত করে মাখলুকের নিকট স্বীয় দূত হিসেবে প্রেরন করেণ।

------

Comments

Popular posts from this blog

শুধু মুখে কলেমা পড়লে জান্নাত যাওয়া যাবেনা

মসনবী শরীফ বই - মউলানা রুমী (রহঃ)