কারবালা – ৩৪
কারবালার ইতিহাস (পর্ব -৩৪)
📚শামে কারবালা
শিক্ষনীয় বিষয়—
ইমামে আলী মাকামের সাথে আস্থা ও মুহাব্বতের দাবীদার বিশেষতঃ তাঁর আওলাদ ও নবী বংশীয়দের তাঁর অবস্থা ও আলোচনা থেকে শিক্ষা গ্রহন করা বাঞ্চনীয় যে, তিনি কিভাবে সত্যের উপর অটল থেকে পাপাচার ও অনাচারকে মোকাবিলা করেছেন, অনাগত ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য ইস্পাত দৃঢ় মানসিকতার অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এবং বলেছিলেন, ইসলামের এ কাননের সুরক্ষায় অপরের তুলনায় আমিই অধিকতর হকদার। কেননা এ কানন তো আমারই নানা জান (প্রিয় নবী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া-আলিহী ওয়াসাল্লাম)-এর সাজানো এবং আমার নানা জানই নিজের পবিত্র রক্ত দিয়ে এতে সিক্ততা দান করেছেন, বুক ভাঙ্গা যন্ত্রনাকে সহ্য করে, এ কাননকে লালন করেছেন আর এতে সজীবতা ও বিকাশ সাধন করেছেন। অতঃপর তাঁরই যথার্থ প্রতিনিধিবৃন্দ হযরত সিদ্দীকে আকবর, ফারুকে আযম, উসমান ও হায়দার (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এটার সংরক্ষনের দায়িত্ব পূর্নাঙ্গ ভাবে পালন করেছেন। এখন আমারই পালা, খরার মৌসুম (প্রতিকুল বিরুদ্ধস্বভাব) চাইছে এ গুলবাগিচাকে আক্রমন করে, এর সজীবতা ও সমৃদ্ধির বিনাশ ঘটায়, কিন্তু আমি এটা হতে দেবনা। প্রয়োজনে নিজের হৃদপিন্ডের টুকরো থেকেও রক্ত নিংড়ে দেব, কিন্তু এ কাননকে আমি সতেজ, বিকশিত করে রাখব। নিঃসন্দেহে তিনি তাঁর দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন। আর তা এতই উত্তম ভাবে করেছেন যে, পৃথিবীর শেষদিন পর্যন্ত ইসলামের ফুলে ফলে এ সমৃদ্ধি তাঁরই অবদানের ঋণ বহন করে যাবে।
“কারবালারই জ্যান্ত স্মারক তাঁর সে মহান কীতি জেনো,
হুসাইন ইবনে আলীর এটা আত্মদানের আর্তি যেন।”
এখন যদি তাঁর মুহাব্বতের দাবীদার কেউ নিজেই পাপ-পঙ্কিলতায় ডুবে যায়, কিংবা পাপীদের সহযোগী হয়, তবে ইমামে পাকের দরবারে তাদের এরূপ তথাকথিত মুহাব্বতের কি কোন মূল্য বা সার্থকতা আছে? মোটেই না ।
“প্রেমের জ্বালা বুঝতে হলে স্বয়ং প্রেমিক হতেই হবে,
ঝড়ের থেকে রইলে দূরে, তার অনুমান কেমনে পাবে?”
স্মরণ রাখতে হবে যে,শুধুমাত্র কিছু শরয়ী কিংবা শরীয়ত বহিভূর্ত আচার অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে অথবা ইমামের উপর আগত বিপদ আপদের কথা শুনে কিছু অশ্রু বিসর্জন করেই তাঁর আত্মাকে সন্তুষ্ট করা যায় না, না ইমামের পাক দরবারে সমাদর স্বীকৃতি পাওয়া যায়।
“স্রেফ দু ফোঁটা অশ্রু ফেলেই শেষ কি তোমার অন্বেষা?
ভীমালার ভাষার হুসাইন ইবনে আলীর দেখো শহীদ হওয়ার এই নেশা !
বাস্তবিকই যদি ইমামের প্রতি মুহাব্বত থাকে, তবে তাঁর অনুসরণে সত্যও ন্যায়ের ঝান্ডাকে বুলন্দ করুন। যে পবিত্র ও মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ইমাম এতবড় কুরবানী দিয়েছেন, সেটাকে জীবন্ত ও প্রতিষ্ঠিত রাখুন, যদিও সেখানে জান-মাল এবং নিজের সবকিছুই কুরবান দিতে হোক না কেন।
“ইসলামেরই মর্যাদাকে রাখতে খোদার সেই রাহে,
করবো মোরা যা করেছেন কারবালাতে সেই শাহে,
মুসলমানের সেই পরিচয় সহজ বুঝে আ'ম লোকে,
প্রেমের বলি সব দিতে হয়, যখন যাহা রব চাহে।”
নিঃসন্দেহে গৃহকর্তার উপর দায়িত্ব অধিকতর অর্পিত হয়। তাঁকে ঘরের সব কিছু সংরক্ষণে তদারক করতে হয়। প্রিয় নবীর সুযোগ্য উত্তরসূরী এবং ইমামে পাকের ভক্ত প্রেমিকদের এটা দায়িত্ব যে তাঁরা কর্মতৎপরতার মাধ্যমেই ইসলামের এ গুলশানকে হেফাজত করবেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় যে, কিছু সংখ্যক 'সাদাত' (অর্থাৎ নবীবংশজাত ব্যক্তিবর্গ) এবং মুহাব্বতের দাবীদারেরা জঘন্যতম পাপাচার আক্রান্ত আর তাদের ধারণা এটাই যে, ইমামে হুসাইন যে কুরবানী দিয়ে গেছেন, তা-মহাপ্রলয় অবধি নামসর্বস্ব প্রেমিকদের ক্ষমাপ্রাপ্তির তরে যথেষ্ট। কাজেই এখন তাদের আর কোন আমল করার দরকার নেই। এটা খৃষ্টান সম্প্রদায়ের এক দৃষ্টিভঙ্গির মত খৃষ্টানরা মনে করে যে, হযরত ঈসা (আলাইহিস সালাম) শুলে চড়ে কিয়ামত পর্যন্ত জন্মগ্রহনকারী খৃষ্টানদের সকল পাপেরই প্রায়শ্চিত্ত করে গেছেন। (নাউযুবিল্লাহ) স্মরণ রাখা চাই যে,
“কর্মধারায় জীবন রচে, বেহেশত দোযখ স্বীকৃত হয়,
মাটির পুতুল তার স্বভাবেই, নূর কি আগুন কিছুই সে নয়।
📚শামে কারবালা
শিক্ষনীয় বিষয়—
ইমামে আলী মাকামের সাথে আস্থা ও মুহাব্বতের দাবীদার বিশেষতঃ তাঁর আওলাদ ও নবী বংশীয়দের তাঁর অবস্থা ও আলোচনা থেকে শিক্ষা গ্রহন করা বাঞ্চনীয় যে, তিনি কিভাবে সত্যের উপর অটল থেকে পাপাচার ও অনাচারকে মোকাবিলা করেছেন, অনাগত ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য ইস্পাত দৃঢ় মানসিকতার অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এবং বলেছিলেন, ইসলামের এ কাননের সুরক্ষায় অপরের তুলনায় আমিই অধিকতর হকদার। কেননা এ কানন তো আমারই নানা জান (প্রিয় নবী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া-আলিহী ওয়াসাল্লাম)-এর সাজানো এবং আমার নানা জানই নিজের পবিত্র রক্ত দিয়ে এতে সিক্ততা দান করেছেন, বুক ভাঙ্গা যন্ত্রনাকে সহ্য করে, এ কাননকে লালন করেছেন আর এতে সজীবতা ও বিকাশ সাধন করেছেন। অতঃপর তাঁরই যথার্থ প্রতিনিধিবৃন্দ হযরত সিদ্দীকে আকবর, ফারুকে আযম, উসমান ও হায়দার (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এটার সংরক্ষনের দায়িত্ব পূর্নাঙ্গ ভাবে পালন করেছেন। এখন আমারই পালা, খরার মৌসুম (প্রতিকুল বিরুদ্ধস্বভাব) চাইছে এ গুলবাগিচাকে আক্রমন করে, এর সজীবতা ও সমৃদ্ধির বিনাশ ঘটায়, কিন্তু আমি এটা হতে দেবনা। প্রয়োজনে নিজের হৃদপিন্ডের টুকরো থেকেও রক্ত নিংড়ে দেব, কিন্তু এ কাননকে আমি সতেজ, বিকশিত করে রাখব। নিঃসন্দেহে তিনি তাঁর দায়িত্ব সম্পন্ন করেছেন। আর তা এতই উত্তম ভাবে করেছেন যে, পৃথিবীর শেষদিন পর্যন্ত ইসলামের ফুলে ফলে এ সমৃদ্ধি তাঁরই অবদানের ঋণ বহন করে যাবে।
“কারবালারই জ্যান্ত স্মারক তাঁর সে মহান কীতি জেনো,
হুসাইন ইবনে আলীর এটা আত্মদানের আর্তি যেন।”
এখন যদি তাঁর মুহাব্বতের দাবীদার কেউ নিজেই পাপ-পঙ্কিলতায় ডুবে যায়, কিংবা পাপীদের সহযোগী হয়, তবে ইমামে পাকের দরবারে তাদের এরূপ তথাকথিত মুহাব্বতের কি কোন মূল্য বা সার্থকতা আছে? মোটেই না ।
“প্রেমের জ্বালা বুঝতে হলে স্বয়ং প্রেমিক হতেই হবে,
ঝড়ের থেকে রইলে দূরে, তার অনুমান কেমনে পাবে?”
স্মরণ রাখতে হবে যে,শুধুমাত্র কিছু শরয়ী কিংবা শরীয়ত বহিভূর্ত আচার অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে অথবা ইমামের উপর আগত বিপদ আপদের কথা শুনে কিছু অশ্রু বিসর্জন করেই তাঁর আত্মাকে সন্তুষ্ট করা যায় না, না ইমামের পাক দরবারে সমাদর স্বীকৃতি পাওয়া যায়।
“স্রেফ দু ফোঁটা অশ্রু ফেলেই শেষ কি তোমার অন্বেষা?
ভীমালার ভাষার হুসাইন ইবনে আলীর দেখো শহীদ হওয়ার এই নেশা !
বাস্তবিকই যদি ইমামের প্রতি মুহাব্বত থাকে, তবে তাঁর অনুসরণে সত্যও ন্যায়ের ঝান্ডাকে বুলন্দ করুন। যে পবিত্র ও মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ইমাম এতবড় কুরবানী দিয়েছেন, সেটাকে জীবন্ত ও প্রতিষ্ঠিত রাখুন, যদিও সেখানে জান-মাল এবং নিজের সবকিছুই কুরবান দিতে হোক না কেন।
“ইসলামেরই মর্যাদাকে রাখতে খোদার সেই রাহে,
করবো মোরা যা করেছেন কারবালাতে সেই শাহে,
মুসলমানের সেই পরিচয় সহজ বুঝে আ'ম লোকে,
প্রেমের বলি সব দিতে হয়, যখন যাহা রব চাহে।”
নিঃসন্দেহে গৃহকর্তার উপর দায়িত্ব অধিকতর অর্পিত হয়। তাঁকে ঘরের সব কিছু সংরক্ষণে তদারক করতে হয়। প্রিয় নবীর সুযোগ্য উত্তরসূরী এবং ইমামে পাকের ভক্ত প্রেমিকদের এটা দায়িত্ব যে তাঁরা কর্মতৎপরতার মাধ্যমেই ইসলামের এ গুলশানকে হেফাজত করবেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় যে, কিছু সংখ্যক 'সাদাত' (অর্থাৎ নবীবংশজাত ব্যক্তিবর্গ) এবং মুহাব্বতের দাবীদারেরা জঘন্যতম পাপাচার আক্রান্ত আর তাদের ধারণা এটাই যে, ইমামে হুসাইন যে কুরবানী দিয়ে গেছেন, তা-মহাপ্রলয় অবধি নামসর্বস্ব প্রেমিকদের ক্ষমাপ্রাপ্তির তরে যথেষ্ট। কাজেই এখন তাদের আর কোন আমল করার দরকার নেই। এটা খৃষ্টান সম্প্রদায়ের এক দৃষ্টিভঙ্গির মত খৃষ্টানরা মনে করে যে, হযরত ঈসা (আলাইহিস সালাম) শুলে চড়ে কিয়ামত পর্যন্ত জন্মগ্রহনকারী খৃষ্টানদের সকল পাপেরই প্রায়শ্চিত্ত করে গেছেন। (নাউযুবিল্লাহ) স্মরণ রাখা চাই যে,
“কর্মধারায় জীবন রচে, বেহেশত দোযখ স্বীকৃত হয়,
মাটির পুতুল তার স্বভাবেই, নূর কি আগুন কিছুই সে নয়।
পরবর্তী পর্ব–
ত্বরমাহ্ ইবনে আদীর আগমন

Comments
Post a Comment