কারবালা – ২০
শামে কারবালা - (পর্ব- ২০)
****************
কারবালার ইতিহাস
ইমাম মুসলিমের দুই পুত্ৰের কাহিনি– (পর্ব– ১) —
হযরত মুসলিম গভর্ণর হাউস ঘেরাওকালীন কারো মতে ত্বাওআ’র ঘরে অবস্থানকালীন সময়ে নিজের ছোট দুই পুত্রকে কাজী শুরাইহের নিকট পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। যাতে কোন উপায়ে তাদের দুজনকে নিরাপদে নবীজির শহর পবিত্র মদীনায় পৌঁছে দেওয়া হয়। যখন হযরত মুসলিম শহীদ হয়ে গেলেন, কাজী ছাহেব তাঁর দুই পুত্রকে ডেকে আদর করলেন, সজলনেত্রে তাদের মাথায় হাত বুলালেন। এ আচরণ দেখে, তারা জিজ্ঞেস করলেন, “চাচাজান, আপনার চোখে পানি? আপনি এভাবে আমাদের মাথায় হাত বুলিয়ে যাচ্ছেন! আমরা আবার এতিম হয়ে যাইনি তো?” কাজী ছাহেব বোবা কান্নায় বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে বলে উঠলেন, “হ্যাঁ, বাবা, হ্যাঁ, প্রিয় বৎসরা, তোমাদের আব্বাজানকে শহীদ করা হয়েছে।” একথা শোনার সাথে সাথে উভয় শাহজাদার উপর দুঃখের পাহাড় ভেঙ্গে পড়ল।“বাবা ! আমাদের কী হবে!” বিলাপ করতে করতে একজন অপরকে গলাগলিতে, ক্রন্দনে অস্থির হয়ে পড়ল। কাজী শুরাইহ অবোধ বালকদের বললেন, “দুর্মতি ইবনে যিয়াদের কাছ থেকে আমি তোমাদের জন্য ভাল কিছু আশা করিনা। এখানে থাকাও তোমাদের জন্য নিরাপদ নয়। আমি চাই, যেভাবে হোক তোমাদের জীবনটা যেন রক্ষা হয়। আর তোমরা নিরাপদে মদীনা মুনাও ওয়ারাহ্ পৌঁছে যেতে পার।”
অসহায় পরদেশে ইয়াতীম হয়ে যাওয়া কচি কোমল বালকদ্বয়ের দুঃখ যাতনার সীমা রইল না। একদিকে পিতৃবিয়োগের মর্ম যাতনা, অপরদিকে নিজেদের জীবন নাশের সমূহ আশংকা, রাসূলকাননের পুষ্প নন্দন ভয়ে বিবর্ণ হয়ে গেল।
কবি বলেন—
মনের দুঃখে শরা'র মুখেও বিলাপ, হায়
কাবাব সম এ হৃদয় ঝলসে কী চিন্তায় !
এ মুহুর্তে কাজী ছাহেবের সামনে দুটি অনাথ ইয়াতীমের জান বাঁচানোর সমস্যা ! ভেবে চিন্তে তিনি স্বীয় পুত্র আসাদকে ডেকে বললেন, “আমি শুনেছি আজ 'বাবুল ইরাকাইন' (জায়গা) থেকে একটি কাফেলা মদীনা মুনাওওয়ারাহ্ রওনা হবে। এ দুজনকে সেখানে নিয়ে যাও। তম্মধ্যে আহলে বাইতের অনুরক্ত কোন সহানুভূতিশীল ব্যক্তির হাতে তাদের তুলে দেবে। তাঁকে সার্বিক পরিস্থিতির কথা বুঝিয়ে বলবে, আর তাদের নিরাপদে মদীনা মুনাওওয়ারা পৌঁছে দিতে জোর দিয়ে বলবে।” আসাদ তাদের দুজনাকে নিয়ে বাবুল ইরাকাইন আসল। এসে জানতে পারল ঐ কাফেলা কিছু আগেই রওয়ানা হয়ে গেছে। সে ঐ দুজনকে নিয়ে একই পথে চলতে শুরু করল।
চলতে চলতে কিছুদূর গিয়ে যাত্রীদের পায়ের ছাপ দেখতে পেল। সে তাদের দু'জনকে বলল, “দেখ, এই তাদের পায়ের ছাপ, তারা বেশী দূরে নয়, তোমরা একটু দ্রুত হেঁটে গিয়ে তাদের সাথে মিলে যেও। আর শোন, নিজেদের ব্যাপারে কাউকে কিছু বলবে না এবং কাফেলা থেকেও বিচ্ছিন্ন হবে না। আমি এখন ফিরে যাই।” আসাদ ফিরে আসল। বালকদ্বয় দ্রুত চলতে লাগল। কিছু দূর গিয়ে তারা কাফেলার ঐ পদচিহ্ন আর খুঁজে পেল না। পথিক দলের খোঁজও আর পেল না। ফুলের মত কচি দুটি ইয়াতীম বালক নিঃসঙ্গ ভূবনে বিজনদেশে দারুন একাকী হয়ে পড়ল। অত্যন্ত কাতরচিত্তে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতেই লাগল, দয়া দক্ষিণায় - লালনকারী মা বাবার কথা স্মরণ করে আরো উতলা, উদ্বেলিত হয়ে পড়লো।
>> ছোট্ট তাদের জীবন জুড়ে দেখেনি যা দুঃখ হায়,
তা দেখে বুক ভাঙ্গবে বটেই, এমন দুঃখ ক'জন পায় !
কোমল বুকে আর আসেনি এমনি আঘাত,
যন্ত্রনা, রক্তে গড়ায় পিতার সে লাশ!
কঠিন সে কী দৃশ্য না ! ছোট্ট দুটি নয়নযুগল অশ্রুতে যে খুন ঝরায়,
কোমল প্রাণে রক্তক্ষরণ! ব্যক্ত করি কোন্ ভাষায় ! <<<
#শামে_কারবালা
#ইসলাম_ই_মুক্তির_দিশা

Comments
Post a Comment