কারবালা – ৪৭



কারবালার ইতিহাস (পর্ব -৪৭)
📚শামে কারবালা

ছোট কিয়ামত
দশই মুহররম ৬১ হিজরী—
আশুরার রাত শেষ। আশুরার প্রভাত ছোটখাট এক কিয়ামতের রূপ নিয়ে বিপদের ঘনঘটার আভাস নিয়ে সমুপস্থিত। ইমামে আলী মাকামের তাঁবুতে আযানের ধ্বনি উচ্চকিত হয়ে উঠল। নবীজির দৌহিত্র নিজের সকল শুভানুধ্যায়ী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নামাযে ফজর আদায় করলেন। শোহাদায়ে কারবালার জন্য এটা ছিল শেষ নামায। আল্লাহই জানেন যে, তাঁদের এ নামাযের রকমটা কেমন ছিল। ধৈর্য সংযমের মূর্ত-প্রতীক নিজ নিজ স্রষ্টা ও মুনিবের সামনে মহাপ্রভুর দর্শন লাভের অনন্য পদ্ধতিতে বিনয়ের পরম পরাকাষ্টা হয়ে দন্ডায়মান। এইতো সেই শির গুলো, যা আর ক্ষণকাল পরেই আল্লাহর রাহে কর্তিত হবে, বিনয়ের আতিশয্যে সিজদায় নিপতিত। নামায আদায়ের পর ইমামে পাক সকলের জন্য ধৈর্য্য ও দৃঢ়তা কামনা করে দুআ করলেন। দশই মুহররমের রক্তিম সূর্য তার পূর্ণাঙ্গ রক্ততৃষা নিয়েই উদিত হল। যার বেদনাদায়ক রূপ দেখে জ্বীন ইনসান থেকে শুরু করে ফেরেশতারা পর্যন্ত বিলাপ করে উঠল। হোসাইনী লস্করের বাহাত্তর জন নিবেদিত প্রাণ যোদ্ধা, বাইশ হাজার ইয়াযিদী বাহিনীর সাথে মোকাবেলা করতে প্রস্তুত হয়ে গেল। ক্ষুদে এ বাহিনীর প্রিয়তম মুনিব নিজ জাঁ-বায সৈনিকদের বিন্যাস করলেন। এভাবে ডান পার্শ্বে হযরত হাবীব ইবনে মুজাহিরকে মোতায়েন করলেন। দলের ঝান্ডা নিজ ভাই হযরত আব্বাসকে অর্পন করলেন। তাঁকে একারণেই আব্বাস আলামদার (আলাম মানে ঝান্ডা) নামে আখ্যায়িত করা হয়। (তাঁবুর পিছনে ) গর্তে জমাকৃত লাকড়িগুলোতে আগুন লাগানো হল।
অপর দিকে আমর বিন সা'দ তার বাহিনীর ডান ভাগে আমর ইবনুল হাজ্জাজ আযযুবাইদীকে বাম দিকে শিমার বিন যিল জওশনকে এবং আরোহী বাহিনীর নেতৃত্বে আমর বিন কায়স আল আহমসী এবং পদাতিক বাহিনীর অগ্রভাগে শাবস বিন রিবঈ ইয়ারবুয়ীকে নিযুক্ত করল। দলীয় পতাকা ধারণের দায়িত্ব দিল স্বীয় গোলাম যুয়াইদাকে।
ইমামে আলী মকাম উটের উপর আরোহন করলেন। কুরআনুল কারীম চেয়ে নিয়ে নিজের সামনে রাখলেন এবং দু'হাত উঠিয়ে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করলেন,
“হে আল্লাহ, আমার সকল বিপদের সময় আপনিই একমাত্র ভরসা, সকল দুঃখে আপনিই আমার আস্থা। সকল বালা-মুসীবতে আপনিই আমার সহায়দাতা আর মনোবল। অনেক বিপদমূহুর্ত এমনও হয়, যাতে মন দমে যায়, সেই দুঃখযাতনা থেকে মুক্তির উপায় উপকরণও হ্রাস পায়, পরম বন্ধুও তখন সঙ্গ ত্যাগ করে, শত্রু তাতে আনন্দিত হয়ে উঠে। কিন্তু আমি ঐ রকম সব কটি মুহুর্তে আপনারই দিকে মনোনিবেশ করছি, আর আপনার কাছেই মনের ব্যথা খুলে বলছি, আপনাকে ছাড়া আর কাউকে বলতে মন চায়নি। হে আল্লাহ্, আপনি প্রত্যেকবার অমন বিপদ আমার থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। আমাকে কঠিন মুহুর্ত থেকে বরাবর উদ্ধার করেছেন। আপনি সকল নেয়ামতের সর্বময় কর্তা, সকল কল্যাণের আপনিই মালিক, সকল আগ্রহ অভিপ্রায়ের আপনিই সর্বশেষ লক্ষ্য।
“দাও প্রভু সে ধৈর্য আমায় টলবেনা যা খুন-ত্রাসে 
শরের মাঝে সাঁতরালেও সম্ভ্রমে না চোট আসে।”

পরবর্তী পর্ব - 
শিমারের ধৃষ্টতা

Comments

Popular posts from this blog

শুধু মুখে কলেমা পড়লে জান্নাত যাওয়া যাবেনা

মসনবী শরীফ বই - মউলানা রুমী (রহঃ)