হুজুর (সঃ)-এর প্রসংশা– ৫
হুজুর (সঃ)-উনার প্রসংশা – (পর্ব– ৫)
📚আশ্-শিফা বিতা–রীফি হুকুকিল মুস্তফা ✍🏻কাযী আয়ায আন্দুলুসী (রহঃ)
“আর আমি আপনার আলোচনাকে সমুন্নত করে দিয়েছি”। (সূরা ইনশিরাহ : ৪)
হযরত ইয়ায়া বিন আদম (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) এ আয়াতের তাফসীরে বলেন, আল্লাহ তা'আলা নবুওয়াত প্রদানের মাধ্যমে হুযুর (সল্লল্লাহ আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার আলোচনাকে সমুন্নত করে দেন।
অপর একদল ওলামায়ে কেরামগণের অভিমত হলো, যখন আমার জিকির করা হবে তখন আপনার জিকিরও করা হবে। এই কারণে কালেমা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু” এর সাথে “মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”- উচ্চারণ করা হয়। সুতরাং যখন আল্লাহ তা'আলার নাম স্মরণ করা হবে, তখন হুযুর (সল্লল্লাহ আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর নামও স্মরণ করা হবে।
অপর একদল ওলামায়ে কেরামগণের অভিমত হলো যে, এখানে আযান ও ইকামতে হুযুর (সল্লল্লাহ আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার নাম উচ্চারিত হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
কাযী আবুল ফযল আয়ায (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) বলেন, উক্ত আয়াতের দ্বারা একথা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলার নিকট হুযুর (সল্লল্লাহ আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) কতো মহিমান্বিত, সুউচ্চ মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী। আর আল্লাহ তা'আলা তাঁর অপূর্ব নিয়ামতরাজি দ্বারা কিভাবে তাঁকে সুশোভিত করেছেন। তাঁর মুবারক কালবকে ঈমান ও হিদায়তের মাধ্যমে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। তাঁর বক্ষ মুবারক এতো অধিক পরিসরে প্রশস্থ ও উন্মুক্ত করা হয়েছে যাতে তা অগণিত অসংখ্য সীমাহীন ইলম ও হিদায়াত ধারণ করার মর্যাদা লাভ করেছে। আর আল্লাহ তা'আলা অন্ধকার যুগের সত্য বিমূখতার স্বভাব থেকে তাঁকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত করে দেন। যার ফলে তাঁর দীন অন্যান্য দীনের উপর পুরোপুরিভাবে বিজয়ী হতে পারে। তারপর নবুওয়াত ও তাবলীগের দায়িত্ব অর্পিত হবার পর তাঁর উপর যে গুরুদায়িত্বের বোঝা ন্যস্ত করা হয়েছে সেই বোঝাকেও আল্লাহ তা'আলা দ্বীন পৌঁছানোর দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে মুক্ত করে দেন। আল্লাহ তা'আলা এটাকেও যথেষ্ট মনে করেননি তাই আল্লাহ তা'আলা তাঁর মর্যাদা, সম্মান ও আলোচনাকে আরও সমুন্নত করার উদ্দেশ্যে হুযুর (সল্লল্লাহ আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার পবিত্র নামখানাকে তাঁর স্বীয় মহান নামের সাথে যুক্ত করে দেন।
হযরত কাতাদা (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) থেকে বর্ণিত আছে- “আল্লাহ তা'আলা দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতে হুযুর (সল্লল্লাহ আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর আলোচনাকে সমুন্নত করেছেন। তাই ইসলামের কালেমা, আযান, নামায ও খোতবাসমূহে এমন কোনো খোতবাদানকারী নেই, এমন কোন তাশাহহুদ পাঠকারী নেই এবং এমন কোনো নামায আদায়কারী নেই যে, “আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু” এর সাথে “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ” পাঠ করে না ।
হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) থেকে বর্ণিত আছে। হুযুর (সল্লল্লাহ আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) বর্ণনা করেছেন,
“একদিন হযরত জিবরাঈল (আলাইহিস্ সালাম) এসে আরয করেন, আমার ও আপনার রব জিজ্ঞেস করেছেন, কোন জিনিসের সাথে আপনার মর্যাদাকে সমুন্নত করেছেন। আমি বললাম এ সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলাই সর্বাধিক অবহিত। তখন হযরত জিবরাঈল (আলাইহিস্ সালাম) বললেন, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন- আপনার নাম আমার নামের সাথে উচ্চারিত হবে”।
ক) ইবনে আবী হাতেম: তাফসীরে ইবনে আবী হাতেম, ১২:৪২৬।
খ) জালাল উদ্দীন সুয়ূতী : আদ দুররুল মানসুর ফীত্ তাবিলে বিল মা’সুর, ১০:২৯০।

Comments
Post a Comment