কারবালা – ৫৯
কারবালার ইতিহাস (পর্ব -৫৯)
📚শামে কারবালা
****************
যেভাবে একের পর এক শহীদ হলেন – ৩
আবু সুমামা আছ ছায়েদী এগিয়ে আসলেন। তিনি কুফা বাহিনীর সঙ্গে থাকা তাঁর চাচাতো ভাইকে কতল করলেন। ইমামে পাক “সালাতে খাওফ (রণাঙ্গনের নামায) আদায় করলেন। এরপর এমন তুমুলভাবে সংঘর্ষ শুরু হলো যে, কারবালার যমীন প্রকম্পিত হল। শত্রুসৈন্য বাড়তে বাড়তে ইমামে পাকের নিকটে এসে গেল। তারা তাঁর উপর তীর বৃষ্টি করল। তাঁর একজন জাঁবাজ হানাফী সঙ্গী তাঁর সামনে এসে দাঁড়িয়ে গেলেন। ঝাঁকে ঝাঁকে আসা তীর গুলো বুক পেতে রুখে দিলেন। একটি তীরও ইমামের দিকে যেতে দিলেন না। কিন্তু একজন মানুষ অনবরত ছুটে আসা তীরের প্রতিবন্ধক হিসাবে কতক্ষন দাঁড়াতে পারেন। পরিণামে বুক ঝাঁঝরা হয়ে এক সময় তিনিও ইমামে পাকের চরণে ঢলে পড়ে উৎসর্গ হলেন ।
এরপর আসল নাফে' ইবনে হেলাল আলবাজলীর পালা। এই বীর বাহাদুর বারো জনের মত কুফার সেনাকে খতম করলেন। অনেকজনকে আহতও করলেন। পরিশেষে শত্রুসৈন্য জোট বেধে তাঁকে এমন ভাবে আক্রমণ করল যে, তাঁর দু'টি বাহু কাটা পড়ল। আর তাঁকে ওরা জীবন্ত অবস্থায় টেনে হিঁচড়ে ইবনে সা'দের নিকট নিয়ে গেল। তাঁর চেহারা থেকে রক্ত ঝরছিল। তিনি বলতে থাকলেন, জখম করা ছাড়াও আমি তোমার বারো সৈন্যকে কতল করেছি। হাত দু'টি না কাটলে আমাকে বন্দী করতে পারতে না।” ইবনে সা'দ বলল, “নাফে', তুমি নিজ প্রাণের উপর অবিচার করেছ।”নাফে বললেন, “আল্লাহ্ই উত্তম জানেন, আমি কী করেছি।”
শিমার ইবনে সা'দকে বলল, “খোদা আপনাকে সহি সালামত রাখুন, একে কতল করে দিন না কেন।” ইবনে সা'দ বলল, “তুমিই একে নিয়ে এসেছ, কাজেই তুমিই কতল কর।” শিমার তাকে কতল করার জন্য তরবারী উত্তোলন করলে নাফে' বলে উঠলেন,“আল্লাহ্র কসম, যদি তোমরা মুসলমান হতে, তবে আমাদের খুনের দায় ঘাড়ে নিয়ে আল্লাহর সামনে যাওয়া তোমাদের কাছে অবশ্যই কঠিন ব্যাপার মনে হতো। আল্লাহর শোকর, যিনি আমার মৃত্যু নিকৃষ্টতম সৃষ্টির হাতে নির্ধারণ করেছেন।" এরপর শিমার তাঁকে শহীদ করে দিল।
পরবর্তী পর্ব–
যেভাবে একের পর এক শহীদ হলেন – ৪

Comments
Post a Comment