হুজুর (সঃ)-এর প্রসংশা – ৪



হুজুর (সঃ)-উনার প্রসংশা – (পর্ব– ৪)

📚আশ্-শিফা বিতা–রীফি হুকুকিল মুস্তফা ✍🏻কাযী আয়ায আন্দুলুসী (রহঃ)

 

(অপর) এক আয়াতে এরশাদ করা হয়েছে–

“আল্লাহ আসমানসমূহ ও যমীনের আলো, তার আলোর উপমা এমনই যেমন একটা দীপাধার, যার মধ্যে রয়েছে প্রদীপ, ঐ প্রদীপ একটা ফানুসের মধ্যে স্থাপিত। ঐ ফানুস যেন একটি নক্ষত্র, মুক্তার মত উজ্জ্বল হয় বরকতময় বৃক্ষ যয়তুন দ্বারা, যা না প্রাচ্যের, প্রতীচ্যের; এর নিকটবর্তী যে, সেটার তৈল প্রজ্জ্বলিত হয়ে উঠবে যদিও আগুন সেটাকে স্পর্শ না করে। আলোর উপর আলো। আল্লাহ আপন আলের প্রতি পথ নির্দেশনা দান করেন যাকে ইচ্ছা, এবং আপন উপমাসমূহ বর্ণনা করেন মানুষের জন্য। এবং আল্লাহ সবকিছুই জানেন”।

(সূরা নূর : ৩৫)

হযরত কা'ব আহবার ও হযরত সাঈদ বিন জোবায়ের (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) এ আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে বলেন,-“এখানে নূর অর্থ হলো হুযুর (সল্লল্লাহ আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)। 


আর আল্লাহ তা'আলার বাণী— তাঁর নূরের উদাহরণ" এর অর্থও হলো হুযুর (সল্লল্লাহ আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার নূর মুবারক।

হযরত সাহল বিন আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) বলেন, এ আয়াতের অর্থ হলো- আল্লাহ তা'আলা আকাশ ও যমীনের অধিবাসীদের হিদায়াতদানকারী। অতঃপর বলেন, হুযুর (সল্লল্লাহ আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর নূরের উদাহরণ হলো যখন তিনি পবিত্র পিষ্ঠসমূহে বিদ্যমান ছিলেন তা 'দীপাধারে'র মতো। তাঁর এই প্রশংসিত গুণাবলি এমনই। প্রদীপ এর অর্থ হলো- হুযুর (সল্লল্লাহ আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার পবিত্র হৃদয়। আর হুযুর (সল্লল্লাহ আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার  পবিত্র বক্ষ হচ্ছে ফানুস সদৃশ, যাতে ঈমান ও হেকমতের উজ্জ্বল জ্যোতি ঝলমল করছে। আর ঐ চেরাগ যা এক মুবারক গাছের তৈল দ্বারা প্রজ্বলিত করা হয়। আর সেই মুবারক গাছের অর্থ হলো হযরত ইবরাহীম (আলাইহিস্সালাম) এর নূর। এখানে তাঁকে উপমা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


আর আল্লাহ তা'আলার বাণী-

“এর নিকটবর্তী যে, সেটার তৈল প্রজ্বলিত হয়ে উঠবে”। অর্থাৎ অচিরেই হুযুর (সল্লল্লাহ আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর নবুওয়াত প্রকাশিত হবে। যেন তা যয়তুনের তেল। এই আয়াতের আরও অনেক ব্যাখ্যা রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা এ সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। 


এছাড়াও অপর এক আয়াতে আল্লাহ তা'আলা হুযুর (সল্লল্লাহ আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনাকে 'সিরাজুম মুনিরা’ 

 আলো ও আলোক প্রদানকারী প্রদীপ' উপাধিতে ভূষিত করেছেন। (সূরা নূর : ৩৫)

এজন্য অপর এক আয়াতে এরশাদ করা হয়েছে–

“নিশ্চয় তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা নূর এসেছে এবং স্পষ্ট কিতাব”। (সূরা মায়েদা : ১৫)


অপর এক আয়াতে এরশাদ করা হয়েছে— “নিশ্চয় আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি উপস্থিত পর্যবেক্ষণকারী করে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রূপে, এবং আল্লাহর প্রতি তাঁর নির্দেশে আহবানকারী আর আলোকোজ্জ্বলকারী সূর্যরূপে। 

(সূরা আহযাব : ৪৫-৪৬)

এপ্রসঙ্গে অপর এক আয়াতে এরশাদ করা হয়েছে—

“আমি কি আপনার বক্ষ প্রশস্থ করিনি? আর আমি আপনার বোঝা অপসারণ করেছি, যা আপনার জন্য অতিশয় কষ্টদায়ক ছিল, এবং আমি আপনার জন্য আপনার স্মরণকে সমুন্নত করেছি। সুতরাং নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্থি রয়েছে। নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্থি রয়েছে। অতএব, আপনি যখন নামায থেকে অবসর হবেন তখন একান্তে দোয়া প্রার্থনা করুন এবং আপন প্রতিপালকের প্রতি মনোনিবেশ করুন”। (সূরা ইনশিরাহ : ১)


এ আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, 'শরহ' অর্থ প্রশস্থ করা। আর 'সদর' অর্থ হৃদয়। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় হযরত ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুমা) বলেন, আল্লাহ তা'আলা হুযুর (সল্লল্লাহ আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর মুবারক বক্ষকে ইসলামের জ্যোতি দ্বারা উজ্জ্বল করেছেন।


হযরত সাহল (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) বলেন, রিসালতের নূর দ্বারা প্রশস্ত করেছেন। হযরত হাসান (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা জ্ঞান-বিজ্ঞানে পরিপূর্ণ করার মাধ্যমে হুযুর (সল্লল্লাহ আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর মুবারক বক্ষকে সম্প্রসারিত করেছেন।


অপর একদল তাফসীরবিদের মতে, এর অর্থ হলো- আমি কি আপনার বক্ষকে পবিত্র করিনি, যে শয়তান কুমন্ত্রণা দিতে না-পারে-

আর আপনার উপর থেকে আপনার সেই বোঝা নামিয়ে নিয়েছি, যা আপনার পৃষ্ঠ ভেঙ্গেছিলো। (সূরা ইনশিরাহ : ২-৩)


একদল ওলামায়ে কেরামের অভিমত হলো- বোঝার অর্থ হলো নবুওয়াত প্রকাশের পূর্বে সংগঠিত ভুলত্রুটিসমূহ।


অপর একদল ওলামায়ে কেরামের অভিমত হলো- জাহিলিয়াতের অন্ধকার যুগের বোঝা, অর্থাৎ জাহিলিয়াতের অন্ধকার যুগের লোকদের নৈতিক অধঃপতন দেখা তাঁর জন্য তা ভীষণ কষ্টদায়ক ছিল।


অপর একদল ওলামায়ে কেরামের অভিমত হলো- নবুওয়াত লাভের পর উম্মতের নিকট আল্লাহর বাণী পৌঁছানোর যে গুরুদায়িত্বের ভার তাঁর উপর অর্পিত হয়েছিলো। 

আল্লামা মাওয়ার্দী ও সুলামী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)ও এ অভিমতের সমর্থক ।


ফকীহ আবুল লাইস সমরকন্দি (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) ও অপর একদল ওলামায়ে কেরামের অভিমত হলো- “আমি আপনাকে গুনাহের বোঝা থেকে মুক্ত করেছি। যদি আপনাকে মাসূম বা নিষ্পাপ করা না হয়। তাহলে নবুওয়াত প্রকাশের পূর্বের ভুলত্রুটির কারণে আপনার কোমর মুবারক ভেঙ্গে যাবে।

Comments

Popular posts from this blog

শুধু মুখে কলেমা পড়লে জান্নাত যাওয়া যাবেনা

মসনবী শরীফ বই - মউলানা রুমী (রহঃ)