কারবালা – ৩৩



কারবালার ইতিহাস (পর্ব -৩৩)
📚শামে কারবালা

ইমামের অভিভাষণ— ২
ইমাম পাক গদীব ও কাদেসিয়ার রাস্তা থেকে ঘুরে চলতে শুরু করলেন। হুরও তাঁকে অনুসরন করে চলতে থাকল। 
(✍🏻তাবরী ২২৮/৬, ✍🏻ইবনে আসীর ১৯/৪) 
'বায়যা' নামক স্থানে পৌঁছে তিনি নিজের এবং হুরের সঙ্গী সাথীদের উদ্দেশ্যে এক তেজোদ্দীপক ভাষণ দেনঃ
ত্বাকরীর– (ভাষন)
হামদ ও সানার পরে তিনি বললেন,
“উপস্থিত জনতা, রাসুলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া-আলিহী ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি এমন কোন যালিম বাদশাকে দেখে, যে, আল্লাহর হারামকৃত বিষয়কে হালাল করে, আল্লাহর বান্দাদের উপর গুনাহ ও নিপীড়নমূলক শাসন চালায়, শক্তি সামর্থ্য মোতাবেক কাজে কিংবা কথায় তাকে না বদলায়, তবে আল্লাহর এটা হক হয়ে যায় যে, তিনি ঐ ব্যক্তিকে ও সে অত্যাচারী শাসকের পরিণাম স্থলে (অর্থাৎ দোযখে) দাখিল করে দেন। সাবধান হও, ঐ লোক গুলো শয়তানের আনুগত্য বেছে নিয়েছে এবং দয়ালু আল্লাহর আনুগত্য পরিত্যাগ করেছে। তারা দেশে অনাচার সৃষ্টি করেছে, শরীয়তের শাসনকে মুক্ত করে দিয়েছে, গণীমতের মাল ব্যক্তিসম্পদের মত কুক্ষিগত করেছে।
আল্লাহর হারামকৃত বস্তুসমূহকে হালাল এবং হালাল বস্তুকে হারাম করে দিয়েছে। আমি অপর যে কারও চাইতে তাদের পরিবর্তনের ব্যাপারে বেশী হক্বদার। অবশ্যই আমার কাছে তোমাদের বাইয়াতের অঙ্গীকারসমেত চিঠিপত্র ও দূত প্রেরণের প্রমাণ রয়েছে এবং (সে চিঠিসমূহ এ অঙ্গীকারমর্মে লিখা ছিল যে, তোমরা আমাকে শত্রুর হাতে সোপর্দ করবেনা। বিনা সাহায্যে অসহায় অবস্থায় পরিত্যাগ করবেনা। যদি তোমরা নিজেদের কৃত বাইয়াত (অঙ্গীকার) এর উপর অটল থাক, তবে সঠিক নির্দেশনা ও হেদায়ত পাবে। শুনে রাখো, আমি হুসাইন ইবনে আলী এবং ফাতেমা বিনতে রাসুলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া-আলিহী ওয়াসাল্লাম) এর পুত্র, আমার সত্তা তোমাদের সত্তাতে, আমার পরিজন তোমাদের পরিজনদের সাথেই, আমার মাঝে তোমাদের জন্য রয়েছে আদর্শ। যদি তোমরা এমনটি না করেছ, যদি ওয়াদা অঙ্গীকারকে ভঙ্গ করেছ, আমার বাইআতের বেড়ী গর্দান থেকে খুলে ফেলেছ, তবে আমি শপথ করে বলছি এটা তোমাদের জন্য কোন নতুন কিংবা অভিনব বিষয় না। বরং এর আগে তোমরা আমার বাবা, ভাই এবং চাচাতো ভাই মুসলিমের সাথেও এরূপ আচরণ করে ফেলেছ। যে তোমাদের ধোঁকার ফাঁদে পা দিয়েছে, সেই প্রতারিত হয়েছে। বদনসীব তোমরা! নিজেদের ভাগ্যকে তোমরা বিনষ্ট করেছ। যে বিশ্বাস ঘাতকতা করে, সে তো তার মন্দ পরিণতি নিজের জন্যই ডেকে আনে। অচিরেই আল্লাহ্ তা'য়ালা তোমাদের মুখাপেক্ষিতা থেকে আমাকে মুক্ত করে দেবেন। আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।
(✍🏻ত্বাবরী ২২৯/৬, ✍🏻ইবনে খালদু,✍🏼ইবনে আসীর ২০/৬)। 
এ ভাষন শোনার পর হুর বলল, “আমি আপনাকে আপনার জীবন সম্পর্কে আল্লাহর কথা স্মরন করিয়ে দিচ্ছি, আর এ কথা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, যদি আপনিই হামলা করেন অথবা আপনার উপর হামলা হয় আপনি অবশ্যই নিহত হবেন।” তিনি (ইমাম) বললেন, “তুমি কি আমায় মৃত্যুর ভয় দেখাচ্ছো? আর তোমার মন্দ অদৃষ্ট কি এই পর্যন্ত পৌঁছে গেছে যে, আমাকে কতল করবে? আমি জানি না আমি তোমাকে কিইবা বলব! তবে আমি তা-ই বলবো, যা বনু আউস গোত্রের একজন সাহাবী তার চাচাত ভাইকে বলেছিলেন, (এই সাহাবী আল্লাহর রাসুলকে সাহায্য করতে চাইছিলেন আর তাঁর চাচাতো ভাই তাঁকে বলেছিলেন কোথায় যাচ্ছো, মারা পড়বে তো! তার উত্তরে ঐ সাহাবী বলেছিলেন)
“অচিরেই আমি আমার অভিলাষ পূর্ন করব, যুবকের জন্য মৃত্যু তো লজ্জা শরমের বিষয় নয়, যদি তার উদ্দেশ্য সৎ হয় এবং সে একজন মুসলিম হিসাবে জেহাদে অবতীর্ণ হয়“।
“এবং জীবন দিয়ে নেক বান্দাদের সাহায্য করে, ধংসশীলদের রুখে দাঁড়ায়, দূর্বৃত্তদের থেকে পৃথক থাকে”।
“(পরিনামে) যদি আমি বেঁচে থাকি, তবে লজ্জিত হবো না, যদি জীবনও যায়, দুঃখ পাবো না, তবে তোমার পক্ষে এটাই তৃপ্তির যে, তুমি লাঞ্চনা ও অপমান নিয়ে জীবন কাটাবে।
✍🏼ইবনে আসীর- ২০/৪ 
হুর কবিতার এ লাইনগুলো শুনে ইমাম থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় (সঙ্গে সঙ্গে) চলতে থাকল।

পরবর্তী পর্ব–
শিক্ষনীয় বিষয়

Comments

Popular posts from this blog

শুধু মুখে কলেমা পড়লে জান্নাত যাওয়া যাবেনা

মসনবী শরীফ বই - মউলানা রুমী (রহঃ)