কারবালা – ৭১
কারবালার ইতিহাস (পর্ব -৭১)
📚শামে কারবালা
****************
তাজেদারে কারবালা সাইয়িদুনা
ইমাম হুসাইন (রদিয়াল্লাহু আনহু)– ৩
রণাঙ্গনে ইমামের শাহাদাত—
এবার নবুওয়ত রবি প্রিয় নবীর নয়ন তারা, বেলায়তের সম্রাট আলী (রাদি.)'র কলিজার টুকরো, বিশ্ব দুলালী খাতুনে জান্নাতের প্রাণের প্রশান্তি, ধৈর্য-সংযমের মূর্ত প্রতীক সাইয়িদুনা হুসাইন তৃষ্ণার্ত-অভুক্ত অবস্থায়, বন্ধু বান্ধব আত্মীয় স্বজনের বিয়োগ ব্যথা বুকে নিয়ে কারবালার উত্তপ্ত বালুকায় বিশ হাজার সৈন্যের বিশাল বাহিনীর সামনে বলতে লাগলেন, “যদি একান্ত ই নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ থেকে নিরস্ত হবে না, তবে এসো, আকাংঙ্খা চরিতার্থ করো, আমার রক্তে তোমাদের পিপাসা মিটিয়ে নাও। আর তোমাদের অধিকতর সাহসী, যুদ্ধপ্রিয় রণকুশলীদের এক এক করে আমার মোকাবেলায় পাঠাতে থাকো এবং খোদা প্রদত্ত শক্তি, হুসাইনী বীরত্ব ও হায়দরী আঘাত দেখতে থাকো।”
সুতরাং জরুরী অবস্থায় ব্যবহার্য বিখ্যাত যোদ্ধা আর তেজস্বী সৈন্যদের বিশেষ সংরক্ষিত এক ব্যাটেলিয়ন থেকে তমীম বিন কাহ্তাবা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে, নিজ বাহাদুরী চালে অহংকার আর অহমিকাপূর্ণ বাক্যে গজড়াতে গজড়াতে ইমামের মোকাবেলায় আসল। রক্তমুখী চিতার মত ইমামের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। তিনি চোখ ধাঁধানো বিজলীর মত থীক্ষ্ম তলোয়ারের আঘাত হানলেন। মূহর্তেই তমীমের মাথা ঠুনকো কুটোর মত ধড় থেকে উড়িয়ে তার সমস্ত অহংকার ও স্পর্ধা ধুলোয় মিশিয়ে দিলেন। এ ঘটনাদৃষ্টে জাবের ইবনে কাহের কিম্মী অত্যন্ত শক্তিমত্তার ঠমক দেখিয়ে বকাবকি করতে করতে সামনে এগিয়ে আসল। হুঙ্কার ছেড়ে বলতে লাগল, “সিরিয়া ও ইরাকের বীর মহলে আমার শৌর্য-বীর্যের প্রচার রয়েছে। আমার সাথে লড়তে কেউ সাহস করে না।" সিরীয় সৈন্যদের এ উদ্ধত দূরাচার যখন ইমামের সামনে এসে তলোয়ার চালাল, তখন তিনিও আত্মরক্ষা করতঃ শাণিত তরবারীর এমন এক আঘাত হানলেন যে শত্রুর একটি বাহু কাটা গিয়ে মাটিতে ছিটকে পড়ল। সে পেছন ফিরে পালাতে লাগলে মৃত্যুদূত তার পথরোধ করে দিল। ইমামে পাক দ্বিতীয় আঘাতে তার মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিলেন। প্রচন্ড ক্রোধে লাল হয়ে বদর বিন সুহাইল ইয়ামনী আমর বিন সা'দকে বলতে লাগল, “কী সব বীরত্বের কলঙ্ক আর কাপুরুষদের আপনি — হুসাইনের মোকাবেলায় পাঠাচ্ছেন, যারা ভাল করে দু'দণ্ড লড়তে পারে না। আমার চার পুত্রের মধ্যে যাকে চান এখন ময়দানে পাঠিয়ে দিন । আর দেখুন, আমার কাছ থেকে শিখে আমার সন্তানেরা আজ কেমন যুদ্ধ বিদ্যার পারদর্শিতা দেখায়।" আমর বিন সা'দ বদরের বড় পুত্রকে ইশারা করল। সে রীতিমত ঘোড়া উড়িয়ে হযরতের মোকাবেলায় আসল। হযরত বললেন, “ময়দানে তোমাদের পিতা আসলেই ভাল হোত। তাতে তোমাদের অশুভ পরিনতির তামাশা তাকে দেখতে হোত না।” এটা বা বলেই ইমামরক্ত পিয়াসী তলোয়ার দিয়ে এমন এক আঘাত হানলেন যে, তার দফা রফা হয়ে গেল। বদর যখন পুত্রকে মাটিতে ছটফট করতে দেখল, তখন সে দু'চোখে অন্ধকার মনে হল। মূর্তিমান ক্রোধ হয়ে বর্শা হেলিয়ে যে ময়দানে বেরিয়ে এসে ইমামের উপর হামলা চালাল। ইমাম নিজ ঢাল নিয়ে এমন সুন্দর কায়দায় তার হামলাকে প্রতিহত করলেন যে, মূহুতেই তার বর্শার অগ্রভাগ খুলে পড়ে গেল। হতভাগা বর্ণার খালি দন্ডটা রাগে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলল আর তলোয়ার প্রস্তুত করল। হযরত বললেন, "দেখো, বকাবকি এক বিষয়, আর বীরত্ব ভিন্ন বিষয়। সাবধান, এখন তোমার সময়ও ফুরিয়ে গেছে।” এ বলেই চাঁদ খন্ডন কারী (নবী)- র প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র ‘তাকবীর' হাকলেন, আর উম্মুক্ত কৃপাণ দিয়ে এমন আক্রমন চালালেন যে, বদরকে দুখন্ড করে ছাড়লেন। এ ভাবে একেক জন তলোয়ারবাজ, বর্শাধারী সিরিয়া ও ইরাকের বীরপুরুষদের মত যোদ্ধারা গর্জাতে গর্জাতে এবং হাতির চিৎকার করতে করতে হযরতের মোকাবেলায় আসতে থাকল। কিন্তু যে-ই সামনে আসে সে আর প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারে না। শেরে খোদার যোগ্যপুত্র বীরত্বের এমন চমক দেখালেন যে, কারবালায় ময়দানকে কুফা ও ইরাকের বীরজওয়ানদের ক্ষেত বানিয়ে ছাড়লেন। যশস্বী বীর যোদ্ধাদের তাজা তাজা রক্তে কারবালার মাঠকে রক্তস্নাত করে ছাড়লেন। নিহতের স্তুপ রচনা করলেন।
“অদৃশ্যের ওই আওয়াজ এলো শাব্বীর, মার হারা,
তোমার হাতেই পায় শোভা শমশীর মারহাবা।
এই মর্যাদা, এই যুদ্ধ, বটে বীর, মারহার
করলে প্রমাণ প্রভাব মায়ের ননীর, মারহাবা।
সৃষ্টি জুড়ে তোমায় খোদা করল বিজয়ী,
তোমার পরেই খতম ক্রিষা অশীর, মারহাবা।
শত্রু মহলে শোর গোল পড়ে গেল যে, যদি যুদ্ধের অবস্থা এভাবে চলতে থাকে, তবে এ সিংহ শার্দূল কাউকেই জ্যান্ত ছাড়বেন না। সিদ্ধান্ত হল যে, সময়ের চাহিদা মতে তাকে চার দিক থেকে ঘিরে একসাথেই হামলা করতে হবে
হঠাৎ করে ইবনে সা'দ লস্করে শুধায়, এ্যাই,
তোমাদের লজ্জা শরম, গেলই বা কোথায়?
দেখছ কী হে হুসাইনেরে ফেল বর্শা ঘা'য়
চার দিকেতে ঘিরে তারে আনবে তো হামলায়।
ফাতেমার ওই নয়ন মণি দম যেন না পায়।
ধরাশায়ী হোসাইনেরে করো না বর্ণায়।
যেই না শোনা কাপুরুষে তৈরী হয়ে যায়,
বর্শা নিয়ে সজ্জিত ওই সৈন্যরা আগায়।
সামনে এলো তার ধনুকের বাহিনী পায় পায়,
দুই পাশে দুই হাজার আসে মারতে পাথর গা'য়।
পদাতিক আর অশ্বারোহী তারাও এসে যায়,
লক্ষ্য তাদের এক মুসাফির কাতর, অসহায়!
যথারীতি ফাতেমার চাঁদকে যুলুম নির্যাতেনের কালো মেঘে চারিদিক থেকে ছেঁয়ে ফেলল। সহস্র জওয়ান সৈন্যরা ইমামকে ঘিরে ফেলল। তিনি বললে “হে অত্যাচারীর দল, তোমরা যদি ইবনে যিয়াদ আর ইয়াযীদকে খুশী করতে আওলাদে রাসুলের রক্ত বহানো জরুরী মনে করে থাক, তবে আওলাদে রাসূলও আল্লাহ্ তা'লা ও রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম)-উনার সন্তুষ্টি এবং দ্বীনে ইসলামের হেফাজতের জন্য সবকিছুই কুরবানী দিতে প্রস্তুত।
হযরতের এ উক্তি শেষে বর্শাধারী সামনে আসে,
আরোহীরা পেছন থেকে ঘিরল তাঁকে চতুপাশে।
ডান পাশে সব পদাতিকে খাপ খোলা তরবারী হানে
যাহরা-তনয় লক্ষ্য তাদের, ছুঁড়ছে তাঁহার বক্ষপানে।
'মুহাম্মদের সন্তানেরে টুকরো করো'- শোর পড়ে যায়।
ঘোড়ার পিঠে শান্তিতে সে একটু যেন বসতে না পায়।
হযরত ইমাম হুসাইন রক্তপাগল শত্রুদের ভিড়ে তাঁর তলোয়ার যুলফিকারের চমক শাণিত করতে থাকলেন। যেদিকে ঘোড়া ছুটিয়ে দিতেন লাশের পর লাশ পড়তে লাগল। শত্রুরা আতঙ্কে প্রমাদ গুনতে লাগল। আবদুল্লাহ্ ইবনে আম্মার নামে এক সৈন্যের বর্ণনা –
আল্লাহর কসম, আমি সন্তান-সন্ততি পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব সবাই নিহত হয়ে যাওয়া সহায় স্বজনহীন কাউকে এমন তেজস্বীতা ও বীরত্ব নিয়ে লড়াই করতে না পূর্বে না পরে কখনো দেখিনি, যেমনটি ইমাম হুসাইনকে দেখেছি। তাঁর প্রচন্ড হামলায় উভয় পাশের শত্রুদের আমি এ ভাবে পালাতে দেখেছি যেভাবে এক বাঘের আক্রমণ থেকে বাঁচতে ছাগল ভেড়ারা পালাতে থাকে।” (✍🏼ত্বাবরী ২৫৯/৬)
ইমামে পাক লড়াই করে যাচ্ছিলেন এবং বলে যাচ্ছিলেন, “আমাকে হত্যা করতে একত্রে আসা লোক সকল, খোদার কসম, আমার পরে তোমরা এমন কাউকেই আর হত্যা করবে না, যার নিহত হওয়া আমার শাহাদাতের চাইতে আল্লাহর আযাব নাযিল হওয়ার অধিকতর কারণ হবে। আল্লাহ আমাকে সম্মান দান করবেন এবং তোমাদেরকে লাঞ্চিত করবেন। যতক্ষণ তোমাদের প্রতি কঠোর আযাব নাযিল করবেন না, ততক্ষণ তিনি সন্তুষ্ট হবেন না।”
যদিও তিনি তিনদিনের পিপাসার্ত, মর্মে মর্মে ছিলেন জর্জরিত, শাহাদাতের পরে পূতঃপবিত্রা, রক্ষণশীলা অন্তঃপুর বাসিনীদের বন্দীদশা ও অসহায় অবস্থায় কথাও তাঁর মনে ছিল, কিন্তু তাঁর ধৈর্য ও মনোবল এবং শাহাতের তীব্র আকাংখার কাছে যে ঘাট মানতেই হয়। তিনি বাতিলের সামনে কোনরূপ দূর্বলতার লেশমাত্র প্রকাশ করেন নি। প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, তাঁর ধমনীতে নবীজির রক্ত, আর বাহুতে ছিল হায়দরী তাক্বৎ। তাঁর মন বলছিল যে, আমার মত শাহী সওয়ার আর কেউ নেই; কেননা আমি যে আমার নবীজির পবিত্র কাঁধে সওয়ার হয়েছিলাম। আমার মত বাহাদুরই বা কে আছে? যেহেতু আমাকে রাসুলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম) নিজ বীরত্ব দানে ধন্য করেছেন। আমি যে প্রিয়নবীর বীরত্বের প্রকাশস্থল !
ইবনে সা'দ এবং তার পরামর্শ দাতারা যখন দেখল যে, ইমামে পাক একাই কুফা আর সিরিয়ার বিখ্যাত বীর বাহাদুরদের বীরত্ব ও শৌর্য বীৰ্য্যকে মাটিতে মিশিয়ে দিলেন; তখন তারা সিদ্ধান্ত নিল যে, এক একজন করে যুদ্ধ করার বদলে ইমামে উপর চতুর্দিকে থেকে তীর বর্ষন করতে হবে। যখন তিনি প্রচন্ড যখমে জর্জরিত হয়ে যাবেন, তখন পবিত্র ওই দেহকে বর্ষার আঘাতের লক্ষ্য বানাতে হবে। কাজেই ওই নরাধমদের নির্দেশে তীরন্দাজেরা চারপাশ থেকে তাঁর প্রতি তীর বৃষ্টি শুরু করে দিল। অনবরত তীরের আঘাতে ইমামে পাকের ঘোড়া এতই আহত ও কাহিল হয়ে পড়ল যে, চলার মত শক্তি ও তেজ হারিয়ে ফেলল। নিরুপায় ইমামকে একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে যেতে হল।
এখন চারিদিক থেকে তীর আসতে থাকল। ইমামে পাকের পবিত্র দেহই ছিল তাদের একমাত্র লক্ষ্য। যালিমেরা তাঁর নুরানী দেহকে তীরে তীরে ঝাঁজরা আর রক্তাক্ত করে ফেলে। আবুল হুনুক নামে এক অভিশপ্ত ব্যক্তির নিক্ষিপ্ত তীর তাঁর কপাল মোবারকে এসে বিদ্ধ হয়। সর্বশক্তিমান আল্লাহর উদ্দেশ্যে যে কপাল নিয়মিত ঝুঁকত, যা ছিল প্রিয় নবী আল্লাহর হাবীব (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম) এর চুম্বন ধন্য, তা এই মূহুর্তে বিদীর্ণ হয়ে গেল। রক্তের ফিনকি ধারায় নুরানী চেহারা মোবারক লালে লাল হয়ে গেল। তিনি চেহারা মোবারকে হাত ফিরালেন। বললেন, “বদনসীব, তোমরা তো রাসূলুল্লাহ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম) উনার দুঃখবোধকেও গ্রাহ্য করলেনা।" দৃশ্যতঃ মনে হচ্ছিল, যেন শাহাদতের মসনদে সমাসীন জান্নাতের দুলহা বহমান রক্তের পুষ্পালঙ্কার পরিধান করেছেন। আঘাতের মনিহার গলায় পরে আছেন। ও দিকে বেহেশতের হুর পরীরা জান্নাতের ঝরোকা থেকে বেহেশতী যুবকদের সর্দারকে অপলক তাকিয়ে আছেন। তিন দিনের পিপাসার্ত কারবালার মুসাফিরের জন্য 'হাউজে কাউসার' তার সুপেয় ঠান্ডা পানীয় নিয়ে অপেক্ষায় আছে। নবীগণ অলিআওতাদ আর শহীদকুলের পবিত্র আত্মাসমূহ নবীকুল সম্রাটের প্রিয় দৌহিত্র শহীদ-সম্রাটের সমাদর অভ্যর্থনা জানাতে অধীর প্রতীক্ষায় প্রস্তুত। জান্নাতুল ফেরদাউসের সাজ-সজ্জার ধুমধাম চলছিল।
“জান্নাতের ওই রঙিন শোভা বসন্তে আজ খুব হাসে,
মুহাব্বতের শহীদ নিয়ে কাফেলা আজ ওই আসে।”
এক ফাঁকে খোলী ইবনে ইয়াযীদ আসবাহী হিংসামুক্ত ওই পবিত্র বুকে একটি তীর এমনভাবে ছুঁড়ে মারলো যে, তা ইমামের হৃদপিন্ডে গিয়ে বিধল। এখন পয়গম্বর কাঁধের আরোহী (হুসাইন)'র ঘোড়ার পিঠে বসে থাকা মুশকিল হয়ে পড়ল। হাত থেকে ঘোড়ার লাগাম ছুটে গেল। ইমামে আরশে মকীন ঘোড়ার জিন থেকে কারবালার যমীনে পড়ে গেলেন। এবার অভিশপ্ত শিমার মুখাবয়ববে তলোয়ারের আঘাত হানল। তার সাথে সাথেই সিনান ইবনে আনাস নখয়ী এগিয়ে এসে বর্শার আক্রমন চালাল, যা দেহ মোবারক এফোঁড় ওফোঁড় করে দিল।
তৃষ্ণাতুরের টুকরো ছুঁয়ে সুবাস ভরা রক্ত বহে,
দ্বীন ইসলামের বুকের খুনে সিক্ত মাটি বিলাপ কহে।
বাগে রেসালতের জান্নাতী ফুল, বেলায়তের পুষ্পোদ্যানের বিকশিত কলি, হায়দরী কুসুমকাননের পুষ্পস্তবক, খান্দানে নবুওয়তের অন্যতম স্মারক শাহজাদায়ে কওনাই ইমাম হুসাইন (রাদি.) পরম করুণাময়ের উদ্দেশ্যে সিজদারত অবস্থায় ইহধাম ত্যাগ করলেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)
পরবর্তী পর্ব
শাহাদাতের পরের কিছু ঘঠনা

Comments
Post a Comment