কারবালা – ৩০
শামে কারবালা - (পর্ব- ৩০)
কারবালার ইতিহাস
ইমাম মুসলিমের শাহাদতের সংবাদ—
এখনও পর্যন্ত ইমামে পাক কুফার অবস্থা সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না। যখন তিনি সা’লাবিয়া নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখনই তাঁর নিকট হযরত মুসলিম এবং হানী ইবনে উরওয়ার শাহাদতের সংবাদ এই ভাবে পৌছে-
আবদুল্লাহ্ ইবনে সুলাইম এবং মাযরামী বিন মুশা মল আসাদী বর্ণনা করেন, “আমরা দু'জন হজ্ব পালনে গিয়েছিলাম । হজ্ব সম্পাদন শেষে সবাই বেশী ঐ বিষয়ে আগ্রহ জানাল যে, তাড়াতাড়ি গিয়ে একটু দেখে আসি, ইমাম হোসাইন(রাদিঃ)'র সাথে কী ঘটনা সংঘটিত হলো। আমরা আমাদের সওয়ারী জন্তুকে খুবই তাড়িয়ে নিয়ে চলছিলাম। যরদ' নামক স্থানে আমরা ইমামের কাফেলার সাথে মিলিত হলাম। যখন আমরা ইমামের নিকটে উপনীত হলাম, তখন দেখতে পেলাম, একজন কুফাবাসী তাঁর দিকে আসছিল। তিনি (ইমাম) তাকে দেখে থেমে পড়লেন। কিন্তু লোকটি অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিল। আমরা পরস্পরে বল্লাম, চল তাঁর থেকে কুফার খবর জেনে নেই। আমরা তার নিকটবর্তী হয়ে সালাম আরজ করলাম। তিনি সালামের উত্তর দিলেন। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, “আপনি কে, আপনার নাম?” তিনি উত্তর দিলেন, “আমি আসাদ গোত্রীয় একজন লোক, আমার নাম বকীর বিন মুশআবা।” আমরা বললাম,“আমরাও আসাদ বংশের” । পরিচিতির পর আমরা তাঁর কাছে কুফার সংবাদ জানতে চাইলাম। তিনি বল্লেন, “আমি কুফা থেকে তখনও বের হয়নি, ইতিমধ্যেই মুসলিম ও হানীকে কতল করা হয়েছে। দেখলাম, লোকেরা তাদের পা টেনে হিচড়ে বাজারের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাচিছল।” এটা শুনে আমরা উভয়ে আবারও ইমামের কাফেলায় এসে মিলিত হলাম। সন্ধ্যায় যখন ইমামে পাক সালাবিয়ায় তাবু গাড়লেন, তখন আমরা দু'জনে তাঁকে সমস্ত ঘঠনা অবহিত করলাম। ইমামে পাক এই দুঃখজনক খবর শুনে বারবার পড়তে থাকলেন,ইন্নালিল্লাহি....... রাজিউন।
“মুসাফিরের মুখে যখন শোনলেন ইমাম এই খবর,
প্রতি শাম চোখের কোণে অশ্রু বহে, ভাঙলো দুঃখে সে অন্তর।
দুঃখে জানান শান্তি আমার সবতো বুঝি এই গেল।
মনযিলে নাই পৌছি আজি, সমন বুঝি এই এল।”
এরপর আমরা আরজ করলাম, “আমরা আপনাকে আল্লাহর দোহাই দিচ্ছি,আপনি ফিরে যান। কুফায় আপনার সুহৃদ সাহায্যকারী কেউ নেই। আমাদের আশংকা হচ্ছে, যারাই আপনাকে আহবান করেছে, তারাও আপনার শত্রুতে পরিণত হবে।”
এসময় বনু আকিল আবেগ-আতিশয্যে বলে উঠলো, “খোদার কসম, যতক্ষণ না আমরা ভাই মুসলিমের হত্যার বদলা নেব কিংবা তাঁরই মতো শহীদ না হব, ততক্ষণ কুফা ছেড়ে যাবো না।” তাদের কথা শোনার পর ইমাম বললেন, “এ লোকগুলোর পরে বেঁচে থাকার মধ্যে কোন কল্যাণ তো নেই।”
“বাঞ্চিত জন দেখার নামই জীবন কই,
লাঞ্চনা সব জীবন জুড়ে আপন বই।”
তাঁর সাথীদের মধ্যে একজন বলল “আল্লাহর শপথ, আপনিতো মুসলিম বিন আকীলের, মতো নন! কোথায় মুসলিম, কোথায় আপনি? কুফায় আপনার শুভাগমন হলে, লোকেরা আপনাকে দেখা মাত্রই আপনার সঙ্গে যোগ দেবে।”
✍🏻তারবী,পৃ. ২২৫/৬
এখান থেকে কাফেলা অগ্রবর্তী হতে লাগলো। ইমামে পাক যে যে পল্লী অতিক্রম করতে লাগলেন, মানুষ দলে দলে তাঁর সঙ্গে যোগ দিতে লাগলো। যোবালা পৌছলে তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে বকর'এর শাহাদতের সংবাদ অবগত হলেন।
(পরবর্তী পর্ব – ইমামের অভিভাষণ)
#শামে_কারবালা
#ইসলাম_ই_মুক্তির_দিশা

Comments
Post a Comment