কারবালা – ২৯



শামে কারবালা - (পর্ব- ২৯)
কারবালার ইতিহাস

যুহাইর বিন ক্বাইন আলবাজলী—
আবদুল্লাহ্ ইবনে মুতীর সাথে সাক্ষাতের পর ইমাম পাক 'যরুদ' নামক স্থানে অবস্থান গ্রহণ করলেন। সেখানে অদূরেই একটি তাঁবু দেখা গেল। ইমাম জিজ্ঞেস করলেন “এটা কার তাঁবু?” আরজ করা হল, “যুহাইর বিন কাইনের। তিনি হজ্ব সমাপন করে কুফার দিকে যাচ্ছেন” । ইমাম তাঁকে ডাকলেন। প্রথম দিকে তিনি এ আহবানকে অপছন্দ করেছিলেন, তবে নিমরাজি হয়ে অগ্রসর হলেন। যখন সাক্ষাৎ হলো এবং আহলে বাইতের কাফেলা চোখে পড়ল, তখন আচানক একটি কথা তাঁর মনে পড়ে গেল। যদ্দরুন মনোজগতে এক বিরাট পরিবর্তন ঘটল। খুশীর দীপ্তিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল মুখমন্ডল। তৎক্ষনাৎ নিজের তাঁবু উপড়ে নিয়ে ইমামে পাকের তাঁবুর কাছেই তা পূন:স্থাপন করলেন। বিবিকে তালাক দিয়ে বললেন, তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে ঘরে চলে যাও।” নিজের সফরসঙ্গীদের উদ্দেশ্যে বললেন, “তোমাদের মধ্যে যার ইচ্ছে চলে যেতে পার, আর যার ইচ্ছে হয় আমার সাথে থাকতে পার।” সবাই স্তম্ভিত! ব্যাপারটা কি? এবার তিনি বললেন, শোন, আমি তোমাদের বলছি, আমরা বলতাজারএ যুদ্ধ করেছিলাম। বিজয়ের পর গণীমতের অনেক মালসম্পদ আমাদের হস্তগত হল, ফলে আমরা খুবই উৎফুল্ল ছিলাম। হযরত সালমান ফারসী আমাদের সাথে ছিলেন। তিনি বললেন, (একটা সময় আসবে)
‘যখন তোমরা হযরত মুহাম্মদ (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়া-আলিহী ওয়াসাল্লাম)-এর পরিবারের যুবকদের সর্দার (হযরত হোসাইন রঃ)-কে পাবে এবং তাঁর সঙ্গে মিলিত হয়ে (তাঁর শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। গণিমতের মাল পেয়ে আজ তোমাদের যে আনন্দ হচ্ছে তখন এর চাইতে অনেক বেশী আনন্দ লাভ করবে। কাজেই আমি তোমাদেরকে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করলাম।” অতঃপর তিনি ইমামের সাথেই থেকে গেলেন, পরিশেষে শাহাদতের অমীয় সুধা পান করে অনন্ত খূশীতে একাকার হয়ে গেলেন।

“করুণারই শীতল ছোঁয়া সমাধিতে গড়ুক নীড়, 
কাল হাশরে দাতার সকাশ প্রার্থীরা সব করবে ভিড়।
(পরবর্তী পর্ব–
ইমাম মুসলিমের শাহাদতের সংবাদ)

#শামে_কারবালা
#ইসলাম_ই_মুক্তির_দিশা

Comments

Popular posts from this blog

শুধু মুখে কলেমা পড়লে জান্নাত যাওয়া যাবেনা

মসনবী শরীফ বই - মউলানা রুমী (রহঃ)