কারবালা – ২৪



শামে কারবালা - (পর্ব- ২৪)
কারবালার ইতিহাস

ইমাম মুসলিমের দুই পুত্ৰের কাহিনি–(শেষ পর্ব– ৫)
এবার সেই পাষণ্ড, আবারও ছেলে দুটির দিকে তেড়ে আসল। এতিমদ্বয় সকরুণ প্রার্থনার ভঙ্গিতে বলল, “সত্যিই যদি আপনার এ আশংকা হয়ে থাকে যে আমাদের জীবন্ত নিয়ে যেতে গেলে লোকজন হৈচৈ করে আমাদের কেড়ে নেবে এবং আপনি পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হবেন, তবে চুল, গুলি ন্যাড়া করে গোলাম সাজিয়ে আমাদের বিক্রি করে দিন।” জালেম বলল,

“এখন আমি তোমাদের আর ছাড়ছিনা।” বলে যখন তরবারী উদ্যত করল, তখন ছোটটি এগিয়ে এসে বলে উঠল “মারতে হলে প্রথমে আমাকেই মার
বড়জনে সেই সেক্ষণে খুব করে বিনয় 
“একটি আর্জি জানাই তোমায় হলে গো সদয়। 
মস্তক আমার আগে নিলে পাই শান্তি তায় 
ছোট ভাইটি অতি আদরের মরিগো হায়। 
যতই খুশী অত্যাচারের দাও রোলার 
তবু না পড়ুক লাশটি ভায়ের চোখে আমার। 
সহসা খড়গ নেমে এল বড় জনের পর - 
তারার মতই জমিনে খসে ও শির নিথর।” 

প্রাণহীন সেই দেহটি ছুঁড়লো নদী বুকে ‘ভাইরে’ আর্ত চিৎকার ছোট ভাই মুখে। ভাইয়ের মাথাটি শত্রু হাতে হেরে যখন ভাইয়ের রক্তে গড়াগড়ি যায় ছোট রতন।
ওই নরাধম খড়গ হাতেই এগোয় আবার- ভাইয়ের পেয়ারা “ভাই, ভাই” বলে করে ফুকার। 

'আম্মা, আম্মা' একবার ফের 'আব্বাজান' 
জল্লাদ তবু সংহারে ওই ছোট্ট প্রাণ। 
রক্তের দাগ নাই লাগতেই তরবারে- 
রক্ত হেথায় মিশল দুয়ের একাকারে। 
লাশ দু'টি ওই অত্যাচারী করে পৃথক- 
ছুড়লো নদীর বক্ষে জালিম সংহারক। 
কোলাকুলি হয়ে যায় বয়ে লাশ নদী বুকে- 
ঢেউরা আছঁড়ে চুমলো কদম নিল মুখে। 
জল তরঙ্গে মিশে ওরা যায় কাওসারে, ‘
আয় আয়' বলে মুসলিম যেন ডাক পাড়ে।”

অতঃপর ঐ জালিম নিষ্পাপ দু'টি শিশুকে শহীদ করে দিল। আর মাথা দুটো আলাদা করে নিয়ে মস্তকবিহীন নিষ্পাপ দেহ দুটো নদীতে নিক্ষেপ করে দিল। তারপর মাথা দুটিকে থলেতে পুরে ইবনে যিয়াদের ঠিকানায় রওয়ানা হয়ে গেল। 
সময় দ্বিপ্রহর। গভর্ণ রহাউসে প্রবেশ করে ইবনে যিয়াদ পর্যন্ত যেতে সক্ষম হল। সেখানে পৌঁছে মস্তকভর্তি থলেটি তার সামনে রাখল। ইবনে যিয়াদ জানতে চাইল, 'থলেতে কী রয়েছে?' পুলকিত চিত্তে সে বলতে লাগল, “বখশিশ আর মর্যাদার আশায় আপনার শত্রুর শিরচ্ছেদ করে তাই নিয়ে এলাম।” ইবনে যিয়াদ বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করল “শত্রুটা কে?” নরাধম উত্তর দিল, “মুসলিম বিন আকীলের দুই শিশু সন্তান।” রাগতঃস্বরে ইবনে যিয়াদ ধমকে উঠল, “কার হুকুমে কতল করেছিস, তুই? বেটা নচ্ছার, এজিদের কাছে আমি লিখেছি যে, নির্দেশ পেলে তাদের জীবিতাবস্থায় পাঠিয়ে দেব। এখন যদি তিনি জীবিতই তাদের পাঠাতে বলেন, তো আমি তখন কী করব? তুই তাদের জীবিত আনলি না কেন?” সে উত্তর দিল "আমার আশংকা হচ্ছিল যে শহরবাসীরা হৈ হট্টগোল করে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেবে।” ইবনে যিয়াদ বলল, “সে রকম আশংকা থাকলে, নিরাপদ কোন জায়গায় তাদের আটকে রেখে আমাকে খবর দিতে পারতি ! আমি নিজের দায়িত্বেই তাদের আনিয়ে নিতাম। আমার হুকুম ছাড়াই তাদের হত্যা করেছিস কেন?” ইবনে যিযাদ তার অমাত্য সভাসদবর্গের প্রতি একবার চোখ বুলায়। মুকাতেল নামক এক ব্যক্তিকে আহবান করে,
“মুকাতেল, এ ব্যক্তি(হারেস)'র গর্দান উড়িয়ে দাও” যথানির্দেশ তার শিরচ্ছেদ করা হল। এভাবে লোভে মত্ত হারেস – ( আয়াত : উভয়জগতে ক্ষতিগ্রস্থ) এর বাস্তবায়ন ঘটালোঃ

“মিলল না তার খোদা, ও না দেবীর দরশন, 
না পেল সে এই দুনিয়া, না সে ওই জীবন”।
(রাওদ্বাতুশ্ শুহাদা পৃঃ ১৫০)

“দুনিয়া থেকে হাত গুটালেন দৌহিত্র রাসুলের, 
অঞ্জলীতে ফুল, ধৈর্য ও সন্তোষ হাসিলের”।
“ইস্পাত দৃঢ় পণ সে তোমার চিত্ত অটলের, 
জানায় প্রণতি চরণে বীরত্ব সকলের”।

পরবর্তী পর্ব–
ইমামে আলী-মাকাম'র যাত্রা

——————-
#শামে_কারবালা
#ইসলাম_ই_মুক্তির_দিশা

Comments