হুজুর (সঃ)-এক প্রসংশা– ১



হুজুর (সঃ)-উনার প্রসংশা – (পর্ব– ১)

📚আশ্-শিফা বিতা–রীফি হুকুকিল মুস্তফা ✍🏻কাযী আয়ায আন্দুলুসী (রহঃ)


কুরআনের আয়াত দ্বারা আল্লাহ তা'আলার হুজুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার প্রশংসা করা—


মহান আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআন মাজীদে হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) উনার প্রশংসা করে এরশাদ করেন—

>”নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট তোমাদের মধ্য থেকে ঐ রাসূল তাশরীফ এনেছেন যা তোমাদেরকে বিপন্ন করে তা তাঁর জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মু'মিনদের প্রতি তিনি দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু”।

(আল কুরআন সূরা তাওবা, ১:১২৮)।

আল্লামা সমরকন্দি (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, কোনো কোনো লোক '(আনফুসিকুম)  এর স্থলে (আনফাসিকুম)  অর্থাৎ “ফা” বে জবর যোগে পড়ে। তবে অধিকাংশ মুসলমান পেশ যোগে পড়ে।

ইমাম কাযী আবুল ফযল (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু)! (আল্লাহ তা'আলা তাঁকে সৌভাগ্যবান করুন)। তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা বিশ্বের সকল মুসলমান, চাই সে আরবী হোক বা মক্কাবাসী হোক বা দুনিয়ার যেকোন স্থানের অধিবাসীই হোক না কেন, (তাফসীরকারকদের মতভেদ থাকা সত্ত্বেও) এই অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট এমন একজন রাসূলের আগমন ঘটেছে যাঁকে তোমরা খুব ভালোভাবে চিনো। তাঁর মর্যাদা ও সম্মান সম্পর্কে তোমরা ভালোভাবে অভিহিত। আর সেই মহিমান্বিত রাসূল (সল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) কে তোমরা কোনো দিন মিথ্যাবাদী কিংবা অহিতাকাঙ্খী হিসেবে অভিযুক্ত করতে পারনি অথচ তিনি তোমাদের মাঝে ছিলেন। আর না তাঁর বংশের সাথে তোমাদের দূরের ও কাছের আত্মীয়তার বন্ধন ছিলো, এমনও তো নয়

হযরত ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুমা) ও অপর একদল তাফসীরবিশারদগণের মতে পবিত্র কুরআন মাজীদের আয়াত-

>”কিন্তু নিকটাত্মীয়ের ভালবাসা”।

(আল কুরআন: সূরা শুরা, ৪২:২৩।)

এর দ্বারা উদ্দেশ্য এটাই যে, তিনি তাদের সকলের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত, সুউচ্চ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ছিলেন অর্থাৎ 'আনফাসিকুম শব্দে যদি জবরের সাথে পড়া হয় তাহলে অর্থ দাঁড়াবে “তিনি তোমাদের মধ্যে বিশেষ এবং শ্রেষ্ঠতম”। অতঃপর আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রশংসনীয় গুণাবলির উল্লেখ করে অসংখ্য মর্যাদার বিবরণ পেশ করেছেন।

তাঁর তীব্র বাসনা এবং আত্মপ্রত্যয় ছিলো মানুষ সঠিক পথে আসুক, হিদায়াত গ্রহণ করুক। আর মুসলমানদের কষ্টে পতিত হওয়া তাঁর নিকট বড়ই মর্মবিদারক পীড়াদায়ক ব্যাপার। দুনিয়া ও আখিরাতে তোমরাও ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপদাপন্ন হবে এটা ছিলো তাঁর নিকট অসহনীয়। এর হাকীকত হলো- তিনি মুসলমানদের প্রতি পরিপূর্ণ দয়ার্দ্র, স্নেহশীল ও মায়ামমতা পোষণকারী। কোনো কোনো আলেমদের অভিমত হলো- আল্লাহ তা'আলা তাঁর আপন নাম সমূহের মধ্য থেকে তাঁকে 'রাউফ' ও 'রাহীম' নামদ্বয় প্রদান করেছেন।


অপর এক আয়াতে এরশাদ করা হয়েছে-

>”নিশ্চয়ই আল্লাহ মহান অনুগ্রহ করেছেন মুসলমানদের উপর যে তাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তার আয়াতসমূহ তাদের নিকট তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং কিতাব হিকমত শিক্ষা দেন, যদিও তারা পূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতেই ছিল”।

(আল কুরআন: সূরা আলে ইমরান ৩:১৬৪ ও ১৩৪)

---------


Comments

Popular posts from this blog

শুধু মুখে কলেমা পড়লে জান্নাত যাওয়া যাবেনা

মসনবী শরীফ বই - মউলানা রুমী (রহঃ)