হুযুর (সঃ) এর সাক্ষ্যদাতার গুণ- ১



হুযুর (সঃ) এর সাক্ষ্যদানকারীর গুণ প্রসঙ্গে – ১

📚আশ্-শিফা বিতা–রীফি হুকুকিল মুস্তফা ✍🏻কাযী আয়ায আন্দুলুসী (রহঃ)


আল্লাহ তা'আলা হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর শ্রেষ্ঠত্ব ও সম্মানের প্রশংসা বর্ণনা করে ঘোষনা করেছেন—

“হে অদৃশ্যের সংবাদদাতা নবী। নিশ্চয় আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি উপস্থিত পর্যবেক্ষণকারী করে, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রূপে”।


উক্ত আয়াতে আল্লাহ তা'আলা হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর মহত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব, উচ্চমর্যাদা, সম্মান ও প্রশংসায় বিভিন্ন বর্ণনা উপস্থাপন করেছেন।


সুতরাং একদিকে আল্লাহ তা'আলা তাঁর উম্মতকে সাক্ষ্যদাতা বলে উল্লেখ করেছেন। আপনি উম্মতের নিকট আমার বিধান পৌঁছে দিয়েছেন, এটা আপনার বিশেষত্ব। অনুগত সম্প্রদায়ের জন্য সুসংবাদদানকারী, ভয় প্রদর্শনকারী। আল্লাহ তা'আলার একত্ববাদ ও ইবাদতের প্রতি আহবানকারী আপনাকে উপাধী দেয়া হয়েছে। আর হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) কে আলোক প্রদানকারী প্রদীপ বানিয়েছেন। অর্থাৎ আপনি এমন এক মহিমান্বিত সত্তা যার মাধ্যমে মানুষ হিদায়াত ও সৎপথের সন্ধান লাভ করেছে।

হযরত আতা বিন ইয়াসার (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর মহিমান্বিত কিছু গুণাবলীর উল্লেখ করুন। তদুত্তরে তিনি বললেন, আল কুরআন সূরা আহযাব ৩৩:৪৫-৪৬।

আমি অবশ্যই তাঁর গুণাবলীর বিবরণ পেশ করবো। আল্লাহর কসম! তাঁর অনেক অনেক গুণাবলীর কথা তাওরাত শরীফে বর্ণনা করা হয়েছে। হে নবী! আমি আপনাকে পূববর্তী জাতি সম্পর্কে সাক্ষ্য প্রদানকারী, অনুগত জাতির জন্য সুসংবাদ প্রদানকারী, ভীতি প্রদর্শনকারী এবং উম্মী সম্প্রদায়ের লোকদের জন্য আশ্রয়দানকারী হিসেবে প্রেরণ করেছি। আপনি আমার বান্দা ও রাসূল। আমি আপনার নামকরণ করেছি “মুতাওয়াককিল” অর্থাৎ যাবতীয় কাজের ফলাফল আমার উপর নির্ভরশীল। তাঁর কথায় কোনো প্রকার কঠোরতা ও রুক্ষতা নেই, তিনি বাজারে উচ্চস্বরে অনর্থক হৈচৈকারী নন। তিনি মন্দকে মন্দ দিয়ে প্রতিহত করতেন না। বরং তিনি লোকদের ক্ষমা করে দিতেন এবং ক্ষমার জন্য আল্লাহ তা'আলার দরবারে দোয়া করতেন। আল্লাহ তা'আলা কখনো তাঁর প্রিয় নবী (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) কে দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নেবেন না, যতক্ষণ না বক্রজাতিকে সংশোধন করবেন এবং যতক্ষণ না মানুষ কালেমা “লা-ইলাহা” বলে তাওহীদের স্বীকৃতি প্রদান করে। আল্লাহ তা'আলা হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর মাধ্যমে এমন দৃষ্টিহীন লোকদেরকে চক্ষুদান করে দেবেন যারা সত্যপথ দেখে না। এমন বধির কর্ণকে খুলে দেবেন যারা সত্যকথা শ্রবণ করতে অক্ষম আর অলস ক্বালবকে খুলে দেবেন যারা কিছু বুঝে না বা প্ৰকৃত জ্ঞান প্রাপ্ত হয় না।


হযরত আব্দুল্লাহ বিন সালাম ও হযরত কা'ব আল আহবার (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু)ও অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন যে, হুযুর (সল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াআলিহি ওয়াসাল্লাম) এর এরূপ প্রশংসিত গুণাবলীর বিবরণ তাওরাত শরীফে বর্ণিত আছে। আর তাওরাত শরীফের কোন কোন বর্ণনা হযরত ইবনে ইসহাক (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বাজারে ডাকাডাকি করবেন না এবং অশ্লীল কথাবার্তা বলবেন না। আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমি তাঁকে সকল সৌন্দর্য ও উৎকর্ষমণ্ডিত করবো। আমি তাঁকে যাবতীয় পবিত্র স্বভাবে ভূষিত করবো। প্রশান্তি, স্থিরতা ও ধীরতাকে তাঁর পরিচ্ছেদ বানাবো। কল্যাণ হবে তাঁর আদব। তাকওয়া বা পরহেযগারী দ্বারা তাঁর অন্তরকে ভরপুর করে দেবো। হেকমত হবে তার বুদ্ধিমত্তা। সত্যবাদিতা ও অঙ্গীকার পালন তাঁর স্বভাবে পূর্ণাঙ্গ রূপে পূর্ণতা দান করা হবে।


ক্ষমা ও কল্যাণ হবে তাঁর আখলাকের সৌন্দর্য। ইনসাফ ও ন্যায়বিচার হবে তাঁর চরিত্র। হক্ব হবে তাঁর শরীয়াত। হিদায়াত হবে তাঁর ঈমান। ইসলাম হবে তাঁর মিল্লাত। আমি তাঁর নাম রাখবো আহমদ। আমি তাঁর মাধ্যমে পথভ্রষ্টদের সঠিক পথের দিশা দেব।


তাঁর মাধ্যমে মানুষ অজ্ঞতার পর পুনরায় সঠিক জ্ঞান লাভ করবে। স্বল্প পরিচিতির পর তাঁর নাম পৃথিবীর চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়বে। স্বল্পতার পর তাঁকে প্রাচুর্যতা দান করবো। দারিদ্র্যতার পর আমি তাঁকে সম্পদশালী করবো। আমি তাঁর মাধ্যমে মানুষকে নিম্নস্তর থেকে ইজ্জত সম্মান দান করবো। বিরুদ্ধবাদী ও বিক্ষিপ্ত, অভিলাষী ও বিচ্ছিন্ন অন্তরসমূহের মধ্যে আমি তাঁর মাধ্যমে প্রেম ভালবাসা এমনভাবে ঢেলে দেবো যার ফলে তাদের বিচ্ছিন্ন অস্তরসমূহকে একই সূত্রে গেঁথে দেবো। বিক্ষিপ্ত জাতিসমূহকে ঐক্যবদ্ধ করে দেবো। আমি এই রাসূলের উম্মতকে সর্বোত্তম উম্মত মনোনীত করব।


Comments

Popular posts from this blog

শুধু মুখে কলেমা পড়লে জান্নাত যাওয়া যাবেনা

মসনবী শরীফ বই - মউলানা রুমী (রহঃ)